• ই-পেপার

আড়াইহাজারে ডাকাতের হামলায় এসি ল্যান্ডসহ আহত ৬

সাপের কামড়কে ‘ব্যাঙের কামড়’ ভেবে দেরি, প্রাণ গেল শিশুর

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
সাপের কামড়কে ‘ব্যাঙের কামড়’ ভেবে দেরি, প্রাণ গেল শিশুর
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বেলা ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

শিশু আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এসময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। এর পরপরই শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় ঝাড়ফুঁক দেওয়া এক ফকিরের কাছে নিয়ে যান।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বলেন, প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

সড়কের পাশের ঝোপে পড়েছিল নিখোঁজ অটোরিকশাচালকের লাশ, গ্রেপ্তার ১

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
সড়কের পাশের ঝোপে পড়েছিল নিখোঁজ অটোরিকশাচালকের লাশ, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার মুরাদনগরে নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ি গ্রামের দড়েরপাড় এলাকার একটি সড়কের পাশের ঝোঁপ থেকে শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত মাহবুল (২৮) উপজেলার গকুলনগর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া নাঈম ইসলাম (২৫) দাউদকান্দি উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ টিলি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মুরাদনগরের নগরপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত প্রায় ১০টার দিকে মাহবুল তাঁর অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরিবারের সদস্যদের তিনি জানিয়েছিলেন, দুজন যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে যাচ্ছেন। কিন্তু গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। তারা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

স্বজনরা রাতভর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মাহবুলের কোনো সন্ধান পাননি। পরদিনও তার খোঁজ না মেলায় পরিবারের উৎকণ্ঠা আরো বাড়ে।

শনিবার দুপুরে স্থানীয় কয়েকজন টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ি গ্রামের দড়েরপাড় এলাকায় সড়কের পাশে ঝোপের মধ্যে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি মাহবুলের বলে শনাক্ত করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে অটোরিকশা ছিনতাই বা চুরির উদ্দেশ্যে মাহবুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শনিবার বিকেলে নাঈম ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে নিহত মাহবুলের ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি কোদালকাটা-মির্জাপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে রবিবার (২১ জুন) আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিকে সাময়িক অব্যাহতি, কমিটি বিলুপ্ত

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিকে সাময়িক অব্যাহতি, কমিটি বিলুপ্ত
সাইদুর ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর ইসলামকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা বিএনপি। শনিবার (২০ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে এ অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে আরেক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই ইউনিয়ন বিএনপির কমিটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে।

সম্প্রতি গোপিনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমানের মাদক সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরেই আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নেয়। এই ঘটনায় ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল উপজেলা বিএনপি।

শনিবার রাতে আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং দুই সাংগঠনিক সম্পাদকের স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গোপীনাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর ইসলামকে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হলো।

অন্য আরেক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ওই ইউনিয়নে দলীয় কার্যক্রম সাংগঠনিক পদ্ধতিতে পুনর্গঠন করার প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে বর্তমান কমিটিকে ভেঙে দিয়ে এস এম কায়কোবাদকে আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হলো।

দুইটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ই আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান কমল নিশ্চিত করেছেন।

ফরিদপুরে ছাত্রাবাসে সমকামিতার অভিযোগে তিনজন আটক

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ছাত্রাবাসে সমকামিতার অভিযোগে তিনজন আটক
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুর শহরের একটি ছাত্রাবাসে সমকামিতার অভিযোগে তিন যুবককে আটকের ঘটনাকে ঘিরে জেলায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে শহরের কমলাপুর মহল্লার চানমারী এলাকার একটি ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রাবাসের কয়েকজন বোর্ডার নতুন এক আবাসিকের আচরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো কয়েকজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার দাবি করে ছাত্ররা। পরে কৌশলে কয়েকজনকে ছাত্রাবাসে ডেকে এনে আটকে রাখা হয় এবং জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকের বিভিন্ন গোপন গ্রুপ ও ভুয়া আইডির মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের ব্যক্তিগত ও গোপন নেটওয়ার্ক তৈরি হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজের নজরের বাইরে থেকে যায়।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। সাধারণ নাগরিকের পক্ষে কাউকে আটক রাখা বা ব্যক্তিগত ডিভাইস তল্লাশি করার বিষয়টি আইনগত প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষকরা জানান, ছাত্রাবাস শুধু আবাসনের স্থান নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সেখানে পারস্পরিক সম্মান, নৈতিক মূল্যবোধ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রয়োজন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, কাউন্সেলিং কার্যক্রম জোরদার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা গড়ে তোলা সময়ের দাবি।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে থানায় নিয়ে আসে। তবে এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।