• ই-পেপার

সুইজারল্যান্ডে বৈঠক

উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ

গ্লোবাল টাইমসের প্রতিবেদন

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দিল্লিকে বেইজিংয়ের পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে দিল্লিকে বেইজিংয়ের পরামর্শ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান। ছবি : পিএমও বাংলাদেশ

দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখান থেকে তার চীনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

তারেক রহমানের এই সফর ভারতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। তাদের দৃষ্টিতে, ভারতকে এড়িয়ে তারেক রহমানের চীনমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা তার পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের একটি ইঙ্গিত। কারণ ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশের নতুন সরকারপ্রধানদের প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে ভারতকে দেখা হতো। কিন্তু চীনা বিশ্লেষকরা বিষয়টিতে উড়িয়ে দিয়েছেন।

তারেক রহমানের সফর ভারতীয় গণমাধ্যম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস রবিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে প্রথম বিদেশ সফরের জন্য তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নিয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি তার পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারও তুলে ধরেছেন। কারণ, অতীতে এমন সফরের ক্ষেত্রে ভারতই সাধারণত প্রথম গন্তব্য হয়ে থাকত।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুও জানিয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীনে যাচ্ছেন তারেক রহমান এবং উদ্বোধনী সফরের গন্তব্য হিসেবে প্রতিবেশী ভারতকে এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যমের এই নিবিড় নজর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরিবর্তনশীল বাস্তবতাকেই প্রতিফলিত করছে। দীর্ঘ সময় ধরে ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী ছিল এবং দুই দেশ নানা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় রেখেছিল। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ধাক্কা লাগে এবং সম্পর্ক এখনো পুনর্বিন্যাসের একটি পর্যায় অতিক্রম করছে। সম্পর্ক এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরতে পারেনি বলে গ্লোবাল টাইমসকে জানিয়েছেন চীনের সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিভাগের পরিচালক চিয়ান ফেং।

মালয়শিয়া ও চীন সফরের আগে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিদায় জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

চিয়ান ফেং বলেন, ভারতের গণমাধ্যম ও কৌশলগত মহলের কিছু অংশ এখনো দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের ঐতিহ্যগত নেতৃত্বের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক বিষয়গুলোকে দেখছে। ফলে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে তা নয়াদিল্লির প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে বাংলাদেশে ভারতের অবস্থান দুর্বল হতে পারে বলে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটিকে কেবল ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন চিয়ান।

এদিকে শনিবার (২o জুন) ঢাকায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছিলেন, রবিবার মালয়েশিয়া সফরের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফর শুরু হবে। রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান। সেখানে ঢাকা আরো বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে কুয়ালালামপুরের কাছে অনুরোধ জানাবেন।

সোমবার রাতে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে পাঁচ দিনের সফরে চীনে পৌঁছাবেন তারেক রহমান। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে বিভিন্ন খাতে প্রকল্পভিত্তিক চীনা অর্থায়ন ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছেও ৪৫ মিনিট বের হলেন না মোদি, যা জানা গেল

অনলাইন ডেস্ক
দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছেও ৪৫ মিনিট বের হলেন না মোদি, যা জানা গেল
সংগৃহীত ছবি

দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর সাধারণ নিয়মে দ্রুত বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু তা না করে তিনি প্রায় ৪৫ মিনিট বিমানবন্দরের ভেতরেই অবস্থান করেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হলেও পরে জানা যায়, ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে কোনও ধরনের বিঘ্ন না ঘটাতেই তিনি বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেরি করেছিলেন। খবর ইন্ডিয়া টুডে

ইন্ডিয়া টুডে বলছে, সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রবিবার (২১ জুন) দুপুর প্রায় ১টা ১৫ মিনিটে দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান মোদি। সাধারণত বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বাসভবনে চলে যান তিনি। কিন্তু এর পরিবর্তে আজ মোদি বিমানবন্দরেই অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ, নিট পরীক্ষা শুরু হওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল দুপুর ২টা।

কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী দিল্লিতে ওই সময়ে হাজারো পরীক্ষার্থী নিজ নিজ কেন্দ্রের পথে থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন ছিল। আর সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর চলাচলের সময় সাধারণত নির্দিষ্ট রুটে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করতে হয়। তাই পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের যাত্রায় কোনও বিঘ্ন না ঘটাতে বিমানবন্দর থেকে রওনা দেয়া বিলম্বিত করেন মোদি। দুপুর ২টায় নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা শুরু হওয়ার পর তিনি বিমানবন্দর ত্যাগ করে বাসভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।

