• ই-পেপার

সকালে খেলে ভালো, রাতে কেন নয় কার্বোহাইড্রেট?

বিশ্ব রক্তদান দিবস : ১৪ই জুন

ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ
বিশ্ব রক্তদান দিবস : ১৪ই জুন
সংগৃহীত ছবি

মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রক্ত। রক্তশূন্যতা বা এনিমিয়া দেখা দিলে শরীর অকেজো ও দুর্বল হয়ে পড়ে। রক্তের বিকল্প শুধু রক্তই। অতি প্রয়োজনীয় এই জিনিসটি কলকারখানায় তৈরি হয় না। মানুষের রক্তের প্রয়োজনে মানুষকেই রক্ত দিতে হয়। এক ব্যাগ রক্ত মৃত্যু পথযাত্রীর জীবন বাঁচাতে পারে।

সারা বিশ্বে প্রতিবছর গড়ে ১০৮  কোটি ব্যাগ রক্ত সংগৃহীত হয়। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ স্বেচ্ছা রক্তদাতা আর ৫৯ শতাংশ আত্মীয় ও বন্ধুবান্ধব রক্তদাতা। বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশে শতভাগ স্বেচ্ছা রক্তদানের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। উন্নত বিশ্বে স্বেচ্ছা রক্তদানের হার প্রতি ১ হাজারে ৪০ আর উন্নয়নশীল বিশ্বে ৪ জনেরও কম। বাংলাদেশে  বছরে ৫ থেকে ৭ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়, যার মাত্র ৩১ ভাগ পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতার মাধ্যমে। বাকি রক্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে পেশাদার রক্তদাতা এবং আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

হাত, পা অথবা চোখ ছাড়া বেঁচে থাকা সম্ভব হলেও, রক্ত ছাড়া বাঁচার কথা কল্পনাও করা যায় না। মানবদেহে রক্ত তাই অপরিহার্য। দেহের কোষে কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি উপাদান পৌঁছে দেওয়া, কার্বন ডাইঅক্সাইড ও অন্যান্য বর্জ্য ফিরিয়ে আনা, হরমোন, লবণ ও ভিটামিন পরিবহন, রোগপ্রতিরোধ, দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুতেই রক্তের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাই কারো দেহে রক্তের অভাব ঘটলে তা প্রতিস্থাপন করার প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে অন্যের রক্ত শিরার মাধ্যমে রোগীর দেহে প্রবেশ করানো তথা রক্ত পরিসঞ্চালন হয়ে ওঠে অন্যতম উপায়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে আজ পর্যন্ত রক্তের কোনো বিকল্প আবিষ্কার হয়নি। রক্তের অভাবে যখন কোনো মানুষ মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন অন্য একজন মানুষের দান করা রক্তই তার জীবন বাঁচাতে পারে। তাই এর চেয়ে মহৎ কাজ আর কি হতে পারে? অগণিত মুমূর্ষু রোগীকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করে যারা জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেন তাদের  মূল্যায়ন, স্বীকৃতি ও উদ্বুদ্ধকরণের জন্য বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য জনগণকে রক্তদানে ও  নিরাপদ রক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করা, স্বেচ্ছায় রক্তদানে সচেতন করা এবং নতুন রক্তদাতা তৈরি করা। এ দিবস পালনের আরও উদ্দেশ্য দেশের জনগণকে প্রাণঘাতী রক্তবাহিত রোগ এইডস, হেপাটাইটিস-বি ও সি সহ অন্যান্য রোগ থেকে নিরাপদ থাকার জন্য স্বেচ্ছা রক্তদান ও রক্তের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা। প্রতিবছরই এই দিবসের একটি প্রতিপাদ্য থাকে, এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানবতার এক ফোঁটা রক্ত দিন, জীবন বাঁচান।’

রক্তদান দিবসের ইতিহাস : রক্তের বিভিন্ন গ্রুপের আবিষ্কারক ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের জনক অস্ট্রিয়ান বংশোদ্ভূত নোবেল বিজয়ী জীববিজ্ঞানী ও চিকিৎসক কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ডাক্তার হয়েও চিকিৎসাসেবার পথে না গিয়ে গবেষণার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি লক্ষ্য করেন বিভিন্ন রোগবালাই ও দুর্ঘটনার ফলে রক্তের ঘাটতি অহরহই লেগে থাকত। জটিল প্রক্রিয়া শেষে রক্ত দেওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগী মারা যেত। চিকিৎসকরা কোনোভাবেই কূলকিনারা করতে পারছিলেন না। কোনো রোগীকে যে কারো রক্ত দেওয়া যায় না, এ চিন্তাধারা থেকে তিনি ১৯০০ সালে বিভিন্ন টাইপের ব্লাড গ্রুপ আবিষ্কার করেন। তার এই আবিষ্কার উন্মোচন করে দিয়েছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক বিশাল অধ্যায়। ১৯৩০ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন এই বিজ্ঞানী। ১৯৪৬ সালের ২৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন মহান এই বিজ্ঞানী গবেষক।

