• ই-পেপার

রোনালদোর পেনাল্টিময় জীবন

কেপ ভার্দের রূপকথা কি থামাতে পারবে আর্জেন্টিনা

শাহজাহান কবির, মায়ামি থেকে
কেপ ভার্দের রূপকথা কি থামাতে পারবে আর্জেন্টিনা

‘আমার মনে হয়, কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে হারাবে ১-০ গোলে’—এই মুহূর্তে এমন মন্তব্য করে কেউ হয়তো আলোচনায় থাকতে চান, নয়তো বাড়াবাড়ি রকমের আবেগতাড়িত তিনি। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে গোটা কেপ ভার্দে এমন আবেগে ভাসলে অবশ্য তা বাড়াবাড়ি নয় মোটেও।

সে রকম কিছু ঘটিয়েই তো তারা এখন মায়ামিতে মুখোমুখি আর্জেন্টিনার। খোদ দলটির ফুটবলাররা বলেছেন, তাঁরা এর আগে লিওনেল মেসিকে খেলতে দেখেছেন শুধু টিভিতে, আগামীকাল ভোরে মাঠে সেই মেসিকে ট্যাকল করতে হবে তাঁদের, চোখে চোখ রেখে বলতে হবে, ‘তুমি সেরা হতে পারো, তবে আমরাও কম নই।’ দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেসও তাই আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারানোর অমন আগাম ঘোষণা দিয়ে দেন।

কেপ ভার্দের রূপকথা কি থামাতে পারবে আর্জেন্টিনা? মেসিদের জন্য একেবারে ভিন্ন চ্যালেঞ্জ হয়ে এসেছে এই ম্যাচ। নিশ্চিতভাবেই লিওনেল স্কালোনির টুর্নামেন্টপূর্ব হিসাব-নিকাশ ও গবেষণায় ছিল না এই কেপ ভার্দে। তারা নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে হাজির হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের সামনে। স্পেন, উরুগুয়েকে আটকে দিয়ে তারা এমন একটা বাতাবরণ তৈরি করেছে যে বাজিকররাও হয়তো দ্বিধায়। তাদের এই রূপকথার শেষ কোথায়!

কেপ ভার্দে যে এসেছে হিসাবের বাইরে থেকে। তাই হিসাব-নিকাশে তাদের মেলানোটা সহজ হবে না। তবে এবার ভাবুন আর্জেন্টিনা বা মেসির কথা। এই বিশ্বকাপেই যিনি খেলতে পারবেন কি না নিশ্চয়তা ছিল না, তিনি প্রথম তিন ম্যাচেই ছয় গোল করে ফেলবেন, ভাবতে পেরেছিল কেউ?

বিশ্বকাপে অবশ্য অনেক হিসাবই মেলে না। গতবার সৌদি আরবের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের পর কে-ই বা ভাবতে পেরেছিল যে সেই আর্জেন্টিনাই ট্রফি নিয়ে বাড়ি যাবে! মায়ামিতে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে লড়াইয়ে তাই রোমাঞ্চের ডাক আছে ষোলো আনাই। সেটি ডেভিড আর গোলিয়াথের লড়াই হলেও।

বিশ্বকাপের এই মাঝপথেও সত্যিকার অর্থে জমে উঠতে চলেছে শিরোপার লড়াই। ফ্রান্স আছে আগুনে ফর্মে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হলে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের কী হবে? ব্রাজিল যে গতবারের আর্জেন্টিনার মতোই এগোচ্ছে নানা চ্যালেঞ্জ সামলে। আর্জেন্টিনা বড় সমস্যায় পড়েনি এখনো, মেসি যেভাবে চাইছেন সবই হচ্ছে। তো এই যাত্রা কি থেমে যাবে! কেপ ভার্দে চমকেরও তাই হয়তো আজই শেষ, না হলেই বরং সেটি হবে আরো বড় চমক। বিশ্বকাপ কোন পথে যাচ্ছে, পথের বাঁকে বাঁকে রোমাঞ্চটা এখানেই।

