• ই-পেপার

আর্জেন্টিনার একাদশে ৩ পরিবর্তন

‘রেফারি জালেম, আর্জেন্টিনার জন্য কাপ ঠিক করা’—বললেন মিশরের স্ট্রাইকার

ক্রীড়া ডেস্ক
‘রেফারি জালেম, আর্জেন্টিনার জন্য কাপ ঠিক করা’—বললেন মিশরের স্ট্রাইকার

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই যেন আকাশ ভেঙে পড়ল মিশরের ডাগআউটে। মাঠের ভেতরেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের শিকার হওয়া মিশরীয় স্ট্রাইকার মোস্তফা জিকো। ম্যাচ শেষে লাইভ টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় নিজের আবেগ আর ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ রেফারিকে সরাসরি ‘জালেম’ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।

কান্নাভেজা কণ্ঠে পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল’ (আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিই উত্তম কর্মবিধায়ক) তিলওয়াত করে জিকো বলেন, ‘রেফারি আমাদের সাথে চরম অন্যায় করেছেন... তিনি আজ একটি পুরো জাতির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন আর পরিশ্রমকে এক ফুঁৎকারে ধূলিসাৎ করে দিলেন।’

টেলিভিশন সম্প্রচার হুট করে কেটে দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার দিকে ইঙ্গিত করে এক বিস্ফোরক অভিযোগ আনেন এই মিশরীয় তারকা। ক্ষুব্ধ জিকো বলেন, ‘এই বিশ্বকাপটা আর্জেন্টিনাকে দেওয়ার জন্যই সবকিছু আগে থেকে ঠিক করা।’

যে কারণে বাতিল হয় মিশরের অসাধারণ গোলটি

ক্রীড়া ডেস্ক
যে কারণে বাতিল হয় মিশরের অসাধারণ গোলটি

এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা এক পাল্টা আক্রমণের সাক্ষী হতে পারত ফুটবল বিশ্ব। মাঝমাঠ থেকে বিদ্যুদ্বেগে বল নিয়ে আক্রমণে ওঠা, ডান প্রান্ত দিয়ে হাসানের সেই চোখের পলকে ডিফেন্ডারদের ছিটকে দেওয়া দৌড়, বক্সে থাকা মোহাম্মদ সালাহর দিকে নিখুঁত পাস আর বাম দিক থেকে চিতার গতিতে ছুটে এসে জিকোর সেই মারণাঘাতসব মিলিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রক্ষণকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিয়ে জালের খোঁজ পেয়েছিল মিশর।

গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতেছিল ফারাওরা। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দিল না আধুনিক ফুটবলের প্রযুক্তি ‘ভিএআর’। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির চাদরে ঢাকা পড়ে গেল মিশরের মহাকাব্যিক গোল।

 

গোল উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই রেফারিকে ভিএআর মনিটরের দিকে যাওয়ার ইশারা করতে দেখা যায়। আর তাতেই মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় মিশরের ডাগআউট, অন্যদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আলবিসেলেস্তেরা।

ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণের সূচনালগ্নে মিশরের নিজেদের অর্ধে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে অন্যায়ভাবে টেনে ধরেছিলেন মারওয়ান আতিয়া। ঘটনাটি রেফারি ফাউল হিসেবে বিবেচনা করেন। ভিএআরের নিখুঁত পর্যালোচনার পর মাঠের রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বদলে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি-কিক দেন এবং মিশরের গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন।

ফিফার আইন অনুযায়ী রেফারির এই সিদ্ধান্তটি শতভাগ আইনসম্মত হলেও, এমন চোখধাঁধানো এক কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আসা গোল বাতিল হওয়াটা নিশ্চিতভাবেই মিশরের জন্য ছিল এক বিরাট মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা।

৯৬ বছর পুরোনো রেকর্ড ছোঁয়া, ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙ্গাসহ মেসির ৬ কীর্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
৯৬ বছর পুরোনো রেকর্ড ছোঁয়া, ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙ্গাসহ মেসির ৬ কীর্তি
ছবি : রয়টার্স

