• ই-পেপার

ফ্রান্সকে ‘আফ্রিকান দল’ বললেন প্যারাগুয়ের কিংবদন্তি

মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপ্পে

মাঠের ভেতরে তখন স্নায়ুর চরম পরীক্ষা। প্যারাগুয়ের লৌহকপাট ভাঙতে যখন ছক কষছে ফরাসি শিবির, ঠিক তখনই পেনাল্টি থেকে ডেডলক ভাঙলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চরম চাপের মুখেও বিন্দুমাত্র খেই না হারিয়ে ‘ঠান্ডা মাথার’ এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে এনে দিলেন মহার্ঘ্য সেই লিড। আর গোলটি করেই বাতাসে ভেসে নিজের চেনা ও স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে লাফিয়ে মেতে উঠলেন বিশ্বকাপের সর্বশেষ গোল উদযাপনে।

এই এক গোলেই যেন রাজকীয় মঞ্চের এক দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পেল। চলতি বিশ্বকাপে গোল করার রেসে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ফরাসি অধিনায়ক। মেসি ও এমবাপ্পে—দুজনেরই নামের পাশে এখন জ্বলজ্বল করছে সমান ৭টি করে গোল। গোল্ডেন বুটের লড়াইটা যে এবার আরও জমে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।

তবে মহাকাব্যিক এই রেকর্ডের লড়াই শুধু এই আসরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন আরও ওপরে উঠে এলেন এমবাপ্পে। ২০ গোল নিয়ে যেখানে চূড়ায় আছেন লিওনেল মেসি, সেখানে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। মেসির সেই কীর্তি স্পর্শ করা থেকে এখন মাত্র এক গোল দূরে দাঁড়িয়ে এমবাপ্পে (১৯ গোল)। 

মাঠে উত্তেজনা, নিরুত্তাপ স্কোরবোর্ড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের

ক্রীড়া ডেস্ক
মাঠে উত্তেজনা, নিরুত্তাপ স্কোরবোর্ড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের

চলতি বিশ্বকাপে একরকম অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আগের চার ম্যাচের সবকটিতেই প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করে উড়ছিল ফরাসিদের ‘ভয়ঙ্কর’ আক্রমণভাগ। তবে সেই উড়ন্ত ফ্রান্সকেই প্রথমার্ধ পর্যন্ত আঁটকে রাখল জার্মানিকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটানো প্যারাগুয়ে।

ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট ছিল স্রেফ ফরাসিদের একচ্ছত্র দাপট। ম্যাচের শুরু থেকেই বল মূলত প্যারাগুয়ের বক্সের আশপাশেই ঘুরপাক খেয়েছে। ম্যাচের ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেও অবশ্য কাজের কাজটি করতে পারেনি ফ্রান্স।

প্যারাগুয়ের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের ডিফেন্ডাররা চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে বোতলবন্দী করে রাখেন এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের। একের পর এক আক্রমণ প্যারাগুয়ের বক্সের ভেতর গিয়েই মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ফরাসিদের এমন একাধিপত্যের ম্যাচে ফুটবলের উত্তাপ ছাপিয়ে একপর্যায়ে ছড়ায় পেশীশক্তি আর স্নায়ুর উত্তেজনা। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্যারাগুয়ের বক্সের ঠিক কাছাকাছি জায়গায় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করা হলে নিজের হতাশা আর রাগ ধরে রাখতে পারেননি এই ফরাসি মহাতারকা। ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবেসের বুকে আলতো ধাক্কা মেরে বসেন এমবাপ্পে। ব্যস, তাতেই বারুদে আগুন লেগে যায়! মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হাতাহাতি ও তুমুল উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন। তবে রেফারির সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়, কোনো খেলোয়াড়কেই কার্ডের মুখোমুখি হতে হয়নি।

চরম উত্তেজনা আর মাঠের দাপট সামলে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে গোলহীন রেখেই স্বস্তির বিরতিতে গেছে প্যারাগুয়ে।

ব্রাজিল ফেবারিট, তবে আমরাও হারাতে পারি : নরওয়ে কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্রাজিল ফেবারিট, তবে আমরাও হারাতে পারি : নরওয়ে কোচ

ব্রাজিল, বিশ্বমঞ্চে যাদের নামের ভারেই কেঁপে ওঠে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ। কাগজের কলমে কিংবা শক্তিমত্তায় সেলেসাওরাই যে যোজন যোজন এগিয়ে, তা মানতে দ্বিধা নেই নরওয়ের প্রধান কোচ স্টেল সোলবাকেনের। তবে বিশ্বফুটবলের এই পরাশক্তিকে সমীহ করলেও ভয়ের কোনো ভূত মাথায় চড়াতে নারাজ তিনি।

নরওয়ে কোচ সোলবাকেন বিশ্বাস করেন, ফুটবল সব সময় চিরন্তন হিসাব মেনে চলে না। আর নিজেদের সেরাটা নিংড়ে দিতে পারলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার রূপকথা লিখতেই পারে তার দল।

নিউজার্সিতে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ মহরণে রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে ভাইকিংরা। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে প্রতিপক্ষকে ফেবারিটের তকমা দিয়েও নরওয়ে কোচ এক বুক আত্মবিশ্বাসের কথাই শোনালেন, ‘ব্রাজিল এখনো ফেবারিট। তবে তারা হয়তো আগের মতো সেই একচ্ছত্র ফেবারিট আর নয়। সম্ভাবনাকে শতকরা হিসাবে মাপা কঠিন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ব্রাজিলকে হারাতে পারি। তবে সেটা করতে হলে মাঠে আমাদের শতভাগ উজাড় করে খেলতে হবে। ব্রাজিলকে হারানোর সুযোগ আমাদের অবশ্যই আছে।’

গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে দারুণ ছন্দে থাকা নরওয়ে এবারই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন অগ্নিপরীক্ষার মুখে। আর সেই পরীক্ষায় কার্লো আনচেলত্তির আক্রমণভাগের ‘ত্রাস’ সামলানোকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন সোলবাকেন।

জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের দ্বিতীয়ার্ধের রণকৌশল মাথায় রেখে তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড লাইনের তিন খেলোয়াড় যে ভিন্ন ভিন্ন কম্বিনেশন তৈরি করবে, আমরা সেটি কতটা সামলাতে পারি, তা দেখতে হবে। তারা চারজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় নিয়েও খেলতে পারে, যেমন জাপানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে খেলেছিল। তাদের সেই গতির সঙ্গে আমরা কতটা তাল মিলিয়ে চলতে পারি, সেটাই দেখার বিষয়।’

ইতিহাসের খাতা ওল্টালে একটা মজার তথ্য মিলবে—বিশ্বকাপ বা আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চে ব্রাজিল কখনোই নরওয়েকে হারাতে পারেনি! আজ যদি নরওয়ে শেষ হাসি হাসে, তবে কি সেটা এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটন হবে? কোনো রাখঢাক না রেখেই নরওয়েজিয়ান বস উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমারও মনে হয়, সেটি হলে বড় একটি চমকই হবে।’

মাঠের লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী—আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েল মাগালাইসের দ্বৈরথের ওপর। তবে ব্যক্তিগত লড়াইকে ছাপিয়ে দলগত রসায়নকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সোলবাকেন।

তিনি বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের রক্ষণজুটি অন্যতম শক্তিশালী। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইস ও মার্কিনিয়োস দুজনই বিশ্বমানের ডিফেন্ডার। তবে এটি শেষ পর্যন্ত ব্রাজিল–নরওয়ে ম্যাচ। নিঃসন্দেহে মাঠে কিছু ব্যক্তিগত দ্বৈরথ জমবে, কিন্তু দিনশেষে এটি ব্রাজিল বনাম নরওয়ের লড়াই।’

একজন ছাড়া আমাকে উপদেশ দেওয়ার কেউ নেই: আনচেলত্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
একজন ছাড়া আমাকে উপদেশ দেওয়ার কেউ নেই: আনচেলত্তি
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মহানাটকীয় জয় দিয়ে নকআউটের টিকিট কেটেছে ব্রাজিল। জাপানিদের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং ম্যাচের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সেই নান্দনিক গোলে রক্ষা হয় সেলেসাওদের।

আর এই রুদ্ধশ্বাস জয়ে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছেন রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি।

তবে ব্রাজিলিয়ানদের সেই প্রশংসায় গলে যাচ্ছেন না সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় দলের ডাগআউটে দাঁড়ানো এই ইতালিয়ান সমালোচকদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছেন কড়া জবাব।

লাতিন সংবাদমাধ্যম ‘ফোলহা ডি এস পাওলো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘ইতালিতে একটা কথা প্রচলিত আছে—সব পুরুষই কোচ হতে চায় আর সব নারী আর্কিটেক্ট। আমি ফুটবল বুঝি কি বুঝি না, তা নিয়ে আমার বিচার করার অধিকার কারও নেই।’

অভিজ্ঞতার ঝুলি মেলে ধরে আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, ‘একটা বিষয় নিশ্চিত, আমি কোচ হিসেবে এ পর্যন্ত ১৪০০-র বেশি ম্যাচের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। ফুটবল বোঝার জন্য এটা যথেষ্ট কি না জানি না, তবে অভিজ্ঞতাটা নেহাত কম নয়। পুরো ফুটবল বিশ্বে আমার চেয়ে বেশি ম্যাচ ডাগআউটে পার করেছেন কেবল একজন—স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন (২০০০-এর বেশি ম্যাচ)। আমি সবার উপদেশই শুনি, তবে আমাকে উপদেশ দেওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি যদি কেউ থেকে থাকেন, তবে তিনি একমাত্র ফার্গুসন। আমি শতভাগ নিশ্চিত যে আমি কোনো জিনিয়াস নই, তবে একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত যে আমি কোনো বোকাও নই।’

জাপান-বধের মিশন শেষ, ব্রাজিলের সামনে এবার শেষ ষোলোর বাধা। রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের শক্তিশালী দল নরওয়ে।

প্রতিপক্ষকে সমীহ করে ইতালিয়ান এই বস জানান, নরওয়ে শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের রক্ষণভাগ দারুণ সুসংগঠিত। বিশেষ করে সেট-পিস এবং আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারের উপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় হুমকি।

রিয়াল মাদ্রিদ ও নাপোলির কোচ থাকাকালীন হালান্ডকে দুইবার সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে আনচেলত্তির। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনকে আটকানোর জন্য কোনো ম্যান-মার্কিং বা বিশেষ একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না, বরং পুরো বক্স সামলানোর কাজটি হবে ‘যৌথ প্রচেষ্টায়’।

এদিকে ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপে আসা এবং প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন কোচ। আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, নেইমার এখন শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট এবং ম্যাচের প্রয়োজনে পুরো ৯০ মিনিট খেলতেও তার কোনো বাধা নেই।

তবে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় নেইমার যে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন, তাও আড়াল করেননি কোচ, ‘খেলার সময় না পাওয়ায় ও কিছুটা অসন্তুষ্ট, তবে বিষয়টিকে ও ইতিবাচকভাবেই দেখছে এবং অনুশীলনে নিজের সেরাটা দিচ্ছে।’