• ই-পেপার

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশের ৩ গবেষক

ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি,বিতর্কে মেটা

অনলাইন ডেস্ক
ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ফোনে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি,বিতর্কে মেটা
ছবিঃ রয়টার্স

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে ঘিরে নতুন করে গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ম্যাগাজিন ওয়্যার্ড-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মেটা আমাদের স্মার্টফোনে থাকা "মেটা এআই" অ্যাপের ভেতরে গোপনে মানুষের মুখ চেনার ( ফেসিয়াল রিকগনিশন ) কোড ঢুকিয়ে দিয়েছে ।

এ কোম্পানিটির তৈরি রে-ব্যান ও ওকলি স্মার্ট চশমার মাধ্যমে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা যেকোনো মানুষকে সরাসরি চেনার জন্যই এই গোপন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যদিও মেটা দাবি করেছে, এই ফিচারটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এখনও চালু করা হয়নি


সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সফটওয়্যার বিশ্লেষকদের পরীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে একাধিক অ্যাপ আপডেটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের ফোনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এআই মডেল যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি মানুষের মুখ শনাক্ত করতে পারে, দ্বিতীয়টি ছবির ভেতর থেকে মুখ আলাদা করে ক্রপ করতে পারে এবং তৃতীয়টি সেই মুখকে একটি বিশেষ ডিজিটাল বায়োমেট্রিক পরিচয়ে রূপান্তর করতে সক্ষম।

গবেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তি এখন প্রায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। মেটা অভ্যন্তরীণভাবে প্রকল্পটির নাম দিয়েছিল “নেমট্যাগ”। তবে সাম্প্রতিক এক আপডেটে এর নাম পরিবর্তন করে “কানেকশনস” রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এ বিষয়ে মেটার মুখপাত্র রায়ান ড্যানিয়েলস বলেন, কোম্পানি কেবল এ ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করছে। এখনো সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কোনো ফেসিয়াল রিকগনিশন ফিচার চালু করা হয়নি এবং কোনো কেন্দ্রীয় ফেস ডেটাবেস তৈরির সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন গোপনীয়তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যদি প্রযুক্তিটি শুধুই পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকে, তাহলে কয়েক মাস আগেই কেন এর প্রয়োজনীয় কোড ব্যবহারকারীদের ফোনে পাঠানো হলো—এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দেয়নি মেটা।

আরো বিতর্ক তৈরি হয়েছে কারণ চলতি বছরের এপ্রিল মাসেও মেটার কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছিলেন, স্মার্ট চশমায় ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহারের নৈতিক ও সামাজিক দিক নিয়ে তারা এখনো চিন্তাভাবনা করছেন। অথচ নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারও কয়েক মাস আগে এই প্রযুক্তির মূল উপাদান ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।

প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ট্যাগ করার প্রযুক্তির তুলনায় স্মার্ট চশমাভিত্তিক রিয়েল-টাইম ফেসিয়াল রিকগনিশন অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে রাস্তায় চলাফেরা করা কোনো অপরিচিত ব্যক্তির পরিচয় মুহূর্তেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই উদ্বেগ থেকেই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ) এবং ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ফাইট ফর দ্যা ফিউচার সহ ৭০টির বেশি মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে মেটাকে স্মার্ট চশমায় ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ কারণ ২০২১ সালে তীব্র সমালোচনার মুখে মেটা ফেসবুকের স্বয়ংক্রিয় ফেস-ট্যাগিং প্রযুক্তি বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময় কোম্পানিটি ব্যবহারকারীদের এক বিলিয়নের বেশি ফেসপ্রিন্ট বা বায়োমেট্রিক তথ্য মুছে ফেলার কথাও জানিয়েছিল।

শুধু তাই নয়,এর আগে বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহারের অভিযোগে অতীতে মেটাকে যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের আইনি জরিমানাও গুনতে হয়েছে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কোম্পানিটি ৬৫০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দেয়। পরে ২০২৪ সালে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে সমঝোতায় আরও ১.৪ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়।

নতুন এই তথ্য প্রকাশের পর প্রযুক্তি বিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে—মেটা কি ভবিষ্যতে তাদের স্মার্ট চশমা ও এআই সেবায় ব্যাপকভাবে ফেসিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে? যদিও কোম্পানিটি এখনই এমন কোনো পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেনি, তবু ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ আবারও সামনে চলে এসেছে।

তথ্যসূত্র: ওয়্যার্ড, এনগ্যাজেটদ্য নিউইয়র্ক টাইমস

ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক, আসছে স্পেসএক্স আইপিও

অনলাইন ডেস্ক
ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক, আসছে স্পেসএক্স আইপিও
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের একজন ইলন মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স  ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রাথমিক শেয়ার বিক্রির (আইপিও) পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজার থেকে ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করতে চায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী আইপিও সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আইপিও হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়বে।

