ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, তার দেশের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন হামলার জবাব দেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ‘আমাদের পরীক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছে’।
এক্স-এ একটি পোস্টে আরাগচি লিখেছেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় সত্ত্বেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পরীক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান। পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে অনুপ্রবেশকারী বহিরাগতদের ভয়াবহ পরিণতির অনেক অধ্যায় রয়েছে।’
২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই আরাগচির এই বিবৃতিটি এসেছে। যুদ্ধটি চলতি বছরের শুরুতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।
পাল্টা পাল্টি পদক্ষেপের কারণে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বারবার বিঘ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক যান চলাচলের ওপর কথিত হুমকির জবাবে ইরানের স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং অন্যান্য ঘটনা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল (১০ জুন) পর্যন্ত, সর্বশেষ মার্কিন পদক্ষেপের পর ইরানের পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলার খবর পাওয়া যায়নি। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক যোগাযোগ এখনও উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা নানা বাধার মুখে পড়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের পদক্ষেপকে আত্মরক্ষা ও সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকার কথা জানিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। উপসাগরীয় দেশসহ অন্যান্য পক্ষ জড়িয়ে পড়লে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ইরানের সমর্থকেরা এই পদক্ষেপকে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন। তবে সমালোচকেরা ক্ষয়ক্ষতি ও দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের খবর উল্লেখ করে সরকারের দাবিগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।




