• ই-পেপার

ঈদের লম্বা জার্নির পর বাইকের ইঞ্জিন ও মাইলেজ ঠিক রাখতে যা যা করবেন

তারুণ্যে দেশ না ঘুরলে হারাবেন জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো

ভ্রমণ শুধু বিনোদন নয়, এটি আত্মবিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও জীবনবোধ গড়ে তোলারও এক অনন্য মাধ্যম

অনলাইন ডেস্ক
তারুণ্যে দেশ না ঘুরলে হারাবেন জীবনের সেরা মুহূর্তগুলো
ছবিঃ এ আই জেনারেটেড

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের আহ্বান ছিল—চল্ চল্ চল্। নতুনকে জানার, অজানাকে আবিষ্কার করার এবং সীমা ভাঙার এই বার্তা আজও তরুণদের অনুপ্রাণিত করে। তারুণ্য এমন এক সময়, যখন মানুষের মনে থাকে স্বপ্ন, সাহস এবং পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। তাই এই বয়সেই ঘুরে দেখা উচিত বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে।

পাহাড়, সমুদ্র, নদী, হাওর, বন আর বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এই দেশ শুধু চোখ জুড়ায় না, শেখায় জীবনকে নতুনভাবে দেখতে। ভ্রমণের প্রতিটি পথ, প্রতিটি মানুষ ও প্রতিটি অভিজ্ঞতা একজন তরুণের জীবনকে আরো সমৃদ্ধ ও পরিণত করে তুলতে পারে।

জীবনের প্রতিটি বয়সেরই আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ বয়সে ভ্রমণ শুধু আনন্দের জন্য নয়, বরং নিজেকে গড়ে তোলা, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা এবং জীবনকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার অন্যতম সেরা উপায়।

বাংলাদেশ প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি দেশ। পাহাড়, সমুদ্র, নদী, হাওর, চা-বাগান, বনাঞ্চল এবং ঐতিহাসিক স্থাপনার সমন্বয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আকর্ষণ। কিন্তু অনেক তরুণই পড়াশোনা, ক্যারিয়ার কিংবা ভবিষ্যতের চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে দেশের এই সৌন্দর্য কাছ থেকে দেখার সুযোগ হারিয়ে ফেলেন।

ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারুণ্যেই দেশ ঘুরে দেখার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো শারীরিক সক্ষমতা। এই বয়সে দীর্ঘ পথ হাঁটা, পাহাড়ে ট্রেকিং, ঝরনা দেখতে দুর্গম পথে যাওয়া কিংবা নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব ও ব্যস্ততা যেমন বাড়ে, তেমনি কমে যায় সময় ও শারীরিক শক্তি।

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল, বিশেষ করে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘ পথ হাঁটতে হয়। একইভাবে সুনামগঞ্জের হাওর, কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত, সিলেটের চা-বাগান কিংবা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ ঘুরে দেখতে প্রয়োজন সময়, উদ্যম এবং ভ্রমণের মানসিকতা—যা তারুণ্যে সবচেয়ে বেশি থাকে।

তরুণ বয়সে ভ্রমণের আরেকটি বড় সুবিধা হলো কম খরচে ঘোরার সুযোগ। শিক্ষার্থী বা নতুন কর্মজীবনে প্রবেশ করা তরুণরা সাধারণত বিলাসবহুল হোটেলের পরিবর্তে কম খরচের আবাসন, ক্যাম্পিং কিংবা দলবদ্ধ ভ্রমণকে প্রাধান্য দেন। এতে সীমিত বাজেটেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে দেখা সম্ভব হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রমণ মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। বই থেকে অনেক তথ্য জানা গেলেও বাস্তব অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই। দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ঘুরলে মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস এবং সংগ্রাম সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ তৈরি হয়। এতে দৃষ্টিভঙ্গি আরো বিস্তৃত হয় এবং সমাজ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা গড়ে ওঠে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বর্তমানে তরুণদের মধ্যে মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং ক্লান্তি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। দীর্ঘ সময় পড়াশোনা, চাকরির প্রস্তুতি কিংবা কর্মক্ষেত্রের চাপের কারণে অনেকেই মানসিক অবসাদে ভোগেন। এমন পরিস্থিতিতে ভ্রমণ হতে পারে কার্যকর একটি সমাধান। প্রকৃতির কাছে কিছু সময় কাটালে মন সতেজ হয়, মানসিক চাপ কমে এবং নতুনভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।

