• ই-পেপার

হামলার মুখে নয়, আলোচনায় এগিয়েছে চুক্তি: ইরান

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হলেন ইলন মাস্ক। ছবি : রয়টার্স

ইতিহাস গড়লেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ ধনকুবেরদের অনেকটাই পেছনে ফেলেছেন। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, মেটার প্রধান মার্ক জাকারবার্গ এবং এলভিএমএইচের চেয়ারম্যান বার্নার্ড আর্নল্টের চেয়েও অনেক এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

তবে মাস্কের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথ মোটেও সহজ ছিল না। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি ছিলেন বিশ্বের ৩৫তম ধনী ব্যক্তি। তখন তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী কয়েক বছরে টেসলা ও স্পেসএক্সের বাজারমূল্য দ্রুত বাড়তে থাকায় তার সম্পদও বিস্ময়কর গতিতে বৃদ্ধি পায়।

২০২১ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির আসনে বসেন মাস্ক। যদিও ২০২২ সালে প্রযুক্তি খাতের মন্দা এবং ২০২৫ সালে টেসলার শেয়ারের দরপতনের কারণে তার সম্পদে বড় ধাক্কা লাগে। কিন্তু প্রতিবারই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন তিনি।

বর্তমানে মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে স্পেসএক্স থেকে। প্রতিষ্ঠানটিতে তার ৪২ শতাংশ মালিকানা রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৮২১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে টেসলায় তার ১২ শতাংশ শেয়ারের মূল্য প্রায় ২৮৪ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া নিউরালিংক ও দ্য বোরিং কোম্পানিতেও তার উল্লেখযোগ্য অংশীদারিত্ব রয়েছে।

বিশেষ শর্তে আমিরাত থেকে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাওয়ার গুঞ্জন

অনলাইন ডেস্ক
বিশেষ শর্তে আমিরাত থেকে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার পাওয়ার গুঞ্জন
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য মার্কিন মিত্র দেশের ওপর টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে হামলা চালিয়ে। তবে চারটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক সপ্তাহ ধরে ইরানের হামলার পর দেশটি তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনে ইরানের জন্য শত শত কোটি ডলারের আর্থিক সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার অংশ হিসেবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির শত শত কোটি ডলার ছাড় বা মুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আগে প্রকাশ না হওয়া এই সিদ্ধান্ত এমন সময় সামনে এসেছে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

দুটি আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের জন্য মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অবগত আরো দুটি সূত্রের দাবি, মোট তহবিলের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার। তাদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানি হামলা বন্ধ করার বিনিময়ে এই অর্থ ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে।

এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ৩ বিলিয়ন ডলারের প্রথম কিস্তি ইতোমধ্যে ইরানকে দেওয়া হয়েছে। তবে এই অর্থের উৎস কী, তা স্পষ্ট নয়। রয়টার্স নিশ্চিত হতে পারেনি যে, এই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হচ্ছে, না কি দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বা অন্য কোথাও দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ইরানের অর্থ থেকে ছাড়া হচ্ছে।

শনিবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ইরানের জন্য ৩ বিলিয়ন ডলার বা অন্য কোনো অর্থ ছাড় দেওয়ার খবর সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে কোনো জব্দকৃত বা আটকে থাকা ইরানি তহবিল মুক্ত, স্থানান্তর বা ছাড় দেওয়া হয়নি বলেও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এর আগে রয়টার্স অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে মন্তব্য চাইলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের দেশ আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে।

তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সংঘাতের প্রভাব থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সেসব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

ইরান সর্বশেষ ৪ মে সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এই পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

ওয়াশিংটনে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর বা বৈঠকে যোগদানের জন্য ইরানকে কোনো তহবিল দেওয়া হবে না। তিনি আরো বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তেহরান তার বাধ্যবাধকতা পূরণ করলে অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।

এই পদক্ষেপ সম্পর্কে মন্তব্যের জন্য রয়টার্সের অনুরোধে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে এই নিবন্ধে উল্লিখিত কোনো সূত্রই তাদের পরিচয় প্রকাশে রাজি হয়নি।

এই ব্যবস্থাটি যুদ্ধের বেশিরভাগ সময়জুড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইরান সম্পর্কের প্রকাশ্য শত্রুতা থেকে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানি হামলায় দুবাইয়ের হোটেলগুলো খালি হয়ে গিয়েছিল, কিছু প্রবাসী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল এবং দেশের প্রধান ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে অবস্থানের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নিরাপত্তার সুনামটি নড়বড়ে হয়ে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত কমানোর একটি সম্ভাব্য পথ তৈরি করেছে, যেখানে কোনো পক্ষকেই তাদের ঘোষিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত অবস্থান থেকে সরে আসতে হবে না।

