• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রে গবাদি পশুর শরীরে আবার মিলল মাংসখেকো পরজীবী ‘স্ক্রুওয়ার্ম’

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের ব্যঙ্গধর্মী অনলাইন রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-এর (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়া এই আন্দোলনকে এবার রাজপথে নিয়ে যাওয়া হবে। এ উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফিরে এসেছেন।

নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁস এবং সিবিএসইর দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আজ (শনিবার) দিল্লিতে বড়সড় বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি)। তাদের দাবি, এই ঘটনার দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ করা উচিত।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকে শনিবার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতি চাইবেন।

বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা দিল্লির ঐতিহাসিক জন্তর মন্তরে। সেখানে বহু ছাত্র-যুবক অংশ নিতে পারেন বলে প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিকে, সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ইতিমধ্যেই ভারতে পৌঁছেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনটি শান্তিপূর্ণ হবে এবং সংবিধান মেনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের অনুকরণে তৈরি ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি গত মাসে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এক শুনানিতে সরকার-সমালোচনাকারী কিছু তরুণকে ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছেন বলে খবর প্রকাশের পর এই সংগঠনের জন্ম হয়। তবে পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে উপস্থাপন করা হয়েছিল। বিরোধী দল আম আদমি পার্টির (এএপি) সাবেক কর্মী ও রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে ১৬ মে অনলাইনে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের দাবি, ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে, যা ভারতের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

‘তরুণদের জন্য, তরুণদের দ্বারা, তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম, এই স্লোগান নিয়ে সংগঠনটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। এদিকে, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সমালোচনার মুখে থাকা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেছেন অভিজিৎ দীপকে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নেতা অভিজিৎ দিপকে আজকের সমাবেশে নিজেই নেতৃত্ব দেবেন। তবে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলটি প্রশাসনের সব নিয়ম মেনে চলবে বলে জানিয়েছে।

দিল্লির কর্মসূচির আগে সংগঠনটি তিনজন নতুন মুখপাত্রের নামও ঘোষণা করেছে। অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি জানিয়েছে, সাংবাদিক সৌরভ দাসকে প্রধান মুখপাত্র করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক গবেষক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং সাবেক ম্যানেজমেন্ট পরামর্শক আশুতোষ রানকা সংগঠনের নীতি ও অবস্থান গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।

দলের মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও বরুণ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা দিল্লি পুলিশের কাছে বিক্ষোভের আনুষ্ঠানিক অনুমতি চেয়েছি এবং প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করছি। দেশের আইন ও বিধি মেনেই আমরা কর্মসূচি পালন করব।’

এদিকে এই সংগঠনের ডাকে আজ দিল্লির রাজপথে হাজার হাজার ছাত্র-যুবকের জমায়েত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এ কারণে শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাজধানীর সব প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নয়া দিল্লি জেলা ও অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিমানবন্দর, প্রধান রেলস্টেশন, আন্তঃরাজ্য বাস টার্মিনাল (আইএসবিটি) এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সঙ্গে দিল্লার সংযোগকারী সীমান্ত এলাকায় কঠোর তল্লাশি ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এই ছাত্র-যুব আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে যন্তর মন্তরের সমাবেশে যোগ দিতে পারেন লাদাখের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক। লাদাখের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনের সময় গত বছর তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। এর আগেই তিনি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।

নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ওয়াংচুক লিখেছেন, ‘আমরা যদি না লড়ি, তাহলে আর কে লড়বে? এখনই যদি না করি, তাহলে কবে করব? পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে ৬ জুন আমি দিল্লিতে সিজেপির সদস্যদের পাশে দাঁড়াব। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এত বড় সংকট তৈরি হলে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর উচিত নিজে থেকেই পদত্যাগ করা। কারণ এর সঙ্গে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে।’ একটি ভিডিও বার্তায় তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানান। 

বিক্ষোভের ঠিক আগের দিন, শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (সিজেপি) প্রসঙ্গ।  

সংবাদকর্মীরা মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন থেকে ভারতে ফেরার পথে অভিজিৎ দিপকের বিরুদ্ধে কোনো ‘বহিষ্কার’ বা ‘ভিসার অপব্যবহার’ সংক্রান্ত তথ্য মার্কিন প্রশাসন ভারতকে জানিয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। সিজেপির ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৯টা থেকে দিল্লির জন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হওয়ার কথা। আন্দোলনকারীদের প্রথমে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার কাছে জড়ো হয়ে সেখান থেকে মিছিল করে মূল সমাবেশস্থলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখতে সংগঠনটি বেশ কিছু নির্দেশনাও জারি করেছে। অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় পতাকা ও একটি বই সঙ্গে রাখতে, কর্মসূচির ভিডিও ধারণ করতে এবং কোনো উসকানি বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি রোদ থেকে সুরক্ষার জন্য পানি, সানস্ক্রিন ও টুপি সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশ সদস্যদের প্রতি সম্মান জানিয়ে ফুল দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে একা না এসে দলবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া, উসকানিমূলক মন্তব্য এড়িয়ে চলা এবং খালি পেটে কর্মসূচিতে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় মজার ছলে বলা হয়েছে, ‘বিপ্লব করতে গেলে ব্রেকফাস্ট করাটা মাস্ট!’