এ ছাড়া ভ্রমণ মানুষের যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণ এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতাও বাড়ায়। নতুন জায়গায় গিয়ে পথ খুঁজে বের করা, অচেনা মানুষের সঙ্গে কথা বলা কিংবা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জীবনে কাজে লাগে।

অনেক সফল ট্রাভেল ব্লগার, ফটোগ্রাফার ও উদ্যোক্তার যাত্রাও শুরু হয়েছিল তরুণ বয়সের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা থেকে। কেউ শখকে পেশায় রূপ দিয়েছেন, আবার কেউ দেশের সৌন্দর্য বিশ্বের সামনে তুলে ধরছেন।

ভ্রমণপ্রেমীদের মতে, জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতিগুলোর অনেকটাই তৈরি হয় তারুণ্যে। বন্ধুদের সঙ্গে হঠাৎ কোথাও বেরিয়ে পড়া, পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যোদয় দেখা, হাওরের মাঝে নৌকায় রাত কাটানো কিংবা কোনো অচেনা গ্রামের মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা—এসব অভিজ্ঞতা সারাজীবন মনে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করার জন্য নয়, বরং নিজেকে সমৃদ্ধ করতে এবং দেশকে নতুনভাবে জানতে তরুণ বয়সেই ভ্রমণে বের হওয়া উচিত। কারণ সময় একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। কিন্তু তারুণ্যের ভ্রমণ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও স্মৃতিগুলো সারা জীবন মানুষের সঙ্গেই থেকে যায়।

তাই সুযোগ থাকলে দেরি না করে ব্যাগ কাঁধে তুলে বেরিয়ে পড়ুন বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে। পাহাড়ের নীরবতা, সমুদ্রের গর্জন, হাওরের বিস্তৃতি কিংবা গ্রামের সরল জীবন—প্রতিটি অভিজ্ঞতাই আপনাকে নতুন কিছু শেখাবে। বয়স ও দায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সময় বের করা কঠিন হয়ে যায়, কিন্তু তারুণ্যে অর্জিত স্মৃতি, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা আজীবন সঙ্গী হয়ে থাকে। তাই নিজেকে জানার, দেশকে চেনার এবং জীবনের সেরা মুহূর্তগুলোকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তরুণ বয়সেই ঘুরে দেখা উচিত বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে।

মন ভালো রাখতে কোথায় যাবেন—পাহাড় না সমুদ্র?

অনলাইন ডেস্ক
মন ভালো রাখতে কোথায় যাবেন—পাহাড় না সমুদ্র?
সংগৃহীত ছবি

তখনো পুরোপুরি ভোর হয়নি। আকাশের গায়ে কালচে নীল অন্ধকারের শেষ ছায়া লেগে আছে। ঠান্ডা বাতাসে কাঁপতে কাঁপতে পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে আছে ইশা। সামনে গভীর উপত্যকা, মেঘের পাতলা চাদরে ঢাকা এক জগৎ। হঠাৎ দূরের দিগন্ত থেকে ফুটে এলো হালকা হলুদ আভা। এক মুহূর্তে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা চূড়ায় সূর্যের প্রথম সোনালি আলো এসে পড়ল। যেন কেউ এক মুঠো গলিত সোনা ছিটিয়ে দিল পাহাড়ের গায়ে।

ইশার শরীর হালকা করে কেঁপে ওঠে। এ যেন অদ্ভুত এক অনুভূতি। মনে হয় শহরের ধোঁয়া, ক্লান্তি, ব্যস্ততার বিষ; সব একসঙ্গে ধুয়ে মুছে বিলীন হয়ে গেছে। বুক ভরে নিশ্বাস নিতেই মনে হয়, এই প্রথম সত্যি সত্যি শ্বাস নিচ্ছে সে। এই পূর্ণতা আর এই শূন্যতা—দুটো একসঙ্গে অনুভব করার অভিজ্ঞতা পৃথিবীর খুব কম জায়গায় পাওয়া যায়। এ এক বিশাল অনুভূতি, পাহাড় যেন মানুষকে নিজের ভেতরের মানুষটার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

ভ্রমণপ্রেমীদের আদিম প্রশ্ন—সমুদ্র না পাহাড়? 

