• ই-পেপার

আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার নাটকীয় ড্রয়ে কপাল পুড়ল ইরানের

মেসির বিশ্বরেকর্ড, কেইনের কীর্তি—বিশ্বকাপে একদিনে যত ইতিহাস

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসির বিশ্বরেকর্ড, কেইনের কীর্তি—বিশ্বকাপে একদিনে যত ইতিহাস

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে রেকর্ড আর ইতিহাসে ভরপুর একদিনে। শেষ দিনের ম্যাচগুলোতে লিওনেল মেসি, হ্যারি কেইন, লুকা মডরিচ, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, রিয়াদ মাহরেজসহ একাধিক তারকা গড়েছেন নতুন নতুন মাইলফলক। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো নকআউট নিশ্চিত করেছে ডিআর কঙ্গো, আর নাটকীয় ড্রয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়া।

মেসির বিশ্বরেকর্ড

জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারানোর ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন লিওনেল মেসি। এই গোলেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

এ ছাড়া বিশ্বকাপে তার মোট গোল দাঁড়িয়েছে ১৯টি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গ্রুপ পর্বে ছয় গোল করে তিনি ১৯৯৪ সালের পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ছয় গোলের কীর্তিও গড়েছেন। বিশ্বকাপে বক্সের বাইরে থেকে তার গোল এখন ছয়টি, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিকে লাউতারো মার্তিনেজ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল পেয়েছেন নবম ম্যাচে। অন্যদিকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস এক ম্যাচে ১৫৪টি সফল পাস দিয়ে গত ৬০ বছরে আর্জেন্টিনার হয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।

কেইনের নতুন মাইলফলক

পানামাকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে গোল করে হ্যারি কেইন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তার গোলসংখ্যা এখন ১১, যা গ্যারি লিনেকারের ১০ গোলের রেকর্ড ভেঙেছে।

জুড বেলিংহ্যামও ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করে গত ৬০ বছরে ইংল্যান্ডের চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।

রোনালদোর পাশে আরেক রেকর্ড

কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচে পর্তুগালের জার্সিতে বিশ্বকাপে ২৫তম ম্যাচ খেলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এর মাধ্যমে তিনি জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের রেকর্ড স্পর্শ করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ২৯ ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখনো মেসির দখলে।

৪০ বছর বয়সেও মডরিচের জাদু

ঘানার বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়ার ২-১ জয়ে অ্যাসিস্ট করে ৪০ বছর ২৯১ দিন বয়সে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সী অ্যাসিস্টদাতার রেকর্ড গড়েছেন লুকা মডরিচ। একই সঙ্গে মদ্রিচ ও ইভান পেরিসিচ প্রথম ক্রোয়াট হিসেবে বিশ্বকাপে ২০টি করে ম্যাচ শুরুর একাদশে নামার কীর্তি গড়েছেন।

ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস

উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে ডিআর কঙ্গো। দলটির হয়ে ইয়োয়ানে উইসা তিন গোল করে এক বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তিন গোল করা চতুর্থ আফ্রিকান ফুটবলার হয়েছেন।

মাহরেজ ও আলজেরিয়ার রেকর্ড

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে জোড়া গোল করে রিয়াদ মাহরেজ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতা হয়েছেন। ৩৫ বছর ১২৬ দিন বয়সে তিনি এই কীর্তি গড়েন।

অন্যদিকে ইনজুরি সময়ে সাসা কালাইজদজিচের গোল অস্ট্রিয়াকে নকআউটে তুলেছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটিই প্রথম ম্যাচ, যেখানে যোগ করা সময়ে এক দল এগিয়ে যাওয়ার পর অপর দল সমতাসূচক গোল করেছে।

গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বকাপ এখন প্রবেশ করছে নকআউট পর্বে। তবে শেষ দিনের রোমাঞ্চ আর তারকাদের রেকর্ডে এবারের আসরের গ্রুপ পর্ব স্মরণীয় হয়ে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।

