• ই-পেপার

মার্কিন-ইরান চুক্তিতে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তহবিলের পরিকল্পনা

সীমান্তবর্তী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা কমাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া

অনলাইন ডেস্ক
সীমান্তবর্তী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ এলাকা কমাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া
রয়টার্স ছবি

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সীমান্তের সমান্তরালে থাকা বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা সরিয়ে সীমাবদ্ধ এলাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখাটি কোরীয় যুদ্ধ-পরবর্তী নির্ধারিত সামরিক বিভাজন রেখা (এমডিএল) থেকে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে হলে সামরিক বাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা গড়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার সরিয়ে আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার হওয়ায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ভেতরে বসবাস করেন। এছাড়া কৃষিকাজ ও অন্যান্য পেশাগত কাজে অনেক মানুষ নিয়মিত অনুমতি নিয়ে এসব এলাকায় যাতায়াত করেন।

শিথিল হচ্ছে বিধিনিষেধ

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ওপর আরোপিত আরো কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হবে।

এর মধ্যে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে রিপোর্টিং ও অনুমোদন সংক্রান্ত নিয়ম সহজ করা হচ্ছে।

এসব পদক্ষেপ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা

গত বছর দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের উদারপন্থী সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ধারাবাহিক কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সিউলের প্রতি কঠোর ও বৈরী অবস্থান বজায় রেখেছে।

এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সিদ্ধান্তকে একদিকে স্থানীয় জনগণের সুবিধা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নরওয়ের রাজকুমারীর ফুসফুস প্রতিস্থাপন সফল

অনলাইন ডেস্ক
নরওয়ের রাজকুমারীর ফুসফুস প্রতিস্থাপন সফল
ছবি : রয়টার্স

নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের সফলভাবে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে আরো কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে বলে বুধবার জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

রাজপরিবারের জন্য এই ফুসফুস প্রতিস্থাপন এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন তারা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সপ্তাহের শুরুতে, ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের আগের সম্পর্কের ২৯ বছর বয়সী ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবি ধর্ষণ  মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন। তবে তার আইনজীবী জানিয়েছেন, হোইবি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হাকনের ৫২ বছর বয়সী স্ত্রী মেটে-মারিট ২০১৮ সালে পালমোনারি ফাইব্রোসিসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হন। এই দীর্ঘমেয়াদি রোগে ফুসফুসে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং শরীরের অক্সিজেন গ্রহণের ক্ষমতা কমে যায়।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল জানিয়েছে, ফুসফুস প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে। তবে অস্ত্রোপচারটি ঠিক কবে করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি। হাসপাতালের অধ্যাপক আরো হোম বলেন, অন্য রোগীদের মতো মেটে-মারিটকেও কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হবে। এ সময় তার ওষুধের মাত্রা সমন্বয়, সম্ভাব্য জটিলতার চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম চলবে।

গত ৫ জুন তার স্বাস্থ্যের হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়। চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচার ছাড়া তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই সীমিত ছিল। রাজপ্রাসাদ জানিয়েছে, সমর্থন ও শুভকামনার জন্য যুবরাজ ও যুবরানী জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।

নরওয়েতে প্রতি বছর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয় না।

তারা আরো জানায়, এর আকার সঠিক হতে হবে, রক্তের গ্রুপও সঠিক হতে হবে এবং আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে, গ্রহীতার শরীরে ওই অঙ্গের টিস্যুর ধরনের বিরুদ্ধে কোনো অ্যান্টিবডি নেই। এর মূল উদ্দেশ্য হলো সঠিক অঙ্গটি সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া। এর মানে হলো, সফলতার সম্ভাবনা বাড়ানোর জন্য অনেকগুলো বিষয়কে অনুকূলে থাকতে হয়।

অসলো বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, নরওয়েতে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা রোগীদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ অস্ত্রোপচারের পর অন্তত এক বছর বেঁচে থাকেন। আর প্রায় ৫৫ শতাংশ রোগী ১০ বছর বা তারও বেশি সময় জীবিত থাকেন।

গত ডিসেম্বরে যুবরাজ হাকন জানিয়েছিলেন, মেটে-মারিটের শারীরিক অবস্থার ওঠানামা হচ্ছিল এবং তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়েছিল। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরে রাজকুমারীর অসুস্থতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলার প্রশংসা করেন। তার মতে, এতে একই রোগে আক্রান্ত অন্য মানুষ উপকৃত হতে পারেন।

মেটে-মারিটের সঙ্গে যুবরাজ হাকনের পরিচয় হয় ১৯৯৯ সালে একটি সঙ্গীত উৎসবে। তখন তিনি একজন একক মা এবং সাধারণ পরিবারের সদস্য ছিলেন। তাদের সম্পর্ক শুরুতে বিতর্কের জন্ম দিলেও পরে তা নরওয়ের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় রাজকীয় প্রেমকাহিনীগুলোর একটিতে পরিণত হয়।

