• ই-পেপার

মাঠে নেমেই পেনাল্টি আদায় করলেন মেসি

বিশ্বকাপে ১২ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে করেননি পেলে

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ১২ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে করেননি পেলে
তিন বিশ্বকাপ হাতে পেলে। ছবি : সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তি পেলে বিশ্বকাপে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন। চারটি বিশ্বকাপ খেলে ১৪ ম্যাচে ১২ গোল করা এই ব্রাজিলিয়ান মহাতারকার একটি অনন্য কীর্তি হলো, তার বিশ্বকাপের ১২ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে আসেনি।

১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬ ও ১৯৭০ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া পেলে তার সবগুলো গোলই করেছেন ওপেন প্লে কিংবা ফ্রি-কিক থেকে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায় থাকলেও তিনি কখনো স্পটকিকের সাহায্যে গোলের সংখ্যা বাড়াননি।

১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ছয় গোল করে ব্রাজিলকে শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা রাখেন পেলে। ওয়েলসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জয়সূচক গোল, ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক এবং স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে ফাইনালে জোড়া গোল—সবই ছিল ওপেন প্লে থেকে।

১৯৬২ বিশ্বকাপে মেক্সিকোর বিপক্ষে দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় গোল করার পর চোটে পড়েন তিনি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে একটি ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন। আর ১৯৭০ বিশ্বকাপে চেকোস্লোভাকিয়া ও রোমানিয়ার বিপক্ষে চার গোল করে ব্রাজিলের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে অবদান রাখেন।

বর্তমান ফুটবলে যেখানে অনেক তারকা ফুটবলারের গোলসংখ্যার বড় অংশই পেনাল্টি থেকে আসে, সেখানে পেলের বিশ্বকাপের ১২ গোলের সবকটিই এসেছে ওপেন প্লে থেকেই। এ কারণেই তার গোলগুলোকে অনেক ফুটবল বিশ্লেষক বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের তালিকায় পেলে বর্তমানে শীর্ষ পাঁচের মধ্যে রয়েছেন। তার সামনে আছেন শুধু মিরোস্লাভ ক্লোজা, (১৬), রোনালদো নাজারিও (১৫) এবং গার্ড মুলার ও জাস্ট ফন্টেইন (১৪)। ১৩ গোল নিয়ে আছেন চতুর্থ মেসি। ১২ গোল নিয়ে পরের অবস্থানে পেলে ও এমবাপ্পে।

ভাইকিংসের সাজে ফটোশুট করে বিতর্কে নরওয়ে

ক্রীড়া ডেস্ক
ভাইকিংসের সাজে ফটোশুট করে বিতর্কে নরওয়ে
সংগৃহীত ছবি

বিশ্বকাপ ফুটবলের জার্সি উন্মোচন ও ফটোশুট ঘিরে নজিরবিহীন বিতর্কের মুখে পড়েছে নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল। দেশটির তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড এবং তার সতীর্থদের একটি ভাইকিং থিমযুক্ত ফটোশুটকে কেন্দ্র করে নরওয়ের সমাজ ও ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র বিভক্তি দেখা দিয়েছে। 

সমালোচকদের একাংশ এই ফটোশুটকে চরম উগ্র জাতীয়তাবাদী, পুরুষতান্ত্রিক এবং নব্য-নাৎসি ভাবধারার সঙ্গে তুলনীয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভাইকিং যুগের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস, লুণ্ঠন ও নির্যাতনকে এই ছবির মাধ্যমে মহানায়কোচিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

একটি সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এই বিতর্কিত ফটোশুটে নরওয়ে দলের খেলোয়াড়দের হাতে ভাইকিংদের ঐতিহ্যবাহী ঢাল, ধনুক, তীর এবং কুঠার দেখা যায়, যার পটভূমিতে ছিল ভাইকিংদের বিশেষ নৌকা। নরওয়েজিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের পরিকল্পনায় তৈরি এই বিশেষ জার্সির পেছনে কিছু রুনিক লিপি বা প্রাচীন ভাইকিং প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে। আর এটি নিয়েই আপত্তির ঝড় তুলেছেন গবেষক ও সমাজ বিশ্লেষকরা।

নরওয়ের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে এই ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশটির খ্যাতনামা সাংবাদিক মারকুস স্লেটহোম এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, এই ভাইকিং চিত্রগুলো অত্যন্ত উগ্র এবং সমাজ থেকে অন্য সংস্কৃতিকে বাদ দেওয়ার মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। 

