• ই-পেপার

ব্রাজিল ফেবারিট, তবে আমরাও হারাতে পারি : নরওয়ে কোচ

এমবাপ্পের গোলে কোয়ার্টারে ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের গোলে কোয়ার্টারে ফ্রান্স

শেষ ৩২-এর ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে যে বিষাদের গল্প উপহার দিয়েছিল, ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ফ্রান্সের বিপক্ষেও ঠিক একই ছক কষে নেমেছিল প্যারাগুয়ে। দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের রুখে দিতে ডিফেন্সে রীতিমতো ‘বাস পার্ক’ করে ৫-৪-১ ফর্মেশন সাজিয়েছিলেন লাতিন দলটির কোচ। ফরাসিদের ভয়ংকর আক্রমণভাগকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বোতলবন্দী করে রেখেছিল তারা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দ্বিতীয়ার্ধে বক্সের ভেতর এক মুহূর্তের অসতর্কতা আর আত্মঘাতী ভুলের চড়া মাশুল দিতে হলো প্যারাগুয়েকে। তাদের সেই দুর্ভেদ্য দেওয়াল টপকে ঘামঝরানো জয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স।

শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছে ‘লে ব্লু’রা। প্রথমার্ধের ডেডলক ভেঙে ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র ও জয়সূচক গোলটি করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। আগামী বৃহস্পতিবার রাতে বোস্টন স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ‘জায়ান্ট কিলার’ মরক্কো, যারা সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের পায়ে রাখলেও প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণের সামনে প্রথমার্ধে বিন্দুমাত্র সুবিধা করতে পারেনি এমবাপ্পে ব্রিগেড। ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে প্যারাগুয়ের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি ফরাসিরা। ১৯৬৬ সালের পর এই নিয়ে মাত্র তৃতীয়বার বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এত দেরিতে প্রথম শটের দেখা পেল ফ্রান্স।

এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে তিউনিসিয়া এবং আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন বন্ধ্যাত্বের মুখে পড়েছিল তারা। প্রথমার্ধে এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের করা ২০টি ক্রসের একটিও প্রতিপক্ষের বক্সে বিপদ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো ৩১ মিনিটে এমবাপ্পের হেড মিস আর ওসমানের লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে হতাশায় পুড়তে হয় দেশমকে। মাঝপথে এমবাপ্পেকে পেছন থেকে কুবেসের টেনে ধরা নিয়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে মাঠেই এক দফা ঠুকাঠুকি লেগে যায়, যা রেফারি এসে শান্ত করেন।

বিরতির পর ম্যাচের ৫২ মিনিটে পরপর দুটি সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ফ্রান্স। প্রথমে মাইক মাইনানের লম্বা পাস ধরে ডিফেন্ডারদের গতিতে পরাস্ত করে ওয়ান-অন-ওয়ান পজিশনে চলে যান এমবাপ্পে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ হারালে প্যারাগুয়ে ডিফেন্ডার কাসেরেস কর্নারের বিনিময়ে বল ক্লিয়ার করেন। সেই কর্নার থেকে উসমান দেম্বেলের শট কাঁপায় পাশের জাল। এর দুই মিনিট পর কোনের এক দূরপাল্লার রকেট গতির শট লাফিয়ে উঠে জালের ওপর দিয়ে পার করে দেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।

তবে ম্যাচের আসল মোড় ঘোরে ৬৬ মিনিটে। প্যারাগুয়ের পেনাল্টি এরিয়ায় বদলি নামা ফরাসি ফরোয়ার্ড দিজিরে দুয়েকে ফাউল করে বসেন দিয়োগো গোমেজ। শুরুতে রেফারি এড়িয়ে গেলেও ভিএআর রিভিউ দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে বাধ্য হন। ৭০ মিনিটে স্পট-কিক থেকে গোলরক্ষককে সম্পূর্ণ উল্টো দিকে পাঠিয়ে ঠান্ডা মাথার নিখুঁত ও নিচু শটে ফ্রান্সকে উল্লাসে ভাসান কিলিয়ান এমবাপ্পে।

এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে ৭ গোল করে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় মেসির (২০ গোল) ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ১৯ গোল করা এমবাপ্পে।

