• ই-পেপার

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে কিউবার প্রেসিডেন্ট

৩৯ দেশের অভিবাসীদের লক্ষ্যে ট্রাম্পের নীতি বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
৩৯ দেশের অভিবাসীদের লক্ষ্যে ট্রাম্পের নীতি বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের আশ্রয় (অ্যাসাইলাম), কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তি থেকে বেআইনিভাবে বঞ্চিত করেছে বলে রায় দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত।

শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে প্রধান মার্কিন জেলা বিচারক জন ম্যাককনেল বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (ইউএসসিআইএস) আফ্রিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক অবৈধ নীতি গ্রহণ করেছিল।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর আগে গত মার্চে অভিবাসী সেবা সংস্থা ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর একটি জোট এ বিষয়ে মামলা দায়ের করে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীনস্থ ইউএসসিআইএস গত নভেম্বর থেকে এমন কিছু নীতি কার্যকর করে, যার ফলে ট্রাম্পের পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসন-সুবিধাসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত হয়ে যায়।

ট্রাম্প প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞাকে নিরাপত্তা যাচাই ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে যুক্তি দেখিয়েছে। তবে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, ‘এই নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’

রায়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘ইউএসসিআইএসের আবেদন নিষ্পত্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো ভুল করেননি। এটি কেবল তাদের জন্মস্থানের কারণে ঘটেছে।’

বিচারক আরো বলেন, ‘এসব অভিবাসী কংগ্রেস প্রণীত এবং ইউএসসিআইএসের বিধিমালায় নির্ধারিত সব আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছেন। তারপরও তাদের আবেদনগুলো মাসের পর মাস ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এবং সংস্থাটি সেগুলোর নিষ্পত্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।’

আরো পড়ুন
অভিবাসন দমনে ট্রাম্পের বড় জয়

অভিবাসন দমনে ট্রাম্পের বড় জয়

 

আইনের বিষয়ে ম্যাককনেল বলেন, ‘আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। কিন্তু এখানে স্পষ্ট যে ইউএসসিআইএস আইন অনুসরণ করেনি এবং সঠিক পদ্ধতিতেও কাজ করেনি।’

তিনি আরো মন্তব্য করেন, সংস্থাটি শুধু কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইনই লঙ্ঘন করেনি, বরং সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রযোজ্য প্রশাসনিক আইনও ভঙ্গ করেছে।

এদিকে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

রায়টি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর হাজারো আবেদনকারীর জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

অভিবাসন দমনে ট্রাম্পের বড় জয়

অনলাইন ডেস্ক
অভিবাসন দমনে ট্রাম্পের বড় জয়
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে (ডিএইচএস) অতিরিক্ত ৭০ বিলিয়ন অর্থাৎ ৭ হাজার ডলার বরাদ্দের একটি বিল পাস করেছে। যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিলটি ৫২-৪৭ ভোটে পাস হয়। এতে ডেমোক্র্যাটদের কেউ বিলটির পক্ষে ভোট দেননি। রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি একমাত্র দলীয় সদস্য হিসেবে এর বিরোধিতা করেন। এখন বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) যাবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিলটির অর্থের বড় অংশ আগামী তিন বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে। এর আওতায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং বর্ডার প্যাট্রোল সংস্থার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। তবে বিলটি নিয়ে সিনেটে তীব্র বিতর্ক হয়েছে।

অস্ত্রায়ন-বিরোধী তহবিল নিষিদ্ধেও ব্যর্থতা

বিশেষ করে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতর্কিত অস্ত্রায়ন-বিরোধী বা অ্যান্টি-ওয়েপোনাইজেশন তহবিলকে ঘিরে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।

ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ করেছেন, এই তহবিল ট্রাম্পের রাজনৈতিক মিত্রদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ব্যবহার হতে পারে।

সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার এই তহবিলটিকে ট্রাম্পের মিত্রদের জন্য ‘গোপন তহবিল’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের প্রস্তাব দেন। তবে সেই প্রস্তাব ৫০-৪৯ ভোটে ব্যর্থ হয়।

এদিকে সিনেটের রিপাবলিকান নেতা জন থুন বলেন, ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে বিচার বিভাগ তহবিলটি বাস্তবায়নের দিকে এগোবে না।

তবে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, শুধুমাত্র মৌখিক আশ্বাস যথেষ্ট নয়। পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান, তিনি ব্লাঞ্চকে স্থায়ী অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দিতে চান। যদিও এ নিয়োগ সিনেটের অনুমোদনের মুখোমুখি হবে।

