• ই-পেপার

ইসলামিক রিপাবলিক ৩.০

যুদ্ধ ইরানকে যেভাবে আরো শক্তিশালী করছে

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ধ্বংসাবশেষ থেকে পাহাড়ে দাবানল

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, ধ্বংসাবশেষ থেকে পাহাড়ে দাবানল
ছবি : নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় পাহাড়ে দাবানলের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রিমরক লেকের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিসি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

ইয়াকিমা কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, বিমান বিধ্বস্তের পর পাইলট নিরাপদে বের হতে সক্ষম হন। পরে আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

কর্মকর্তারা আরো জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

মার্কিন মেরিন কোরের এক বিবৃতির বরাতে কিরো টিভি জানায়, বিধ্বস্ত বিমানটি ছিল এফ/এ-১৮ হরনেট মডেলের। এটি ‘মেরিন এয়ারক্রাফট গ্রুপ ১১, তৃতীয় মেরিন এয়ারক্রাফট উইং’-এর অধীনে নিয়োজিত ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটনের সিয়াটল শহরের প্রায় ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সময় বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

নাচেস ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার ও ওকানোগান-ওয়েনাচি ন্যাশনাল ফরেস্ট ফায়ার সার্ভিসের একটি ফায়ার ইঞ্জিন মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুনে ঠিক কতটুকু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ ছাড়া বিমান বিধ্বস্তের কারণ সম্পর্কেও কোনো তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে বিমান দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে বলে জানান তারা।

কোচিং সেন্টার দ্বন্দ্ব

রওশন স্যার কারাবন্দী, ভাইয়ের রহস্যজনক ‘মৃত্যু’

অনলাইন ডেস্ক
রওশন স্যার কারাবন্দী, ভাইয়ের রহস্যজনক ‘মৃত্যু’
সংগৃহীত ছবি

ভারতের বিহারের জনপ্রিয় শিক্ষক রওশন আনন্দ ওরপে ‘রওশন স্যার’ এবং ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’। তাদের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে এক সঙ্গে পরিচালনা হতো জ্ঞান বিন্দু জিএস একাডেমি এবং খান গ্লোবাল স্টাডিজ নামের দুই কোচিং সেন্টার। কিন্তু গত কয়েকবছর ধরে এই দুই প্রতিষ্ঠান নিয়ে তাদের মধ্যে চরম বিরোধ চলছিল।

চলতি মাসের শুরুতে এই বিরোধ চরমে পৌঁছায়। এক পর্যায়ে খান স্যারের একাডেমিতে ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এর পরপরই রওশন স্যারকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় রহস্যজনকভাবে নেপালে তার ভাই প্রিন্সের মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে।

অন্যদিকে খান স্যার আদালতের কাছ থেকে সাময়িক সুরক্ষা পান, ফলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আর এই ঘটনার দায়ে করা মামলায় একজন অভিযুক্ত ছিলেন প্রিন্স। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনি অন্তত ছয় বন্ধুর সঙ্গে নেপালে অবস্থান করছিলেন। সেখানেই গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে খান স্যারের কোচিং সেন্টারে হামলার একটি মামলাতেও অভিযুক্ত ছিলেন প্রিন্স। অভিযোগ ছিল, তিনি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে সহিংস কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।

গত কয়েক বছরে খান স্যার একাধিকবার অভিযোগ করেছেন যে রওশন স্যার তার প্রতিষ্ঠানে বোমা হামলা এবং কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা সংগঠিত করেছেন। অন্যদিকে রওশন স্যারও খান স্যারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছেন। ২০২৩ সালে তার কোচিং সেন্টারে সংঘটিত ভাঙচুরের পেছনে খান স্যারের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন।

এনডিটিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ভাঙচুরের ঘটনাটি বিহার পুলিশ নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়। দুই কোচিং প্রতিষ্ঠানই বিপুলসংখ্যক সফল প্রার্থীর কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করে। এ নিয়ে পোস্টার ছেঁড়া, সমর্থকদের মধ্যে মারামারি এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

তবে এই দ্বন্দ্বের শিকড় আরও গভীরে। পাটনার মুসাল্লাহপুর এলাকার কিষাণ কোল্ড স্টোরেজ ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বর্তমানে খান স্যার ও রওশন স্যার—উভয়ের কোচিং সেন্টারই ওই ক্যাম্পাস থেকে পরিচালিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিন্সের মৃত্যুর কারণ জানতে নেপাল ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

স্বামীর পর ২ শিশু নিয়ে স্ত্রীর আত্মহনন

অনলাইন ডেস্ক
স্বামীর পর ২ শিশু নিয়ে স্ত্রীর আত্মহনন
সংগৃহীত ছবি

ভারতের মহারাষ্ট্রে একই পরিবারের ৪ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে স্বামী এবং দুই শিশু রয়েছে। পুলিশের ধারণা, ফাঁস দিয়ে স্বামীর আত্মহত্যার পর দুই শিশু নিয়ে কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন স্ত্রী। 

রাজ্যের ওয়াশিম জেলার মালেগাঁও তহসিলের তিভলি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি

প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের কর্তা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ের মরদেহ একটি কূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে শিরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমরান পাঠান এনডিটিভিকে জানান, তিভলি গ্রামে একটি কূপ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

তিনি বলেন, গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খবর পাই যে তিভলি গ্রামে এক ব্যক্তি ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। একই সঙ্গে তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে কূপে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এই খবরে পুলিশ কর্মকর্তাসহ অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন।

এসআই পাঠান আরো বলেন, ৪টি মরদেহ উদ্ধারের পর এখন ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে।

ইরান যুদ্ধ

শান্তিচুক্তি ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণের দলিল’?

অনলাইন ডেস্ক
শান্তিচুক্তি ট্রাম্পের ‘আত্মসমর্পণের দলিল’?
রয়টার্স ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশিত ইরান শান্তিচুক্তি নিয়ে সন্দেহ ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট দলের নেতারা। তাদের দাবি, এই চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো কূটনৈতিক বিজয় নয়; বরং এটি ইরানের কাছে ট্রাম্প প্রশাসনের আত্মসমর্পণের শামিল।

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাডাম শিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট বলছেন যুদ্ধ শেষ। আমি আশা করি তিনি সঠিক। কিন্তু আমরা এর আগেও এমন কথা শুনেছি, সঙ্গে ছিল একের পর এক অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি।’

মার্কিনদের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) নতুন নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন, কিন্তু ব্যয় কমাতে পারেননি। এর ফলে মার্কিন জনগণ গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সেথ মোল্টন সম্ভাব্য চুক্তিটিকে সরাসরি ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এম এস নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোল্টন বলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ চুক্তি। মূলত এটি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আত্মসমর্পণের দলিল।’

তিনি আরো বলেন, ‘এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে করদাতাদের ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, ১৪ জন মার্কিন নাগরিক নিহত হয়েছেন। আর বিনিময়ে আমরা এমন একটি চুক্তি পাচ্ছি, যার মাধ্যমে শুধু সেই হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে, যা ট্রাম্প এই অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করার আগেই খোলা ছিল। এটিকে কিভাবে বিজয় বলা যায়?’

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো সম্ভাব্য চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি। তবে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা থেকে স্পষ্ট, চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। চুক্তির প্রকৃত শর্তাবলি প্রকাশের পরই বোঝা যাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কূটনৈতিক সাফল্য নাকি রাজনৈতিকভাবে ব্যয়বহুল একটি সমঝোতা।