নকআউটের ভাগ্য সহায় হয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক
নকআউটের ভাগ্য সহায় হয়নি দক্ষিণ কোরিয়ার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াকে। ৪৮ দলের নতুন বিশ্বকাপের নিয়মে সেরা আট তৃতীয় হওয়া দল নকআউটে ওঠার সুযোগ পেলেও সেই তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

গ্রুপ ‘এ’-তে একটি জয় ও দুটি হারে ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া। শুরুতে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ এবং শেষ ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে একই ব্যবধানে হেরে নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা জটিল করে ফেলে তারা।

শেষ দিনে অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছিল কোরিয়ার ভাগ্য। শুরুতে সেরা তৃতীয় দলগুলোর তালিকায় অষ্টম স্থানে থাকলেও প্রথমে ক্রোয়েশিয়া ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়ে এগিয়ে যায়। এরপর ডিআর কঙ্গো উজবেকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে ৪ পয়েন্ট অর্জন করলে দক্ষিণ কোরিয়া শীর্ষ আটের বাইরে ছিটকে পড়ে। ফলে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয় তাদের।

এদিকে, ডিআর কঙ্গো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে আলজেরিয়া নাটকীয়ভাবে অস্ট্রিয়ার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয়।

এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার ১২তম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। এর আগে তারা তিনবার নকআউট পর্বে খেলেছিল। ২০০২ সালে যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিহাস গড়ে সেমিফাইনালে উঠেছিল দলটি। এ ছাড়া ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে খেলেছিল কোরিয়ানরা। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধাই পেরোতে পারল না তারা।

বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এ কে কার মুখোমুখি, দেখে নিন পূর্ণ সূচি

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে শেষ ৩২-এ কে কার মুখোমুখি, দেখে নিন পূর্ণ সূচি

গ্রুপ পর্বের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে চূড়ান্ত হয়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর রাউন্ড অব ৩২-এর সূচি। প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের বিশ্বকাপে এবার নকআউট পর্বে খেলবে ৩২টি দল। আগামী ২৯ জুন থেকে শুরু হচ্ছে বাঁচা-মরার লড়াই, যেখানে হারের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হবে বিশ্বকাপ অভিযান।

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা শেষ ৩২-এ খেলবে বিশ্বকাপে অভিষেকেই চমক দেখানো কেপ ভার্দের বিপক্ষে। অন্যদিকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের সামনে কঠিন পরীক্ষা ক্রোয়েশিয়া। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়ার, আর পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল খেলবে জাপানের বিপক্ষে।

ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সুইডেন, জার্মানির সামনে প্যারাগুয়ে। স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র খেলবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে, ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো। এ ছাড়া বেলজিয়াম-সেনেগাল, নেদারল্যান্ডস-মরক্কো, মেক্সিকো-ইকুয়েডর, সুইজারল্যান্ড-আলজেরিয়া, কলম্বিয়া-ঘানা, অস্ট্রেলিয়া-মিশর, আইভরি কোস্ট-নরওয়ে এবং দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা ম্যাচও বাড়তি আকর্ষণ ছড়াবে।

তারিখ         ম্যাচ   স্টেডিয়াম

         স্বাগতিক শহর                   

বাংলাদেশ সময়
২৯ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম কানাডা সোফাই স্টেডিয়াম লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র রাত ১:০০
২৯ জুন ব্রাজিল বনাম জাপান এনআরজি স্টেডিয়াম হিউস্টন, যুক্তরাষ্ট্র রাত ১১:০০
৩০ জুন জার্মানি বনাম প্যারাগুয়ে জিলেট স্টেডিয়াম বোস্টন, যুক্তরাষ্ট্র রাত ২:৩০
৩০ জুন নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো এস্তাদিও বিবিভিএ গুয়াদালুপে, মেক্সিকো সকাল ৭:০০
৩০ জুন আইভরি কোস্ট বনাম নরওয়ে এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র রাত ১১:০০
১ জুলাই ফ্রান্স বনাম সুইডেন মেটলাইফ স্টেডিয়াম ইস্ট রাদারফোর্ড, যুক্তরাষ্ট্র রাত ৩:০০
১ জুলাই মেক্সিকো বনাম ইকুয়েডর এস্তাদিও অ্যাজটেকা মেক্সিকো সিটি সকাল ৭:০০
১ জুলাই ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়াম আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র রাত ১০:০০
২ জুলাই বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল লুমেন ফিল্ড সিয়াটল, যুক্তরাষ্ট্র রাত ২:০০
২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র বনাম বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা লেভাইস স্টেডিয়াম সান ফ্রান্সিসকো, যুক্তরাষ্ট্র সকাল ৬:০০
৩ জুলাই স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া সোফাই স্টেডিয়াম লস অ্যাঞ্জেলেস, যুক্তরাষ্ট্র রাত ১:০০
৩ জুলাই পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া বিএমও ফিল্ড টরন্টো, কানাডা ভোর ৫:০০
৩ জুলাই সুইজারল্যান্ড বনাম আলজেরিয়া বিসি প্লেস ভ্যাঙ্কুভার, কানাডা সকাল ৯:০০
৪ জুলাই অস্ট্রেলিয়া বনাম মিশর এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়াম ডালাস, যুক্তরাষ্ট্র রাত ১২:০০
৪ জুলাই আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে হার্ড রক স্টেডিয়াম মায়ামি, যুক্তরাষ্ট্র ভোর ৪:০০
৪ জুলাই কলম্বিয়া বনাম ঘানা অ্যারোহেড স্টেডিয়াম কানসাস সিটি, যুক্তরাষ্ট্র সকাল ৭:৩০

শেষ মুহূর্তের নাটকে নকআউটে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া

ক্রীড়া ডেস্ক
শেষ মুহূর্তের নাটকে নকআউটে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া
নকআউট নিশ্চিতের পর অস্ট্রিয়া খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স

শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত জয়টা যেন আলজেরিয়ার হাতেই ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে সাসা কালাইজডজিচের হেডে গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে ৩-৩ সমতা ফেরায় অস্ট্রিয়া। নাটকীয় এই ড্রয়ে গ্রুপ ‘জে’ থেকে রানার্সআপ হিসেবে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করেছে অস্ট্রিয়া, আর আলজেরিয়াকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তৃতীয় স্থান নিয়ে। তবে তৃতীয় হলেও নকআউটে জায়গা পেয়েছে তারা। 

কানসাস সিটিতে শুরু থেকেই জমে ওঠে দুই দলের লড়াই। ২৮ মিনিটে ডেভিড আলাবার বাড়ানো বলে গোল করে অস্ট্রিয়াকে এগিয়ে দেন মার্কো আরনাউতোভিচ। তবে বিরতির ঠিক আগে ৪৪ মিনিটে রাফিক বেলঘালির গোলে সমতায় ফেরে আলজেরিয়া।

দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটে মার্সেল সাবিৎজারের দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে আবারও এগিয়ে যায় অস্ট্রিয়া। কিন্তু হাল ছাড়েনি আলজেরিয়া। ৫৯ মিনিটে হোসেম আওয়ারের পাস থেকে রিয়াদ মাহরেজ গোল করে ২-২ সমতা ফেরান।

নাটকীয়তা আরো বাড়ে যোগ করা সময়ে। ৯৩ মিনিটে আবারও মাহরেজ গোল করে আলজেরিয়াকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তখন মনে হচ্ছিল জয় নিয়েই মাঠ ছাড়বে উত্তর আফ্রিকার দলটি।

কিন্তু শেষ কথা বলার বাকি ছিল অস্ট্রিয়ার। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে মাইকেল গ্রেগরিশের হেড থেকে বল পেয়ে সাসা কালাইজডজিচ দারুণ এক হেডে জাল কাঁপিয়ে ৩-৩ সমতা ফেরান। এরপরই শেষ বাঁশি বাজান রেফারি।

এই ড্রয়ে তিন ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নেয় অস্ট্রিয়া। অন্যদিকে সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থেকে শেষ ৩২-এ টিকে থাকল আলজেরিয়াও।