সূত্রটির মতে, এর ফলে ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি করতে পারবে, যুক্তরাষ্ট্রও সরাসরি কোনো অর্থ পরিশোধ না করার অবস্থান বজায় রাখতে পারবে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবে। একই সঙ্গে, এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবেও উপস্থাপন করা হবে।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থ প্রদানের বিনিময়ে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করবে। পাশাপাশি দুই দেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেবে।

ওই সূত্র আরো দাবি করেছে, ইরান একই ধরনের সমঝোতার জন্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্তত আরো দুটি আরব দেশের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের সর্বশেষ সরাসরি হামলা হয় ৪ মে। সেদিন ওমান উপসাগর তীরবর্তী ফুজাইরাহ বন্দরে হামলা চালানো হয়েছিল।

প্রথম সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতা নিয়ে আলোচনা কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হলেও গত সপ্তাহে তা গতি পায়। সে সময় ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের পরিচালক আবুধাবি সফর করেন এবং শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও আবুধাবির উপ-শাসক। সূত্রটি জানায়, ওই সফরের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারাও তেহরান সফর করেন এবং সম্ভাব্য সমঝোতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

দুবাইয়ে বিপুল পরিমাণ ইরানি সম্পদ

সম্ভাব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইরান সমঝোতা এমন এক জটিল আর্থিক প্রেক্ষাপটে এগোচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে আসছে।

দুবাইয়ের বিভিন্ন ব্যাংকে বহু বছর ধরে বিপুল পরিমাণ ইরান-সংশ্লিষ্ট অর্থ জমা রয়েছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব তহবিলের বড় অংশ বর্তমানে আটকে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতায় কোনো বিদেশি ব্যাংক নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত ইরানি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে সেটি মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গত ১১ এপ্রিল এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও অন্যান্য দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের কিছু সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা দ্রুতই সেই দাবি নাকচ করে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এসব সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ এবং যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় এটি অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্ভাব্য সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইরান সমঝোতা এমন এক জটিল আর্থিক প্রেক্ষাপটে এগোচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুবাই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে আসছে।

দুবাইয়ের বিভিন্ন ব্যাংকে বহু বছর ধরে বিপুল পরিমাণ ইরান-সংশ্লিষ্ট অর্থ জমা রয়েছে। তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব তহবিলের বড় অংশ বর্তমানে আটকে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার আওতায় কোনো বিদেশি ব্যাংক নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত ইরানি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করলে সেটি মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

গত ১১ এপ্রিল এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র কাতার ও অন্যান্য দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের কিছু সম্পদ মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। তবে একজন মার্কিন কর্মকর্তা দ্রুতই সেই দাবি নাকচ করে দেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, এসব সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ এবং যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় এটি অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে অপরাধী চক্রের নেতা নিহত, দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে অপরাধী চক্রের নেতা নিহত, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন সামরিক বাহিনী বিমান হামলায় ভেনেজুয়েলার গ্যাং ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’র নেতা নিহত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ঘোষণা দিয়েছেন। 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী একটি বিশেষ হামলা চালিয়ে নিনো গেরেরোকে হত্যা করেছে। নিনো গেরেরোর আসল নাম হেক্টর রাস্টেনফোর্ড গেরেরো ফ্লোরেস।

তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের নেতা ছিলেন। এই গ্যাংটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম কুখ্যাত অপরাধী সংগঠন হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের অভিযোগ, এই গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালাচ্ছিল।

তার প্রশাসন ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’কে ইসলামিক স্টেটের মতো একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিওও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সবুজ রঙের ভবন ও তার পাশের একটি ছোট স্থাপনা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্প আরো বলেছেন, এই সামরিক অভিযান ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়েছে। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা এ বিষয়ে খুব ভালোভাবে একসঙ্গে কাজ করেছে।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এক বিশেষ অভিযানে তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তার বাসভবন থেকে আটক করে। পরে তাকে নিউ ইয়র্কে নেওয়া হয়, যেখানে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তিনি ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ গ্যাংয়ের সঙ্গে মিলে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ প্রথমে একটি কারাগারভিত্তিক গ্যাং ছিল। এর নেতা নিনো গেরেরো এটিকে পরে একটি আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রে পরিণত করেন। তাকে গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র লাখ লাখ ডলার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল।

