ক্ষমতার রাজনীতিতে সাফল্য লাভের কৌশল নির্ধারণের একটি বিজ্ঞান আছে, যা ‘সায়েন্স অব গ্র্যাটিফিকেশন’ বা ‘তুষ্টিবিজ্ঞান’ নামে পরিচিত। ভোটারদের তাৎক্ষণিক মনস্তাত্ত্বিক অগ্রাধিকার কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সহজ ও স্বচ্ছন্দ করতে তুষ্টিবিজ্ঞানের জুড়ি নেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ এই তুষ্টিবিজ্ঞানকে যেভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়েছে, তা অতীত বা বর্তমানের আর কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সক্ষম হয়নি। বাংলাদেশে ধর্মের চেয়ে শক্তিশালী নাগরিক মনস্তাত্ত্বিক উপাদান আর দ্বিতীয়টি নেই। অতীতেও ছিল না। ধর্মের নামে তাদের তুষ্ট করে ভোট বাগানোর কৌশলও আওয়ামী লীগ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো দলের নেই, এমনকি ইসলামি দলগুলোরও না। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের মুলনীতিগুলোর অন্যতম ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’। সাংবিধানিকভাবেও বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম। আওয়ামী লীগপ্রধান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবী মুহাম্মদ (সা.) এর ‘মদিনা সনদ’ অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করছেন বলে বহুবার দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ‘বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতা অনুপ্রাণিত হয়েছে ‘মদিনা সনদ’ থেকে। কী আছে সাড়ে ১৪০০ বছর আগে ঘোষিত মদিনা সনদে? সহজ অর্থে এটি ছিল ইসলামের ইতিহাসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে প্রথম ইসলামি রাষ্ট্রের সংবিধান, যা মদিনায় মুসলিম, ইহুদি এবং অন্যান্য গোত্র ও গোষ্ঠীর সমন্বয়ে ঐক্যবদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিল।
বাংলাদেশের ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা ইসলামি রাষ্ট্রের কল্যাণ লাভের জন্য ক্ষমতায় গেলে ‘কোরআনের আইন চালু’র অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, মদিনা সনদ বাস্তবায়নের কথা বলেন, ‘শরিয়াহভিত্তিক শাসন’ কায়েমের কথা বলেন। কিন্তু তাঁদের নিজেদেরই কথা ও কাজে মিল না থাকায় জনগণ ভোট দিয়ে কখনো তাঁদের ক্ষমতায় পাঠায় না। ক্ষমতায় যাওয়ার তেমন গরজ তাঁদের আছে বলেও কখনো মনে হয়নি। এমনকি ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রবল প্রতিযোগী জামায়াতে ইসলামী, যারা প্রায় ৮৫ বছর আগে দলটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ‘কোরআনের আইন চাই’, ‘সৎলোকের শাসন চাই’ ‘ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু মানি না,’ ইত্যাদি স্লোগানে আকাশবাতাস মথিত করত, ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে ইতিহাসের মোড়ে মোড়ে যাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী শাহাদাতের পেয়ালা পান করেছেন, সেই দলটিও ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সরকার গঠন করলে তারা ‘শরিয়াহ আইন’ বাস্তবায়ন করবে কি না, এ সম্পর্কে কোনো বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করেনি। বরং নির্বাচনে জামায়াতের অনুকূলে ‘ক্ষমতায় চলে আসা’র একধরনের আওয়াজ উঠলে নারীসমাজ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনেকের মধ্যে যখন অজানা শঙ্কা ও আতঙ্কের ফিসফিসানি শুরু হয়, তখন জামায়াত জোরালো ঘোষণা দিয়ে জনগণের দ্বিধাগ্রস্ত অংশকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে ‘জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না।’ এটি হয় জামায়াতের আদর্শচ্যুতি, অথবা নির্বাচনি কৌশল।
কিন্তু ইসলামের আদর্শ সম্পর্কে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থানে কোনো রাখঢাক ছিল না। তাঁর কোনো এক পূর্বপুরুষ মরুর দেশ ইরাক থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেছিলেন। তিনি কখনো তাঁর এ উত্তরাধিকারের ঐতিহ্য বিস্মৃত হননি বলে সব সময় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতেন। গভীর রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। ফজর নামাজ শেষে নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং প্রায়ই তিনি তাঁর ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোর কথায় শ্রোতাদের মুগ্ধ করতেন। তাঁর ধর্মনিষ্ঠায় মুগ্ধ ছিলেন জামায়াতের ইসলামীর সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমও। সংসদে জামায়াতের সমর্থন কামনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যাঁকে দূতিয়ালির জন্য পাঠিয়েছিলেন, তাঁর হাতে গোলাম আযমের জন্য উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন জায়নামাজ ও তসবিহ। শেখ হাসিনা জামায়াতের সমর্থন লাভে সফল না হলেও অধ্যাপক গোলাম আযমের কাছে পেয়েছিলেন ‘আবিদা’ (ইবাদতকারী) খ্যাতি। সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারও পিছিয়ে ছিলেন না। ২০২৩ সালে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে মন উজাড় করে দেশবাসীর জন্য দোয়া করেন।’ কওমি মাদ্রাসার ‘দাওরায়ে হাদিস’ মাস্টার্স ডিগ্রির সমমানের স্বীকৃতি দানসহ মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করায় কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘আল-হাইয়াতুল উলইয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ ২০১৮ সালে শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’ উপাধিতে ভূষিত করে।
ইসলামকে ব্যক্তিগত জীবনে ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শেখ হাসিনার উদ্যোগের সীমা-পরিসীমা ছিল না। যখনই জাতীয় নির্বাচন এসেছে, তিনি তাঁর দলের নির্বাচনি অভিযান শুরু করার আগে প্রায় ব্যতিক্রমহীনভাবে সিলেটের হজরত শাহজালালের দরগাহে গিয়ে সাত শ বছর ধরে কবরে শায়িত সুফিসাধকের জন্য ফাতিহা পাঠ ও মনোবাঞ্ছা ব্যক্ত করেছেন এবং অনেক সময় ওমরাহ পালনে গিয়ে মহান আল্লাহর মেহেরবানি কামনা করেছেন। সবার মনে থাকার কথা, ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে তিনি ওমরাহ পালন করতে মক্কা গমন করেন এবং মদিনায় মহানবী (সা.)-এর রওজা জিয়ারত শেষে দেশে ফিরে আসেন মাথায় একখণ্ড কালো বস্ত্র ধারণ করে। নির্বাচন চলাকালে এবং প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালেও কিছুদিন পর্যন্ত সেই কালো বস্ত্রখণ্ড তাঁর মাথায় শোভা পেত। তাঁর ইসলাম নিষ্ঠার আরেকটি প্রমাণ তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় রাষ্ট্রের ৯.৪৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬৪টি মডেল মসজিদ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ। মডেল মসজিদের অধিকাংশ তাঁর বিদায়ের আগেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ক্ষমতায় থাকাকালেই তিনি উদ্বোধন করেছেন।
আওয়ামী লীগ অন্তরে কীভাবে ইসলাম ধারণ করে এবং জনতুষ্টির বর্ম হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে লালন করে, তার অকাট্য প্রমাণ হলো, সামরিক শাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ এবং আরেক সামরিক শাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনাধীনে ৩৮ বছর আগে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদে অষ্টম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ইসলামকে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করাকে সর্বান্তঃকরণে গ্রহণ ও ধারণ করা। এই দুটি সংশোধনীর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের স্বপ্নের সোনার বাংলার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি পুরোপুরি পাল্টে দেওয়া হলেও ধর্মনিরপেক্ষতার অনুসারী ও এই নীতির অতন্দ্র প্রহরী শেখ হাসিনা ও তাঁর নেতৃত্বাধীন দল ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চার দফা রাষ্ট্রের ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও সংবিধান সংশোধন বা সংবিধানের খোলনলচে পাল্টে ফেলার সুযোগ পেয়েও তাদের একসময়ের আপত্তির ‘বিসমিল্লাহ’ ও ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ সংবিধান থেকে বাদ দেননি। যদিও ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীতে তারা বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি : জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে এনেছিল। অথচ সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ তাদের সমর্থক দলগুলোকে নিয়ে হরতাল পর্যন্ত করেছিল। আওয়ামী লীগের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে কে কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন, তা প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে। তারা যখন ক্ষমতার বাইরে থাকে, তখন অক্ষরে অক্ষরে বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার জন্য সরকারের ওপর চাপ দেয়, আর নিজেরা যখন ক্ষমতায় থাকে, তারা আর তাদের সুবিধাজনক অংশটুকু নিতে চায়। বিরোধী দলে থাকলে আওয়ামী লীগ তাদেরই প্রণীত ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন বাতিলের দাবি জানায়, তারা ক্ষমতায় গেলে ওই আইনের প্রয়োগ আরও বৃদ্ধি করে।
আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল, ইসলামকে সফলভাবে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ পারঙ্গমতা। সংখ্যালঘুদেরও তারা নিজেদের দিকে টানতে সবচেয়ে সফল। নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবে জনতুষ্টির জন্য ‘ইসলাম’ ধর্মকে ব্যবহার এবং সংখ্যালঘুদের স্থায়ী ভোটব্যাংকে পরিণত করার জাদু আর কোনো দল আয়ত্ত করতে পারেনি। সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনলেও আওয়ামী লীগের ধর্মনির্ভরতা ছিল শুরু থেকে। আওয়ামী লীগের জন্মলগ্নে দলটির নামের সঙ্গে ‘মুসলিম’ শব্দটি যুক্ত ছিল। ধর্মনিরপেক্ষ রূপ দেওয়ার জন্য। এটিকে সেক্যুলার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে তারা মুসলিম শব্দ বর্জন করে ১৯৫৫ সালের অক্টোবর মাসে। এরপরও তারা তাদের সভা-সমাবেশ আয়োজনে ইসলামি চেতনামূলক স্লোগানগুলো যে ষাটের দশকের শেষ নাগাদ পর্যন্ত বহাল রেখেছিল তার বহু প্রমাণ রয়েছে। যেমন তারা স্লোগান দিয়েছে ‘নারায়ে তকবির আল্লাহু আকবর’, পাকিস্তান জিন্দাবাদ,’ ‘আওয়ামী লীগ জিন্দাবাদ,’ ‘শেখ মুজিব জিন্দাবাদ ইত্যাদি। এখন ‘জিন্দাবাদ’-এর মধ্যে তারা ‘জিহাদ’, ‘জঙ্গিবাদ’, ‘পাকিস্তান’ খুঁজে পায়।
নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ আওয়ামী লীগের পক্ষে যে তাদের মর্জি অনুযায়ী সবকিছু করা সম্ভব, তার বহু প্রমাণের একটি ২০০৬ সালের ২৩ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব আবদুর রব ইউসুফীর স্বাক্ষরিত নির্বাচনি সমঝোতা স্মারক। পাঠকদের উপলব্ধির সুবিধার্থে স্মারকের পুরোটা উপস্থাপন করা হলো :
‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মধ্যে নির্বাচনি সমঝোতা স্মারক’ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এই মর্মে অঙ্গীকারবদ্ধ হচ্ছে যে নিম্নবর্ণিত ৫টি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করে আসন্ন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সমঝোতার ভিত্তিতে অংশগ্রহণ করবে এবং মহান আল্লাহ তায়ালা বিজয় দান করলে এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।
১. পবিত্র কোরআন, সুন্নাহ ও শরিয়তবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করা হবে না; ২. কওমি মাদ্রাসা সনদের সরকারি স্বীকৃতি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে; ৩. নিম্নবর্ণিত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হবে : (ক) হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী; (খ) সনদপ্রাপ্ত হক্কানি আলেমগণ ফতোয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেন। সনদবিহীন কোনো ব্যক্তি ফতোয়া প্রদান করতে পারবে না; (গ) নবী-রসুল ও সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা ও কুৎসা রটনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
‘ধর্মনিরপেক্ষতার পতাকাধারী আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালে ইয়াহিয়া খানের ঘোষিত ‘লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডার’ বা আইনগত কাঠামো আদেশের মূলনীতি অনুযায়ী ইসলামি প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান রাষ্ট্রের ইসলামি আদর্শ সংরক্ষণ, একজন মুসলিমকে রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে রাখা এবং ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী পাকিস্তানের মুসলমানদের জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি করার মুচলেকা দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৭ সালের ১১ জুন গণপরিষদে দেওয়া বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রের কার্যক্রমের সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।’ ধর্মের নামে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও তিনি পাকিস্তানকে ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাননি। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরা ক্ষমতায় টিকে থাকার সহজ উপায় হিসেবে ব্যবহার করেছেন ইসলামকে। পাকিস্তান এখন ধর্মীয় রাষ্ট্রও নয়, ধর্মনিরপেক্ষও নয়। পাশের দেশ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এমন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চেয়েছিলেন, যা প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীদের নিরাপত্তা দেবে, অন্যদের ক্ষতি করে কোনো একটি ধর্মকে বিশেষ সুবিধা দেবে না এবং কোনো ধর্মকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে গ্রহণ করবে না। সেই নেহরুও নেই, নেহরুর ভারতও নেই। উপমহাদেশের তিনটি দেশেই এখন ধর্ম ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য জনতুষ্টির মোক্ষম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে এবং ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদাররাই ধর্মকে অধিক ব্যবহার করছে।
লেখক : যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সিনিয়র সাংবাদিক