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি মিসের ট্র্যাজেডি। গ্যালারিজুড়ে তখন একরাশ হতাশার চাদর। কিন্তু যার নাম লিওনেল মেসি, তাকে কি আর রেকর্ড বুক বেশি সময় আড়ালে রাখতে পারে? দলের চরম বিপদের দিনে, যখন বিদায়ের ঘণ্টা বাজছিল আলবিসেলেস্তেদের, তখনই ত্রাতা হয়ে হাজির হলেন জাদুকর। মিশরের বিপক্ষে সমতা ফেরানো সেই জাদুকরি গোলের হাত ধরে প্রায় শত বছর আগের এক মহাকাব্যিক কীর্তি স্পর্শ করলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।

মিশরের জাল কাঁপিয়ে চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের ৮ম গোলটি তুলে নেন এই মহাতারকা। আর এই এক গোলেই রেকর্ড বুক ওলটপালট করে দিয়েছেন ৩৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

গিয়ের্মো স্তাবিলের পর দ্বিতীয় আর্জেন্টাইন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের একক কোনো আসরে ৮ গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন মেসি। এর আগে ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে এই কীর্তি গড়েছিলেন কিংবদন্তি স্তাবিলে। দীর্ঘ ৯৬ বছর পর তার সেই রাজকীয় রেকর্ডে ভাগ বসালেন এলএমটেন।

রেকর্ড আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি এখানেই থামেননি, গড়েছেন আরও একটি অতিমানবীয় রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে নকআউট পর্বের টানা ছয় ম্যাচে গোল করার অবিশ্বাস্য কীর্তি এখন শুধুই তার।

সব মিলিয়ে ফুটবল মহাযজ্ঞে টানা ৯টি ম্যাচে জাল কাঁপানোর রেকর্ড গড়লেন ফুটবলের এই খুদে জাদুকর। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে টানা ৬ ম্যাচের বেশি গোল করার রেকর্ড নেই আর কোনো ফুটবলারের।

এদিকে গোল করার পাশাপাশি এসিস্ট দিয়ে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়াগো ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছেন মেসি। ম্যারাডোনার ৮ এসিস্টের বিপরীতে মেসির গোলে সহায়তার সংখ্যা এখন ৯টি।

পেনাল্টি মিসের ক্ষত ততক্ষণে ভুলে গেলেও বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটিও এখন আর্জেন্টাইন যাদুকরের ঝুলিতেই। এছাড়া সর্বোচ্চ ১৪ টি নকআউট ম্যাচ খেলার রেকর্ডটিও আজকের ম্যাচ দিয়ে নিজের করে নিয়েছেন মেসি। 

রূপকথার প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
রূপকথার প্রত্যাবর্তনে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ফুটবল বিধাতা বোধহয় আর্জেন্টিনার ভাগ্যে চরম উত্তেজনার কথাই লিখে রেখেছেন। গোল হজম, পেনাল্টি মিস, একের পর এক সুযোগ হাতছাড়া আর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়া! সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকেই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় তখন সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। কিন্তু আলবিসেলেস্তেরা যে দমে যাওয়ার পাত্র নয়! মৃত্যুকূপের কিনারা থেকে ফিরে এসে মাত্র ১৩ মিনিটের এক টর্নেডো ঝড়ে মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। মিশরকে ৩-২ গোলে স্তব্ধ করে দিয়ে নাটকীয়ভাবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

চলতি বিশ্বকাপে এই প্রথম প্রথমার্ধে পিছিয়ে থেকে মাঠ ছাড়তে হয় আর্জেন্টিনাকে। ম্যাচের ১৫ মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার মাপা ক্রসে ডি-বক্সের মাঝখান থেকে দুর্দান্ত এক হেডে মিশরের ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম বল জালে জড়ালে ১-০ তে পিছিয়ে পড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ধাক্কা সামলে ২১ মিনিটেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় স্কালোনির দল। মিশরের বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেওয়া দুর্বল গতির বাঁ পায়ের শটটি ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।