 

হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের রাডারঘাঁটিতে মার্কিন হামলা

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের রাডারঘাঁটিতে মার্কিন হামলা
ছবি : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীর দিকে ইরানের পাঠানো ড্রোন ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির উপকূলীয় রাডার সাইটগুলোতে শনিবার (৬ জুন) পাল্টা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামানোর জন্য যখন পরোক্ষ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল। 

একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, চারটি ইরানি ড্রোন ওই অঞ্চলের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল বলে সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয়েছিল। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের ‘গোরুক’ ও ‘কেশম’ দ্বীপের নজরদারি চৌকিগুলোতে বিমান হামলা চালায়।

উল্লেখ্য, যুদ্ধের আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হতো, যা বর্তমানে ইরান কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে। যেকোনো শান্তিচুক্তির শর্ত হিসেবে তেহরান তাদের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি এবং শত শত কোটি ডলারের আটকে থাকা তেল রাজস্বের ভাগ দাবি করছে।

এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন হামলায় ইরানের বেশির ভাগ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এখনো তাদের কাছে মোট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ২১% থেকে ২২% অবশিষ্ট রয়েছে। ইরানের চুক্তি করতে দেরি করার কারণ হিসেবে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, তারা অত্যন্ত গর্বিত ও শক্তিশালী জাতি। এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা তারা কখনো ভাবেনি, কিন্তু এখন তাদের বাধ্য হয়েই তা করতে হচ্ছে। তাই চুক্তি হতে কিছুটা সময় লাগছে।

৩৯ দেশের অভিবাসীদের লক্ষ্যে ট্রাম্পের নীতি বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
৩৯ দেশের অভিবাসীদের লক্ষ্যে ট্রাম্পের নীতি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম), কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত করেছে বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।

শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে প্রধান মার্কিন জেলা বিচারক জন ম্যাককনেল বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক অবৈধ নীতি গ্রহণ করেছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর আগে গত মার্চে অভিবাসী সেবা সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর একটি জোট এ বিষয়ে মামলা দায়ের করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনস্থ ইউএসসিআইএস গত নভেম্বর থেকে এমন কিছু নীতি কার্যকর করে, যার ফলে ট্রাম্পের পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন-সুবিধাসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত হয়ে যায়।

ট্রাম্প প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞাকে নিরাপত্তা যাচাই ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে যুক্তি দেখিয়েছে। তবে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, ‘এই নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’

রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইউএসসিআইএসের আবেদন নিষ্পত্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো ভুল করেননি। এটি কেবল তাদের জন্মস্থানের কারণে ঘটেছে।’

বিচারক আরো বলেন, ‘এসব অভিবাসী কংগ্রেস প্রণীত এবং ইউএসসিআইএসের বিধিমালায় নির্ধারিত সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন। তারপরও তাদের আবেদনগুলো মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং সংস্থাটি সেগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’

আরো পড়ুন
অভিবাসন দমনে ট্রাম্পের বড় জয়

অভিবাসন দমনে ট্রাম্পের বড় জয়

 

আইনের বিষয়ে ম্যাককনেল বলেন, ‘আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। কিন্তু এখানে স্পষ্ট যে ইউএসসিআইএস আইন অনুসরণ করেনি এবং সঠিক পদ্ধতিতেও কাজ করেনি।’

তিনি আরো মন্তব্য করেন, সংস্থাটি শুধু কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইনই লঙ্ঘন করেনি, বরং সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য প্রশাসনিক আইনও ভঙ্গ করেছে।

এদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

রায়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর হাজারো আবেদনকারীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

অভিবাসন দমনে ট্রাম্পের বড় জয়

অনলাইন ডেস্ক
অভিবাসন দমনে ট্রাম্পের বড় জয়
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে (ডিএইচএস) অতিরিক্ত ৭০ বিলিয়ন অর্থাৎ ৭ হাজার ডলার বরাদ্দের একটি বিল পাস করেছে। যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিলটি ৫২-৪৭ ভোটে পাস হয়। এতে ডেমোক্র্যাটদের কেউ বিলটির পক্ষে ভোট দেননি। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি একমাত্র দলীয় সদস্য হিসেবে এর বিরোধিতা করেন। এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলটির অর্থের বড় অংশ আগামী তিন বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। এর আওতায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং বর্ডার প্যাট্রোল সংস্থার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে বিলটি নিয়ে সিনেটে তীব্র বিতর্ক হয়েছে।

অস্ত্রায়ন-বিরোধী তহবিল নিষিদ্ধেও ব্যর্থতা

বিশেষ করে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতর্কিত অস্ত্রায়ন-বিরোধী বা অ্যান্টি-ওয়েপোনাইজেশন তহবিলকে ঘিরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, এই তহবিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ব্যবহার হতে পারে।

সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই তহবিলটিকে ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য ‘গোপন তহবিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাব ৫০-৪৯ ভোটে ব্যর্থ হয়।

এদিকে সিনেটের রিপাবলিকান নেতা জন থুন বলেন, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে বিচার বিভাগ তহবিলটি বাস্তবায়নের দিকে এগোবে না।

তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়। পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, তিনি ব্লাঞ্চকে স্থায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দিতে চান। যদিও এ নিয়োগ সিনেটের অনুমোদনের মুখোমুখি হবে।

বিলটির বিরোধিতাকারী রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি বলেন, এটি সিনেটের প্রচলিত দ্বিদলীয় বাজেট প্রক্রিয়া এড়িয়ে গেছে এবং বিতর্কিত তহবিলটি বাতিল করতেও ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দাবি করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত অর্থায়নের বিরোধিতা করে আসছেন।

তবে ডেমোক্র্যাটদের ভাষ্যমতে, বর্তমানেও আইসিই ও বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে আগের বরাদ্দ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত রয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদ আগামী সপ্তাহের আগে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিলটি পাস হলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হবে।