• ই-পেপার

সাড়ে ৭ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার

কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী দল

নিজস্ব প্রতিবেদক
কোরআনের আয়াতের ব্যাখ্যা নিয়ে মুখোমুখি সরকার ও বিরোধী দল

জাতীয় সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃতি ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রেখেছেন সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেন ‘কুরআনের আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা ও ঠাট্টা-বিদ্রুপের’ অভিযোগ তুললে এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ হুইপসহ দুই দলের সদস্যদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিতর্ক শেষ হয়।

আজ বুধবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এ ঘটনা ঘটে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অস্বীকার করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের পরিণতি শুভ হবে না। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি পবিত্র কুরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন।

তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জামায়াতের নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, কুরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে যেভাবে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং তা ঠাট্টা-বিদ্রুপের শামিল। তিনি দাবি করেন, আয়াতটির রাজনৈতিক প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা সঠিক হয়নি। কুরআনের আয়াত নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা বা অবমাননা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখার জন্য স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজুল্লাহ একজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য। তিনি কুরআন-হাদিস নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন বলে তার মনে হয় না। তবে বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা হবে। কোনো ভুল ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে কুরআনের ভুল ব্যাখ্যার অভিযোগ তোলার ফলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যেতে পারে। মাহফুজুল্লাহ একজন মাদ্রাসাশিক্ষিত ব্যক্তি। সৎ উদ্দেশ্যেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলতে চেয়েছেন, আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তা বৃদ্ধি পায়, আর অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। এটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অর্থে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, আলোচিত আয়াতের নাজিল হওয়ার প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে বিষয়টিকে দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বাজেটের প্রশংসা না করলে আল্লাহর আজাব নেমে আসবে, এমন ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ধর্মীয় বিষয়কে রাজনৈতিক বিতর্কে টেনে আনা উচিত নয়। বিষয়টি আলেমদের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে। 

এরপর সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা মাইক ছাড়াই কথা বলা শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান স্পিকার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ। কুরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা এখানে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে বিষয়টি যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হবে।

পরে সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন আলোচনায় অংশ নিয়ে আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সবাইকে সহিহ ও সঠিক ব্যাখ্যার ওপর আমল করতে হবে।

সবশেষে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিতর্কের অবসান টানার চেষ্টা করে বলেন, সংসদের সব সদস্যই আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি বিশ্বাসী। অভিযুক্ত সদস্য নিজেও একজন আলেম। তাই কোনো ব্যঙ্গ বা পরিহাসের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি তিনি। তিনি আন্তরিকভাবেই কথাগুলো বলেছেন। বিষয়টিকে অযথা বিতর্কিত না করে সংসদের মর্যাদা রক্ষা করার জন্য সকলের প্রকি আহ্বান জানান তিনি।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, আগামী জুলাই মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ফলাফল দৃশ্যমান হবে। জুলাইয়ের মধ্যে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে।

বুধবার (২৪ জুন) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সফরটি অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার ফলে শ্রমবাজার ও জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন এবং চলমান বিভিন্ন বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে পাবেন।

ওসমানী বিমানবন্দরের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে বিমানবন্দরে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ এবং বিশেষ সহায়তাপ্রার্থী যাত্রীদের জন্য লাগেজ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক সেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রবাসীরা যাতে বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হয়রানি বা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, রাতের ফ্লাইটে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণ এবং বিমানবন্দরে শিশুদের জন্য ‘কিডস জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

মাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার সুযোগ দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

কাতারে নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এসএমই খাতকে চাঙ্গা করা সরকারের অগ্রাধিকার : শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এসএমই খাতকে চাঙ্গা করা সরকারের অগ্রাধিকার : শিল্পমন্ত্রী

শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে গতি আনতে এসএমই খাতকে চাঙ্গা করা সরকারের অগ্রাধিকার। এজন্য ব্যবসার শুরু থেকে পণ্য আমদানি বা রপ্তানি পর্যন্ত সময়কে ৩৫৫ দিন থেকে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিরতিহীন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