এই মিসের পর বিশ্বকাপে নেওয়া ৮টি পেনাল্টির ৪টিই হাতছাড়া করার এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়েন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। চলতি আসরে এটি তাঁর দ্বিতীয় মিস। অন্যদিকে ইরানের মেহদি তারেমির পর মেসির পেনাল্টি আটকে দিয়ে টুর্নামেন্টে নিজের দ্বিতীয় সেভের দেখা পান মোস্তফা। এরপর ২৮ মিনিটে রদ্রিগো দে পলের ক্রসে মাক আলিস্তারের হেড এবং ৩৯ মিনিটে তাগলিয়াফিকোর কাটব্যাক থেকে হুলিয়ান আলভারেজের জোরালো শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দিয়ে প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার সামনে চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন মোস্তফা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মিশরের ৯ জন খেলোয়াড় রক্ষণভাগে দেয়াল তুলে দাঁড়ালে মেসি কিছুটা জায়গা তৈরি করে দে পলকে বল বাড়িয়েছিলেন। কিন্তু ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া দে পলের নিচু শটটি সহজেই গ্লাভসবন্দী করেন মোস্তফা। উল্টো ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর পাস আর হাসানের চমৎকার দৌড় থেকে আসা জিকোর এক চোখধাঁধানো কাউন্টার অ্যাটাক ফিনিশিংয়ে উল্লাসে মেতেছিল মিশর। তবে আক্রমণের শুরুতে ফাউল থাকায় ভিএআরের সাহায্যে গোলটি বাতিল করে আর্জেন্টিনাকে ফ্রি-কিক দেন রেফারি।

কিন্তু গোল বাতিলের সেই স্বস্তি টেকেনি বেশিক্ষণ। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে আর কোনো ভুল করেনি ফারাওরা। পাল্টা আক্রমণ থেকে হাসানের বাড়ানো নিখুঁত পাস ধরে এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে আবারও বল জালে জড়ান জিকো। ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তখন খাদের কিনারায় আর্জেন্টিনা।

২ গোল হজম করার পর যেন খ্যাপাটে বাঘের মতো জেগে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে ঘুরে দাঁড়ানোর মহাকাব্য শুরু হয়। রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের ফাঁকি দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়া ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ডান দিক থেকে বাড়ানো মেসির চমৎকার ক্রসে এক দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান ২-১ করেন। মিশরীয় গোলরক্ষক হাত ছোঁয়ালেও বলের গতি রোধ করতে পারেননি। মিশর ডিফেন্ডাররা অফসাইডের দাবি তুললেও তা নাকচ হয়ে যায়।

ঠিক ৪ মিনিট পর, ম্যাচের ৮৪ মিনিটে পুরো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে মাতান মহাতারকা লিওনেল মেসি। জোরালো এক শটে গোলরক্ষকের গায়ে লেগে বল বারের নিচের অংশ ছুঁয়ে জালে জড়ালে ২-২ সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। চলতি বিশ্বকাপে এটি মেসির ৮ম গোল এবং এর মাধ্যমে টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার অতিমানবীয় কৃতিত্ব অর্জন করলেন এলএমটেন।

তবে নাটকের শেষ অঙ্ক তখনো বাকি ছিল। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯২ মিনিটে) আর্জেন্টিনার এক গতিময় পাল্টা আক্রমণ থেকে বক্সের মাঝখানে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। বদলি নামা লাউতারো মার্তিনেজের নিখুঁত অ্যাসিস্টে চমৎকার এক হেডে মিশরের জাল কাঁপিয়ে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এনজো। ১৫ মিনিটের ব্যবধানে ৩ গোল হজম করে ততক্ষণে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছে মিশর। শেষ পর্যন্ত এই অবিশ্বাস্য জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।