• ই-পেপার

বৈশ্বিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদারে আগ্রহী বাংলাদেশ ও রাশিয়া

দেশের সম্মান রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন শান্তিরক্ষীরা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের সম্মান রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন শান্তিরক্ষীরা : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করা সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা বিশ্বশান্তি রক্ষায় যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তা অনেকেই যথেষ্ট উপলব্ধি করেন না। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে ভালোবেসে ও দেশের সম্মান রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কাজ করে যাচ্ছেন।’

সোমবার (৮ জুন) দুপুরে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অবদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনাসভাটি আয়োজন করে ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিজাব)।

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশের শান্তিরক্ষী সদস্যরা যে ভূমিকা রাখেন, আমি আফ্রিকার দেশগুলোতে গিয়ে বিভিন্ন কনফারেন্সে দেখেছি আমার কাছে মনে হয়েছে, আমরা বাংলাদেশিরা সেটা যথেষ্ট উপলব্ধি করি না। তারা যে অর্জন করে আনেন, সেটা জীবনের চেয়েও বড় নয়। তারা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন।’

বিশ্ব শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া সদস্যদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি তাদের পরিবারের প্রতিও আজ স্মরণ করতে চাই। প্রত্যেকটি পরিবার তাদের বাবা, স্বামী, ভাইকে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, তারা ফেরত আসবেন কি না, সেটা তারা জানেন না। কিন্তু সেই দেশপ্রেম থেকে, বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা এই কাজটি করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের স্যালুট জানাই। বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকেও তাদের স্যালুট জানাই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব সময় বিষয়টি নিয়ে সচেষ্ট রয়েছে।

ভবিষ্যতেও শান্তিরক্ষীদের সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আপনারা যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের কাছে এলে আমরা সেটি গুরুত্বের সঙ্গে নেব এবং আপনাদের সহযোগিতা করব।

ডিজাব সভাপতি আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কমোডর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (এলপিআর)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডিজাবের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম মাসুম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ, কমোডর (অব.) এম এম জসিম উদ্দিন ভূঁইয়া এবং এয়ার কমোডর মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (এলপিআর)। তারা বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সাফল্য কেবল সামরিক দক্ষতার ফল নয়; বরং মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও পেশাদারির সমন্বিত প্রতিফলন।

বক্তারা আরো বলেন, সিয়েরা লিওনের পুনর্গঠনে বাংলাদেশের অবদান, হাইতিতে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুসলিম নারী পুলিশ ইউনিট মোতায়েন, আফ্রিকায় স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সম্প্রতি জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ ‘দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ অর্জন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিজাব) সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, অনেকের ধারণা রয়েছে শান্তিরক্ষা মিশনে গেলে শান্তিরক্ষী সদস্যরা বিপুল পরিমাণ অর্থ পান। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই অর্থের বড় একটি অংশই বাংলাদেশ সরকার পেয়ে থাকে।

শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা ঘুরে আসার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করা শান্তিরক্ষীরা অনেক সময় নিজেদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত থেকেও বঞ্চিত হন। দেশে জন্ম নেওয়া সন্তানকে ছুঁয়ে দেখার সুযোগ হয় না অনেকের। ভিডিও কলে সন্তানকে দেখে তারা নিজেদের সান্ত্বনা দেন। মা-বাবা কিংবা নিকট আত্মীয় মারা গেলেও অনেক সময় দেশে ফিরে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পান না শান্তিরক্ষা মিশনে থাকা সদস্যরা।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘শান্তিরক্ষীরা প্রতিদিন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিনিয়ত মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে তারা দেশের সম্মান ও বিশ্ব শান্তি রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।’

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক, সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, ‘১৯৮৮ সালে মাত্র ১৫ জন সামরিক পর্যবেক্ষক দিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে দেশটি শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৩টি দেশে ৬৩টিরও বেশি মিশনে দুই লাখ ছয় হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করেছেন।’

