• ই-পেপার

কে এই কেইকো ফুজিমোরি?

সিডনির সৈকতে হাঙরের হামলা, গুরুতর আহত নারী সাঁতারু

অনলাইন ডেস্ক
সিডনির সৈকতে হাঙরের হামলা, গুরুতর আহত নারী সাঁতারু
ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে একের পর এক হাঙরের হামলার ঘটনার মধ্যেই এবার সিডনির একটি জনপ্রিয় সৈকতে হাঙরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন এক নারী সাঁতারু। শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম শহর সিডনির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত কুজি বিচে জরুরি সেবাকর্মীদের ডাকা হয়। খবর পাওয়া যায়, ৩০ বছর বয়সী এক নারী সাঁতার কাটার সময় হাঙরের কামড়ে আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, ঘটনাটি ঘটার পর সৈকতে উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত তাকে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করেন। এরপর তারা জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানোর আগেই প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে শুরু করেন।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ওই নারীর হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। পরে তাকে দ্রুত হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার চিকিৎসা চলছে। হাঙরের হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কুজি বিচসহ আশপাশের আরো দুটি সৈকত সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন উপকূলে একাধিক হাঙরের হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র এক সপ্তাহ আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া অঙ্গরাজ্যের উপকূলে মাছ ধরার সময় হাঙরের আক্রমণে এক ব্যক্তি নিহত হন। এর আগে গত মাসে কুইন্সল্যান্ডের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এলাকায় মাছ ধরার সময় ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি হাঙরের হামলায় প্রাণ হারান।  এ ছাড়া তারও ১০ দিন আগে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ শহরের কাছে একটি দ্বীপের বাইরে ৩৮ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তি হাঙরের আক্রমণে নিহত হন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতেও হাঙরের হামলার কারণে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। মাত্র দুই দিনের মধ্যে চারটি পৃথক হামলার ঘটনার পর সিডনিসহ অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূলের কয়েক ডজন সৈকত বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর আগে হওয়া ভারী বৃষ্টির কারণে সমুদ্রের পানি ঘোলা হয়ে যায়। এতে হাঙর তীরের কাছাকাছি চলে আসতে পারে। একই সঙ্গে ঘোলা পানিতে হাঙরকে শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বেশির ভাগ হাঙরের হামলার ঘটনা পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ঘটে। প্রতিবছর গড়ে প্রায় ২০টি হাঙরের হামলার ঘটনা রেকর্ড করা হয়।

জাপানে বাবার নির্দোষিতা প্রমাণে সন্তানের ৪ দশকের লড়াই

অনলাইন ডেস্ক
জাপানে বাবার নির্দোষিতা প্রমাণে সন্তানের ৪ দশকের লড়াই
কোজি সাকাহারা তার পিতা হিরোমু সাকাহারার একটি ছবি সহ।

দীর্ঘ চার দশক আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে মরণোত্তর পুনর্বিচারের (পুনরায় বিচার) অনুমতি পেয়েছেন জাপানের হিরোমু সাকাহারা। ১৯৮৪ সালে একটি হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা সাকাহারা ২০১১ সালে কারাগারেই মারা যান। মৃত্যুর ১৫ বছর পর আদালত মামলাটি পুনর্বিচারের অনুমতি দিলেও, নিজের মুক্তি ও ন্যায়ের জয় দেখে যাওয়ার জন্য সাকাহারা আজ বেঁচে নেই। আদালতের এই রায় আসার পর তার পরিবারের সদস্যরা আনন্দের বদলে অশ্রুসিক্ত চোখে তার কবরের পাশে জড়ো হন।

১৯৮৪ সালে জাপানের হিনো নামক একটি শহরের মদের দোকান ব্যবস্থাপককে হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে সাকাহারাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাকাহারার ছেলে কোজি সাকাহারা (৬৪) জানান, পুলিশ তার বাবাকে মারধর, লাথি ও পরিবারের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে জোর করে অপরাধের স্বীকারোক্তি আদায় করেছিল। যদিও আদালতে সাকাহারা নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন, তাও পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৪ বছর কারাগারে বন্দি থাকার পর ২০১১ সালে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