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে মরিয়া প্যারাগুয়ের মাউরিসিওর এক নিচু শট দুর্দান্ত ডাইভে রুখে দেন ফরাসি প্রাচীর মাইক মাইনান। ওদিকে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে এমবাপ্পের পরপর দুটি বুলেট গতির শট অবিশ্বাস্যভাবে ঠেকিয়ে ব্যবধান বাড়তে দেননি প্যারাগুয়ে গোলকিপার গিল। শেষ পর্যন্ত ওই এক গোলের লিড ধরে রেখেই কোয়ার্টারে গেল ফ্রান্স। 

মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপ্পে

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপ্পে

মাঠের ভেতরে তখন স্নায়ুর চরম পরীক্ষা। প্যারাগুয়ের লৌহকপাট ভাঙতে যখন ছক কষছে ফরাসি শিবির, ঠিক তখনই পেনাল্টি থেকে ডেডলক ভাঙলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। চরম চাপের মুখেও বিন্দুমাত্র খেই না হারিয়ে ‘ঠান্ডা মাথার’ এক নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সকে এনে দিলেন মহার্ঘ্য সেই লিড। আর গোলটি করেই বাতাসে ভেসে নিজের চেনা ও স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে লাফিয়ে মেতে উঠলেন বিশ্বকাপের সর্বশেষ গোল উদযাপনে।

এই এক গোলেই যেন রাজকীয় মঞ্চের এক দ্বৈরথ নতুন মাত্রা পেল। চলতি বিশ্বকাপে গোল করার রেসে আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেললেন ফরাসি অধিনায়ক। মেসি ও এমবাপ্পে—দুজনেরই নামের পাশে এখন জ্বলজ্বল করছে সমান ৭টি করে গোল। গোল্ডেন বুটের লড়াইটা যে এবার আরও জমে উঠল, তা বলাই বাহুল্য।

তবে মহাকাব্যিক এই রেকর্ডের লড়াই শুধু এই আসরেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় এখন আরও ওপরে উঠে এলেন এমবাপ্পে। ২০ গোল নিয়ে যেখানে চূড়ায় আছেন লিওনেল মেসি, সেখানে তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। মেসির সেই কীর্তি স্পর্শ করা থেকে এখন মাত্র এক গোল দূরে দাঁড়িয়ে এমবাপ্পে (১৯ গোল)। 

মাঠে উত্তেজনা, নিরুত্তাপ স্কোরবোর্ড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের

ক্রীড়া ডেস্ক
মাঠে উত্তেজনা, নিরুত্তাপ স্কোরবোর্ড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের

চলতি বিশ্বকাপে একরকম অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। আগের চার ম্যাচের সবকটিতেই প্রতিপক্ষকে চূর্ণ করে উড়ছিল ফরাসিদের ‘ভয়ঙ্কর’ আক্রমণভাগ। তবে সেই উড়ন্ত ফ্রান্সকেই প্রথমার্ধ পর্যন্ত আঁটকে রাখল জার্মানিকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটানো প্যারাগুয়ে।

ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিট ছিল স্রেফ ফরাসিদের একচ্ছত্র দাপট। ম্যাচের শুরু থেকেই বল মূলত প্যারাগুয়ের বক্সের আশপাশেই ঘুরপাক খেয়েছে। ম্যাচের ৮০ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখেও অবশ্য কাজের কাজটি করতে পারেনি ফ্রান্স।

প্যারাগুয়ের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগের ডিফেন্ডাররা চীনের প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে বোতলবন্দী করে রাখেন এমবাপ্পে-দেম্বেলেদের। একের পর এক আক্রমণ প্যারাগুয়ের বক্সের ভেতর গিয়েই মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ফরাসিদের এমন একাধিপত্যের ম্যাচে ফুটবলের উত্তাপ ছাপিয়ে একপর্যায়ে ছড়ায় পেশীশক্তি আর স্নায়ুর উত্তেজনা। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্যারাগুয়ের বক্সের ঠিক কাছাকাছি জায়গায় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ফাউল করা হলে নিজের হতাশা আর রাগ ধরে রাখতে পারেননি এই ফরাসি মহাতারকা। ক্ষোভে ফেটে পড়ে প্যারাগুয়ের আন্দ্রেস কুবেসের বুকে আলতো ধাক্কা মেরে বসেন এমবাপ্পে। ব্যস, তাতেই বারুদে আগুন লেগে যায়! মুহূর্তের মধ্যে দুই দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে হাতাহাতি ও তুমুল উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন। তবে রেফারির সময়োচিত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়, কোনো খেলোয়াড়কেই কার্ডের মুখোমুখি হতে হয়নি।

