• ই-পেপার

বর্তমান সরকার ড. ইউনূসকে রাজকীয় খালাস দিচ্ছে : আনিস আলমগীর

গোলাম মাওলা রনি

দুই বছরে আ. লীগের পরিবর্তন এসেছে, নেতাকর্মীরা সক্রিয় হচ্ছেন

অনলাইন ডেস্ক
দুই বছরে আ. লীগের পরিবর্তন এসেছে, নেতাকর্মীরা সক্রিয় হচ্ছেন
গোলাম মাওলা রনি।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত দুই বছরে দলটির রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন হয়েছে বলে জানান সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। তার দাবি, দেশ-বিদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুনভাবে সক্রিয় হচ্ছেন। সারা দেশে মিছিল করছেন তারা।

আজ সোমবার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন গোলাম মাওলা রনি।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মসূচি ও পাল্টা কর্মসূচি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চাপ তৈরি করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে এসব কর্মসূচি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনমনে আলোচনার সৃষ্টি করছে।’

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘গত দুই বছরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে। অনেক নেতাকর্মী দেশের বাইরে গেছেন বা ভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। এখন তারা আবার নতুনভাবে সক্রিয় হচ্ছেন।’

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির প্রধান শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন সময় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এসব গুঞ্জন বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ঘিরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছিল বলে তার পর্যবেক্ষণ।

তিনি মনে করেন, শেখ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আন্তর্জাতিক চাপ বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও নিজ নিজ অবস্থান বজায় রেখেছেন।

এদিকে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি—বিএনপি, জামায়াতসহ অন্য দলগুলো নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করেন গোলাম মাওলা রনি। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সংলাপের প্রয়োজনিয়তার কথা উল্লেখ করেন।

রনি সতর্ক করে বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা অনিশ্চিত। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সংলাপ জরুরি।’

নাদিম মাহমুদের প্রশ্ন

আইন যদি সবার কাছে সমান হয়, তাহলে ইউনূস কেন বাদ পড়বেন?

অনলাইন ডেস্ক
আইন যদি সবার কাছে সমান হয়, তাহলে ইউনূস কেন বাদ পড়বেন?
নাদিম মাহমুদ।

হাম ও উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার আবেদন হলেও তা খারিজ করেছেন আদালত। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে ড. ইউনূস ও তার সহযোগীরা কেন বাদ পড়বেন? এমন প্রশ্ন রাখেন লেখক ও গবেষক নাদিম মাহমুদ।

উদাহরণ হিসেবে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনাসহ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার কথা উল্লেখ করেন।

আজ সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন নাদিম মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার নামে মামলা হয়েছে, আদালত গ্রহণ করেছে। এরশাদের নামে মামলা হয়েছে। শেখ হাসিনার নামে গিনেস বুকে রেকর্ড করার মতো মামলা হয়েছে, তা-ও আদালত গ্রহণ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়ার নামেও অনেকগুলো মামলা ছিল। আদালত শুধু মামলা গ্রহণই করেননি, এসব মামলার তদন্ত হয়েছে, বিচার হয়েছে, শাস্তিও হয়েছে অনেকের। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় দেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ইউনূস ও তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে গিয়ে ফিরে আসছে।’

হাম ও রুবেলার টিকা যথাসময়ে আমদানি না করে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আজ সোমবার আদালতে মামলার আবেদন করেছিলেন সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল। আবেদন-পরবর্তী শুনানি শেষে তা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

এ বিষয়ে নাদিম মাহমুদ লিখেছেন, ‘ছয় শতাধিক শিশু হামে মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ বাবা-মা যদি ওই সরকারের (অন্তর্বর্তী) দায়িত্বাধীন ব্যক্তিদের আদালতের মুখোমুখি করতে চায়, তাহলে সমস্যা কোথায়? খারিজ কেন করতে হবে? আইন যদি সবার কাছে সমান হয়, তাহলে অধ্যাপক ইউনূস ও তার সহযোগীরা কেন বাদ পড়বে?’

তিনি বলেন, শুনলাম আজ একজন সংসদ সদস্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে গিয়েছিলেন, সেটিও খারিজ হয়েছে। তবে আদালতের উচিত ছিল, মামলার মেরিট বিবেচনা করে মামলা গ্রহণ করা। একটি শিশুও যদি আগের সরকারের আহম্মকির জন্য প্রাণ হারায়, সেই বিষয়ে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, অন্তত জাতি জানতে চায় ওই মানুষগুলো ঠিক কী কারণে টিকা কিনতে গড়মসি করেছিল। কেন এই শিশুদের প্রাণ যাবে, তা অব্শ্যই আদালতের মাধ্যমে আসতে হবে।

‘মনে হয় এনবিআর প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছে’

অনলাইন ডেস্ক
‘মনে হয় এনবিআর প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়েছে’
ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারেসুল করিম বলেছেন, আমার মনে হয় এনবিআর প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ভুল বুঝিয়ে যে বড় ট্যাক্স দিলে এটা নতুন চাকরি সৃষ্টি করবে।