তিনি জানান, বর্তমানে জাতিসংঘের বিভিন্ন মিশনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশের ৪ হাজার ২১২ জন সদস্য কর্মরত রয়েছেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার পথে আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপন করে এ পর্যন্ত ১৭৫ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জীবন উৎসর্গ করেছেন।

অনুষ্ঠানে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আব্দুল্লাহ ইবনে জায়েদ, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান, ঢাবির শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবের আহমেদ চৌধুরী, ডিজাবের সাবেক সভাপতি আবুল খায়ের ও মামুনূর রশীদ, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য মাসুদ করিম, ডিক্যাব'র সাধারণ সম্পাদক ইমরুল কায়েসসহ একাধিক গবেষক বক্তব্য রাখেন। তারা শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান তুলে ধরে ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সরকারের নীতি-সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’

সেমিনারে বক্তারা বলেন, ‘জাতিসংঘের চলতি বছরের প্রতিপাদ্য ‘ইনভেস্ট ইন পিস’ বা ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ, দক্ষতা ও মানবিক উদ্যোগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

অনুষ্ঠানর শুরুতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আত্মোৎসর্গকারী বাংলাদেশি শহীদ শান্তিরক্ষীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় শান্তিরক্ষীদের অবদান নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া সেমিনারে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স সেকশনের প্রেস স্পেশালিস্ট মাহাদি আল হাসনাতসহ ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের বেতন বেড়ে কত হলো

অনলাইন ডেস্ক
মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর এপিএসদের বেতন বেড়ে কত হলো
ছবি: কালের কণ্ঠ

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের (সমমর্যাদার সহ) সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এবং উপমন্ত্রী ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের একান্ত সচিবদের (পিএস) বেতন বাড়িয়েছে সরকার। অর্থ বিভাগ থেকে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে এ বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে ৩১ মার্চ অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মতামত জানতে চায়।

চিঠিতে বলা হয়, সরকারি চাকরির বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সমমর্যাদার এপিএসদের বেতন নবম গ্রেডের অষ্টম ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে তাদের মাসিক মূল বেতন দাঁড়াবে ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা।

আরো পড়ুন
আইজিপির সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আইজিপির সঙ্গে ইউএনডিপি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

 

এর আগে এপিএসদের বেতন নবম গ্রেডের শুরু ধাপে ২২ হাজার টাকা থেকে নির্ধারণ করা হতো। তবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট যোগ করে বেতন সমন্বয় করা হতো।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত ৩২ হাজার ৫৪০ টাকা মূল বেতনের পাশাপাশি তারা বিধি অনুযায়ী অন্যান্য ভাতা পাবেন। তবে এই কাঠামোর অধীনে কোনো বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, আনুতোষিক বা ভবিষ্য তহবিল সুবিধা থাকবে না।

আরো পড়ুন
রাজধানীতে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইয়ের শিকার স্কুলছাত্র

রাজধানীতে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইয়ের শিকার স্কুলছাত্র

 

এই বেতন কাঠামো শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যারা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর (সমমর্যাদা) এপিএস এবং উপমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে সরকারি চাকরির বাইরে থেকে নিয়োগ পান।

অন্যদিকে, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত এপিএসদের ক্ষেত্রে এই নতুন গ্রেড প্রযোজ্য হবে না। তারা সংশ্লিষ্ট নিয়োগ ও বিধি অনুযায়ী বেতন ও সুবিধা পাবেন।

বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহ নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
সংগৃহীত ছবি

দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এর মধ্যেই দেশের পাঁচ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিরাজমান রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে। এটি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে সারা দেশে বিস্তার লাভ করার জন্য অনুকূল অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। রাজশাহী, পাবনা, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনা জেলাসমূহের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরির্বিত থাকতে পারে।

বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

শুক্রবার (১২ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। বর্ধিত পাঁচ দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সরকারের ১০০ দিনে ৬০৫ খুন

টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যা বলল পুলিশ সদর দপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যা বলল পুলিশ সদর দপ্তর
ফাইল ছবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বরাতে দেশে ‘১০০ দিনে ৬০৫ খুন’ শিরোনামে শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃতি, কারণ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ না করে কেবল সংখ্যাগত তথ্য উপস্থাপন করার মাধ্যমে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি করে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, প্রকৃতপক্ষে মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে দেশে মোট ৬০৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সিংহভাগই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে, যার সঙ্গে সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্পর্ক নেই।

পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৬০৫টি হত্যা মামলার মধ্যে ৩৩৬টি বা ৫৫ দশমিক ৫ শতাংশ ঘটেছে পূর্বশত্রুতার জেরে। এ ছাড়া পারিবারিক কলহের কারণে ১৪৬টি (২৪.১ শতাংশ), সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বিরোধে ৬৯টি (১১.৪ শতাংশ), আকস্মিক আঘাতে ১৯টি (৩.১ শতাংশ) এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৯টি (১.৫ শতাংশ) হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, প্রেম বা পরকীয়াজনিত কারণে ৫টি, ছিনতাইকারীর হাতে ৬টি, দাঙ্গা-দস্যুতা-অপহরণসহ অন্যান্য ঘটনায় ১৫টি এবং রাজনৈতিক কারণে মাত্র ৩টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গত এক দশকে দেশে বছরে গড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। সেই হিসাবে দুই মাসের ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডকে বার্ষিক হিসাবে রূপান্তর করলে সম্ভাব্য সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৬৩০টি, যা ঐতিহাসিক গড়ের ভেতরেই অবস্থান করছে। ফলে বর্তমান সংখ্যাকে ‘অস্বাভাবিক বৃদ্ধি’ হিসেবে চিত্রিত করার কোনো সুযোগ নেই।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, দেশের প্রায় ১৮ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে দুই মাসে প্রতি লাখে হত্যার হার মাত্র ০.৩৪। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে এটি কোনোভাবেই উচ্চমাত্রার অপরাধ হার নয়। জনসংখ্যা বিবেচনা না করে কেবল মোট সংখ্যা প্রকাশ করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

ব্যাখ্যায় পুলিশের সবচেয়ে জোরালো যুক্তিগুলোর একটি হলো হত্যাকাণ্ডের শ্রেণিবিন্যাস। তাদের দাবি, মোট ৬০৫টি হত্যার মধ্যে রাজনৈতিক কারণে ঘটেছে মাত্র ৩টি, যা মোট ঘটনার মাত্র ০.৫ শতাংশ। অর্থাৎ অধিকাংশ হত্যাই ব্যক্তি পর্যায়ের বিরোধ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব অথবা সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক সংঘাতের ফল। ফলে সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়নে এই শ্রেণিবিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুলিশের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আগের বছর বা পূর্ববর্তী সরকারগুলোর একই সময়ের হত্যার পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হয়নি। তুলনামূলক তথ্য ছাড়া কোনো সুনির্দিষ্ট সময়কে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা গবেষণাগত ও পরিসংখ্যানগতভাবে অসম্পূর্ণ।

পাশাপাশি পুলিশ উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধের মামলা নথিভুক্তকরণ আরো উন্মুক্ত ও সক্রিয় হয়েছে। ফলে বেশি মামলা রেকর্ড হওয়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নয়, বরং পুলিশের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতারই প্রতিফলন।

পুলিশের মতে, অপরাধের প্রকৃত চিত্র জানতে শুধু সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে অপরাধের ধরন, কারণ, জনসংখ্যাভিত্তিক হার এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। গবেষণা সংস্থাগুলোর উদ্দেশ্যে পুলিশ বলেছে, ‘শুধু সংখ্যা নয়, প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ণাঙ্গ তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমেই জনগণের সামনে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা সম্ভব।’