• ই-পেপার

রেকর্ড ভাঙার ‘বুলডোজার’ বৈভবের অপেক্ষায় ক্রিকেটবিশ্ব

বাংলাদেশে মার্শ-হেডদের না আসা কিভাবে দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশে মার্শ-হেডদের না আসা কিভাবে দেখছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক
ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্ব দেবেন ইংলিস। ছবি : ক্রিকইনফো

সর্বশেষ ২০২১ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। পূর্ণ শক্তির দল না আসার ফলটা হাতে নাতে পেয়েছিল তারা। বাংলাদেশের কাছে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল অজিরা।

৫ বছর পর দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে আসা অজিদের দল এবারও অনেকটা খর্বশক্তির। কেননা আগামীকাল ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে পাচ্ছে না মিচেল মার্শ ও ট্রাভিস হেডকে। সঙ্গে দলের মূল তিন পেসার প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্ক-জশ হ্যাজলউডও নেই। শেষ মুহূর্তে দুই অভিজ্ঞ ছিটকে যাওয়ায় দলের জন্য বড় ধাক্কার বলে মনে করছেন অধিনায়ক জশ ইংলিস। 

মিরপুরে প্রথম ওয়ানডের ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ইংলিস বলেছেন, ‘যেকোনো সময় মিচেল মার্শ-ট্রাভিস হেডকে না পাওয়া আপনি মিস করবেনই। তারা দুজনই অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে তারা দলে নেই। ঠিক পাকিস্তান সিরিজের মতই হচ্ছে। তবে আমার মতে, এই কন্ডিশনে অভিজ্ঞতা নেওয়া দরকার আমাদের তরুণ ক্রিকেটার। সামনের বিশ্বকাপে কাজে দিবে। তাই সেই অনুযায়ী কম্বিনেশন সাজিয়ে বিভিন্ন ক্রিকেটারদের বাজিয়ে দেখারও দরকার আছে।’

তারকা পেসারদের না পেলেও যারা আছেন তাদের ওপর বিশ্বাস রাখছেন ইংলিস। উইকেটরক্ষক ব্যাটার বলেছেন, ‘অবশ্যই আমাদের দলে বড় অনেক নাম নেই। তবে যারা আছে তারাও অনেক দিন ধরে খেলছে। নাথান এলিস অনেক দিন ধরে ভালো করছে, বেন ডরশুইসও তাই। তাদের এই পর্যায়ের ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা আছে। নাথান আমাদের স্কোয়াডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে খুবই স্কিলফুল এবং ম্যাচের যেকোনো সময় বল করতে পারে। এই সিরিজে কী করতে পারে তা দেখতেই আমি মুখিয়ে আছি।’

জাকেরের সেঞ্চুরি ও রাতুলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইমার্জিং দলের বড় জয়

আতিক রহমান, বগুড়া
জাকেরের সেঞ্চুরি ও রাতুলের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ইমার্জিং দলের বড় জয়
বাংলাদেশ ইমার্জিং দল ও জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের ম্যাচের একটি মুহূর্ত। আজ বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে। ছবি: কালে কণ্ঠ

৩৬৫ রানের আকাশ সমান টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা দারুণ করেছিল জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল। ওপেনার ইনোসেন্ট কায়া এবং ম্যাথু ক্যাম্পবেল ৯.৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে ৬০ রান তুলে শক্ত প্রতিরোধের আভাস দিয়েছিলেন। 

কিন্তু এরপর ইনোসেন্ট কায়া ব্যক্তিগত ২৬ রানে আলিস আল ইসলামের বলে এলবিডব্লু হলে ছন্দপতন ঘটে। এরপর ৫৬ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারালে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সফরকারীরা। 

পরে ওয়েসলি মাধেভেরে সেঞ্চুরি করলেও তা জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের কোনো কাজে আসেনি। ৮৫ রানের দাপুটে জয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। 

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে জাকির হোসেনের সেঞ্চুরিতে ৩৬৪ রান করে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন ইফতেখার।

ইনিংসের শেষ দিকে সামিউন বশির রাতুলের ক্যামিওতে (১৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রান) জিম্বাবুয়েকে বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় বাংলাদেশ। 

জবাবে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায়। রাতুল ও বর্ষণ ৩টি করে উইকেট নেন। 