জন্মদিনে তাকে স্মরণ ও শ্রদ্ধা জানাতে ১৪ জুন উদযাপন করা হয় ‘বিশ্ব রক্তদান দিবস’। স্বেচ্ছায় এবং বিনামূল্যে রক্তদান করে যারা লাখ লাখ লোকের প্রাণ বাঁচাতে সহায়তা করছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই দিবসটি পালিত হয়। 

১৯৯৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস পালন এবং ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’ এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গে প্রথম পালিত হয় আন্তর্জাতিক রক্তদান দিবস। ২০০৫ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়।

যে কারণে রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন : রক্ত পরিসঞ্চালনের মাধ্যমে প্রয়োজনভেদে রোগীর শরীরে সম্পূর্ণ রক্ত বা রক্তের কোনো উপাদান যেমন লোহিত কণিকা, অণুচক্রিকা বা রক্তরস দেওয়া হয়।

(১) যে কোনো কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে সাধারণত সম্পূর্ণ রক্ত দেওয়া হয়— যেমন দুর্ঘটনা, রক্তবমি, পায়খানার সঙ্গে রক্তপাত, প্রস্রাবকালীন রক্তক্ষরণ ইত্যাদি।

(২) জটিল বা বড় ধরনের অপারেশনে সম্পূর্ণ রক্তের প্রয়োজন হয়।

(৩) বিভিন্ন রকমের অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতায় সাধারণত লোহিত কণিকা দেওয়া হয়। যেমন থ্যালাসেমিয়াসহ অন্যান্য হিমোলাইটিক অ্যানিমিয়া, আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা  ইত্যাদি। অবশ্য খরচের কথা বিবেচনা করে এসব রোগীকেও সম্পূর্ণ রক্ত দেওয়া হয়।

(৪) হেমোরেজিক ডেঙ্গুজ্বরে অণুচক্রিকা দেওয়া হয়।

(৫) রক্তরস দেওয়া হয় হিমোফিলিয়া ও অন্যান্য কোয়াগুলেশন ডিজঅর্ডারে এবং আগুনে পোড়া রোগীকে।

রক্ত পরিসঞ্চালনে কী জটিলতা হয় : জীবন রক্ষার অন্যতম উপায় এই রক্ত পরিসঞ্চালন আবার কখনো কখনো তৈরি করতে পারে জটিলতা।
(১) রক্তবাহিত রোগের সংক্রমণ একটি প্রধান সমস্যা। হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী জীবাণু সহজেই রক্তের মাধ্যমে রক্তগ্রহীতার দেহে প্রবেশ করতে পারে। এ পরিস্থিতির মূল কারণ রক্ত পরিসঞ্চালনের আগে রক্তটি জীবাণুমুক্ত কিনা তা যথাযথভাবে পরীক্ষা না করা। অনুমোদনবিহীন ব্লাডব্যাংক গুলোতেই এসব রক্ত বিক্রি করা হয়। আর তা আসে মূলত নেশা আসক্ত পেশাদার রক্তদানকারীদের থেকে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ রক্ত বা ভেজাল রক্তও এসব ব্লাডব্যাংক থেকেই আসে।

(২) ভুলক্রমে এক গ্রুপের রক্ত অন্য গ্রুপের রোগীকে দিলে রক্ত হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। এ ধরনের ঘটনা কম হলেও একেবারেই হয় না তা নয়। এসব ক্ষেত্রে রক্ত সংগ্রহকারী ও পরীক্ষাকারী ব্লাডব্যাংক, চিকিৎসক অথবা নার্স যে কারো ভুল বা অসতর্কতাই দায়ী। রোগী সাধারণত বুকে, পিঠে ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের অভিযোগ করেন। চিকিৎসক দ্রুত ব্যবস্থা নিলে পরবর্তী জটিলতা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়।

(৩) এ ছাড়া যে কোনো পরিসঞ্চালনেই কাঁপুনি ও জ্বর আসা এবং অ্যালার্জি জাতীয় ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে।

(৪) যাদের কিছুদিন পরপর রক্ত নিতে হয় তাদের দেহে লৌহের আধিক্যসহ অন্যান্য সমস্যা হতে পারে।

