• ই-পেপার

ভয়ানক অপহরণ যেভাবে বদলে গেল ‘সুন্দর বন্ধুত্বে’

গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক
গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী
সংগৃহীত ছবি

ভারতের মহারাষ্ট্রের নালাসোপারা পূর্বের আচোলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে নিজ বাসা থেকে ‘কুমকুম ভাগ্য’ খ্যাত অভিনেত্রী সঞ্চিতা উগালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র ২২ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ জুন মহারাষ্ট্রের নালাসোপারা পূর্বের আচোলি এলাকার একটি আবাসিক ভবনে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সঞ্চিতা। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে ভাসাই-ভিরার পৌরসভার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ একটি ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট প্রস্তুত করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। অভিনেত্রীর বাবা মাছিদ্র উগালের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে আচোলি পুলিশ ১৫ জুন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৯৪ ধারায় একটি ‘অ্যাক্সিডেন্টাল ডেথ রিপোর্ট’ বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নথিভুক্ত করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

সঞ্চিতা উগালে জি টিভির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘কুমকুম ভাগ্য’-এ দিয়া ট্যান্ডন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। এ ছাড়া ‘সাজন ঘর’, ‘ওয়াগলে কি দুনিয়া’ এবং ‘দিলওয়ালি দুলহা লে জায়েগি’র মতো একাধিক টেলিভিশন ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন তিনি।

ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও নিজের উপস্থিতি জানান দেন সঞ্চিতা। মনোজ বাজপেয়ী অভিনীত ‘সাইলেন্স ২ : দ্য নাইট আউল বার শুটআউট’-এ অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি ভিকি কৌশল অভিনীত ‘ছাবা’ চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে।
 

৯ বছরেই শিক্ষাজীবনের ইতি, অভিনয়ে এসে হয়ে ওঠেন কিংবদন্তি

বিনোদন প্রতিবেদক
৯ বছরেই শিক্ষাজীবনের ইতি, অভিনয়ে এসে হয়ে ওঠেন কিংবদন্তি
সংগৃহীত ছবি

মাত্র ৯ বছর বয়সেই থেমে যায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন। কিন্তু সেখান থেকেই শুরু হয় আরেকটি যাত্রা, যা পরে তাকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে। আফরোজা সুলতানা রত্না নামের সেই ছোট্ট মেয়েটিই পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন কোটি দর্শকের প্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। অসাধারণ অভিনয়-দক্ষতা, পর্দায় অনবদ্য উপস্থিতি এবং অনন্য সৌন্দর্যের কারণে তিনি পেয়েছেন ‘ঢালিউডের বিউটিকুইন’ খ্যাতি।

১৯৫২ সালের ১৫ জুন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শাবানা। তার বাবা ফয়েজ চৌধুরী এবং মা ফজিলাতুন্নেসা। ১৯৬২ সালে পরিচালক আজিজুর রহমানের হাত ধরে শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় তার। প্রথম অভিনয় করেন এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ছবিতে। পরে নৃত্যশিল্পী হিসেবেও কাজ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য, জনপ্রিয় চলচিত্র নায়িকা শাবানা - আমাদের খবর

অভিনয়ে যাত্রা শুরুর মাত্র পাঁচ বছর পরই নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন রত্না। ১৯৬৭ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চকোরী’ চলচ্চিত্রে পাকিস্তানি অভিনেতা নাদিমের বিপরীতে অভিনয় করেন তিনি। এই ছবির মাধ্যমেই পরিচালক তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘শাবানা’, আর সেই নামেই তিনি ইতিহাসের অংশ হয়ে যান।

বাংলা চলচ্চিত্রে শাবানাকে ঘিরে একটি বহুল প্রচলিত কথা রয়েছে ‘সেলাই মেশিন মানেই শাবানা’। কারণ, পর্দায় তিনি অসহায়, সংগ্রামী বধূ কিংবা মায়ের চরিত্রে এমন বাস্তবসম্মত অভিনয় করেছেন যে দর্শকের মনে তা স্থায়ী ছাপ ফেলেছে। বহু ছবিতে দেখা গেছে, স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীর চরিত্রে সন্তানকে মানুষ করতে তিনি সেলাইয়ের কাজ করছেন। ফলে সেলাই মেশিন যেন তার অভিনয় জীবনের এক প্রতীক হয়ে ওঠে।

স্কুল-কলেজে পড়েননি, অভিনয় দিয়েই কিংবদন্তি শাবানা

অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনাতেও সফল পদচারণা ছিল তার। ১৯৭৯ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান এস এস প্রোডাকশনের ব্যানারে নির্মিত ‘মাটির ঘর’ ছিল তার প্রথম প্রযোজিত চলচ্চিত্র। আজিজুর রহমান পরিচালিত এ ছবিতে রাজ্জাক ও শাবানার অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং ছবিটি ব্যাবসায়িকভাবেও সাফল্য পায়।

১৯৮৮ সালে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার চলচ্চিত্র ‘বিরোধ’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচনায় আসেন তিনি। এ ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা রাজেশ খান্না। পরে ছবিটি হিন্দিতে ‘শত্রু’ নামে ডাবিং করে মুক্তি দেওয়া হয়।

শুধু দেশীয় নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিংবদন্তিদের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল তার। ১৯৮৯ সালের অক্টোবরে ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত এবং বিশ্বখ্যাত হলিউড অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন বাংলাদেশ সফরে এসে এফডিসি পরিদর্শন করেন। সে সময় শাবানাসহ দেশের বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় শিল্পীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

Audrey Hepburn served as UNICEF's goodwill ambassador ...

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৪ সালে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী ওয়াহিদ সাদিককে বিয়ে করেন শাবানা। পরবর্তী সময়ে তারা যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন এস এস প্রোডাকশন্স। তাদের সংসারে দুই মেয়ে—সুমি ও ঊর্মি এবং এক ছেলে নাহিন রয়েছেন।

পুরস্কারের দিক থেকেও শাবানা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে অনন্য। ১৯৭৭ সালে ‘জননী’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে পার্শ্বচরিত্র বিভাগে মনোনীত হলেও তিনি সেই পুরস্কার গ্রহণ করেননি। পরে ১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ চলচ্চিত্রের জন্য প্রথমবার সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

এরপর অভিনয়জীবনে তিনি মোট ১১ বার সেরা অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন, যা এখনো কোনো বাংলাদেশি অভিনেত্রীর জন্য সর্বোচ্চ অর্জন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৭ সালে তাকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।

দেশে ফিরেছেন শাবানা?

১৯৯৯ সালে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়িয়ে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হন শাবানা। যদিও তার শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। আজিজুর রহমান পরিচালিত এ ছবিটি ছিল শাবানা-আলমগীর জুটির শেষ সিনেমা। বাংলা চলচ্চিত্রে সবচেয়ে বেশি জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয়ের রেকর্ডও তাদের দখলে। শাবানা অভিনয় করেছেন মোট ২৯৯টি চলচ্চিত্রে, যার মধ্যে ১৩০টিতেই তার সহশিল্পী ছিলেন আলমগীর।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ২০২০ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর আর দেশে আসা হয়নি তার। পর্দা থেকে দূরে থাকলেও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এবং দর্শকের হৃদয়ে শাবানা আজও এক অমলিন কিংবদন্তি।

মেসির ‘ডাইহার্ড ফ্যান’, আর্জেন্টিনাকে ‘উড়ন্ত চুমু’ পরীমনির

বিনোদন ডেস্ক
মেসির ‘ডাইহার্ড ফ্যান’, আর্জেন্টিনাকে ‘উড়ন্ত চুমু’ পরীমনির
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে বিশ্বের কোটি কোটি সমর্থকের মতো চিত্রনায়িকা পরীমনিও মেতে উঠেছেন প্রিয় দলকে ঘিরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং দলটির অধিনায়ক লিওনেল মেসির একজন ‘ডাইহার্ড ফ্যান’।

সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন পরী। সেখানে দেখা যায়, তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষেরা সমস্বরে ‘আর্জেন্টিনা’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। 

সেই উচ্ছ্বসিত মুহূর্তে সেলফি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ভক্তদের উদ্দেশে ‘উড়ন্ত চুমু’ ছুড়ে দেন এই অভিনেত্রী।

ভিডিওটি প্রকাশের পর অল্প সময়েই সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্যের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার প্রতি পরীমনির ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন।

নিজের সমর্থনের কথা জানিয়ে পরী বলেন, ‘আমি আর্জেন্টিনা। আমি আজীবনের আর্জেন্টিনা। আই লাভ মেসি।’

মেসির খেলা দেখার সময় নিজের আবেগও কখনো লুকাননি এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘মেসির পায়ে যখন বল থাকে, তখন সত্যিই আমার হার্টবিট বেড়ে যায়।’

হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল জনপ্রিয় গায়কের

বিনোদন ডেস্ক
হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল জনপ্রিয় গায়কের
সংগৃহীত ছবি

ভয়াবহ এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জনপ্রিয় মার্কিন গায়ক ও গীতিকার অলিভার ট্রি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৩২ বছর।

ভ্যারাইটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর আকাশে দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পীও ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া অলিভার ট্রি সংগীতজীবনের শুরুতে ইলেকট্রনিক ধারার গান নিয়ে কাজ করেন। ২০১৩ সালে প্রকাশিত তার প্রথম ইপি ‘ডেমনস’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংগীতাঙ্গনে যাত্রা শুরু হয়। পরে ২০১৬ সালে ‘হোয়েন আই’ম ডাউন’ গানটি ভাইরাল হলে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

এরপর ‘এলিয়েন বয়’, ‘লাইফ গোজ অন’ এবং ‘মিস ইউ’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান আরো শক্ত করেন। বিশেষ করে টিকটক ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার গান কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।

মৃত্যুর আগে বিশ্ব সফর নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন এই শিল্পী। তার চতুর্থ স্টুডিও অ্যালবাম ‘লাভ ইউ ম্যাডলি, হেইট ইউ ব্যাডলি’ উপলক্ষে চলছিল কনসার্ট ট্যুর। মেক্সিকো থেকে শুরু হওয়া এ সফরে লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে পরিবেশনার পর ইউরোপ, এশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও আফ্রিকায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

কিন্তু আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় সেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হলো না। সংগীতপ্রেমীদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে থেমে গেল জনপ্রিয় এই শিল্পীর জীবনযাত্রা।

ভয়ানক অপহরণ যেভাবে বদলে গেল ‘সুন্দর বন্ধুত্বে’ | কালের কণ্ঠ