বিসিবি দর্শকদের জন্য বিনা টিকিটে খেলা দেখার সুযোগ করে দিলেও আজ শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি ছিল খুব কম। শামিয়ানায় ঢাকা একটি গ্যালারি দর্শকে ভরা থাকলেও গোটা স্টেডিয়াম ছিল প্রায় ফাঁকা।  

আগামী বুধবার (১০ জুন) বগুড়াতেই হবে দ্বিতীয় ওয়ানডে।

মেসি ম্যানিয়া, সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি ম্যানিয়া, সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড গড়েছে কাইল ফিল্ড স্টেডিয়াম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের কলেজ স্টেশনের বিখ্যাত কাইল ফিল্ড স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ম্যাচে ৯১ হাজার ১০২ জন দর্শকের উপস্থিতি ছিল। গেল শুক্রবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে  ‘টুয়েলভথ ম্যানে’র হোম গ্রাউন্ড এক নতুন রূপ ধারণ করে। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ‘রোড টু ২৬’ প্রদর্শনীর অংশ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা হন্ডুরাসের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলে। 

বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে, স্টেডিয়ামটির ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করে। যা টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে যেকোনো ফুটবল (সকার) ম্যাচের সর্বোচ্চ দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড এটি।

টেক্সাসের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা বিশ্ব তারকাদের খেলা দেখতে সমবেত হয়েছিলেন। ফুটবল ও সকারের মধ্যকার মেলবন্ধনটি পুরোপুরিভাবে ফুটে উঠেছিল যখন সুপার বোল চ্যাম্পিয়ন ভন মিলার আনুষ্ঠানিক টসটি সম্পন্ন করেন।

অনেক ভক্তের কাছে ম্যাচটি ছিল ঘরের কাছে বিশ্বমানের ফুটবল দেখার এক বিরল সুযোগ। এ সময় নাভাসোটার বাসিন্দা মিগুয়েল নুনেজ বলেছেন, টেক্সাসে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়াটা স্থানীয় এবং তরুণ ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য বেশ উত্তেজনা তৈরি করে।

আর্জেন্টিনায় বেড়ে ওঠা ডালাসের বাসিন্দা জুলিয়েটা দেশাইস বলেছেন, টেক্সাসে নিজের মাতৃভূমিকে সমর্থন করার সুযোগটি ছিল অবিস্মরণীয়। ম্যাচের পরবর্তী টেক্সাস সকার দল এএন্ডএমের কোয়ার্টারব্যাক তারকা মার্সেল রিড এবং লিওনেল মেসির সাক্ষাৎও হয়েছিল। যেখানে রিড আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে একটি ১০ নম্বর অ্যাগিস জার্সি উপহার দেন।

এর আগে ২০২৪ সালে মেক্সিকো বনাম ব্রাজিলের ম্যাচে ৮৫,০০০ দর্শকের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায় এই ম্যাচে।

‘এবারও মেসির হাতেই বিশ্বকাপ’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘এবারও মেসির হাতেই বিশ্বকাপ’
আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড সার্জিও আগুয়েরোর ঘাড়ে ট্রফি হাতে মেসি। ছবি : এক্স থেকে

‘অমরত্বের প্রত্যাশা নেই, নেই কোনো দাবিদাওয়া, এই নশ্বর জীবনের মানে শুধু তোমাকেই চাওয়া’—কাতার বিশ্বকাপের আগে জনপ্রিয় শিল্পী কবির সুমনের এই গানের মতোই ছিল লিওনেল মেসির চাওয়া। ব্যক্তিগত সব কিছু জিতলেও বিশ্বকাপের ছোঁয়া তখন ছিল অধরা। অবশেষে ২০২২ বিশ্বকাপে সেই স্বাদ পেলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।

মেসির এই স্বাদকে অমরত্বের সঙ্গে তুলনা করেছেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার পিটার ডুরি। ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার তৃতীয় বিশ্বকাপ নিশ্চিত হতেই তার কণ্ঠে শোনা যায়, ‘শেষ চূড়া জিতে অমরত্বের স্বাদ পেয়েছে মেসি।’

এক জীবনে তাই আর কোনো কিছু পাওয়ার বাকি নেই মেসির। তাহলে ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে আজন্ম স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পরও কেন থামলেন না মেসি? ৪ বছর পর কেন-ই-বা নামছেন আরেকটি বিশ্বকাপে। সব কিছুর উত্তর যেন ‘ক্ষুধা’ শব্দটিতে। ‘হে মহাজীবন’ কবিতায় কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তো বলেই গেছেন ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’।