(৫) অনেক সময় অধিক রক্ত দ্রুত প্রবেশ করলে বৃদ্ধ অথবা হৃদরোগীর হার্ট ফেইলিউর জাতীয় সমস্যা হতে পারে।
রোগী বা তার আত্মীয়স্বজন সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েন রক্ত পরিসঞ্চালনের আগেই যখন রক্ত খুঁজতে থাকেন। পাড়ায় পাড়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ ব্লাডব্যাংক গড়ে উঠলেও নিরাপদ রক্ত এখনো দুর্লভ। বিশেষ করে জরুরি মুহূর্তে রক্ত প্রয়োজন হলে তা হয়ে ওঠে সোনার হরিণ। এ ছাড়া যাদের ঘন ঘন রক্ত নিতে হয় তাদের বেশির ভাগ সময় যায় রক্তের খোঁজে। দুর্লভ গ্রুপের রক্ত হলে তো কথাই নেই। রক্ত যে কারোরই যে কোনো সময় প্রয়োজন হতে পারে, এ কথা মনে রেখে আমরা যদি এখনই প্রস্তুতি নিয়ে রাখি তবে রক্ত পরিসঞ্চালনের সমস্যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

আমাদের যেসব উদ্যোগ নিতে হবে :
(১) নিজের ও আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা।

(২) নিকটস্থ ব্লাডব্যাংকের ঠিকানা ও ফোন নম্বর জেনে রাখা।

(৩) শুধু নিবন্ধনকৃত ব্লাডব্যাংকে রক্তদান ও গ্রহণ করা।

(৪) পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না কেনা।

(৫) নিজে নিয়মিত রক্ত দান করা ও সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।

(৬) রক্তবাহিত রোগে সংক্রমিত হলে রক্ত দান না করা।

রক্ত নেওয়ার আগে সতর্কতা :
(১) রক্ত নেওয়ার আগে প্রয়োজন রক্তের গ্রুপ এবং ক্রস ম্যাচিং ঠিক আছে কিনা দেখে নেওয়া।

(২) অপরিচিত পেশাদার রক্তদাতার রক্ত না নেওয়া। পেশাদার রক্তদাতারা অনেকেই মাদকাসক্ত, দেহে বহন করে হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী ও সংক্রামক ব্যাধির জীবাণু।

(৩) সবচেয়ে ভালো আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব বা পরিচিত সুস্থসবল লোকের রক্ত নেওয়া।

(৪) স্ক্রিনিং টেস্টের মাধ্যমে রক্তদাতার হেপাটাইটিস বি, সি, এইডসসহ ইত্যাদি পরীক্ষা করতে হবে।
মনে রাখা প্রয়োজন, রক্তের অভাব ও অনিরাপদ রক্ত দুটোই জীবনের জন্য সমান হুমকি। তাই রক্তের বিকল্প শুধু রক্ত নয়, বরং ‘নিরাপদ রক্ত’। জেনে রাখুন যে কোনো সুস্থ সাবালক ব্যক্তি রক্ত দান করতে পারেন।

ভোগে নয়, ত্যাগেই প্রকৃত সুখ। আমাদের ভালো কাজ, ভালো চিন্তা, মহৎ উদ্যোগ মানবজাতির কল্যাণ বয়ে আনতে পারে। এরূপ একটি কল্যাণকর কাজ হলো ‘রক্তদান।’ স্বেচ্ছায় রক্তদানে অন্য মানুষের মূল্যবান প্রাণ রক্ষা পায়, নিজের জীবনও ঝুঁকিমুক্ত থাকে।


 

৮৯ দিনে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬৪৩ জনের

নিশ্চিত হামে ৯২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
৮৯ দিনে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ৬৪৩ জনের
হামে আক্রান্ত এক শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ফাইল ছবি/কালের কণ্ঠ

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬৪৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে সন্দেহজনক হামে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৫১ জনের। নিশ্চিত হামে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৯২ জন।

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এক হাজার ২৭ জন। অন্যদিকে গত এক দিনে হাম আক্রান্ত রোগী ১২৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৬ জনে। মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৮৫ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ৯৩৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৬৫ হাজার ২৭৫ জন।

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা) দেশে আরো একজন শিশু মারা গেছে। এ সময়ে সারা দেশে আরো ১ হাজার ১৫৩ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১২ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৫১ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯২ শিশু। মোট মারা গেছে ৬৪৩ শিশু।

ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানী সুভাষ সাহা

মোশাররফ হোসেন, সাতক্ষীরা
ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুসের চিকিৎসায় আশার আলো দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানী সুভাষ সাহা
সংগৃহীত ছবি

বায়ুদূষণ, ধূমপান এবং পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে বিশ্বজুড়ে ফুসফুসের রোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, সিওপিডি এবং অন্যান্য শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে মানব ফুসফুসের স্বাভাবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কৃত্রিমভাবে পুনরুদ্ধার করার এক অভিনব গবেষণা প্রকল্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।

এই গবেষণা উদ্যোগের অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশের দক্ষিণের জেলা সাতক্ষীরার (অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি সিডনির (ইউটিএস) সিনিয়র লেকচারার) ড. সুভাষ চন্দ্র সাহা। তার জন্ম সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার ১ নম্বর জয়নগর ইউনিয়নের খোর্দবাঁটরা গ্রামে। তার  আন্তর্জাতিক গবেষণা দল ভারতের মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় এক কোটি রুপিরও বেশি গবেষণা অনুদান অর্জন করেছে।
 