সাকাহারার মৃত্যুর পরও তার পরিবার লড়াই থামায়নি। দীর্ঘ বছর ধরে সমাজ তাদের ‘খুনির পরিবার’ হিসেবে দেখত এবং তার মাকে ফোনে ‘খুনি’ বলে গালিগালাজও করা হতো। অবশেষে, পুলিশের একটি পুরনো নেগেটিভ ফিল্মের প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে আইনজীবীরা প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, পুলিশ নিজেই সাকাহারাকে মৃতদেহের অবস্থান দেখিয়ে দিয়েছিল। এর ওপর ভিত্তি করেই আদালত এখন মরণোত্তর পুনর্বিচারের ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে। যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় মরণোত্তর বিচারের ঘটনা।

জাপানের আইনি ব্যবস্থায় ৯৯ শতাংশেরও বেশি মামলায় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে আইনজীবীর উপস্থিতি ছাড়াই সন্দেহভাজনদের আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, যাকে জাপানে ‘জিম্মি বিচার’ বলা হয়। সাকাহারার এই ঘটনাটি জাপানের বিচার ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য একটি নতুন বিল পাসের গতি বাড়িয়েছে। নতুন এই বিল অনুযায়ী, প্রসিকিউটররা চাইলেই পুনর্বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে বারবার আপিল করে মামলা দীর্ঘায়িত করতে পারবেন না।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সংস্কার বিলটিকে সমর্থন করে বলেছেন, ‘নিরপরাধ ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যদি ভুল রায়ে কেউ দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে অবিলম্বে নির্দোষ প্রমাণ করার সুযোগ দিতে হবে।’ দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় অবশ্য এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, আপিলের সুযোগ সীমিত করলে তা প্রমাণ সংগ্রহের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। টোকিওর মেইজি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাপানে ভুল রায় সংশোধনে কয়েক দশক লেগে যায়, যা আসামির পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। প্রসিকিউটরদের এই ‘যেকোনো মূল্যে জিততেই হবে’ মানসিকতা পরিহার করা উচিত।

বাবার মৃত্যুর পর তার ছেলে কোজি সাকাহারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকাকালীন যদি এই রায় আসত, তবে তিনি হয়তো আজও আমাদের মাঝে বেঁচে থাকতেন। জাপানের আইনি ব্যবস্থা দ্রুত বদলানো উচিত, যেন আর কোনো পরিবারকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়।’

সূত্র : সিএনএন

দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী নিহত, নিন্দা জাতিসংঘের

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষী নিহত, নিন্দা জাতিসংঘের
সংগৃহীত ছবি

লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনরত এক সার্বিয়ান শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে পরিষদের ১৫ সদস্য একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চার জুন লেবাননে দায়িত্ব পালনকালে একটি মর্টারের গোলা ওই শান্তিরক্ষীর অবস্থানে আঘাত হানে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, একই হামলায় আরো দুইজন শান্তিরক্ষী আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা চলছে।

নিহত শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী বাহিনী ইউনিফিলের সদস্য ছিলেন। নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত শান্তিরক্ষীদের দ্রুত ও সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছেন।

তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কোনো পক্ষের নাম উল্লেখ করা হয়নি। পরিবর্তে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের সদস্যরা বলেছেন, এই হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের খুঁজে বের করতে জাতিসংঘকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত জাতিসংঘের সব শান্তিরক্ষীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে শান্তিরক্ষীরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া ইউনিফিল মিশনে সেনা ও অন্যান্য সদস্য পাঠানো দেশগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় এসব দেশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী এখনো সক্রিয় এবং সতর্ক অবস্থানে: সেন্টকম

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী এখনো সক্রিয় এবং সতর্ক অবস্থানে: সেন্টকম
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত রাখার বার্তা দিতে একটি নতুন ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

প্রকাশিত ছবিতে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানকে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে টহল দিতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। ছবির সঙ্গে দেওয়া সংক্ষিপ্ত এক বার্তায় সংস্থাটি বলেছে, এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর উপস্থিতি এখনো বহাল রয়েছে এবং তারা সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে আছে। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মার্কিন বাহিনী পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সেন্টকম দাবি করেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি একমুখী হামলা ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী। এসব ড্রোনকে আকাশেই শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সেন্টকম বলেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তাদের দাবি, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো স্বাভাবিকভাবে এই পথ ব্যবহার করতে পারছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই বক্তব্যকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অবস্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।