প্রসঙ্গত, নিট-ইউজির আগের পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর তা বাতিল করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভারতজুড়ে নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ভারতের ৫ হাজার ৪৪০টি এবং বিদেশের ১৪টি কেন্দ্রে মোট ২২ লাখের বেশি পরীক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নেন। এ উপলক্ষে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল।

পরীক্ষার ১ লাখ ৩৮ হাজার সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ৯৫ হাজারের বেশি কক্ষ পর্যবেক্ষণ করা হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছিল। ইলেকট্রনিক জালিয়াতি ঠেকাতে স্থাপন করা হয় ৫১ হাজারের বেশি সিগন্যাল জ্যামার।

মূলত নিট-ইউজি হচ্ছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ ভর্তি পরীক্ষা। স্নাতক পর্যায়ের মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হয় এই পরীক্ষাটি।

হিজবুল্লাহকে থামাতে এবার ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
হিজবুল্লাহকে থামাতে এবার ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানকে অবশ্যই লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে, না হয় যুক্তরাষ্ট্র আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে।

নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থপুষ্ট প্রক্সি বাহিনীগুলোকে (বিশেষ করে হিজবুল্লাহ) বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যদি তারা তা না করে, তাহলে আমরা গত সপ্তাহে যেমন আঘাত হেনেছিলাম, তার চেয়েও আরো কঠোরভাবে ইরানের ওপর হামলা চালাব।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে চলমান আলোচনার পাশাপাশি লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনা কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে এক ফোনালাপে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ‘পুরো পাগল’ বলে আখ্যা দেন। তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে বৈরুতে হামলা না করার নির্দেশ দেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

এবারের আলোচনায় যেভাবে ভেস্তে যেতে পারে শান্তিচুক্তি

অনলাইন ডেস্ক
এবারের আলোচনায় যেভাবে ভেস্তে যেতে পারে শান্তিচুক্তি
রয়টার্স ছবি

কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থততায় এবার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে শান্তিচুক্তি নিয়ে চলমান আলোচনা অতীতের আলোচনাগুলোর তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। 

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক চুক্তি আলোচনায় অভিজ্ঞ সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ ব্রাইজা। 

তিনি বলেন, ‘এই আলোচনাকারী দলটি অতীতে আমি যেসব দলে কাজ করেছি, সেগুলোর মতো নয়। সাধারণত আমরা আগে থেকেই বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের একটি শক্তিশালী দল গড়ে তুলতাম।’

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জটিল একটি বিষয় উল্লেখ করে ব্রাইজা বলেন, ‘মার্কিন দলের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে উচ্চ পর্যায়ের কারিগরি বিশেষজ্ঞের ঘাটতি রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ইরানি প্রতিনিধিদলের পরিস্থিতি ভিন্ন। আমার মনে হয় না মার্কিন দলে সেই পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। কিন্তু ইরানিদের আছে।’

এ ছাড়া পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যদিও আমরা জানি সেগুলো সম্ভবত দ্বিতীয় ধাপের আলোচনায় আসবে বলে জানান তিনি।

ব্রাইজা মার্কিন আলোচক দলকে ‘খুবই ছোট, সীমিত এবং ঘনিষ্ঠ পরিসরের’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের মতো কোনো উচ্চপর্যায়ের নেতা সাধারণত তখনই আলোচনায় যুক্ত হতেন, যখন প্রায় সবকিছু চূড়ান্ত হয়ে আসত।’

কিন্তু আলোচনা চলমান অবস্থায় তাদের অংশগ্রহণ খুবই বিরল। তার মতে, এর কারণ হলো কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চাইবেন না যে আলোচনা ব্যর্থ হলে তার ওপর দায় বর্তাক।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ ব্রাইজা বলেন, ‘সাধারণত এমন নেতারা তখনই যুক্ত হন, যখন চুক্তি প্রায় সম্পন্ন। কারণ আলোচনা যদি মাঝপথে ভেস্তে যায়, তাহলে তার দায় তারা নিতে চান না।’

এদিকে সুইজারল্যান্ডের নিডওয়ালডেনে অবস্থিত বিলাসবহুল পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। এই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করছে কাতার ও পাকিস্তান।