বিলটির বিরোধিতাকারী রিপাবলিকান সিনেটর লিসা মারকাউস্কি বলেন, এটি সিনেটের প্রচলিত দ্বিদলীয় বাজেট প্রক্রিয়া এড়িয়ে গেছে এবং বিতর্কিত তহবিলটি বাতিল করতেও ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে রিপাবলিকানরা দাবি করেছেন, ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত অর্থায়নের বিরোধিতা করে আসছেন।

তবে ডেমোক্র্যাটদের ভাষ্যমতে, বর্তমানেও আইসিই ও বর্ডার প্যাট্রোলের কাছে আগের বরাদ্দ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত রয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদ আগামী সপ্তাহের আগে বিলটি নিয়ে ভোটাভুটি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিলটি পাস হলে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বাস্তবায়নে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত হবে।
 

ইসরায়েল ও ইরানের ওপর চটলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েল ও ইরানের ওপর চটলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ লেবাননে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং অবকাঠামো ধ্বংস বন্ধ করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম।

একই সঙ্গে ইরানকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, লেবাননকে কোনো পক্ষের দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

বার্তা সংস্থা আলজাজিরা বলছে, জরুরি মানবিক সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম।

তিনি বলেন, সরকারের ত্রাণ পরিকল্পনার আওতায় বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষ এবং দক্ষিণাঞ্চলে থেকে যাওয়া ৫০ হাজার বাসিন্দাকে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে।

বাস্তুচ্যুত লেবানিজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদভাবে নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব ও অগ্রাধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।’

সালাম জানান, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ঘরে ফেরার পথ নিশ্চিত করতে লেবানন সরকার সবচেয়ে কম ব্যয়বহুল ও কার্যকর উপায় হিসেবে আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে।

ইরানের প্রতি বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমাদের দক্ষিণাঞ্চলের প্রতি দয়া দেখান। আমরা এই ভূমির মানুষ। লেবানন কারও রাজনৈতিক খেলার দর-কষাকষির উপকরণ নয় এবং দক্ষিণ লেবাননও কারো জন্য সংরক্ষিত যুদ্ধক্ষেত্র হতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দক্ষিণ লেবাননকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
 

সাহারা মরুভূমিতে বিকল ট্রাক : তৃষ্ণায় ৫০ জনের মৃত্যু, হেঁটে বাঁচলেন ২ জন

অনলাইন ডেস্ক
সাহারা মরুভূমিতে বিকল ট্রাক : তৃষ্ণায় ৫০ জনের মৃত্যু, হেঁটে বাঁচলেন ২ জন
সংগৃহীত ছবি

নাইজারের সাহারা মরুভূমির এক প্রত্যন্ত এলাকায় ট্রাক বিকল হয়ে জলশূন্যতায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। মরুভূমির চরম প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে পনি ছাড়া আটকে পড়ে তারা মারা যান। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন দুজন। তারা মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার হেঁটে লোকালয়ে এসে প্রশাসনকে খবর দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। খবর ফ্রান্স 24

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নাইজারের আগাদেজ অঞ্চলের গভর্নর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে এক ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত ব্যক্তিরা মালি থেকে একটি মুসলিম ধর্মীয় উৎসব শেষ করে দেশে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নাইজার ও আলজেরিয়া সীমান্তের আসামাকা শহর থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে মরুভূমির ভেতরে তাদের বহনকারী ট্রাকটি বিকল হয়ে যায়।

গভর্নর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পানি ফুরিয়ে যাওয়ার পর চালক, তার সহকারী ও যাত্রীরা মিলে আপ্রাণ চেষ্টা করেও গাড়িটি মেরামত করতে পারেননি। তীব্র তাপমাত্রা ও কোনো ধরনের পানির উৎস না থাকায় ওই বৈরী পরিবেশের মধ্যে যাত্রীরা আটকা পড়েন। সেখানে বেঁচে থাকা অসম্ভব ছিল।’ পরে উদ্ধারকারী দল গিয়ে নিহত ব্যক্তিদের মরুভূমিতেই গণকবর দেয়।

ভয়াবহ এই বিপর্যয় থেকে বেঁচে ফেরা দুজনের বিষয়ে প্রশাসন জানিয়েছে, তারা কোনো রকমে পায়ে হেঁটে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রথমে একটি পানির উৎসের সন্ধান পান। পরে সেখান থেকে আসামাকা শহরে পৌঁছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানান।

উল্লেখ্য, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে যাওয়ার জন্য অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয় সাহারা মরুভূমির এই অঞ্চলটি। প্রচণ্ড দাবদাহ আর জল-খাবারের অভাবে প্রায়ই এই দুর্গম মরুভূমিতে অভিবাসী ও যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।