• ই-পেপার

জলাবদ্ধতায় প্রগতি সরণিতে তীব্র যানজট, বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, অস্ত্রসহ হামলাকারী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, অস্ত্রসহ হামলাকারী আটক
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সাইফুল ইসলাম সিজু। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতার হাতে ধরা পড়েন সন্দেহভাজন এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান গুলির ঘটনা ও একজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, হামলার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পূর্ববিরোধের জেরে এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারী ছিল দুজন, অন্যজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলামের শরীরে আজ বুধবার অস্ত্রোপচার হবে। আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল।

পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বরের চৌরঙ্গী মার্কেট এলাকার ৯৬ নম্বর বাসার প্রধান ফটকের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তাঁকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি পর পর চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। 

কারাগারে অসুস্থ কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
কারাগারে অসুস্থ কয়েদির ঢামেকে মৃত্যু
ফাইল ছবি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে শেখ আহমেদ আলী (৪৫) নামের এক অসুস্থ কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ৯টা ২০ মিনিটে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কারা সূত্রে জানা যায়, শেখ আহমেদ আলী চেকসংক্রান্ত মামলায় বন্দি ছিলেন। তার বাবার নাম শেখ সরদার আলী।

জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে অসুস্থ অবস্থায় কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে কারারক্ষী মো. হাসানসহ কয়েকজন কারারক্ষী অসুস্থ কারাবন্দি শেখ আহমেদ আলীকে মঙ্গলবার রাতে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত ৯টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। তিনি বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।

রাজধানীতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, স্ত্রী আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীতে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, স্ত্রী আটক
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে স্ত্রীর রডের আঘাতে মো. সুমন (৪২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী নাসিমা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত সুমন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী ছিলেন বলে জানা গেছে।

নাসিমা বেগমই গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনকে পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালে নাসিমা সাংবাদিকদের জানান, তার স্বামী প্রতিদিনই বাসায় বাথরুমে বসে মাদক সেবন করে। সোমবার রাতে বাসার খরচ চালানোর জন্য রাখা ১৫ শ টাকা পাচ্ছিলাম না। সে ওই টাকা নিয়ে মাদক কিনে সেবন করছিল। এসব নিয়ে আজ সকাল ১১টার দিকে বাসায় ঝগড়াঝাটি হয়। তখন সুমন আমাকে মারধর করে এবং একটি রড নিয়ে আমাকে মারার চেষ্টা করে, তখন ফেরাতে গিয়ে দস্তাদস্তির সময়ে ওই রডটি তার বুকে লেগে গিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এলে সেখানকার চিকিৎসক দুপুর ১টায় মৃত ঘোষণা করেন। নাসিমা ছিল সুমনের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার একই এলাকার অন্য একটি বাসায় ভাড়া থাকেন।

হবিগঞ্জ জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ডালুগাছ বাজারের নবী মিয়ার ছেলে। বর্তমানে নাজিমউদ্দীন রোড জমিদার গলি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক এসআই মো. সেলিম বলেন, নিহতের মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বংশাল থানাকে অবগত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বংশাল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রমেশ রায় কালের কণ্ঠকে জানান, এ ঘটনায় সুমনের স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘটনাটি কিভাবে ঘটেছে সেসব বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। 

সুমনের গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ডালুগাছ বাজার এলাকায়। বাবার নাম নবী মিয়া। বংশালের নাজিমুদ্দিন রোডের জমিদার গলির একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তারা। এদিকে ঢাকা মেডিক্যালে সুমনের প্রথম স্ত্রী ডলি আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, সুমন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকসেবন ও পারিবারিক বিষয় নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে সুমনের কলহ চলছিল। এসব বিষয় নিয়ে সে (নাসিমা বেগম) আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। 

শিল্পপতি সেলিমা আহমাদের স্মরণে ‘উই সেলিমা’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিল্পপতি সেলিমা আহমাদের স্মরণে ‘উই সেলিমা’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিডব্লিউসিসিআই) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদের স্মরণে ‘উই সেলিমা’ (ওম্যান এন্টারপ্রেনিউরস, স্কিলস, এমপ্লয়মেন্ট, লিডারশিপ, আইসিটি থ্রু মেন্টরশিপ অ্যান্ড অ্যাক্সিলারেশন) ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে।

সংগঠনটির বর্তমান নেতারা ‘নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নই প্রকৃত মুক্তির পথ’—এই দর্শন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশান ক্লাবে সেলিমা আহমাদের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া, স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তার রুহের মাগফিরাত কামনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার জীবন, কর্ম ও নারী উদ্যোক্তা উন্নয়নে অবদানের ওপর নির্মিত ‘জার্নি অব সেলিমা আহমাদ’ শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি তার স্মরণে একটি ডিজিটাল স্মারক ক্রেস্ট উন্মোচন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে বিডব্লিউসিসিআইর সভাপতি সঙ্গীতা আহমেদ বলেন, সেলিমা আহমাদের দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিরলস পরিশ্রম এবং নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে তার আজীবনের অবদান সংগঠনটির পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে। তার আদর্শ ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিডব্লিউসিসিআই কাজ করে যাবে বলেও তিনি অঙ্গীকার করেন।

অনুষ্ঠানে বিডব্লিউসিসিআইয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘উই সেলিমা’ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মতলুব আহমাদ মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে বছরব্যাপী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব বিকাশ, আইসিটি দক্ষতা, ব্যাবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি, মেন্টরশিপ, উদ্ভাবন ও বাজারসংযোগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে সেলিমা আহমাদের স্বামী ও নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান মতলুব আহমাদ আবেগঘন বক্তব্যে তার প্রয়াত সহধর্মিণীর কর্মময় জীবন ও নারী উদ্যোক্তা গড়ে তোলার অবদানের কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়া বিডব্লিউসিসিআইয়ের পরিচালক নুসরাত আমিন মির্জা ধন্যবাদ জানান। পরে উপস্থিত সবাই সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক গান ‘ধন ধান্য পুষ্প ভরা’ পরিবেশন করেন। অতিথিরা স্মৃতিচারণা বইয়ে সই, ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন এবং সৌহার্দ্য বিনিময়ে অংশ নেন।

বিডব্লিউসিসিআইর পরিচালক রিদমা খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সরাসরি ও অনলাইনে যুক্ত হয়ে সেলিমা আহমাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ভিডিও ও লিখিত বার্তা পাঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু উইলসন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার, শ্রীলঙ্কা উইমেন চেম্বার অব কমার্সের চিত্রাঞ্জলি দিসানায়েকে এবং আইসিসি ওয়ার্ল্ড চেম্বার্স ফেডারেশনের চেয়ার মেরি-ক্রিস্টিন ওগলি। এ ছাড়া স্মৃতিচারণা করেন বিডব্লিউসিসিআইয়ের বোর্ড সদস্য তানিয়া করিম, সেলিনা কাদের, প্রীতি চক্রবর্তী, লিপি খন্দকার, শাহানা জেফরিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিমা আহমাদ মারা যান।