 

আরাধ্য ট্রফি জয়ের পরও তাই মেসির ‘ক্ষুধা’ এখনো শেষ হয়নি। ক্ষুধা শেষ হলে সাবেক সতীর্থ আনহেল দি মারিয়ার সঙ্গেই নিজের বুটজোড়া তুলে রাখতেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষটা তাই রাঙানোর অপেক্ষায় আছেন ৮ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। ‘শেষ রাতে ওস্তাদের মাইর’ দেখানোর প্রতীক্ষা যারে বলে। ৩৮ বছর বয়সী শিষ্য তা দেখাতে পারবেন এমন বিশ্বাস আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ পাবলো আইমারেরও। মেসির শৈশবের আইডল বলেছেন, ‘সর্বশেষ মেসিই সেরা মেসি।’

বয়স হওয়ার কারণে বনের রাজা খ্যাত সিংহ যেমন করেন, ঠিক তেমনি কৌশলে পরিবর্তন এনেছেন মেসিও। মাঠে কম দৌড়ে খেলা নিয়ন্ত্রণে মনোযোগী এখন তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গেল কয়েক বছর ধরে সেই কাজটা করে আসছেন তিনি। মাঠের পজিশনেও কিছুটা পরিবর্তন এনেছেন। এখন মাঝমাঠ নয়, একটু উপরেই খেলেন তিনি। যেন জমানো শক্তিতে ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারতে’ পারেন ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক।

বিশ্বকাপের জন্যই নিজেকে প্রস্তুত করেছেন মেসি, এমনটা তার মুখে শোনা না গেলেও সেটা নিশ্চিত করেছেন রদ্রিগো দি পল। দল ঘোষণার আগে তার জাতীয় ও ক্লাব সতীর্থ মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছি। গত দুই-তিন মাস ধরে ক্লাবের অনুশীলনের পাশাপাশি আমরা প্রতিদিন আলাদা অনুশীলন করছি। সেরা ফিটনেসের জন্যই লিও এবং আমি সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিচ্ছি। বিশ্বকাপের ভাবনা ছাড়া কি আর থাকা যায়।’

বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়ায় এখন মানসিকভাবে চাপহীন এবং নির্ভার মেসি। সঙ্গে তার ওপর থেকে অনেকটাই নির্ভরতা কমিয়ে দিয়েছেন কোচ লিওনেল স্কালোনিও। কাতার বিশ্বকাপে খেলা তার অন্য শিষ্যরা এখন তরুণ থেকে অভিজ্ঞ হয়েছে। শুধু অভিজ্ঞই নন, ইউরোপীয় ফুটবল মাতাচ্ছেনও তারা। অভিজ্ঞতার প্রমাণ বাছাই পর্ব ও প্রীতি ম্যাচে দিয়েছেন তারা। কনমেবলের বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ৩৮ পয়েন্ট এনে দিয়ে। বড় উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে, সর্বশেষ কোপা আমেরিকার ফাইনালে অর্ধেকের মতো সময় মেসিকে ছাড়াই খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা ১৬ জন এবারও স্কোয়াডে আছেন। গতবারের বিশ্বকাপ খেলা খেলোয়াড়দের ধরে রাখার দিক থেকে সর্বোচ্চ। নিজেদের বোঝাপড়াটা তাই আরও পাকাপোক্তই হয়েছে।

 

মেসিদের বিশ্বকাপ ধরে রাখতে সহায়তা করবে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের পারফরম্যান্স। সর্বশেষ কোপা আমেরিকায় আলবিসেলেস্তরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশেই। দলের বড় সুপারস্টার মেসি তো গত ৩ বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রে খেলছেন। গত বছর ইন্টার মায়ামিতে নিয়ে এসেছেন দি পলকেও। তাতে কিছুটা বলা যায় ‘ঘরের মাঠেই’ খেলবেন মেসি-দি পলরা।