সমুদ্র আমাদের উচ্ছ্বসিত করে, দৌড়াতে শেখায়। কিন্তু পাহাড় থামতে শেখায়। নিজেকে শুনতে শেখায়। আর এই ক্লান্ত সময়ে মানুষ আসলে কী খোঁজে? শান্তি।

মানুষ পাহাড়ে যায় আসলে দুই কারণে। কেউ যায় নিজেকে হারিয়ে ফেলতে, আবার কেউ যায় নিজেকে নতুন করে খুঁজে পেতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত, আমরা সবাই দুটোই চাই।

আমরা অভ্যস্ত শহরের শব্দে। যেমন ধরুন-হর্ন, ট্রাফিক, নির্মাণের শব্দ ফোনের অবিরাম নোটিফিকেশন। পাহাড়ে দাঁড়ালে এসব শব্দ একসঙ্গে হারিয়ে যায়। তার বদলে শোনা যায় ঝিঁঝি পোকার ডাক, দূরের ঝরনার শব্দ, বাতাসের ফিসফিসানিসহ আরো কত কি। এই নীরবতা আসলে নীরব নয়, এটা এক ধরনের মানসিক থেরাপি।

পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়, নিজেকে খুব ছোট লাগে। কিন্তু এই ছোট হওয়া কোনো অপমান নয়, এটা স্বাধীনতা। যে সমস্যাগুলো এতদিন বুকের ভেতর পাহাড় হয়ে ছিল—ক্যারিয়ার, সম্পর্ক, টাকার চিন্তা। এই বিশাল পাহাড়ের সামনে সেগুলো হঠাৎ খুব তুচ্ছ মনে হয়। যেন ধুলোর মতো উড়ে যায়।

পাহাড় সহজ কিছু নয়। দীর্ঘ হাঁটা, ক্লান্তি, হাঁপ ধরা—সবই আছে তার কাছে। কিন্তু সেই কষ্টের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে এক ধরনের আনন্দ। যখন চূড়ায় পৌঁছাবেন, মেঘের ওপরে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকাবেন, সেই মুহূর্তের সুখ কোনো বিলাসবহুল রিসোর্টের আরামেও পাওয়া যায় না। কারণ এটা অর্জনের আনন্দ। নিজের সীমা পেরোনোর আনন্দ।

পাহাড়ে গেলে কী করবেন?

কয়েক ঘণ্টার জন্য ফোনটা দূরে রাখুন। ক্যামেরার লেন্স দিয়ে নয়, নিজের চোখ দিয়ে দেখুন। পাথরের রুক্ষতা ছুঁয়ে দেখুন। বাতাসের গন্ধ নিন, পাহাড়িদের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের সহজ জীবন আপনাকে নিজের জটিল জীবন নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে। কোনো এক ঢালে চুপচাপ বসে থাকুন কিছুক্ষণ। কিছু না ভেবে শুধু তাকিয়ে থাকুন দূরে। দেখবেন, নিজের সঙ্গে কথা বলা শুরু হয়ে গেছে।

সমুদ্র ঢেউ দিয়ে আপনাকে জড়িয়ে ধরে। পাহাড় আপনাকে আশ্রয় দেয়। জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে নতুন করে শুরু করতে চাইলে—পাহাড়ের মতো সঙ্গী খুব কমই আছে।

যদি কখনো মনে হয় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছেন, ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। পাহাড়ের কোনো নাম না জানা বাঁকে হয়তো আপনার পুরোনো হাসিটাই অপেক্ষা করছে।