বিজ্ঞানী সুভাষ সাহা মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, গবেষণার মূল ধারণা হলো মানুষের ফুসফুসে ক্ষতিগ্রস্ত সিলিয়ার পরিবর্তে কৃত্রিম সিলিয়া ব্যবহার করা। সিলিয়া হলো শ্বাসনালীর অভ্যন্তরে অবস্থিত অতি সূক্ষ্ম চুলের মতো গঠন, যা শ্বাসনালী থেকে ধূলিকণা, জীবাণু এবং মিউকাস অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন রোগের কারণে এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে শ্বাসপ্রশ্বাসের জটিলতা দেখা দেয়। গবেষকরা মনে করছেন, কৃত্রিম সিলিয়া প্রযুক্তি ভবিষ্যতে এই সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
 
ড. সুভাষ সাহার মতে, ভবিষ্যতের চিকিৎসা প্রযুক্তিতে প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই প্রকল্পে সেই সমন্বয়ের একটি বাস্তব উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গবেষণার মাধ্যমে কৃত্রিম সিলিয়ার কার্যকারিতা, মিউকাস পরিবহনের দক্ষতা এবং বিভিন্ন রোগাবস্থায় এর সম্ভাব্য ব্যবহার পরীক্ষা করা হবে।

গবেষণা মূল্যায়নকারী বিশেষজ্ঞরাও প্রকল্পটিকে অত্যন্ত উদ্ভাবনী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, মানব ফুসফুসে কৃত্রিম সিলিয়া সংযোজনের ধারণা এখনো বিশ্বব্যাপী প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এই গবেষণার সফলতা ভবিষ্যতে শ্বাসতন্ত্রের রোগ চিকিৎসায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

দুই বছর মেয়াদি এই প্রকল্পে আন্তর্জাতিক গবেষক ও শিক্ষার্থী বিনিময়, উন্নত গবেষণা প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো এমন একটি প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসা সরঞ্জাম বা থেরাপিউটিক ডিভাইস উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ড. সুভাষ চন্দ্র সাহা কম্পিউটেশনাল বায়োফ্লুইড মেকানিক্স, শ্বাসতন্ত্রের প্রবাহ বিশ্লেষণ এবং তাপ সঞ্চালন গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ শ্বাসনালীতে ফুসফুসে প্লাস্টিক, সিগারেট স্মোক, ও ভাইরাস কণার সঞ্চয়ন ও তার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন। এ ছাড়াও অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসায় কন্টিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (সিপিএপি) এবং বাই-লেভেল পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার (ইরচঅচ) থেরাপির নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা  মূল্যায়ন, ড্রাই পাউডার ইনহেলার (ডিপিআই)-এর নকশার অপ্টিমাইজেশন, এবং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাই-ফ্রিকোয়েন্সি  অসিলেশন (এইচ এফ ও ) থেরাপির সম্ভাবনা ও কার্যকারিতা মূল্যায়ন নিয়ে গবেষণা করছেন। তিনি একাধিকবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান অর্জন করেছেন। তার এই নতুন সাফল্য শুধু বাংলাদেশের জন্য গর্বের নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণাটি সফল হলে ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ শ্বাসতন্ত্রের রোগীর চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। বিজ্ঞান ও মানবকল্যাণের এই সংযোগই প্রকল্পটিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব এনে দিয়েছে। 

স্বাস্থ্যখাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানালো ড্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্যখাতে দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়ায় ধন্যবাদ জানালো ড্যাব

জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবুল কেনান ও মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল এক যৌথ বিবৃতিতে এই ধন্যবাদ জানান।

বিবৃতিতে তারা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশ) বরাদ্দের ঘোষণা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ এবং জনগণের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

তারা বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে পূর্ববর্তী বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ প্রদান প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন তথা স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান দিয়েছে।

ড্যাব নেতারা আরো বলেন, উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা, রাষ্ট্র সংস্কার, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থার যে অঙ্গীকার বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে জনগণের সামনে তুলে ধরেছিল, স্বাস্থ্যখাতে এই অভূতপূর্ব বিনিয়োগ সেই জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক দর্শনেরই বাস্তব প্রতিফলন। একটি মানবিক ও উন্নত রাষ্ট্র বিনির্মাণে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার যে দৃষ্টান্ত বর্তমান সরকার প্রদর্শন করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতের এই বরাদ্দ ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজকে শক্তিশালী করবে এবং সরকারি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সম্প্রসারণ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত, পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়ন এবং সর্বোপরি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্তির মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।