যোগ করা সময় শেষ হওয়ার আর ২ মিনিট বাকি ছিল। এরপরেই খেলা শেষের বাঁশি বাঁজাতেন রেফারি। দুই দলের খেলোয়াড়রা তাই ড্রয়ের প্রস্তুতিই নিচ্ছিল। তবে তা হতে দিলেন না বদলি নামা ডেনিজ উনদাভ। জোড়া গোল করে ম্যাচ জেতালেন বদিল নামা ফরোয়ার্ড।
উনদাভের জোড়া গোলে প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখে জার্মানি। কেননা প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে বিরতিতে গিয়েছিল ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সেই গোল শোধ দিতে জান বের হয়ে যাচ্ছিল জার্মানির। ৬০ মিনিটে বদলি নেমে পরে জার্মানির ত্রাণকর্তা হলেন উনদাভ। ২-১ ব্যবধানের জয় এনে দিয়ে।
অথচ, টরেন্টোয় শুরু থেকেই আক্রমণের পসরা সাজায় জার্মানি। ম্যাচের ১০ মিনিটে তো গোলের দেখা প্রায় পেয়েই গিয়েছিল জার্মানি। জশুয়া কিমিখের ক্রস থেকে দারুণ এক হেড নিয়েছিলেন কাই হাভার্টজ। তার মাথা ছুঁয়ে বল জালেও জড়ানোর পথে ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত সেভ দেন আইভরি কোস্টের গোলরক্ষক ইয়াহিয়া ফোফানা।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে দলকে লিড এনে দেওয়ার দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিলেন জামাল মুসিয়ালা। কিন্তু বক্সের বাইরে থেকে যে শটটি নিলেন তা গোলপোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়। তাতে গোল পাওয়ার অপেক্ষা বাড়ে।
২১ মিনিটে অবশ্য জালের দেখা পেয়েছিল জার্মানি। তবে কর্নার থেকে গোল হওয়ার সময় আইভরি কোস্টের গোলরক্ষককে আলেক্সজান্ডার পাভলোভিচ ধাক্কা দেওয়ায় তা বাতিল হয়।
শুরু থেকেই আক্রমণ জার্মানি সাজালেও এগিয়ে যায় আইভরি কোস্ট। ৩০ মিনিটে লিড এনে দেওয়ার কাজটি করেন অধিনায়ক ফ্রাঙ্ক কেসি। আমাদ দিয়ালোর শট জার্মানির ডিফেন্ডার ব্রাউন ব্লক করলে ফাঁকা জালে বল জড়াতে ভুল করেননি কেসি।
পিছিয়ে পড়ে গোল শোধ দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। তার ফলও পেয়েছিল তারা। তবে হাভার্টজ বলকে জালে জড়ালেও আইভরি কোস্টের এক খেলোয়াড় আগেই ফাউলের শিকার হলে গোলটি বাতিল হয়। পরে সমতায় ফেরার অপেক্ষা নিয়ে বিরতিতে যায় জার্মানি।
বিরতি শেষে সময় পেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু জার্মানির আর সমতায় ফেরা হচ্ছিল না। অবশেষে ৬৮ মিনিটে সেই সুযোগ পায় তারা। দুই বদলি নামা ফুটবলারের ভাগ্যে ফেরে তাদের। মিডফিল্ডার নাদিয়েম আমিরির ক্রসে ভলি করে দলেকে সমতায় ফেরান উনদাভ।
অন্যদিকে ৮৮ মিনিটে যেন জয়টা জার্মানির হাতে তুলে দিল আসল আইভরি কোস্ট। সিমন আদিঙ্গারকে মুখে তুলে দেওয়ার মতো এক বল বাড়িয়েছিলেন বদলি নামা পেপে। কিন্তু বাঁ প্রান্তের ফাঁকায় বল পেয়ে গোলরক্ষককে একা পেয়েও শট নিতে দেরি করলেন আদিঙ্গার। ফল জার্মানির ডিফেন্ডাররা এসে ক্লিয়ার করল বল।
বিপরীতে ফিরতি মিনিটে লিড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল জার্মানি। তবে গোলরক্ষকের দারুণ ক্ষিপ্রতায় বেঁচে যায় আইভিরি কোস্ট। নাথানিয়েল ব্রাউনের শটে দুর্দান্ত সেভ দেন ফোফানা। যোগ করা সময়ে আরেকটি সেভ দেন তিনি। এবার আমিরির শট ধরে ফেলেন।
তবে যোগ করা সময়ে আর পারলেন না ফোফানা। বদলি নামা আনদাভের শটটায় অবশ্য কিছু করার ছিল না আইভরি কোস্টের গোলরক্ষকের। ফেলিক্স এনমেচার বল বক্সের মধ্যে আনমার্ক অবস্থায় পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি উনদাভ। স্টুটগার্টের ফরোয়ার্ডের গোল হতেই উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে জার্মানির ডাগআউট থেকে পুরো গ্যালারিতে।
সুপার সাবের জোড়া গোলের জয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে জার্মানি। তাতে এক যুগ পর নকআউটে জায়গা পেয়েছে তারা। সর্বশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে যখন খেলে তখন চ্যাম্পিয়নই হয়েছিল তারা। আজকের জয়ে দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্টে ‘ই’ গ্রুপে এখন তারা শীর্ষে। বিপরীতে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আইভরি কোস্ট।




