• ই-পেপার

আবারও রিয়াল মাদ্রিদের সভাপতি পেরেজ

নতুন ভূমিকায় দেখা গেল আর্জেন্টাইন তারকা গোলরক্ষককে

ক্রীড়া ডেস্ক
নতুন ভূমিকায় দেখা গেল আর্জেন্টাইন তারকা গোলরক্ষককে
ছবি : টিওয়াইসি স্পোর্টস

ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর আর কদিন বাকি। এরই মধ্যে সবাই সেরে নিচ্ছে প্রস্তুতি। বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে গতকাল এক প্রীতি ম্যাচে হন্ডুরাসের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা।  

টেক্সাসের কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচটিতে আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে হারাল হন্ডুরাসকে। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি ফিট না হওয়া বেশ কিছু তারকা খেলোয়াড়কে সাইড বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজিয়েছে কোচ লিওনেল স্কালোনি। 

ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রীতি ম্যাচটি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো “দিবু” মার্তিনেজকে একটি নতুন ভূমিকায় দেখা গেছে। মার্তিনেস গ্লাভস জোড়া তুলে রেখে হাতে তুলে নেন একটি পেশাদার ক্যামেরা।

সাইডলাইনে দলের সতীর্থদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার পাশাপাশি তিনি পিচের পাশে থাকা মূলধারার ফুটবল আলোকচিত্রীদের সঙ্গে বসে পড়েন।

 ম্যাচ চলাকালীন তাকে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে সতীর্থদের খেলার ছবি তুলতে দেখা যায়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, ম্যাচ চলাকালে ক্যামেরা হাতে ম্যাচে অংশ নেওয়া খেলোয়াড় ছবি তুলছেন। ক্যামেরা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বিভিন্ন দিকে ধরে মুর্হূতগুলো ক্যামেরা বন্দি করছেন। সময়টা বেশ উপভোগ করছে আর্জেন্টাইন এই বাজপাখি।

উল্লেখ্য, অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে উয়েফা ইউরোপা লিগ ফাইনালে আঙুলের ইনজুরিতে পড়েন। তবে সেই ভাঙা আঙুল নিয়েই পুরো ম্যাচ খেলে দলকে ৩-০ ব্যবধানে চ্যাম্পিয়ন করতে সাহায্য করেছিলেন তিনি।

বর্তমানে তিনি একটি বিশেষ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। হন্ডুরাসের বিপক্ষে টেক্সাসের কাইল ফিল্ডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তার জায়গায় আর্জেন্টিনার গোলপোস্ট সামলান হুয়ান মুসো।

‘বিশ্বকাপ জয়ের শীর্ষ তিন দাবিদারের একটি আর্জেন্টিনা’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘বিশ্বকাপ জয়ের শীর্ষ তিন দাবিদারের একটি আর্জেন্টিনা’

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। আর টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নিজেদের সম্ভাবনা নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী দলের অন্যতম তারকা ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্তিনেজ।

আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকারের বিশ্বাস, বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদারদের মধ্যেই রয়েছে তার দল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যই তাদের এই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি।

এক সাক্ষাৎকারে লাউতারো বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ জয়ের শীর্ষ তিন দাবিদারের একটি। গত কয়েক বছরে আমরা যেভাবে খেলেছি এবং যে সাফল্য অর্জন করেছি, তা আমাদের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’

লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনা গত কয়েক বছরে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের আধিপত্যের প্রমাণ দিয়েছে। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালে ফিনালিসিমা এবং একই বছরে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে দলটি নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

২০২২ বিশ্বকাপে শিরোপা জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা লাউতারো এবারও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবারও ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাটিতে নামছে।

বিশ্বকাপ-বঞ্চিত ইতালির সান্ত্বনার জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ-বঞ্চিত ইতালির সান্ত্বনার জয়

২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারছে না। তবে হতাশার এই সময়েও প্রীতি ম্যাচে জয়ের ধারা ধরে রেখেছে আজ্জুরিরা।

