• ই-পেপার

কানাডায় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট মালিক হত্যায় ৩ ব্রিটিশ দোষী সাব্যস্ত

ঢাকা-প্যারিস সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি

জেনেভায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর কাছে ফ্রান্স বিএনপির স্মারকলিপি

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
জেনেভায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর কাছে ফ্রান্স বিএনপির স্মারকলিপি
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-প্যারিস সরাসরি বিমান চলাচল চালুসহ প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে ১৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ফ্রান্স বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে (আইএলও) অংশ নিতে মন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শনিবার (৬ জুন) রাতে এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। 

এর আগে জেনেভা বিমানবন্দরে পৌঁছালে ফ্রান্স বিএনপির নেতারা ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।

পরে স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা ফ্রান্সসহ ইউরোপে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রত্যাশার বিষয় তুলে ধরেন। এসময় তারা ঢাকা-প্যারিস সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রবাসীদের পক্ষে একটি লিখিত স্মারকলিপি মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। স্মারকলিপিতে সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালুর পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ, কনস্যুলার সেবা সহজীকরণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট মোট ১৮টি দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রতিনিধি দলের নেতারা বলেন, ফ্রান্সে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-প্যারিস সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। সরাসরি বিমান যোগাযোগ চালু হলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমার পাশাপাশি সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে এবং বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে।

স্মারকলিপি গ্রহণের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রবাসীদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) উদ্যোগে আয়োজিত ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে বিশ্বের ১৮৭টি দেশের সরকার, মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শ্রম অধিকার, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক শ্রমবাজারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এ সম্মেলনে আলোচনা হবে।

সৌজন্য সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল আলম রাঙ্গা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান, বিএনপি নেতা মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী, বিয়ানীবাজার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম রাসেল, বিএনপি নেতা আব্দুল হাকিম, ফ্রান্স যুবদলের সহসভাপতি আবু বকর, ফ্রান্স স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব এম আলী চৌধুরী, প্যারিস মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ শহর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা আল-আমিন, বিএনপি নেতা কামরুল ইসলামসহ ফ্রান্স বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

আবুধাবিতে টিকিটবিহীন স্মার্ট পার্কিং চালু

আমিরাত প্রতিনিধি
আবুধাবিতে টিকিটবিহীন স্মার্ট পার্কিং চালু

আবুধাবিতে টিকিটবিহীন স্মার্ট পার্কিং সেবা চালু হয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থায় গাড়িচালকরা টিকিট সংগ্রহ বা মেশিন ব্যবহার ছাড়াই ‘দারব ওয়ালেট’-এর মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার্কিং ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

পৌরসভা ও পরিবহন বিভাগের সমন্বিত পরিবহন কেন্দ্র (আইটিসি)-এর তত্ত্বাবধানে কিউ মোবিলিটি গত ৩ জুন থেকে নতুন পেমেন্ট সিস্টেম চালুর ঘোষণা দেয়। এ ব্যবস্থায় কোনো মেশিন ব্যবহার বা নগদ অর্থ প্রদানের প্রয়োজন হবে না।

নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে এবং অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন এড়াতে কিউ মোবিলিটি ব্যবহারকারীদের দারব ওয়ালেটে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখার পরামর্শ দিয়েছে। পার্কিং ফি প্রতি ঘণ্টায় ২ দিরহাম। ২৪ ঘণ্টার জন্য সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ দিরহাম। সেবাটি বছরের ৩৬৫ দিন এবং দিনে ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।

আরো পড়ুন

সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

সখীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় যুবকের মৃত্যু

 

এই ব্যবস্থা বর্তমানে আবুধাবির সরকারি বহুতল পার্কিং ভবনগুলোতে কার্যকর রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯৪টি পার্কিং স্থানসমৃদ্ধ পাবলিক পার্কিং বিল্ডিং নং-১ (সেক্টর ইস্ট ০১-৩) এবং ২৬৫টি স্থানসমৃদ্ধ পাবলিক পার্কিং বিল্ডিং নং-৫ (সেক্টর ০২-৩)। এছাড়া মোহাম্মদ বিন জায়েদ সিটির বাণিজ্যিক সেক্টরগুলোতেও (মোট ১,৪৪৬টি পার্কিং স্থান) এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে ME9, ME10 ও ME12 এলাকা।

নতুন এই পার্কিং ব্যবস্থা চালুর ফলে মোটরচালকদের নগদ অর্থ বা কয়েন বহনের ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলেছে।

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে রাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ ফিরছে রাতে
সংগৃহীত ছবি

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধার মরদেহ শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটায় দেশে পৌঁছাবে। বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর: A09316452) এবং একই জেলার আশাশুনি উপজেলার কদকতি গ্রামের মো. আব্দুল কাদেরের ছেলে মো. নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (পাসপোর্ট নম্বর: A08649111)।

দূতাবাস জানায়, গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ের জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলের একটি ভয়াবহ ড্রোন হামলায় এই দুই বাংলাদেশি নিহত হন। এত দিন তাদের মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত ছিল।

বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সার্টিফায়েড পুলিশ রিপোর্ট ও মরদেহ প্রেরণের অনুমতিপত্র গ্রহণসহ সব ধরনের আইনি ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশে পাঠানোর আগে নিহতদের গোসল ও কাফনকার্যও সম্পন্ন করা হয়।

মরদেহ দুটি বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের প্রথম ফ্লাইটটি (QR-0427) শুক্রবার (৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে বৈরুত বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

দোহা হয়ে কাতার এয়ারওয়েজের সংযোগকারী ফ্লাইট (QR-0642) যোগে শনিবার দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটের সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ দুটি এসে পৌঁছাবে।

বিমানবন্দরে মরদেহ দুটি গ্রহণের জন্য নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে মরদেহ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করবেন এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।

ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা
সংগৃহীত ছবি

অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরো দ্রুত ও কঠোর করতে নতুন নীতিতে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ফরাসি বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে নতুন ব্যবস্থায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের ইউরোপ থেকে সরাসরি নিজ দেশে কিংবা তৃতীয় দেশে স্থাপিত বিশেষ প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।

গত ১ জুন প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপে যেসব বিদেশিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাদের একটি বড় অংশ বাস্তবে নিজ দেশে ফিরে যায় না। এই পরিস্থিতিতে বহিষ্কার প্রক্রিয়া কার্যকর করতে ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন নীতিতে সমঝোতা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে অথবা ইউরোপে থাকার বৈধ অনুমতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। প্রয়োজনে তাকে নিজ দেশে না পাঠিয়ে ইউরোপের বাইরে কোনো তৃতীয় দেশে স্থাপিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানো যাবে।

এ ছাড়া নতুন ব্যবস্থায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত হবে। ফলে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে বহিষ্কার এড়ানোর সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসন নীতির এই পরিবর্তনকে ইউরোপের সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় ইউরোপীয় নেতারা আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন।

ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বৈধভাবে কর্মসংস্থান, ব্যবসা বা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও একটি অংশ এখনো কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে যাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বা যাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি নেই তারা আগের তুলনায় দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন। এতে ফ্রান্সসহ ইউরোপে অনিয়মিতভাবে অবস্থানকারীদের জন্য ঝুঁকি আরো বাড়বে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছে, তৃতীয় দেশে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা অভিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, যাদের ইউরোপে থাকার আইনগত ভিত্তি নেই তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাকে কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ইউরোপে অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরো জোরদার হবে।

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের কাগজপত্র বা বৈধতার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে তাদের দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া এবং অবস্থান নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।