• ই-পেপার

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

শ্রীমঙ্গলে দেওয়া হবে জাতীয় চা পুরস্কার

অনলাইন ডেস্ক
শ্রীমঙ্গলে দেওয়া হবে জাতীয় চা পুরস্কার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় চা দিবস ২০২৬ উদযাপন ও জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। ‘চা শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’ প্রতিপাদ্যে আগামী শনিবার (২০ জুন) এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

শ্রীমঙ্গল অডিটরিয়াম কাম মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

ওইদিন বেলা ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বের পর চা শিল্পবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন এবং আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর ২১ মে জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও চলতি বছর দিবসটির আনুষ্ঠানিক উদযাপন ২০ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়া চা শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও চা শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনাসভায় অংশ নেবেন।

আলোচনাসভা শেষে দেশের চা শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছর প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদ তুলে দেবেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ চা বোর্ড এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় চা প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি চা প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতেও চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশের চা শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে এবার ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে। 

মামুনুল হককে ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
মামুনুল হককে ঘিরে সংসদে বিতর্ক, বক্তব্য এক্সপাঞ্জের নির্দেশ স্পিকারের

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে জাতীয় সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক তাঁর বক্তব্যে মামুনুল হকের অতীতের একটি ঘটনা উল্লেখ করলে সরকারি ও বিরোধী দলের আপত্তির মুখে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার (এক্সপাঞ্জ) নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে আবু আশফাক বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনার সমালোচনা করেন এবং পরে মামুনুল হককে নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাজেট নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য দেওয়া হলেও অতীতে আলোচিত কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। তিনি মামুনুল হককে ঘিরে ২০২১ সালের বহুল আলোচিত ঘটনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।

এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বক্তব্যে হস্তক্ষেপ করে বলেন, সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় আনা সমীচীন নয়। বিশেষ করে এমন কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে অভিযোগ বা মন্তব্য করা ঠিক নয়, যার সংসদে উপস্থিত থেকে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সাধারণত যার এখানে এসে জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা সংসদীয় রীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব বিষয়ে আলোচনা না করাই ভালো।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি বলেন, মামুনুল হক সম্পর্কে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সঠিক নয়। যেহেতু তিনি সংসদে উপস্থিত নেই এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নেই, তাই বিষয়টি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তির বিষয়ে ভুল তথ্য সংসদের রেকর্ডে থাকা উচিত নয়। তাই বক্তব্যটি এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করছি।

এরপর সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় ও অপ্রাসঙ্গিক অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সবার বক্তব্য শোনার পর স্পিকার বলেন, মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে আলোচিত বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে রাখার প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিজীবনের বিতর্কিত বিষয় এখানে আলোচিত হোক, তা আমি চাই না। এ ধরনের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা সংসদের মূল কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং তা জনস্বার্থেও প্রয়োজনীয় নয়।

পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আর না বাড়ানোর জন্য ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন এবং এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আরো বলেন, ইসলামী শরিয়াহর আলোচনায় অতীতে যে বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক ছিল, সেগুলোর অনেকগুলোই বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয় এবং নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে অবস্থানকালে মাওলানা মামুনুল হককে ঘিরে একটি ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সেই ঘটনার প্রসঙ্গই বৃহস্পতিবার সংসদে উত্থাপিত হলে তা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত স্পিকারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রস্তাবিত বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ত্রয়োদশ ‘জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের দশম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ কিংবা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। কিন্তু এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এই বাজেট গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি কোনো একদিনের চিন্তার ফল নয়; বরং দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন।

বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। অর্থপাচার, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও সরকার একটি বাস্তবমুখী ও উন্নয়নবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য খাল ও নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর-সুবিধা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, জনগণের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকার লুটপাট ও অর্থপাচারনির্ভর অর্থনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। প্রস্তাবিত বাজেট সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ বাজেট দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার রূপরেখা এতে তুলে ধরা হয়েছে।

সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে দৃঢ় অবস্থানে কোস্ট গার্ড : ডিজি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে দৃঢ় অবস্থানে কোস্ট গার্ড : ডিজি

সুন্দরবনে দস্যুতা দমন, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ড দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

জিয়াউল হক বলেন, সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দুর্যোগে উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সুন্দরবন অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং বনদস্যুতা সম্পূর্ণরূপে দমনে বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় দস্যু চক্রগুলো ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তার সহযোগীরা সম্প্রতি কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বনদস্যুদের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়া স্থাপনের ফলে দস্যুদের কাছে রসদ, লজিস্টিক সহায়তা, অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহের পথ কার্যকরভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং সুন্দরবনের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়ায় একদল দুর্বৃত্তের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় এবং উদ্বেগজনক। এটি শুধু সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা।

ঘটনার পরপরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে প্রভাবিত না হয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখতে হবে এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপদ জীবন-জীবিকা নিশ্চিত করতে যেকোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ জানিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।