তার মতে, এই ছবিগুলো প্রায় এক দশক আগের নব্য-নাৎসিদের প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে, গবেষক জেন হগ স্কজল্ডলি এই জার্সির নকশাকে অতি-পুরুষতান্ত্রিক এবং উগ্র ডানপন্থী ঘরানার বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, জার্সিতে ব্যবহৃত কিছু প্রতীক দুর্ভাগ্যবশত ফ্যাসিবাদের প্রতীকী ভাষার সাথে মিলে যায়।

এদিকে বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে এই ধরনের বিতর্ক নরওয়ে দলের ড্রেসিংরুম এবং অনুশীলন ক্যাম্পেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তবে এই সামাজিক বিতর্ককে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ দলের প্রধান কোচ স্টেল সলবাকেন। 

এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সলবাকেন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বর্তমানে এর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল বিষয় নিয়ে ভাবার আছে এবং এসব ফালতু বিতর্কের পেছনে নষ্ট করার মতো সময় তার বা তার দলের নেই।

 

মেসি-পেলে বিতর্কে আগুয়েরো, ‘তখন গোলরক্ষকেরা গ্লাভসও পরতেন না’

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি-পেলে বিতর্কে আগুয়েরো, ‘তখন গোলরক্ষকেরা গ্লাভসও পরতেন না’
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় কে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রায়ই মুখোমুখি দাঁড় করানো হয় লিওনেল মেসি ও পেলের নাম। তবে আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়েরো মনে করেন, দুই যুগের দুই কিংবদন্তিকে তুলনা করা মোটেও সহজ নয়।

সম্প্রতি জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফরম টুইচে ইবাই ইয়ানোসের সঙ্গে আড্ডার সময় মেসি ও পেলেকে নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন আগুয়েরো। সেখানে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, মেসি নাকি পেলে—কে সেরা?

জবাবে আগুয়েরো বলেন, ‘আমি কখনো পেলের খেলা দেখিনি। তিনি অবশ্যই অসাধারণ ছিলেন, কিন্তু আমি তাকে খেলতে দেখিনি।’

এরপরই তিনি যোগ করেন, ‘তখন গোলরক্ষকরা গ্লাভসও পরতেন না।’ 

আগুয়েরোর এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। যদিও তিনি সরাসরি পেলের সমালোচনা করেননি, তবে তার বক্তব্যে ফুটবলের ভিন্ন দুই যুগের বাস্তবতার প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। 

ফুটবল ইতিহাসে পেলের নামের পাশে রয়েছে তিনটি বিশ্বকাপ শিরোপা, যা এখনো অনন্য। অন্যদিকে লিওনেল মেসি ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দেন। গোল, অ্যাসিস্ট, শিরোপা ও ব্যক্তিগত অর্জনের বিচারে দুজনই ফুটবল ইতিহাসের সেরা নামগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বদলি নেমেই পেনাল্টি থেকে গোল মেসির, বড় জয় আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্ক
বদলি নেমেই পেনাল্টি থেকে গোল মেসির, বড় জয় আর্জেন্টিনার

বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে লিওনেল মেসির জাদুতেই দারুণ এক জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। আইসল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ মিশনের আগে আত্মবিশ্বাসী বার্তা দিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার জর্ডান-হেয়ার স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে বেঞ্চে ছিলেন মেসি। প্রথমার্ধে ভ্যালেন্তিন বারকোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ৮ মিনিটে কর্নার থেকে প্রতিপক্ষের ক্লিয়ার করা বল বক্সের বাইরে থেকে হাফ-ভলিতে জালে জড়িয়ে দলকে লিড এনে দেন বারকো।

আরো পড়ুন
মাঠে নেমেই পেনাল্টি আদায় করলেন মেসি

মাঠে নেমেই পেনাল্টি আদায় করলেন মেসি

 

দ্বিতীয়ার্ধে ৭০তম মিনিটে মাঠে নামেন মেসি। আর নামার মাত্র এক মিনিট পরই ম্যাচে নিজের ছাপ রেখে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। প্রথম স্পর্শেই লাউতারো মার্তিনেজকে দারুণ এক থ্রু পাস দেন তিনি। বক্সে ঢোকার পর ফাউলের শিকার হন লাউতারো এবং পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।

স্পটকিক নিতে এসে কোনো ভুল করেননি মেসি। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি মিস করার স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকা।

এরপরও থামেননি মেসি। ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণে রদ্রিগো ডি পলকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। ডি পলের ক্রস থেকে থিয়াগো আলমাদা গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

এই জয়ের মাধ্যমে প্রস্তুতি পর্ব শেষ করল লিওনেল স্কালোনির দল। আগামী ১৭ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।