• ই-পেপার

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সমীক্ষায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ

তামাকপণ্য সহজলভ্যই থাকছে, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
তামাকপণ্য সহজলভ্যই থাকছে, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্য সামান্য বৃদ্ধি করা হলেও তামাকপণ্য এখনো সহজলভ্যই থেকে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির তুলনায় সিগারেটের দাম খুব কম বাড়ানো হয়েছে, ফলে তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিত হওয়ার বদলে তামাক কম্পানিগুলো অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ পাবে।

আজ বুধবার রাজধানীর বিএমএ ভবনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পুওর (ডব়্প)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা : প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার ছিল জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেট প্রণয়নের এই সময়টি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা বাজারে বিদ্যমান চার স্তরের সিগারেটকে তিন স্তরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করে ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বিশেষ করে তরুণদের কাছে তামাকপণ্য কম সহজলভ্য হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থ ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. শাফিউন নাহিন বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের দাম মাত্র ২ টাকা বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়েছে। অথচ দেশে বিক্রি হওয়া প্রায় ৭৫ শতাংশ সিগারেটই এই স্তরের। মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি হওয়ায় এ ধরনের সামান্য মূল্য বৃদ্ধি তামাক ব্যবহার কমাতে কার্যকর হবে না।

তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে নিম্নস্তরের সিগারেট প্রতি শলাকা ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে নতুন মূল্য কাঠামোর কারণে তামাক কোম্পানিগুলো প্রতি শলাকায় প্রায় ৮০ পয়সা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাবে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নিম্নস্তরের সিগারেট বিক্রি হয়েছিল ৬৮.৮৯ বিলিয়ন শলাকা। এই হিসাবে কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা। একই সঙ্গে সরকার বিপুল সম্ভাব্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নিকোটিন পাউচ, নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি)-এর ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে এসব নতুন নিকোটিনজাত পণ্য কার্যত বৈধতা পাচ্ছে। এতে বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে এবং তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব অনুযায়ী নিম্নস্তরের সিগারেট ও ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের কর ও মূল্য কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী ধূমপান ত্যাগে উৎসাহিত হবে, ৩ লাখ ৭২ হাজার তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় চার লাখ অকালমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

সেমিনারে বক্তারা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে আগামী প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় আরও কার্যকর করনীতি ও নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের মতে, তামাকপণ্য সহজলভ্য থাকলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। তাই বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার এখনই উপযুক্ত সময়।
 

দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা থাকছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা থাকছে
প্রতীকী ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা বিরাজ করছে। গত পাঁচ দশকে এ ধরনের দিনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের যেসব দেশে মানুষ সবচেয়ে বেশি সময় ঝুঁকিপূর্ণ তাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে বসবাস করছে, বাংলাদেশ তাদের অন্যতম।

বুধবার (২৪ জুন) আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা সংস্থা ক্লাইমেট সেন্ট্রালের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বজুড়ে বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার দিন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭০-এর দশকে বিশ্বে বছরে গড়ে ১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা দেখা গেলেও ২০১৬ থেকে ২০২৫ সময়ে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ দিনে। ১৯৭০ সালের পর থেকে বিশ্বে রেকর্ড হওয়া এমন দিনের প্রায় ৬৪ শতাংশের পেছনে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা রয়েছে।

বাংলাদেশে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। ২০১৬-২০২৫ সময়ে দেশে বছরে গড়ে ২০০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকে এ সংখ্যা ছিল ১৭৫ দিন। অর্থাৎ এখন বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় দেশের মানুষ এমন তাপ-আর্দ্রতার মুখে থাকছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে অতিরিক্ত ৩০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা যুক্ত হচ্ছে। ১৯৭০-এর দশকে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ দিন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রার অংশ ৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

দেশের বড় শহরগুলোতে এর প্রভাব আরো স্পষ্ট। রাজধানী ঢাকায় বছরে গড়ে ২১০ দিন বিপজ্জনক আর্দ্র তাপমাত্রা অনুভূত হয়। এর মধ্যে ২৫ দিন সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে বছরে গড়ে ২১১ দিন এমন তাপমাত্রা দেখা যায়, যার মধ্যে ৩৬ দিন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে যুক্ত হয়েছে। খুলনায় এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—বছরে গড়ে ২২৪ দিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্চ তাপমাত্রাই নয়, বাতাসের আর্দ্রতাও মানবদেহের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। আর্দ্রতা বেড়ে গেলে ঘামের মাধ্যমে শরীরের স্বাভাবিক শীতল হওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এতে পানিশূন্যতা, তাপজনিত অবসাদ, হিট স্ট্রোক, হৃদরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ে। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী, বাইরে কাজ করা শ্রমিক এবং আগে থেকেই অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. শিমুল মজুমদার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতা শিশুদের স্বাস্থ্যের ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ফেলছে। শিশুদের মধ্যে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও অ্যাজমাসহ শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। আগের বছরের তুলনায় অ্যাজমা ও সংশ্লিষ্ট শ্বাসতন্ত্রের রোগ প্রায় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু তাপজনিত অসুস্থতায় সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘস্থায়ী গরমের সময় বেশি পানি পান করতে গিয়ে অনেকেই অনিরাপদ পানির উৎসের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। এতে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।

গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাশেদুল হাসান বলেন, বাড়তে থাকা তাপপ্রবাহ পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। গরমের সময় মানুষ বেশি পানি পান করলেও অনেক ক্ষেত্রে অনিরাপদ উৎসের ওপর নির্ভর করতে হয়। ফলে ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও জন্ডিসের মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

বিশ্বব্যাপী চরম তাপমাত্রা ইতিমধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী আবহাওয়া-সংক্রান্ত দুর্যোগগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে বিশ্বে চরম তাপমাত্রাজনিত কারণে আড়াই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সতর্কবার্তা, বাড়তে থাকা আর্দ্রতা তাপপ্রবাহকে আরো বিপজ্জনক করে তুলছে এবং অনেক অঞ্চলে পরিস্থিতিকে মানবদেহের সহনক্ষমতার সীমার কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তাপ-স্বাস্থ্য কর্মপরিকল্পনা জোরদার, শ্রমিক সুরক্ষা বাড়ানো, নগর এলাকায় শীতলীকরণ অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু-সহনশীল জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এখন জরুরি।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংবাদমাধ্যম কাজ করতে পারে : স্পিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংবাদমাধ্যম কাজ করতে পারে : স্পিকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) এমপি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন প্রতিবছর ফল উৎসব আয়োজন করে, যা একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এই ধরনের ফল উৎসব যেন সাধারণ মানুষ উপভোগ করতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমের পক্ষপাতহীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ মহিমান্বিত হবে।’

আজ জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএর সভাপতি হারুন জামিল, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি এবং চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি।

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বর্তমান সংসদ অনেক প্রাণবন্ত। সত্যিকার অর্থে নির্বাচিত একটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক পার্লামেন্ট, যা একটি সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণ দীর্ঘদিন যাবৎ এ ধরনের কাঙ্ক্ষিত সংসদ কামনা করে আসছে।’

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেন, ‘এ ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সঙ্গে একটা মেলবন্ধন তৈরি হয়। সংসদকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রকে প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে জনকল্যাণে সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যম কাজ করতে পারে।’

তিনি চমৎকার পরিসরে এ ধরনের উৎসব আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ফল উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সুসম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে। সাংবাদিকরা তাঁদের পেশাগত দায়িত্বের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে আরো কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করবেন মর্মে আমি প্রত্যাশা করি। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সংসদকে জনগণের আরো কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের সব প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

স্পিকার এ সময় পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক চমৎকার এ ফল উৎসব আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সচিব ব‌্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, বিপিজেএর জ‌্যেষ্ঠ সদস‌্য ও সরকারের প্রধান তথ‌্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, সিনিয়র সাংবাদিক এম আব্দুল্লাহ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাছির জামাল, আশিষ সৈকত, জাহেদ চৌধুরী, কামরান রেজা চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, ইলিয়াস হোসেন, নিখিল ভদ্র প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন বিপিজেএর সহ-সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস‌্য মশিউর রহমান, মনিরুল ইসলামসহ অনেকেই।

পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত, আজকের সভায় এলো যেসব সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক
পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত, আজকের সভায় এলো যেসব সিদ্ধান্ত

জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার পে স্কেল বাস্তবায়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নে সচিব কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভা সূত্রে জানা গেছে, সভায় পে কমিশনের জনপ্রশাসন সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যায়নি। এই দুই সংস্থার ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

তবে কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাবে, কয় ধাপে বাড়বে—এ বিষয়গুলো গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি সভায় উপস্থিত কোনো সদস্য। এদিকে এলপিআর ভোগরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নবম পে স্কেলের আওতায় আসবেন বলে জানিয়েছেন একটি সূত্র।

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে তা কার্যকর করা হবে। জুলাই থেকে ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে বর্ধিত বেতনের অর্থ হাতে পেতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষ হয়েছে। সভায় তবে বেসিকের কত শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেটি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

বুধবার (২৪ জুন) অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব কমিটির সভায় পে কমিশনের জনপ্রশাসন সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত হলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর সুপারিশ নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা যায়নি। তবে এই দুই সংস্থার ব্যাপারে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই  বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তাবনাও চূড়ান্ত করা হবে। এ জন্য আরো একটি সভা হতে পারে।

নবম জাতীয় পে স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেসিকের কত শতাংশ আগামী অর্থবছর থেকে বৃদ্ধি পাবে, সেটি জানা না গেলেও তিনটি বিকল্প ধরে কাজ করছে সরকার বলে জানা গেছে। সচিব কমিটির প্রথম প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির কথা রয়েছে। বিকল্প হিসেবে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ১০ম-২০তম গ্রেডের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হতে পারে। আরেকটি বিকল্প হিসেবে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেসিক শতভাগ বৃদ্ধির চিন্তাভাবনাও রয়েছে।