বুধবার (২৪ জুন) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সহযোগিতায় এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ : এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

এসএমই খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘একটি দেশের অর্থনীতির গতি অনেকাংশে এসএমই খাতের সম্প্রসারণের ওপর নির্ভর করে। এ খাতকে আরো শক্তিশালী করতে নতুন করে আরো বিসিক শিল্পপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য এসএমই খাতে প্রায় পাঁচ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। বিগত সরকার স্বল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করলেও তার প্রতিফলন অর্থনৈতিক উন্নয়নে দৃশ্যমান হয়নি।’

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সদস্য ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ আলম। মতবিনিময়সভা সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

মূল প্রবন্ধে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য এসএমই খাতের উন্নয়নে এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ১১৩টি প্রস্তাবের মধ্যে ৩৬টি প্রস্তাব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে আয়কর সংক্রান্ত ১২টি, ভ্যাট সংক্রান্ত ৫টি এবং শুল্ক সংক্রান্ত ১৯টি প্রস্তাব বাজেটে গৃহীত হয়েছে। প্রথমবারের মতো বাজেটের বিভিন্ন প্রস্তাবনায় সিএমএসএমই খাতের জন্য প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে এসএমই ফাউন্ডেশন মনে করে, এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার প্রণীত জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২, জাতীয় এসএমই নীতিমালা ২০২৬ (খসড়া), ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩ এবং রপ্তানি নীতিমালা ২০২৪-২০২৭ এ এসএমই খাতের জন্য বিভিন্ন কর ছাড় ও প্রণোদনার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বাস্তবে এসব নীতিগত সুবিধা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তাই নীতিগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর ও শুল্ক সুবিধা কার্যকরভাবে প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি।’

তিনি বলেন, ‘এমএসএমই খাতের বিকাশের লক্ষ্যে পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় এসএমই ফাউন্ডেশনসহ ৩টি সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ বিতরণের জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরে যে ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ করা হয়েছে, তা আরো বৃদ্ধি করা এবং এসএমই ফাউন্ডেশেনের জন্য জন্য কমপক্ষে ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা যেতে পারে। সরকারের ‘একটি গ্রাম, একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতের উন্নয়নে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, সেখান থেকে এসএমই ফাউন্ডেশেনর জন্য অন্তত ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা যেতে পারে। এসএমই ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ১৭৭টি শিল্প ক্লাস্টারে প্রায় ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাই ক্লাস্টারভিত্তিক এসএমই উন্নয়নের বিকল্প নেই। এসএমই ক্লাস্টারের হলিস্টিক উন্নয়নের জন্য এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বছরে অন্তত ২০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা যেতে পারে।’

উল্লেখ্য, বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এসএমই খাতের অবদান প্রায় ৩০ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশের প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ৯৯ শতাংশ কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই)। শিল্প খাতের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮৫ শতাংশ সিএমএসএমই খাতে। এই খাতে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি জনবল কর্মরত আছে। অধিক জনসংখ্যা এবং সীমিত সম্পদের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এসএমই খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা এসএমই ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কর্মসূচির সুবিধাভোগী প্রায় ২২ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, যাদের ৬০ শতাংশই নারী উদ্যোক্তা।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ

অনলাইন ডেস্ক
দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ
সংগৃহীত ছবি

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের মধ্যে প্রস্তাবিত ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু’ নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের (বীরবিক্রম) সভাপতিত্বে সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রশ্নোত্তরটি টেবিলে উত্থাপিত হয়।

অর্থমন্ত্রী জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত অন্যতম একটি প্রকল্প। বর্তমানে এই সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সেতু বিভাগের আওতাধীন সংস্থা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অধীনে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সেতুটি নির্মাণের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকলেও সম্ভাব্যতা সমীক্ষার জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নিজস্ব বাজেটে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পটি এডিপিতে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় (সবুজ পাতা) অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।’

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুকে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি জানান, সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এটি বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন প্রকল্প।