গেরেরোর নেতৃত্বে গ্যাংটি তাদের কার্যক্রম কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু এবং চিলিতে ছড়িয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে অভিবাসীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি, যৌন পাচার, ভাড়ায় খুন এবং অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

গেরেরো বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। ২০১২ সালে তিনি একজন প্রহরীকে ঘুষ দিয়ে পালিয়ে যান এবং ২০১৩ সালে পুনরায় গ্রেপ্তার হন। ফিরে এসে তিনি উত্তর ভেনেজুয়েলার আরাগুয়া রাজ্যের টোকোরোন কারাগারকে একটি বিনোদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করেন, যেখানে চিড়িয়াখানা, রেস্তোরাঁ, নাইটক্লাব, বেটিং শপ এবং সুইমিংপুল ছিল।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মাদুরো কারাগারটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে এবং তা দখল করতে ১১ হাজার সৈন্য পাঠান। গেরেরো আবারও পালিয়ে যান।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, জেলের ভেতরে-বাইরে থাকা সত্ত্বেও তিনি তার গ্যাংয়ের প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন এবং বলিভার রাজ্যের সোনার খনি, ক্যারিবিয়ান উপকূলের মাদক করিডর এবং ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার মধ্যে গোপন সীমান্ত পারাপারের পথগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেন।

বেশির ভাগ বিবরণ অনুসারে, ২০১৪ সালে ভেনেজুয়েলা যখন মানবিক ও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থার সম্মুখীন হয়, তখন অপরাধ কম লাভজনক হয়ে পড়লে ট্রেন দে আরাগুয়া দেশটির বাইরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আরো আটটি দেশে এর শাখা-প্রশাখা রয়েছে বলে মনে করা হয়।

‘ট্রেন দে আরাগুয়া’ বিভিন্ন দেশে তাদের কার্যক্রম চালানোর জন্য স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ইকুয়েডরে গ্যাংটি সিনালোয়া কার্টেলের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে বলে মনে করা হয়। আবার কলম্বিয়াতে তাদের সদস্যরা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (ইএলএন) নামের একটি সশস্ত্র গেরিলা সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সমুদ্রে কয়েক ডজন নৌকার ওপর অভিযান চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নৌকা বড় আকারে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাদের মতে, এসবের মধ্যে কিছু নৌকার সঙ্গে ‘ট্রেন দে আরাগুয়ারও সম্পর্ক ছিল।

সিডনির সৈকতে হাঙরের হামলা, গুরুতর আহত নারী সাঁতারু

অনলাইন ডেস্ক
সিডনির সৈকতে হাঙরের হামলা, গুরুতর আহত নারী সাঁতারু
ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে একের পর এক হাঙরের হামলার ঘটনার মধ্যেই এবার সিডনির একটি জনপ্রিয় সৈকতে হাঙরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন এক নারী সাঁতারু। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কুজি বিচে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয়। খবর পাওয়া যায়, ৩০ বছর বয়সী এক নারী সাঁতার কাটার সময় হাঙরের কামড়ে আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটার পর সৈকতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত তাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেন। এরপর তারা জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে শুরু করেন।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ওই নারীর হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। পরে তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার চিকিৎসা চলছে। হাঙরের হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কুজি বিচসহ আশপাশের আরো দুটি সৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন উপকূলে একাধিক হাঙরের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের উপকূলে মাছ ধরার সময় হাঙরের আক্রমণে এক ব্যক্তি নিহত হন। এর আগে গত মাসে কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এলাকায় মাছ ধরার সময় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাঙরের হামলায় প্রাণ হারান।  এ ছাড়া তারও ১০ দিন আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের কাছে একটি দ্বীপের বাইরে ৩৮ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি হাঙরের আক্রমণে নিহত হন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেও হাঙরের হামলার কারণে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। মাত্র দুই দিনের মধ্যে চারটি পৃথক হামলার ঘটনার পর সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের কয়েক ডজন সৈকত বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে হওয়া ভারী বৃষ্টির কারণে সমুদ্রের পানি ঘোলা হয়ে যায়। এতে হাঙর তীরের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। একই সঙ্গে ঘোলা পানিতে হাঙরকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বেশির ভাগ হাঙরের হামলার ঘটনা পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ঘটে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০টি হাঙরের হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়।