গত ৩ জুন (বুধবার) রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার (প্রায় ১৬,৫৫৮.৪৯ বাংলাদেশি টাকা) দরে বিক্রি করবে। এর মাধ্যমে কম্পানিটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য দাড়াবে প্রায় ১ দশমিক ৭৫ (প্রায় বাংলাদেশি ২১.৪৬ ট্রিলিয়ন টাকা) থেকে ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার (প্রায় বাংলাদেশি ২১.৭১ ট্রিলিয়ন টাকা)। এই মূল্যায়ন সফল হলে স্পেসএক্স বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি ও মহাকাশ কম্পানিগুলোর একটি হয়ে উঠবে।

বর্তমানে স্পেসএক্সের প্রায় অর্ধেক মালিকানা রয়েছে প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের হাতে। আইপিওর পরও তিনি কম্পানির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন। বিশেষ ধরনের ভোটাধিকারসম্পন্ন শেয়ারের কারণে কম্পানির সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার প্রভাব আগের মতোই শক্তিশালী থাকবে।

বিশ্লেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত মূল্যায়ন অনুসারে শুধু স্পেসএক্সে থাকা মাস্কের অংশীদারির মূল্যই প্রায় ৮৪০ বিলিয়ন ডলারে (বাংলাদেশি প্রায় ১০.৩ ট্রিলিয়ন টাকা) পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলায় তার মালিকানার মূল্য যোগ করলে মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার  (বাংলাদেশি প্রায় ১২.২৬ লক্ষ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হওয়ার ইতিহাস গড়তে পারেন ইলন মাস্ক।(সুত্রঃ সিএনএন)

কেন এত আলোচনায় স্পেসএক্স?

২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স শুরুতে রকেট নির্মাণ ও মহাকাশে বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের কাজ করলেও বর্তমানে এটি মহাকাশ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—এই তিন খাতেই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে।

কম্পানিটির সবচেয়ে সফল প্রকল্পগুলোর একটি হলো স্টারলিংক। এই স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করছে এবং স্পেসএক্সের আয়ের বড় উৎস হিসেবে কাজ করছে।

এ ছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ইলন মাস্ক তার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্স-এআই কে স্পেসএক্সের সঙ্গে একীভূত করেন। ফলে মহাকাশ প্রযুক্তির পাশাপাশি এআই খাতও এখন কম্পানিটির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইপিওর অর্থ কোথায় ব্যয় হবে?

স্পেসএক্স জানিয়েছে, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ বিভিন্ন উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে স্টারলিংক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য বড় কম্পিউটিং অবকাঠামো তৈরি, নতুন প্রজন্মের মহাকাশযান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা।

মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপন এবং সৌরশক্তিচালিত প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো নতুন ধারণা নিয়েও কাজ করছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি ।

রেকর্ড ভাঙার পথে

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আইপিওর রেকর্ড রয়েছে সৌদি আরবের তেল কম্পানি সৌদি আরামকোর দখলে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালে প্রায় ২৯.৪ বিলিয়ন ডলার (প্রায় নাম বাংলাদেশি ৩,৬০,৬০৭.১৭ কোটি টাকা) সংগ্রহ করেছিল। স্পেসএক্সের পরিকল্পিত ৭৫ বিলিয়ন ডলারের ( বাংলাদেশি প্রায় ৯,১৯,৯১৬.২৫ কোটি টাকা) আইপিও সেই রেকর্ডকে অনেক দূরে ছাড়িয়ে যাবে।

বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাত নিয়ে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ এবং স্পেসএক্সের মহাকাশ ব্যবসার সম্ভাবনাই কম্পানিটির মূল্যায়নকে এত উঁচুতে নিয়ে গেছে।

তবে কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, স্পেসএক্সের ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের বড় অংশই এখনও সম্ভাবনার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার, মঙ্গল গ্রহে মানব বসতি কিংবা নতুন এআই প্রকল্পগুলোর অনেকগুলোই এখনো বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

তারপরও প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ বিশ্বের নজর এখন স্পেসএক্সের দিকেই। কারণ এই আইপিও শুধু একটি কম্পানির শেয়ারবাজারে আসা নয়, বরং মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি করছে।

ভুয়া এআই অ্যাপে তথ্য চুরির ফাঁদ, সতর্কতা ক্যাসপারস্কির

অনলাইন ডেস্ক
ভুয়া এআই অ্যাপে তথ্য চুরির ফাঁদ, সতর্কতা ক্যাসপারস্কির
প্রতীকী ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের সাইবার হুমকিও দ্রুত বাড়ছে। বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত এআই সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে পরিচালিত ৯২ হাজারের বেশি সাইবার হামলা শনাক্ত করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদের মতে, হ্যাকাররা এখন চ্যাটজিপিটি, ক্লডসহ জনপ্রিয় এআই সেবার নকল ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরি করে ব্যবহারকারীদের ফাঁদে ফেলছে। এসব ভুয়া সফটওয়্যার ডাউনলোড করার পর ব্যবহারকারীদের অজান্তেই ডিভাইসে ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার বা ব্যাংকিং ট্রোজান প্রবেশ করছে।

ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১৫ হাজারের বেশি ম্যালওয়্যার নমুনা শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন এআই টুলের ছদ্মবেশে ছড়ানো হচ্ছিল। এসব ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ এবং ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো কাজ করতে সক্ষম।

সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির গবেষকরা ‘সিলভার ফক্স’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের কার্যক্রমও শনাক্ত করেছেন। তারা উইন্ডোজ, ম্যাকওএস ও লিনাক্স ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ক্লড এআইয়ের ভুয়া সংস্করণ ছড়িয়ে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করার প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ‘শ্যাডো এআই’ নামে পরিচিত এই প্রবণতায় কর্মীরা অনেক সময় অজান্তেই প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে ফেলেন, যা হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।

নিরাপদ থাকতে যা করবেন

এআই সেবা ব্যবহারের আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন।
শুধুমাত্র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ স্টোর থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন।
অচেনা এআই অ্যাপ বা বট ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য শুধুমাত্র অনুমোদিত এআই টুলে ব্যবহার করুন।
ফোন ও কম্পিউটারে নিয়মিত আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই যত বেশি মানুষের দৈনন্দিন কাজে যুক্ত হচ্ছে, ততই ভুয়া বা নকল এআই সেবার মাধ্যমে প্রতারণা ও তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়ছে। তাই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতন থাকাও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ছবি থেকে ভিডিও বানাবে জেমিনি, এলো নতুন এআই ফিচার

অনলাইন ডেস্ক
ছবি থেকে ভিডিও বানাবে জেমিনি, এলো নতুন এআই ফিচার
প্রতীকী ছবি

গুগল তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম জেমিনিতে নতুন ভিডিও তৈরির ও সম্পাদনার সুবিধা যুক্ত করেছে। নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা শুধু লিখিত নির্দেশনা (প্রম্পট) দিয়েই ভিডিও তৈরি বা সম্পাদনা করতে পারবেন।

গুগলের নতুন ‘জেমিনি অমনি’ মডেলের মাধ্যমে টেক্সট, ছবি, অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করে সহজেই নতুন কনটেন্ট তৈরি করা যাবে। আগে জেমিনিতে ছবি তৈরি বা সম্পাদনা করা গেলেও ভিডিও তৈরির জন্য আলাদা অ্যাপের প্রয়োজন হতো। এখন সেই কাজও করা যাবে সরাসরি জেমিনির মধ্যেই।

কী করা যাবে?

ব্যবহারকারী চাইলে শুধু একটি বর্ণনা লিখেই ভিডিও তৈরি করতে পারবেন। যেমন, ‘মহাকাশে ভাসছে একটি বিড়াল’—এ ধরনের নির্দেশনা দিলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভিডিও তৈরি করে দেবে জেমিনি।

এ ছাড়া কোনো ভিডিও আপলোড করে সেটির ব্যাকগ্রাউন্ড পরিবর্তন, নতুন কোনো বস্তু যোগ করা বা বিভিন্ন অংশ সম্পাদনা করার নির্দেশও দেওয়া যাবে চ্যাটের মাধ্যমেই।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

১. প্রথমে জেমিনিতে ভিডিও আপলোড করতে হবে।
২. এরপর কী পরিবর্তন চান তা লিখে জানাতে হবে।
৩. কিছুক্ষণের মধ্যেই জেমিনি সম্পাদিত ভিডিওর প্রিভিউ দেখাবে। পছন্দ হলে সেটি ডাউনলোড করা যাবে।

এই সুবিধা স্মার্টফোনের জেমিনি অ্যাপ এবং ওয়েব সংস্করণ—উভয় জায়গা থেকেই ব্যবহার করা যাবে।

বাস্তবসম্মত ভিডিও

গুগল জানিয়েছে, জেমিনি অমনি আলো, ছায়া ও বাস্তব জগতের বিভিন্ন গতিবিধি ভালোভাবে অনুকরণ করতে পারে। ফলে এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওগুলো অনেক বেশি স্বাভাবিক ও বাস্তব মনে হবে।

থাকবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এআই ভিডিওর অপব্যবহার ঠেকাতে প্রতিটি ভিডিওতে ‘সিন্থ আইডি’ (SynthID) নামের একটি অদৃশ্য ডিজিটাল ওয়াটারমার্ক যুক্ত থাকবে। এর মাধ্যমে সহজেই বোঝা যাবে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি করা হয়েছে কি না। 

প্রাথমিকভাবে গুগলের  এআই প্রিমিয়াম গ্রাহক এবং নির্দিষ্ট ওয়ার্ক স্পেস ব্যবহারকারীরা এই ফিচার ব্যবহার করতে পারবেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই সুবিধা ভিডিও কনটেন্ট তৈরি ও সম্পাদনার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।