• ই-পেপার

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি

কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

অনলাইন ডেস্ক
কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি : রয়টার্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টা চলার মধ্যেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশ কুয়েত এবং বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই চারটি ইরানি ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক’ ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ড্রোনগুলোর সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামুদ্রিক জাহাজ। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ড্রোনগুলো হুমকি সৃষ্টি করার আগেই সেগুলো ভূপাতিত করা হয়। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউনাইটেড স্টেড কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সাতটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ছয়টি তারা ভূপাতিত করেছে। বাকি একটি ক্ষেপণাস্ত্রও নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারেনি।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘এ পর্যন্ত মার্কিন সেনা সদস্যদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইরানের যে দাবি, তা সঠিক নয়।’

মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড় নজর রাখছে এবং অঞ্চলটিতে নিজেদের সদস্য ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, তারা ‘এরোস্পেস মিসাইল’ ব্যবহার করে অঞ্চলে থাকা ‘শত্রু ঘাঁটিগুলোতে’ হামলা চালিয়েছে। আধা-সরকারি তাসনিম এজেন্সির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে সেগুলোর কোনোটিই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালির দিকে উৎক্ষেপণ করা চারটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও বৃহত্তর তুনব এলাকার উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর কথাও জানায় তারা। 

এদিকে ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, শুক্রবার ওমান উপসাগরে তারা মার্কিন বাহিনীর উদ্দেশে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে। তাদের অভিযোগ, মার্কিন জাহাজগুলো ওই এলাকায় চলাচলকারী অন্যান্য নৌযানকে হয়রানি করছিল। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এই দাবি অস্বীকার করেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের জেবডিন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত পাঁচজনের মধ্যে একজন ছিলেন প্যারামেডিক। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও ইসরায়েলের হামলায় দেশজুড়ে অন্তত এক ডজন মানুষের প্রাণহানি হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
 

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, জেলেনস্কির চিঠির জবাবে পুতিন

অনলাইন ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বৈঠক করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, জেলেনস্কির চিঠির জবাবে পুতিন
ছবি : রয়টার্স

দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ইউক্রেনের নেতা ভলোদিমির জেলেনস্কি মুখোমুখি আলোচনার অনুরোধ করার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, তার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো যৌক্তিকতা তিনি দেখছেন না। গত বৃহস্পতিবার এক খোলা চিঠিতে জেলেনস্কি পুতিনকে সরাসরি আলোচনায় বসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধকে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগের কেন্দ্রে ফেরার অপেক্ষায় বসে থাকা ঠিক হবে না। চিঠিতে জেলেনস্কি যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান। তবে তার বক্তব্যে দৃঢ় অবস্থানের পাশাপাশি কিছুটা ব্যঙ্গাত্মক সুরও ছিল। এর জবাবে পুতিন চিঠিটিকে ‘অভদ্র’ বলে মন্তব্য করেন এবং বৈঠকের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। 

তিনি আবারও বলেন, যুদ্ধবিরতির আগে শান্তি আলোচনা হওয়া উচিত এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শুক্রবার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত রাশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না।

জবাবে পুতিন বলেন, ‘আপাতত এর কোনো অর্থ আমি দেখি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটি কি সত্যিই মুখোমুখি বৈঠকের জন্য পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা ছিল, নাকি বৈঠক এড়ানোর একটি উপায় ছিল? আমার মনে হয়, এটি দ্বিতীয়টিই ছিল।’ পুতিনের এই মন্তব্যের পর জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, ‘রাশিয়া আবারও যুদ্ধের পথই বেছে নিচ্ছে।’

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান না। আমার মনে হয়, এই উত্তরে বিশ্বের অনেক মানুষ হতাশ হয়েছেন।’  জেলেনস্কির চিঠির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেন নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে, কিন্তু মস্কোর উত্থাপিত শর্তগুলো এখনো পূরণ হয়নি।

পুতিনের ভাষায়, ‘ইউক্রেন যদি আমাদের সেনাবাহিনীর অগ্রযাত্রা থামাতে চায়, তাহলে শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি যথেষ্ট নয়। আমাদের তিন বা ছয় মাসের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি একটি চুক্তি প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, বিশেষজ্ঞদের আগে সমাধানের পথ বের করতে দেওয়া উচিত। এরপর দুই পক্ষ বৈঠকে বসতে পারে।

রুশ প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে জানান, রাশিয়া তাদের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারলেই যুদ্ধ শেষ করবে। তিনি বলেন, ‘সামরিক অভিযান একদিন অবশ্যই শেষ হবে। তবে আমরা নিজেদের জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি, তা অর্জিত হলেই এর সমাপ্তি ঘটবে।’

রাশিয়ার দীর্ঘদিনের দাবি, ইউক্রেনকে ডোনেটস্ক ওব্লাস্ট, লুহানস্ক ওব্লাস্ট, খেরসন ওব্লাস্ট এবং জাপোরিঝিয়া ওব্লাস্ট অঞ্চল থেকে সামরিক প্রত্যাহার করতে হবে। এ ছাড়াও দেশটি ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনাও ত্যাগ করতে হবে।

তবে ইউক্রেন এসব শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কিয়েভের দাবি, রাশিয়াকে কোনো ভূখণ্ডগত ছাড় দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তারা আরো আগ্রাসী হয়ে উঠতে পারে। ইউক্রেন মনে করিয়ে দিয়েছে, ক্রিমিয়া দখলের আট বছর পরই রাশিয়া ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করেছিল।

চিঠিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, ‘২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বয়সের প্রভাব এখন পুতিনের ওপর পড়তে শুরু করেছে।’ তিনি সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলার কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে বৃহস্পতিবার সেন্ট পিটার্সবার্গে চালানো একটি হামলাকে তিনি ব্যঙ্গ করে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে বর্ণনা করেন।