কিন্তু এ বছর একের পর এক কেলেঙ্কারির কারণে নরওয়ের রাজতন্ত্রের প্রতি জনসমর্থন কমে গেছে বলে জনমত জরিপে দেখা গেছে। বিশেষ করে মেটে-মারিটের ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবির বহুল আলোচিত বিচার ও সাজা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, নরওয়ের রাজকুমারী মার্থা লুইস প্রয়াত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে অতীতে সম্পর্ক থাকার জন্য রাজা ও রানির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি জানান, এপস্টাইনকে একসময় বন্ধু মনে করলেও তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। ফেব্রুয়ারিতে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, নরওয়েতে রাজতন্ত্র বজায় রাখার পক্ষে সমর্থন রেকর্ড সর্বনিম্ন ৬০ শতাংশে নেমে আসে। তবে মে মাসে সেই সমর্থন কিছুটা বেড়ে ৬৪ শতাংশে পৌঁছায়।


 

১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত, তীব্র পানিসংকটে মুম্বাই

অনলাইন ডেস্ক
১২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত, তীব্র পানিসংকটে মুম্বাই
সংগৃহীত ছবি

এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক জুন মাসের মুখোমুখি হয়েছে ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাই। জলাধারগুলোর পানি দ্রুত কমে যাওয়ায় বুধবার থেকে নির্মাণ প্রকল্পে পানি সরবরাহ বন্ধ এবং শিল্প খাতে পানির ব্যবহার ২০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

৪০ দিনের মজুদ

মুম্বাইয়ের পানির প্রধান উৎস শহরের বাইরে অবস্থিত ৭টি হ্রদ বা জলাধার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে এসব জলাধারে মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ পানি অবশিষ্ট রয়েছে। এতে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের শহরটির জন্য মাত্র ৪০ দিনের পানির মজুদ রয়েছে।

নগর কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বুধবার থেকে সব নির্মাণস্থলের পানির সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে। পাশাপাশি নতুন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য পানির সংযোগ দেওয়াও স্থগিত রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া শিল্প, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ক্রীড়া ক্লাবগুলোর পানি সরবরাহও ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই ১০ শতাংশ পানি ব্যবহারে কাটছাঁট করা হয়েছিল।

বৃষ্টিপাত ৭৫ শতাংশ কম

মহারাষ্ট্র রাজ্যের আবহাওয়া কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জুনের প্রথম ১৬ দিনে রাজ্যটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সাধারণত জুনের প্রথম সপ্তাহেই মুম্বাইয়ে মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) প্রবেশ করে। তবে চলতি বছর এ মাসের শেষ দিকে বর্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এক আবহাওয়া কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণত জুনে মুম্বাইয়ে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি হয় এবং জুনের মাঝামাঝি থেকে নিয়মিত বর্ষণ শুরু হয়। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন।’

ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

মুম্বাইয়ের অধিকাংশ নির্মাণ প্রকল্প বাণিজ্যিক পানির ট্যাংকারের ওপর নির্ভরশীল। রিয়েল এস্টেট খাতের সংগঠন ক্রেডাই-এমসিএইচআইয়ের সভাপতি সুখরাজ নাহার বলেন, বর্ষা শিগগিরই শুরু হওয়ার আশা থাকায় ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।

তবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শহরের অন্যতম শীর্ষ আবাসন উদ্যোক্তা এবং হিরানন্দানি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন হিরানন্দানি। তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি আসা পর্যন্ত আমরা ১০ দিন পরিস্থিতি সামাল দিতে পারব। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কোথায়?’

এদিকে গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল মৌসুমি বৃষ্টিপাতের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। এতে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়া এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্ষার বিলম্ব ও বৃষ্টির ঘাটতি অব্যাহত থাকলে শুধু মুম্বাই নয়, ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও পানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি ঘাঁটি স্থাপনের খবর গুজব : সোমালিল্যান্ড

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলি ঘাঁটি স্থাপনের খবর গুজব : সোমালিল্যান্ড
ছবি : সংগৃহীত।

সোমালিল্যান্ডে কোনো ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি নেই এবং সেখানে ইসরায়েলের ঘাঁটি খোলার বিষয়ে কোনো আলোচনাও হচ্ছে না। রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছে সোমালিল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।

তেল আবিবে একটি ব্যাবসায়িক সম্মেলনের ফাঁকে তিনি বলেন, ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের সেনাবাহিনী ও পুলিশকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। কিন্তু সোমালিল্যান্ডে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের জন্য ইসরায়েল আলোচনা করছে বলে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তাকে তিনি ‘গুজব’ বলে অভিহিত করেন।

সোমালিল্যান্ড এডেন উপসাগরের ওপারে ইয়েমেনের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় অঞ্চলটি ইসরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।