আসন্ন বাজেট নিয়ে সম্প্রতি এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

ওয়ারেসুল করিম বলেন, কোনোভাবেই এনবিআর আপনাকে সাত লাখ কোটি টাকা তুলে দিতে পারবে না। তারা পাঁচ লাখও তুলতে পারবে না। তারা যা তুলবে আপনি আরো দুই তিন লাখ টাকা ধার করবেন। আট থেকে সাড়ে আট লাখ কোটি টাকার উপরে আপনার বাজেটের প্রয়োজন নেই। 

তিনি বলেন, এভারকেয়ার, কন্টিনেন্টাল (সাবেক ইউনাইটেড), মেডিনোভা ও পপুলার হাসপাতালের বছরের রেভিনিউ এনবিআরও জানে না। ওরা একটা পরিমাণ টাকা চার্জ করে বাকিটা তারা নিজেরা পকেটে নিয়ে যায়। 

তিনি আরো বলেন, প্রতিবছর ২৩ লাখ শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা চাকরি আসে। এই ২৩ লাখ চাকরি নেই। আমাদের সামনে বিসিএসের ৩-৪ হাজার এবং ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং অফিসার ভালো ভালো ব্যাংকগুলোতে খুব বেশি হলে ৩০-৪০-৮০ জন নেন। তাহলে এই যে ২৩ লাখ তরুণ-তরুণীর জন্য আমরা একটা থিম লেস কান্ট্রি ফিউচার সোসাইটি আমরা রেখে যাচ্ছি। 

আ. লীগের ফিরে আসার আতঙ্কে অনেকের হাত-পা কাঁপছে : রনি

অনলাইন ডেস্ক
আ. লীগের ফিরে আসার আতঙ্কে অনেকের হাত-পা কাঁপছে : রনি
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, শেখ হাসিনা যে ভাবসাব দেখাচ্ছেন, যে প্রটোকল দেখাচ্ছেন এবং তাকে কেন্দ্র করে দেশ ও দেশের বাইরে এবং আন্তর্জাতিক মিডিয়া যা কিছু করছে, ফলে আমরা দেশে বসে কোনো অবস্থাতেই শেখ হাসিনার এ মুভমেন্টকে বাদ দিতে পারছি না। যত কথাই বলি না কেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের আতঙ্ক আমাদেরকে তাড়া করছে। যতই প্রবোধ দেওয়ার চেষ্টা করি না কেন, আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে আমাদের অনেকের ‘ফিরে আসা আতঙ্কে’ হাত-পা কাঁপছে, এটি বাস্তবতা।

রবিবার (৭ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম মাওলা রনি বলেন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগ কিন্তু বন্ধ নেই। আগস্ট মাসের ৫ তারিখ বোধহয় তারা মুখ বন্ধ রেখেছিল বা ৬ তারিখে বন্ধ রেখেছিল। ৭-৮ তারিখ থেকে তাদের দ্ধিধা আসছে। যে যার মতো করে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্যবহার করে তারা বলে যাচ্ছে এবং একের পর এক তারা কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে—কমিটি গঠন, ঝটিকা মিছিল, অফিস চালু করা, পালিয়ে যাওয়া, ভোট দেওয়া, জামায়াতকে সাপোর্ট করা, বিএনপিকে সাপোর্ট করা, জামায়াত-বিএনপির মধ্যে গন্ডগোল লাগিয়ে দেওয়া, রাজনীতিতে চাণক্য নীতি যা কিছু আছে, সবকিছু একটার পর একটা আওয়ামী লীগ করে যাচ্ছে, দেশের ভেতরে থেকে, দেশের বাইরে থেকে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত লোক বাংলাদেশের মধ্যে পালিয়ে আছেন, বাস্তুচ্যুত হয়ে আছেন আর বিরাট অংশ যারা এই পরিবেশ পরিস্থিতিতে ট্রেড অ্যান্ড কমার্স বলতে গেলে এখনো ৬০% আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ন্ত্রণ করছে। কন্ট্রাক্টরি, সরকারি কাজকর্ম সবই তাদের লাইসেন্সে হচ্ছে। তারা বিএনপির লোককে পার্টনার নিয়ে, বিএনপির লোককে ঘুষ দিচ্ছে, বিএনপির লোকের চাঁদাবাজির যে চাহিদা সেটা পূর্ণ করছে, কিন্তু মূল চাবিকাঠি আওয়ামী লীগের লোকজনের হাতে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের ফুড সিকিউরিটি আওয়ামী লীগের লোকজনের হাতে, আমদানি বাণিজ্য তাদের হাতে, রপ্তানি বাণিজ্য তাদের হাতে, আমলাতন্ত্র তাদের হাতে, যে যা-ই বলুক না কেন। উপরে শুধু প্রধান পোস্টগুলো সিআইডির প্রধান, ডিবির প্রধান, এসবির প্রধান, আইজি- বিএনপি স্যাটিসফায়েড। কিন্তু পুরো চেনটা এমনভাবে তৈরি করা আছে, এই চেনটি যদি ভাঙতে যান পুরো কলাপস করবে সিস্টেমটি।