কেপ ভার্দে কোচ মেসিকে থামানোরও পরিকল্পনা এঁটেছেন। মেসি কিভাবে কী করেন, সেটি অবশ্য কারোরই অজানা নয়। তবু ম্যাচ পরিস্থিতিতে তিনি ঠিকই পথ খুঁজে নেন, হয়তো অপ্রত্যাশিতভাবে গতি বাড়ান, চেনা মুভমেন্টেও যোগ করেন নতুন সৃষ্টিশীলতা, পার্থক্য গড়া হয়ে যায় সেভাবেই।

আলোচিত পারফর্মার ভোজিনিয়াও এই ম্যাচে আর্জেন্টাইন তারকাকে কেমন সামলান, সেটিও দেখার। জর্দানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে স্কালোনি সবাইকে খেলার সুযোগ দিয়েছেন। নক আউট পর্বের শুরু থেকে মেসিসহ মূল একাদশটাই তাঁর ফিরিয়ে আনার কথা। জর্ডান ম্যাচের পর সেই চেনা একাদশের কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেটিই দেখার।

ফিট নিকোলাস তালিয়াফিকো জর্ডান ম্যাচে একাদশে ফিরেছেন। কেপ ভার্দের বিপক্ষে তিনি লেফট ব্যাকের জায়গাটা ধরে রাখতে পারেন। আবার একই পজিশনে ফাকুন্দো মেদিনাও তাঁর সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে মেসি গোল করেছেন তাঁর ক্রস থেকে। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে কে খেলবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ফিট হয়ে উঠেছেন বলেই খবর। সে ক্ষেত্রে নিকোলাস ওতামেন্দিই কি শুরু করবেন, নাকি রোমেরো, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন স্কালোনি।

একই রকম কৌতূহল মেসির সঙ্গী কে হবেন, সেটি নিয়ে। লাউতারো মার্তিনেজ নাকি হুলিয়ান আলভারেস শুরু করবেন? যদিও শক্তিমত্তার হিসাব বলে কেপ ভার্দের জন্য আর্জেন্টিনার যেকোনো একাদশই যথেষ্ট। তবে স্কালোনিকেও এর রহস্যভেদ করতে হবে যে স্পেনের মতো দল কেন কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোল পেল না কিংবা কোন লড়াইয়ে উরুগুয়েকে তারা রুখে দিতে পারল?

গোলের জন্য হয়তো বা মেসিই যথেষ্ট, কিন্তু উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দে দেখিয়েছে তারা পাল্টা গোল করে ম্যাচে ফিরতেও পারে। কেপ ভার্দে ছোট দল বা চমক—যেটিই হোক, নক আউটের ম্যাচের সব রকম চ্যালেঞ্জই এই ম্যাচে আছে স্কালোনির সামনে। সেই চ্যালেঞ্জ জিতে শিরোপার পথে তাদের আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার পক্ষে বাজি ধরার লোকই এই মুহূর্তে বেশি!

ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে মিশরের কোচের হাতাহাতি

ক্রীড়া ডেস্ক
ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের সঙ্গে মিশরের কোচের হাতাহাতি
পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়ান মিশরের সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান। ছবি : ফেসবুক

বাংলাদেশ সময় রাত ১২টায় খেলতে নামছে মোহাম্মদ সালাহর মিশর। ডালাসে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে সেটি নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু মিশর এখন আলোচনায় অন্য এক কারণে। টিম হোটেলে পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন দলটির সহকারী ইব্রাহিম হাসান। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে মিশর দলের কোচিং স্টাফের তর্ক-বিতর্ক চলছে। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। 

ঘটনার সূত্রপাত ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে। এক খুদে ভক্ত মিশর দলের ফরোয়ার্ড ত্রেজেগের সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিল। এ সময় পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে গিয়ে শিশুটিকে ধাক্কা দেয়। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

ঘটনার পর মিশর ফুটবল ফেডারেশন (ইএফএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে যে ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে, বাস্তবে তা নয়। দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবি তুলতে আসা এক খুদে ভক্তকে নিরাপত্তাকর্মী ধাক্কা দিলে আমাদের সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান শিশুটিকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। তবে পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়। 

বিবৃতিতে ইএফএ আরো জানিয়েছে, ঘটনাটি দলের প্রস্তুতিতে কোনো প্রভাব ফেলেনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচ সামনে রেখে দল স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটি নিজের চোখের সামনেই ঘটেছে বলে দাবি করেছেন বিশ্বকাপ কাভার করতে যাওয়া মিশরীয় সাংবাদিক বেলাল এলসিসি। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘গুজব ও নানা কথাবার্তা বন্ধ করার জন্য বলছি—ঘটনাটি আমার চোখের সামনেই ঘটেছে। ইব্রাহিম হাসান হোটেলের লবিতে কোনো ধরনের ঝামেলা করেননি। বরং একটি শিশু তার এবং ত্রেজেগের সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু মার্কিন নিরাপত্তাকর্মীরা শিশুটিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং ছবি তুলতে বাধা দেয়।

এলসিসি এরপর লিখেছেন, ‘শিশুটির প্রতি হওয়া ওই আচরণের প্রতিবাদ করতে এবং তাকে রক্ষা করতে ইব্রাহিম এগিয়ে আসেন। পরে মার্কিন নিরাপত্তাকর্মীরা ওই শিশু এবং মিশর জাতীয় দলের এক নিরাপত্তাকর্মীর ওপরও চড়াও হয়।’

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

শীর্ষ দশ দলের মধ্যে বাদ পড়েছে শুধু একটি, কারা সেই দুর্ভাগা

ক্রীড়া ডেস্ক
শীর্ষ দশ দলের মধ্যে বাদ পড়েছে শুধু একটি, কারা সেই দুর্ভাগা
নেদারল্যান্ডস ফুটবল দল। ছবি: সংগৃহীত

ফিফা বিশ্বকাপের দলগুলো নিয়ে করা প্রায় সব ভবিষ্যদ্বাণীই কি মেলে? উত্তর—না। মেলার কথাও নয়। 

বলা হয়ে থাকে, বিশ্বকাপ এমন এক প্রতিযোগিতা, যেখানে ছোট দল-বড় দল, র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা-পিছিয়ে থাকা খুব বেশি প্রভাব ফেলে না। দিন শেষে মাঠের লড়াই-ই সবকিছু। 

তবে বড় দলের প্রতি সমর্থকদের প্রত্যাশা সব সময়ই বেশি। এবার সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে নেদারল্যান্ডস। 

বর্তমানে ফিফা লাইভ র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা দলগুলোর মধ্যে একমাত্র নেদারল্যান্ডসই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে। টিকে আছে গতকালই র‌্যাংকিংয়ের চূড়ায় ওঠা ফ্রান্স, বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, সাবেক দুই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও স্পেন, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পতুর্গাল, বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো, ডি ব্রুইনা-কোর্তোয়াদের বেলজিয়াম এবং আফ্রিকার গর্ব হয়ে ওঠা মরক্কো। 

এর আগে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা নেদারল্যান্ডস অবশ্য এবার অঘটনের শিকার হয়নি। রাউন্ড অব ৩২ পর্ব থেকে বাদ পড়েছে মরক্কোর কাছে হেরে। 

Ranking

তবে ব্রাজিল, পতুর্গাল, ইংল্যান্ড ও বেলজিয়াম যেখানে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছে, সেখানে নেদারল্যান্ডস নিজেরাই এমন অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে। 

মরক্কোর বিপক্ষে ৯০ মিনিট পর্যন্তও ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু যোগ করা সময়ে ডাচরা গোল হজম করে। শেষ মুহূর্তে সমতা এলে খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও কোনো দল গোল করতে না পারলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। এই পেনাল্টি শুটআউটেই কপাল পোড়ে ভার্জিল ফন ডাইকের দলের। 

বিশ্বকাপ থেকে হতাশজনক বিদায়ের পর পদত্যাগ করেন নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমান। 

ফুটবল বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ান ফুটবল ডাচদের এবারের বিশ্বকাপ অভিযানকে দুটি শব্দে তুলে ধরেছে, ‘দুর্ভাগা নেদারল্যান্ডস!’

সূর্যবংশীতে বিভক্ত ক্রিকেট বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক
সূর্যবংশীতে বিভক্ত ক্রিকেট বিশ্ব
সংগৃহীত ছবি

১৫ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বে। আইপিএলে ঝড় তুলেছিলেন ব্যাট হাতে। এখন অবশ্য উঠেছে বিতর্কের ঝড়। আইপিএলে ২৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৭৭৬ রান করে বৈভব নির্বাচকদের বাধ্য করেছিলেন তাকে দলে ডাকতে। ভারতীয় দলের সঙ্গে আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরও করেছেন। কিন্তু তাকে ছাড়াই তিনটি ম্যাচে খেলে ফেলেছে ভারত।

আয়াল্যান্ডের সঙ্গে টি-২০ সিরিজে লজ্জাজনকভাবে হোয়াইট ওয়াশ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। তিনটি ম্যাচ ড্রেসিং রুমে বসে দেখেছেন সূর্যবংশী। শনিবার (৪ জুলাই) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের আগে সবার প্রশ্ন, সবার কৌতূহল, কবে মাঠে নামছেন বৈভব সূর্যবংশী? এ প্রশ্নে রীতিমতো বিভক্ত ক্রিকেট বিশ্ব। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট অবশ্য টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ী টপ অর্ডার অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন আর ইশান কিষাণের ওপর আস্থা রাখছেন।

ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডাসকেট বলে দিয়েছেন, ‘সে (বৈভব) আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার জন্য তৈরি। তবে তাকেও একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে।’ তবে অনেকে প্রক্রিয়ার দোহাই দিয়ে সূর্যবংশীর মতো প্রতিভাকে বসিয়ে রাখার বিপক্ষে। ভারতের কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার তো আগেই বলেছেন, ‘আয়ারল্যান্ড সিরিজেই তার দলে থাকা উচিত ছিল। আশা করি ইংল্যান্ড সিরিজে সে দলে থাকবে।’

তবে গাভাস্কারের আশা পূরণ হয়নি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম ম্যাচে বৈভবকে ছাড়াই খেলতে নেমেছিল ভারত। ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা সর্বশেষ তিন ম্যাচে ৪৯ ও ৫৯ রানের দুটি ইনিংস খেলে নিজের অবস্থান শক্ত রাখতে পারলেও বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক সঞ্জু স্যামসনের ব্যাটে রানখরা। সূর্যবংশী যখন তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন, তখন শেষ তিন ইনিংসে স্যামসন ৫, ০ ও ১ রান করে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টকেই বিপাকে ফেলে দিয়েছেন। সাবেক ক্রিকেটার ইরফান পাঠান তো স্যামসনের ব্যাটিং টেকনিক নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

টি-২০ বিশ্বকাপে পরপর তিনটি ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে নায়ক বনে যাওয়া স্যামসন মাত্র তিন মাসের মধ্যে উল্টো পিঠটাও দেখে ফেলছেন। তবে মূল প্রশ্ন হলো, সূর্যবংশী শনিবারের মাচে দলে থাকবেন কি থাকবেন না? সুনীল গাভাস্কার তো আগেই বলেছেন, এখন ভারতের রবি শাস্ত্রী, ইংল্যান্ডের মাইকেল ভন, আলিস্টার কুক, দক্ষিণ আফ্রিকার অ্যাবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো কিংবদন্তিরা মনে করেন, সূর্যবংশীর মতো প্রতিভাকে বসিয়ে রাখা উচিত নয়।

তবে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার চেতেশ্বর পূজারা, সাবা করিমরা মনে করেন, সূর্যবংশী অবশ্যই সুযোগ পাবেন, তবে পরীক্ষিত পারফরমারদের যেন বাদ দেওয়া না হয়। সূর্যবংশীকে দলে সুযোগ পেতে আর সবার মতো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, ভারতের সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটের এ ধারণার সঙ্গে একমত নন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি অ্যাবি ডি ভিলিয়ার্স।

নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেছেন, ‘তাকে (সূর্যবংশী) কখন মাঠে নামানো হবে? আমি ভেবেছিলাম আয়ারল্যান্ড সিরিজটিই তার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার এবং তার আবহ বোঝার একদম উপযুক্ত সুযোগ ছিল। এটা দুর্ভাগ্যজনক যে তিনি কোনো সুযোগই পেলেন না। রায়ান টেন ডেসকাটের সেই বক্তব্যের সঙ্গে আমি দ্বিমত পোষণ করছি যেখানে তিনি বলেছেন—অন্যান্য খেলোয়াড়দের মতো সূর্যবংশীকেও নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে। আইপিএলে তিনি যেভাবে খেলেছেন, এরপর তাকে সরাসরি কঠিন পরিস্থিতিতে নামিয়ে দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময় ছিল, বিশেষ করে আয়ারল্যান্ডের মতো একটি নিচু র‍্যাংকের দলের বিরুদ্ধে, যাতে তিনি কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারতেন।’

এক পডকাস্টে ইংল্যান্ডের দুই সাবেক মাইকেল ভন আর আলিস্টার কুক রীতিমতো ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। পডকাস্টে মাইকেল ভন বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই বিসিআই ও প্রধান নির্বাচককে প্রশ্ন করা উচিত কেন সূর্যবংশীকে আয়ারল্যান্ডে খেলায়নি।’ জবাবে আলিস্টার কুক বলেন, ‘কাল (শনিবার) আমি সেখানে যাচ্ছি। একজন ভক্ত হিসেবে আমি চাই সে (বৈভব) যেন খেলে।’

সূর্যবংশীর প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সাবা করিম ও চেতেশ্বর পূজারারও। তবে পূজারা চান না সূর্যবংশীকে সুযোগ দিতে গিয়ে পরীক্ষিত কাউকে যেন বাদ দেওয়া না হয়, ‘আমি মনে করি ভারতের উচিত সঞ্জু স্যামসনকে দলে ধরে রাখা। আমার মনে হয় না তার কোনো চাপ অনুভব করা উচিত। টি-২০ বিশ্বকাপে তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবং তার যে ধরনের প্রতিভা রয়েছে, তাতে তার মূল একাদশে থাকা উচিত।’

সঞ্জু স্যামসনকে দল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে খুব বেশি শোরগোল হওয়া উচিত নয়। তিনি একজন মানসম্পন্ন খেলোয়াড় এবং তার আরো দীর্ঘ সময় সুযোগ পাওয়া উচিত। সঞ্জুর শুধু স্বাভাবিকভাবে ব্যাটিং করা দরকার এবং খুব বেশি চিন্তা না করা উচিত।’ বৈভব সম্পর্কে পূজারার মূল্যায়ন হলো, ‘যদি বৈভবের খেলার প্রয়োজন হয়, তবে তার খেলা উচিত। কিন্তু কাউকে দল থেকে বাদ দিয়ে নয়, বরং কাউকে বিশ্রাম দিয়ে। আপনি যদি তাকে একটি সুযোগ দিতে চান, তবে তা ঠিক আছে। কিন্তু ভারতের শীর্ষ তিন খেলোয়াড়ের কাউকেই আপনার বাদ দেওয়া উচিত নয়—তিনি সঞ্জু, অভিষেক বা ঈশান কিষাণ যেই হোন না কেন। তবে এটিও সত্যি যে, বৈভব একটি সুযোগ পাওয়ার যোগ্য এবং তার সুযোগ আসবে।’

বৈভব সূর্যবংশী সুযোগ পাবেন কি পাবেন না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে কালকের ম্যাচ পর্যন্ত। তবে সুযোগ পেলেই তিনি শচীনকে হটিয়ে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ আন্তজাতিক ক্রিকেটার বনে যাবেন।