রবিবার গ্রিসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে ইতালি। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন তরুণ ফরোয়ার্ড ফ্রানচেস্কো পিও এস্পোসিতো।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ইতালি। ম্যাচের ১৮তম মিনিটে জেফ একাতরের পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশে দলকে এগিয়ে দেন এস্পোসিতো। পরে আরো কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি তারা।

দ্বিতীয়ার্ধে ইতালি আরো কয়েকবার গোলের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে ৬৮ মিনিটে ম্যাচে নাটকীয়তা যোগ হয়। আন্তর্জাতিক অভিষেকে নামার মাত্র ১৩ মিনিট পর শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন লুকা রেজ্জিয়ানি। ফলে ম্যাচের শেষ অংশে ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় ইতালিকে

গ্রিসের ক্রিস্টোস জাফেইরিসের একটি শট পোস্টে লাগে। শেষ দিকে ভ্যাঞ্জেলিস পাভলিদিসের প্রচেষ্টা রুখে দেন ইতালির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।

এই জয়ের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন কোচ সিলভিও বালদিনির অধীনে টানা দ্বিতীয় জয় পেল ইতালি। বিশ্বকাপ মিস করার হতাশা থাকলেও তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে ইতালিয়ান ফুটবলকে।

বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোল মেসির

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে পেনাল্টিতে সর্বোচ্চ গোল মেসির

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি থেকে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের একজন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন মহাতারকা মূল ম্যাচে (নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট) পেনাল্টি থেকে করেছেন ৪ গোল, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।

এই রেকর্ডে মেসি ছুঁয়েছেন পর্তুগালের ইউসেবিও, নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক, আর্জেন্টিনার গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা এবং ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনকে। বিশ্বকাপের মূল খেলায় পেনাল্টি থেকে চার গোলের বেশি করতে পারেননি কোনো ফুটবলার।

মজার ব্যাপার হলো, মেসির চারটি পেনাল্টি গোলই এসেছে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে। টুর্নামেন্টে তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করেন সৌদি আরব, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে।

তবে বিশ্বকাপে মেসির সব পেনাল্টি প্রচেষ্টা সফল হয়নি। ২০১৮ বিশ্বকাপে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে তার নেওয়া পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক হ্যানেস হালদোরসন। আর ২০২২ বিশ্বকাপে পোল্যান্ডের বিপক্ষে তার স্পটকিক রুখে দেন ভয়চেখ শেজনি।

ফিফার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে মূল ম্যাচে মেসি মোট ছয়টি পেনাল্টি নিয়েছেন। এর মধ্যে চারটিতে গোল করেছেন এবং দুটিতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তার সফলতার হার ৬৬.৭ শতাংশ।

অবশ্য টাইব্রেকারের হিসাব আলাদা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টাইব্রেকারে মেসি আরও তিনটি পেনাল্টি নিয়েছেন এবং তিনটিতেই সফল হয়েছেন। ২০১৪ সালের সেমিফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এবং ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস ও ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে টাইব্রেকারে গোল করেন তিনি।

পেনাল্টি থেকে গোলের এই রেকর্ডের পাশাপাশি সামগ্রিক গোলসংখ্যাতেও বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন মোট ১৩টি গোল। ২০০৬ জার্মানি বিশ্বকাপে একটি, ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপে চারটি, ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে একটি এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাতটি গোল করেন তিনি। শুধু ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেই গোলের দেখা পাননি আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় মেসি বর্তমানে যৌথ চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। শীর্ষে আছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোজা (১৬ গোল)। দ্বিতীয় স্থানে ব্রাজিলের রোনালদো (১৫ গোল) এবং তৃতীয় স্থানে জার্মানির গার্ড মুলার (১৪ গোল)। ১৩ গোল করে যৌথ চতুর্থ স্থানে রয়েছেন ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেন ও আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি।