• ই-পেপার

ভাবমূর্তি রক্ষায় যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চান নেতানিয়াহু

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের আহ্বান ভারতের

অনলাইন ডেস্ক
নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ত্যাগের  আহ্বান ভারতের
ছবি : সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে ভারতীয় দূতাবাস।

ভারতীয় নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস এবং বর্তমানে যারা সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত সম্ভব সব ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে। 

সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই সতর্কতা আরো জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। দূতাবাস নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে আহ্বান জানিয়েছে। ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে ইরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস। 

 

দূতাবাস জানিয়েছে, সব ভারতীয় নাগরিককে ইরানে যাওয়া এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে এবং বর্তমানে যারা সেখানে অবস্থান করছেন, তাদের দ্রুত সম্ভব সব ধরনের পরিবহন ব্যবহার করে দেশ ত্যাগ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা আগের পরামর্শ পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, সব ভারতীয় নাগরিককে ইরান ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে এবং যারা বর্তমানে আছেন, তাদের দ্রুত দেশ ছাড়তে হবে।’ 

এই নির্দেশনা ইরানে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য, যার মধ্যে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, তীর্থযাত্রী ও পর্যটকরা রয়েছেন। চলমান ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে এটি ভারতের দেওয়া অষ্টম সতর্কবার্তা। এর আগে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পরপরই ভারতীয় দূতাবাস নাগরিকদের দ্রুত ইরান ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল এবং জরুরি সহায়তার জন্য একটি হেল্পলাইনও চালু করেছিল, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হলে নিরাপদে দেশ ছাড়তে পারেন তারা।

প্রায় সাত হাজার ৫০০ ভারতীয় নাগরিক এখনও ইরানে রয়েছেন। এর আগে, দূতাবাস আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সঙ্গে স্থল সীমান্ত দিয়ে ইরান থেকে হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিকের দেশত্যাগে সহায়তা করেছে।
 

আফগানিস্তানে পোশাকবিধি নিয়ে নারীদের গ্রেপ্তার, জাতিসংঘের উদ্বেগ

অনলাইন ডেস্ক
আফগানিস্তানে পোশাকবিধি নিয়ে নারীদের গ্রেপ্তার, জাতিসংঘের উদ্বেগ
ছবি : রয়টার্স

আফগানিস্তানের একটি পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে পোশাকবিধি না মানার অভিযোগে নারীদের গ্রেপ্তার ও আটকের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে তারা তালেবান কর্তৃপক্ষকে সব মানুষের প্রতি সমান আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, হেরাত প্রদেশে নারীদের আটক করার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন, যা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শঙ্কা তৈরি করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে অন্তত ২১ জন নারী ও কিশোরীকে আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তালেবান কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান সম্প্রতি একটি নির্দেশনা জারি করেছে, যেখানে নারীদের জনসমক্ষে ‘যথাযথ হিজাব’ মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তালেবান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে একাধিক কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

এপ্রিলে প্রকাশিত ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছিল, মেয়েদের শিক্ষা ও নারীদের কর্মসংস্থানের ওপর বিধি-নিষেধ বহাল থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি ২৫ হাজারের বেশি নারী শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মী হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

এভারেস্টে ছয় দিন নিখোঁজ পর্বতারোহী,  বেঁচে ফিরলেন বরফ ও চকোলেট খেয়ে

অনলাইন ডেস্ক
এভারেস্টে ছয় দিন নিখোঁজ পর্বতারোহী,  বেঁচে ফিরলেন বরফ ও চকোলেট খেয়ে
সংগৃহীত ছবি

মাউন্ট এভারেস্টের দুর্গম ও প্রাণঘাতী এলাকায় প্রায় এক সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর জীবিত ফিরে এসেছেন নেপালের অভিজ্ঞ পর্বতারোহী গাইড হিলারি দাওয়া শেরপা। ৫২ বছর বয়সী এই গাইড জানিয়েছেন, খাদ্য ও অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ার পর বরফ চিবিয়ে এবং সামান্য কিছু চকোলেট খেয়ে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে গেছেন।

নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর তাকে এভারেস্ট বেস ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকায় দুর্বল অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, তিনি তখন প্রায় হামাগুড়ি দিয়ে নিচের দিকে নামছিলেন।

গত বৃহস্পতিবার সকালে খুম্বু আইসফল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কাজে নিয়োজিত একটি দল প্রথম তাকে দেখতে পায়। এরপর দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয় এবং হেলিকপ্টারে করে তাকে রাজধানী কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হন দাওয়া। এর আগে তার স্বজনরা তাকে জীবিত পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। এমনকি তার মৃত্যুর সম্ভাবনা ধরে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় তীব্র ঠাণ্ডা থাকার কারণে তিনি ফ্রস্টবাইট, পানিশূন্যতা এবং একটি হাড় ভাঙার সমস্যায় ভুগছেন। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

নিজের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে দাওয়া বলেন, একপর্যায়ে তিনি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলেন যে আর বেঁচে ফিরতে পারবেন না।

জানা গেছে, নিখোঁজ হওয়ার আগে এভারেস্টে অভিযানে থাকা একটি দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি। ওই সময় আরেক অসুস্থ পর্বতারোহীকে সহায়তা করার পরিস্থিতির মধ্যে তিনি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

দাওয়া জানান, কিছু সময়ের মধ্যেই তার অক্সিজেনের মজুদ শেষ হয়ে যায়। খাদ্যও ছিল না। প্রথম দুই দিন তিনি না খেয়েই ছিলেন। পরে তৃষ্ণা ও ক্ষুধা মেটাতে বরফ খাওয়া শুরু করেন।

বরফ চিবিয়ে খেতে গিয়ে দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা হতো, তারপরও বাঁচার জন্য সেটাই করতে হয়েছে, বলেন তিনি।

পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয় যখন তিনি নিজের পোশাকের একটি পকেটে কয়েকটি চকলেট খুঁজে পান। সেই চকলেট তাকে নিচে নামার শক্তি জুগিয়েছিল। তবে নতুন বিপদ অপেক্ষা করছিল তার জন্য।

নিচে নামার পথে তিনি একটি গভীর বরফ ফাটলে পড়ে যান এবং সেখানেই প্রায় আড়াই দিন আটকা থাকেন। চারদিকে বরফে ঘেরা অবস্থায় বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

অবিশ্বাস্যভাবে একটি তুষারধস তার জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে। তুষারধসের ফলে ফাটলের ভেতর বরফ জমে গেলে সেটিকে ব্যবহার করে উপরে ওঠার সুযোগ পান তিনি। পরে ধীরে ধীরে নিরাপদ স্থানের দিকে এগোতে সক্ষম হন।

এরপরও বিপদ কাটেনি। আরেকটি তুষারধস তার খুব কাছ দিয়ে বয়ে গেলেও তিনি এগিয়ে যেতে থাকেন। টানা হাঁটার পর অবশেষে প্রায় এক সপ্তাহ পর অন্য মানুষের দেখা পান।

উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাওয়াকে যখন খুঁজে পাওয়া যায়, তখন তিনি অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন। তবে আশ্চর্যজনকভাবে তার শারীরিক অবস্থা প্রত্যাশার তুলনায় ভালো ছিল।

এদিকে দাওয়ার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি প্রকাশ করলেও তার পরিবার উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার পর অনেক আগেই অনুসন্ধান অভিযান শুরু করা উচিত ছিল।

পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, স্থানীয় নেপালি গাইড হওয়ার কারণে দাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

দাওয়ার স্বজনদের মতে, যদি নিখোঁজ ব্যক্তি কোনো বিদেশি পর্বতারোহী হতেন, তাহলে উদ্ধার অভিযান আরো দ্রুত শুরু হতো। তাদের অভিযোগ, অবহেলার কারণেই উদ্ধার তৎপরতা বিলম্বিত হয়েছে।

তবে সব বিতর্কের মাঝেও মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা হিলারি দাওয়া শেরপার ঘটনা এখন এভারেস্ট অভিযানের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিস্ময়কর বেঁচে ফেরার গল্প হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।


 

ফিলিপাইনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ১৯, আহত শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক
ফিলিপাইনে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ১৯, আহত শতাধিক
ছবি: রয়টার্স

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৩৪ জন। দেশটির দুর্যোগ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পটি সোমবার সকালে মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে। ভূমিকম্পের পরপরই সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়।

স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা রদ্রিগো সোসমেনা জানান, নিহতদের মধ্যে ১২ জন সোক্সারগেন অঞ্চলের বাসিন্দা। দক্ষিণ কোটাবাতো, সুলতান কুদারাত, সারাঙ্গানি এবং জেনারেল সান্তোস সিটি নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আহতদের অধিকাংশও এই এলাকার। এখন পর্যন্ত সেখানে অন্তত ১২৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের তীব্র কম্পনে জেনারেল সান্তোস সিটিসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়ে এবং অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনপ্রিয় ফাস্টফুড প্রতিষ্ঠান জলিবির একটি শাখা ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচে আরো মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থাকে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস বলেছেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং সুনামি সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে আরো সময় লাগবে। অনেক এলাকায় এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত থাকায় তথ্য সংগ্রহ ও উদ্ধার কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।