পাহাড়ের ডাক একবার যে শুনেছে—সে জানে, সেই ডাক উপেক্ষা করা যায় না। আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন হারিয়ে যাওয়া আপনার হাসির শব্দ? শুনলেই বেরিয়ে পড়ুন। 

লেখক : মো. নুরে আলম, সাংবাদিক

১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে বিশ্বরেকর্ড নাজমুন নাহারের

অনলাইন ডেস্ক
১৮৪ দেশ ভ্রমণ করে বিশ্বরেকর্ড নাজমুন নাহারের

বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা হাতে বিশ্বজুড়ে এক অনন্য ইতিহাস গড়লেন নাজমুন নাহার। প্রথম বাংলাদেশি এবং বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ১৮৪টি দেশ ভ্রমণের ঐতিহাসিক রেকর্ড স্থাপন করেছেন এই সাহসী পরিব্রাজক। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ বাহামা ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।

নাজমুন নাহারের এই অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামের মাধ্যমে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের এই যাত্রায় তিনি একে একে অতিক্রম করেছেন শত বাধা।

১০০তম দেশ : ১ জুন ২০১৮, ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত (জাম্বিয়া-জিম্বাবুয়ে সীমান্ত)।

১৫০তম দেশ : ৬ অক্টোবর ২০২১, সাওটোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপ।

১৭৫তম দেশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪।

১৮৪তম দেশ : ডিসেম্বর ২০২৫, বাহামা।

১৮৪তম দেশ ভ্রমণের সময় বাহামার ফার্স্ট লেডি প্যাট্রিসিয়া মিনিস ব্যক্তিগতভাবে নাজমুন নাহারকে এই বিরল অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান।

নাজমুন নাহার কেবল ভ্রমণই করেননি, প্রতিটি দেশে তিনি পৌঁছে দিয়েছেন মানবিক বার্তা। তার মূল স্লোগান ছিল— ‘নো ওয়ার ওনলি পিস; সেভ দ্য প্লানেট, স্টপ চাইল্ড ম্যারেজ’। বিশ্বশান্তি, পরিবেশ রক্ষা এবং বাল্যবিবাহ রোধে তার এই প্রচার বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে।

অধিকাংশ দেশ সড়কপথে ভ্রমণ করা এই ‘সলো ট্রাভেলার’ অসংখ্যবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। সাম্প্রতিক ভেনিজুয়েলা ভ্রমণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা ভ্রমণ ছিল সবচেয়ে কষ্টকর ও অ্যাডভেঞ্চারাস। সীমান্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা আর পুলিশি নিয়ন্ত্রণ পার করে ১৭টি শহর দেখেছি। তবে আন্দিস পর্বতমালার মেঘ আর নীল সমুদ্রের সৌন্দর্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।’

২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই শেষ ধাপে তিনি সামোয়া, তিমুর লেস্তে, এন্টিগুয়া এন্ড বারবুডা, সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস এবং ভেনিজুয়েলা সফর করেন।

লক্ষ্মীপুরের এই কৃতি সন্তান ২০০৬ সালে সুইডেনের লুন্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি এবং ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিউম্যান রাইটস বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশায় গবেষক ও মোটিভেশনাল স্পিকার নাজমুন তার মা’কে নিয়েও ১৪টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তার ভ্রমণের মূল প্রেরণা ছিল তার বাবা, দাদা এবং বই।

বিশ্বজুড়ে খ্যাতিমান এই পরিব্রাজক এখন পর্যন্ত ৬০টিরও বেশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেয়েছেন।

পিস টর্চ বিয়ারার অ্যাওয়ার্ড (যুক্তরাষ্ট্র) : নেলসন ম্যান্ডেলা ও মাদার তেরেসার মতো ব্যক্তিত্বরা যে সম্মাননা পেয়েছেন, ২০১৯ সালে সেই একই সম্মাননা পান নাজমুন।

অন্যান্য পুরস্কার : পিস রানার অ্যাওয়ার্ড, অনন্যা শীর্ষ দশ, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড (যুক্তরাজ্য), আতিশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল এবং গেম চেঞ্জার অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য সম্মাননা।

