রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার চেষ্টা যারা করবেন, তাদের সকলেরই কপাল পুড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেন, ‘যারা রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার চেষ্টা করবেন, তারা দলের ভেতরে মার খাবেন, দলের বাইরেও মার খাবেন। যারা নিয়োগ দিয়েছে তাদের হাতেও মার খাবেন, পাবলিকের হাতেও মার খাবেন।’
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে ‘তিনতন্ত্র’ নামের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘পরিশুদ্ধ রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ আসলে হয় না। গৃহপালিত কখনো বিরোধী দল হয় না। বৃহৎ শক্তির সঙ্গে ছোট শক্তি যেভাবে আপনি যুক্ত করেন না কেন, মুহূর্তের মধ্যে সেটা শেষ হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে এভাবে যারা তাঁবেদারি করার চেষ্টা করেছে, জাতীয় পার্টি, হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন, মইন উদ্দীন খান বাদল- এ সমস্ত বড় বড় নেতার দল, রাজনীতি, ব্যক্তিত্ব সব শেষ হয়ে গেছে। সেই তুলনায় বর্তমান সরকারের সঙ্গে যারা তেলবাজি করছেন, যারা সরকারের পার্ট হয়েছেন, বর্তমান সরকারের সঙ্গে যারা দালালি করছেন, তারা কিছুই না। মাছিও না মশাও না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেদেরকে যত কথাই বলুক না কেন- সেটা রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ হোক, সেটা ডিজিএফআইয়ের কথা হোক, এনএসআইয়ের কথা হোক, ভারতের রয়ের দালালিতে হোক, রয়ের প্রলোভনে হোক, তারেক রহমান সাহেবের দয়ায় হোক, কোনোভাবে নিজেদেরকে রিফাইনড পরিচয় দিয়ে তারা যদি ক্ষমতায় আসতে চায়, কারো কাছে দস্তখত দিয়ে যদি ক্ষমতায় ফিরতে চায়, কারো কাছে শৃঙ্খলিত হয়ে যদি ক্ষমতায় ফিরতে চায়, রাজনীতিতে ফিরতে চায়- এটা হবে না। এটা বরং আরো শেষ হয়ে যাবে।’
গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘যখন কোনো কিছু রিফাইন্ড করেন, তখন আর সেটার অরিজিনালিটি থাকে না। আপনি ধরেন পানি- পানিকে আপনি যখন ডিস্টিল ওয়াটার করেন, সেটাকে আর মিনারেল ওয়াটার বলে না, সেটা ডিস্টিল ওয়াটার হয়ে যায়। ডিস্টিল ওয়াটার খাওয়া যায় না। প্রত্যেকটা রিফাইন্ড জিনিস এরকম- এগুলোর মধ্যে যে প্রাকৃতিক ইনগ্রেডিয়েন্টস থাকে, সেই ইনগ্রেডিয়েন্টস থাকে না। প্রাকৃতিক যে বৈশিষ্ট্য, সেটা থাকে না। সেদিক থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কতগুলো প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সেটা যদি না থাকে আওয়ামী লীগের আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।’