এর জবাবে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেন, জেলেনস্কির চিঠিতে বেশ কিছু অভদ্র মন্তব্য ছিল। তবে জেলেনস্কির এই চিঠি কিছু মহলে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন আশা তৈরি করেছিল। এমনকি হোয়াইট হাউস থেকেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া আসে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘দুই নেতা যদি সরাসরি বৈঠকে বসেন, তাহলে সেটি দারুণ হবে।’

এদিকে ইউক্রেন শুক্রবার দাবি করেছে, তারা আজভ সাগর এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন উপকূলীয় জলসীমায় অবৈধ পণ্য বহনকারী পাঁচটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভডি বলেন, ওই জাহাজগুলো ইউক্রেনের শস্য চুরি এবং জ্বালানি ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

অন্যদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজভ সাগরে দুটি জাহাজে হামলায় আজারবাইজানের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তবে হামলার জন্য তারা কাউকে দায়ী করেনি এবং জানিয়েছে, জাহাজ দুটি আজারবাইজানের মালিকানাধীন ছিল না।

এদিকে গত এক দিনে ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার একাধিক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরো ৭০ জন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রাজধানী কিয়েভের বাইরে একটি দুগ্ধ কারখানায় হামলায় চারজন নিহত হন। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন শহরে একটি পেট্রোল স্টেশনে ড্রোন হামলায় ৩৫ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন।


 

যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর শরীরে আবার মিলল মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর শরীরে আবার মিলল মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গবাদি পশুর জন্য মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’-এর দ্বিতীয় একটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত করেছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। চলতি সপ্তাহে যেখানে প্রথম এই পরজীবীটি পাওয়া গিয়েছিল, তার থেকে ৫.৬ মাইল (৯ কিলোমিটার) দূরে নতুন এই সংক্রমণটি শনাক্ত হলো। ফলে মার্কিন গবাদি পশুপালকদের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

ইউএসডিএ জানিয়েছে, টেক্সাসের জাভালা কাউন্টির একটি খামারে এক মাস বয়সী একটি বাছুরের শরীরে এই ক্ষতিকর পরজীবীটি পাওয়া গেছে। অ্যানিমেল অ্যান্ড প্ল্যান্ট হেলথ ইন্সপেকশন সার্ভিস (এপিএইচআইএস) বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক নমুনা পরীক্ষা করার পর এই দ্বিতীয় উপদ্রবটি নিশ্চিত করেছে। তবে আশেপাশের এলাকার অন্যান্য খামার থেকে সংগৃহীত নমুনার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

স্ক্রুওয়ার্ম হলো মূলত এক ধরণের পরজীবী মাছি। এটি গরু বা অন্য যেকোনো উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণীর খোলা ক্ষত বা নরম চামড়ায় ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে লার্ভা বের হওয়ার পর, এরা পশুর জ্যান্ত মাংস ও টিস্যু কুড়ে কুড়ে খায় এবং রক্ত চুষে জীবনধারণ করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হলে আক্রান্ত পশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

এর আগে ১৯৬০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এই পরজীবীর প্রাদুর্ভাব বন্যপ্রাণী ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি করেছিল। টেক্সাস আমেরিকার বৃহত্তম গবাদি পশু উৎপাদনকারী রাজ্য হওয়ায়, এবারও এর বিস্তার ঘটলে পশুদের মৃত্যুসহ চিকিৎসা ও অতিরিক্ত শ্রমজনিত কারণে খামারিদের বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। মেক্সিকোর মধ্য দিয়ে এই পোকাটি উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল, যা নিয়ে গত এক বছর ধরেই টেক্সাসের খামারিরা আশঙ্কার মধ্যে ছিলেন।

ঝুঁকি এড়াতে মার্কিন প্রশাসন গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেক্সিকো থেকে জীবিত গবাদি পশু আমদানি বন্ধ রেখেছে। এ ছাড়া এই ক্ষতিকর পোকার বিস্তার রোধ করতে লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ল্যাবরেটরিতে বন্ধ্যা মাছি উৎপাদন করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া, পোকা ধরার জন্য ফাঁদ পাতার কর্মসূচি বাড়ানো এবং খামারগুলোতে গবাদি পশু পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আরো জোরদার করা।

সূত্র : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের রাডারঘাঁটিতে মার্কিন হামলা

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের রাডারঘাঁটিতে মার্কিন হামলা
ছবি : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীর দিকে ইরানের পাঠানো ড্রোন ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে শনিবার (৬ জুন) পাল্টা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামানোর জন্য যখন পরোক্ষ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল। 

একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চারটি ইরানি ড্রোন ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয়েছিল। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের ‘গোরুক’ ও ‘কেশম’ দ্বীপের নজরদারি চৌকিগুলোতে বিমান হামলা চালায়।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো, যা বর্তমানে ইরান কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যেকোনো শান্তিচুক্তির শর্ত হিসেবে তেহরান তাদের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি এবং শত শত কোটি ডলারের আটকে থাকা তেল রাজস্বের ভাগ দাবি করছে।

এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন হামলায় ইরানের বেশির ভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এখনো তাদের কাছে মোট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২১% থেকে ২২% অবশিষ্ট রয়েছে। ইরানের চুক্তি করতে দেরি করার কারণ হিসেবে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তারা অত্যন্ত গর্বিত ও শক্তিশালী জাতি। এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা তারা কখনো ভাবেনি, কিন্তু এখন তাদের বাধ্য হয়েই তা করতে হচ্ছে। তাই চুক্তি হতে কিছুটা সময় লাগছে।