নাজমুন নাহার কেবল একজন ভ্রমণকারী নন, তিনি বাংলাদেশের এক জীবন্ত কিংবদন্তি। দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—স্বপ্ন আর সাহস থাকলে সীমানা কোনো বাধা নয়। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে তিনি হয়ে থাকবেন এক অনুপ্রেরণার নাম।

এশিয়ায় ভ্রমণে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

অনলাইন ডেস্ক
এশিয়ায় ভ্রমণে খুলছে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
প্রতীকী ছবি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বড় এক চাল চালল চীনের শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিক প্রতিষ্ঠান এসএফ গ্রুপ। সিঙ্গাপুরের বিশ্বখ্যাত চাঙ্গি বিমানবন্দরকে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ‘বিদেশি কার্গো হাব’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই কৌশলগত পদক্ষেপের ফলে কেবল পণ্য পরিবহন নয়, বরং পুরো এশিয়াজুড়ে বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা এবং ভ্রমণ খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং ব্যস্ততম বিমানবন্দর। বৈশ্বিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে এর ভৌগোলিক অবস্থান অনন্য। এসএফ গ্রুপ এবং চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপ (সিএজি) এর মধ্যে সই করা এই সমঝোতা স্মারকের ফলে, এখন থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের প্রধান ‘গেটওয়ে’ বা প্রবেশদ্বার হবে সিঙ্গাপুর।

বাংলাদেশের আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক হতে পারে।

দ্রুততম পণ্য পরিবহন : সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকার ফ্লাইটের সময় মাত্র ৪ ঘণ্টা। জরুরি ইলেকট্রনিক্স পার্টস, পচনশীল পণ্য বা হাই-টেক পণ্য এখন সিঙ্গাপুর হাব হয়ে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।

রপ্তানির নতুন পথ : বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা সিঙ্গাপুরকে ‘ট্রানশিপমেন্ট পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের বাজারে আরও সহজে ও কম খরচে পণ্য পাঠাতে পারবেন।

খরচ হ্রাস : এসএফ গ্রুপের বিশাল নিজস্ব বিমান বহর (৯০টির বেশি কার্গো বিমান) থাকায় এবং চাঙ্গির মতো দক্ষ বন্দরে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় পণ্য হ্যান্ডলিং খরচ ও সময়—উভয়ই কমে আসবে।

বাণিজ্যিক হাব হলেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়বে ভ্রমণ খাতেও। চাঙ্গি বিমানবন্দরের মতো আন্তর্জাতিক হাবের সক্ষমতা বাড়লে এবং বিমান যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে ওই রুটে যাত্রীবাহী বিমানের সংখ্যা ও সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পায়। পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আঞ্চলিক যোগাযোগ শক্তিশালী হওয়ায় পর্যটকদের মালামাল পরিবহন এবং ট্রানজিট সুবিধা আরো উন্নত হবে।

এসএফ গ্রুপের চেয়ারম্যান ডিক ওয়াং বলেন, ‘চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের সঙ্গে এই অংশীদারি আমাদের তিনটি প্রধান অঞ্চলে সম্পদ ও সক্ষমতার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। আমরা বৈশ্বিক বাণিজ্যের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেরা সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

অন্যদিকে, চাঙ্গি এয়ারপোর্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ইয়াম কুম ওয়েং এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘চাঙ্গি বিমানবন্দরে এসএফ গ্রুপের বিমান সংযোগ এবং লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করতে মুখিয়ে আছি।’

বিশ্লেষকদের মতে, ডিএইচএল  বা ফেডেক্স এর মতো প্রতিষ্ঠিত কম্পানিগুলোর জন্য এই অঞ্চলে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়াবে এসএফ গ্রুপ। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি তাদের আয়ের ৩০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্জনের যে লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে, সিঙ্গাপুরের এই নতুন হাবটি হবে তার মূল স্তম্ভ।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে এই লজিস্টিক হাব স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্যের মূল ধারার সঙ্গে আরো নিবিড়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
 
সূত্র : বিজনেস টাইমস