ক্ষুধা কিভাবে নিবারণ করতে হয় তা ভালো জানেন মেসি। তা না হলে ফুটবলের অধিকাংশ রেকর্ডে তার নাম থাকার কথা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকো বিশ্বকাপে তালিকাটা আরও দীর্ঘ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে বিশ্বের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়বেন তিনি। ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৬ ম্যাচ খেলা মেসি এবারের বিশ্বকাপে গোলের রেকর্ডটাও নিজের করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। ৪ গোল করতে পারলেই জার্মানির সাবেক ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড নিজের করে নেবেন মেসি।

বিশ্বকাপ জিততে পারলে আর্জেন্টিনার সঙ্গে নিজেও রেকর্ডের ছোট্ট তালিকায় জায়গা পাবেন মেসি। এখন পর্যন্ত টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড আছে শুধু ইতালি ও ব্রাজিলের। ইতালির ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালের বিপরীতে ব্রাজিল জিতেছে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে। আর মেসি জায়গা পাবেন টানা দুই বিশ্বকাপ জেতা খেলোয়াড়দের তালিকায়। এখন পর্যন্ত ব্রাজিল-ইতালি মিলিয়ে ১৮ জন জিতেছেন। এর মধ্যে ‘কালা মানিক’ পেলেও টানা দুইবারের সঙ্গে বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে সর্বোচ্চ ৩ বার বিশ্বকাপ জিতেছেন। 

কীর্তি গড়ার নজির তাই মেসির সামনে আছেই। আরও কিছু নজির তাকে বিশ্বকাপ জয়ের অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। তার সঙ্গে বার্সেলোনায় জুটি বেঁধে কখনোই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে না পারা উসমান দেম্বেলে পিএসজির হয়ে টানা দুইবার ট্রফি জিতেছেন। অথচ, মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি জেতার জন্যই চাঁদের হাট বসিয়েছিল ফ্রান্সের ক্লাবটি। সেই চাঁদের হাটে ছিলেন ‘দ্বিতীয় ঘর’ বার্সা ছেড়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে-নেইমারের সঙ্গে জুটি বাঁধা মেসি। ক্লাব ইতিহাসের ৫৫ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালে প্রথমবার জিতেছিল পিএসজি। এ বছর আর্সেনালকে হারিয়ে দ্বিতীয়টি জিতেছে তারা।

 

সময়ের হিসেবে আর্জেন্টিনার তৃতীয় শিরোপাও অনেকটা একইভাবে আসে। সর্বশেষ শিরোপা জিততে ৩৬ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে তাদের। এ তো গেল ফুটবলের, চলুন ক্রিকেটের গল্পটাও মিলাই। মেসি যেমন ফুটবলের ‘গোট’ ঠিক তেমনি ক্রিকেটে বিরাট কোহলি। দেশের হয়ে সবকিছু জিতলেও আইপিএলের ট্রফিটায় চুমু এঁকে দেওয়া হচ্ছিল না কোহলির। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে সেই অপেক্ষা ফুরালেন ভারতীয় কিংবদন্তি। ২০২৫ আইপিএলে রয়্যাল চালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে শুধু প্রথমটাই জিতেননি, এ বছর ট্রফিটা ধরে রেখেছে তার দল। 

দেম্বেলে-কোহলির পর তাই পালাটা এবার মেসির। সঙ্গে পিএসজি-বেঙ্গালুরুর মতো লক্ষ্য থাকছে আর্জেন্টিনারও! আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিও, ‘আমরা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন, ধরে রাখার সুযোগ পাওয়াটা তাই দারুণ এক ব্যাপার। জাতীয় দলের হয়ে খেলা সবসময় স্বপ্নের, বিশেষ করে অফিসিয়াল টুর্নামেন্টগুলোতে। আশা করি, ঈশ্বর আমাকে আরও একবার এমনটা করার সুযোগ দেবেন।’

মেসি বিশ্বকাপ জিতবেন মনে করেন পাবলো জাবালেতাও। আর্জেন্টিনার সাবেক ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘আমাদের মেসির খেলা উপভোগ করা উচিত। কারণ এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। আশা করি, ম্যাচ এবং বিশ্বকাপ জয়ের জাদুকরী মুহূর্ত তার মধ্যে এখনও বাকি আছে।’

অনেক অসম্ভবকে যেহেতু সম্ভব করেছেন মেসি, এবারও পারবেন এমন বিশ্বাস তার ভক্ত-সমর্থকদের! আর কথায় আছে বিশ্বাসে মেলায় বস্তু।