উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সীমান্তের সমান্তরালে থাকা বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা সরিয়ে সীমাবদ্ধ এলাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখাটি কোরীয় যুদ্ধ-পরবর্তী নির্ধারিত সামরিক বিভাজন রেখা (এমডিএল) থেকে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এই অঞ্চলে প্রবেশ করতে হলে সামরিক বাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন হয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেসামরিক নিয়ন্ত্রণ রেখা গড়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার সরিয়ে আনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদার হওয়ায় এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এই নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের ভেতরে বসবাস করেন। এছাড়া কৃষিকাজ ও অন্যান্য পেশাগত কাজে অনেক মানুষ নিয়মিত অনুমতি নিয়ে এসব এলাকায় যাতায়াত করেন।
শিথিল হচ্ছে বিধিনিষেধ
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোর ওপর আরোপিত আরো কিছু বিধিনিষেধও শিথিল করা হবে।
এর মধ্যে কৃষিকাজে ব্যবহৃত ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে রিপোর্টিং ও অনুমোদন সংক্রান্ত নিয়ম সহজ করা হচ্ছে।
এসব পদক্ষেপ সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা
গত বছর দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংয়ের উদারপন্থী সরকার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে ধারাবাহিক কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। তবে পিয়ংইয়ং এখনো সিউলের প্রতি কঠোর ও বৈরী অবস্থান বজায় রেখেছে।
এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সিদ্ধান্তকে একদিকে স্থানীয় জনগণের সুবিধা বৃদ্ধি এবং অন্যদিকে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বাস্তবসম্মত পরিবর্তন আনার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।