চরম উত্তেজনা আর মাঠের দাপট সামলে শেষ পর্যন্ত ফ্রান্সকে গোলহীন রেখেই স্বস্তির বিরতিতে গেছে প্যারাগুয়ে।

একজন ছাড়া আমাকে উপদেশ দেওয়ার কেউ নেই: আনচেলত্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
একজন ছাড়া আমাকে উপদেশ দেওয়ার কেউ নেই: আনচেলত্তি
ছবি : রয়টার্স

গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মহানাটকীয় জয় দিয়ে নকআউটের টিকিট কেটেছে ব্রাজিল। জাপানিদের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর সমতাসূচক গোল এবং ম্যাচের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সেই নান্দনিক গোলে রক্ষা হয় সেলেসাওদের।

আর এই রুদ্ধশ্বাস জয়ে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসছেন রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী মাস্টারমাইন্ড কার্লো আনচেলত্তি।

তবে ব্রাজিলিয়ানদের সেই প্রশংসায় গলে যাচ্ছেন না সেলেসাওদের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় দলের ডাগআউটে দাঁড়ানো এই ইতালিয়ান সমালোচকদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দিয়েছেন কড়া জবাব।

লাতিন সংবাদমাধ্যম ‘ফোলহা ডি এস পাওলো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, ‘ইতালিতে একটা কথা প্রচলিত আছে—সব পুরুষই কোচ হতে চায় আর সব নারী আর্কিটেক্ট। আমি ফুটবল বুঝি কি বুঝি না, তা নিয়ে আমার বিচার করার অধিকার কারও নেই।’

অভিজ্ঞতার ঝুলি মেলে ধরে আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, ‘একটা বিষয় নিশ্চিত, আমি কোচ হিসেবে এ পর্যন্ত ১৪০০-র বেশি ম্যাচের পরিকল্পনা সাজিয়েছি। ফুটবল বোঝার জন্য এটা যথেষ্ট কি না জানি না, তবে অভিজ্ঞতাটা নেহাত কম নয়। পুরো ফুটবল বিশ্বে আমার চেয়ে বেশি ম্যাচ ডাগআউটে পার করেছেন কেবল একজন—স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন (২০০০-এর বেশি ম্যাচ)। আমি সবার উপদেশই শুনি, তবে আমাকে উপদেশ দেওয়ার মতো যোগ্য ব্যক্তি যদি কেউ থেকে থাকেন, তবে তিনি একমাত্র ফার্গুসন। আমি শতভাগ নিশ্চিত যে আমি কোনো জিনিয়াস নই, তবে একই সঙ্গে এটাও নিশ্চিত যে আমি কোনো বোকাও নই।’

জাপান-বধের মিশন শেষ, ব্রাজিলের সামনে এবার শেষ ষোলোর বাধা। রবিবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের শক্তিশালী দল নরওয়ে।

প্রতিপক্ষকে সমীহ করে ইতালিয়ান এই বস জানান, নরওয়ে শারীরিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তাদের রক্ষণভাগ দারুণ সুসংগঠিত। বিশেষ করে সেট-পিস এবং আর্লিং হালান্ডের মতো বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারের উপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য বড় হুমকি।

রিয়াল মাদ্রিদ ও নাপোলির কোচ থাকাকালীন হালান্ডকে দুইবার সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে আনচেলত্তির। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ম্যানচেস্টার সিটির এই গোলমেশিনকে আটকানোর জন্য কোনো ম্যান-মার্কিং বা বিশেষ একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে না, বরং পুরো বক্স সামলানোর কাজটি হবে ‘যৌথ প্রচেষ্টায়’।

এদিকে ইনজুরি নিয়ে বিশ্বকাপে আসা এবং প্রথম দুই ম্যাচ মিস করা ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে বড় সুখবর দিয়েছেন কোচ। আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন, নেইমার এখন শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট এবং ম্যাচের প্রয়োজনে পুরো ৯০ মিনিট খেলতেও তার কোনো বাধা নেই।

তবে পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় নেইমার যে কিছুটা মনঃক্ষুণ্ন, তাও আড়াল করেননি কোচ, ‘খেলার সময় না পাওয়ায় ও কিছুটা অসন্তুষ্ট, তবে বিষয়টিকে ও ইতিবাচকভাবেই দেখছে এবং অনুশীলনে নিজের সেরাটা দিচ্ছে।’