• ই-পেপার

সীমান্তে ‘পুশ ইনের’ প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধা দলের মানববন্ধন

যাত্রাবাড়ী ও মুগদা এলাকায় ২৯ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
যাত্রাবাড়ী ও মুগদা এলাকায় ২৯ জন গ্রেপ্তার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও মুগদা থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির যাত্রাবাড়ী ও মুগদা থানা পুলিশ।

রবিবার (১৪ জুন) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) চালানো অভিযানে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে। একই দিনে মুগদা থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে আটক করে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে নিয়মিত মামলার আসামি, আদালতের পরোয়ানাভুক্ত আসামি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা রয়েছেন।

যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. কবির, জিহাদ আহম্মেদ শাওন, মো. আমির হোসেন, সফি কামাল শোভন, মো. জলিল মিয়া, মো. ইসমাইল, মৌসুমি, সিয়াম, মনোয়ার মিয়া, মো. জিসান, মো. ইউনুছ মোল্লা এবং আরও একজন সিয়াম।

মুগদা থানা এলাকায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাঈদ, মো. রাব্বি, মিজান উদ্দিন আহমেদ স্বাধীন, মো. রফিকুল ইসলাম সজীব, আবু বক্কর সিদ্দিক হৃদয়, মো. রমজান আলী বিদ্যুৎ, মো. মিরাজ, মো. জসিম, মো. আলমগীর, মো. আকাশ, হিমু, আল আমিন, মো. রফি, মো. নিজাম, আব্দুর করিম, মো. নজরুল ইসলাম এবং খাইরুল।

পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

৮ শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাকে সম্মাননা

স্বেচ্ছা রক্তদাতারা মূলত সৎকর্মেরই চর্চা করছেন : জাবি উপাচার্য

অনলাইন ডেস্ক
স্বেচ্ছা রক্তদাতারা মূলত সৎকর্মেরই চর্চা করছেন : জাবি উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেছেন, স্বেচ্ছায় যারা রক্ত দান করছেন তারা শুধু পারস্পরিক উপলব্ধি নয়, সৎকর্মেরই চর্চা করছেন। তাদের পক্ষে অসৎ চর্চা করা সম্ভব নয়।

রবিবার (১৪ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে কোয়ান্টাম আয়োজিত স্বেচ্ছা রক্তদাতা-গ্রহীতা মিলনমেলা ও তরুণ রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বেচ্ছা রক্তদাতারা তাদের সৎকর্মের এ চর্চাকে অভ্যাসে পরিণত করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উপাচার্য।

556

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তরুণ ৮ শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কৃতজ্ঞতা ও সম্মাননা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে ‘ও’ পজিটিভ গ্রুপের ৫৭ বারের স্বেচ্ছা রক্তদাতা দৌলত আল রশিদ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত নিয়মিত রক্তগ্রহীতা রকিবুল ইসলাম রুশো তাদের আবেগঘন অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের পরিচালক এম রেজাউল হাসান। অনুষ্ঠানে কোয়ান্টাম ল্যাবের পক্ষ থেকে সকল স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান আলোচকরা। পাশাপাশি দেশে রক্তচাহিদা পুরোপুরি মেটাতে তরুণ স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের মানবিক এ সেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে বিকেল থেকেই স্বেচ্ছা রক্তদাতা ও গ্রহীতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। দাতা-গ্রহীতা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, ছোট ছোট গেমস আর আনন্দময় পরিবেশে ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয়। সেখানে রক্তগ্রহীতা থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীরা এত সংখ্যক স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্বেচ্ছা রক্তদাতারাও রক্তগ্রহীতাদের মহৎ এ সেবা দিতে পেরে অপার অপার্থিব আনন্দের কথা বর্ণনা করেন। বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে স্বেচ্ছা রক্তদাতা, বিশেষ করে তরুণ দাতাদের এই উদ্বুদ্ধ করা আরো অসংখ্য নতুন দাতা তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই : হাসান হাফিজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আমরা ন্যায্যতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই : হাসান হাফিজ
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেছেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই সমতা এবং ন্যায্যতার ভিত্তিতে।’ রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন। জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে হাসান হাফিজ বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া ছিলেন সাধারণ মানুষের, মাটির সন্তান। এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। নতুন এই সরকার চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে, এখানে ফ্যাসিবাদের ষড়যন্ত্র আছে। সীমান্তে রক্ত ঝরছে। ভারতের ১২০ কোটি আর বাংলাদেশের ২০ কোটি মিলে বিশ্ব শক্তি হতে পারে, আমরা এই বয়ান গ্রহণ করতে রাজি নই।’ 

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ওপর অনেক গবেষণার অবকাশ আছে। তাকে নিয়ে গবেষণা করতে হবে, আবিষ্কার করতে হবে, পুনরাবিষ্কার ও পূনর্মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে তা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমাদের গণতন্ত্রের জন্য প্রেসিডেন্ট জিয়ার আদর্শ ও কাজের কাছে দ্বারস্থ হতে হবে।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং  যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার, সময়ের আলো পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

ক্ষুধার্তদের মুখে খাবার তুলে দিতে সায়েম সোবহান আনভীরের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
ক্ষুধার্তদের মুখে খাবার তুলে দিতে সায়েম সোবহান আনভীরের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

দিনের কোলাহল শেষে নগরীতে যখন রাতের নিস্তব্ধতা নামে ব্যস্ত শহর তখন আশ্রয় খোঁজে ঘুমের প্রশান্তিতে। কিন্তু ঠিক এই সময়ও কিছু মানুষের রাত কাটে আগামীকালের একমুঠো খাবারের অনিশ্চয়তায়। খোলা আকাশ, কংক্রিটের ফুটপাত কিংবা জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে রাত পার করায় ছিন্নমূল মানুষগুলোর জীবন আটকে আছে বেঁচে থাকার এক অনুচ্চারিত সংগ্রামে। যেখানে স্বপ্নের আগেই আসে ক্ষুধা আর প্রয়োজনের হিসাব। তবে এই অসহায় মানুষগুলোর মলিন মুখে হাসি ফোটাতে রাতের অন্ধকার মুছে শুরু হয়েছে এক পবিত্র কর্মযজ্ঞ। 

বিশাল সব চুলায় জ্বলে উঠছে দাউদাউ আগুন। কয়েক হাজার মানুষের খাবার তৈরির নিবিড় প্রস্তুতি চলে রাত থেকে একেবারে ভোর পর্যন্ত। যেখানে আলো ছড়ায় মানবতার প্রদীপ। বিরামহীন হাতে চলে ধারালো ছুরি আর বিশাল আকারের খুন্তি-হাতার একটানা ছন্দ আর জ্বলন্ত চুলার গনগনে আঁচে টকবক করে ফুটতে থাকে বিশাল সব পাত্র। তেল নুন মসলার ঘ্রাণে ভরে ওঠে আকাশ। কারো কোনো ক্লান্তি নেই, আছে শুধু প্রার্থনার মতো এক ঐকান্তিক নিবেদন যেন আহারের প্রতিটি দানায় মসলা নয়, মিশছে এক অদেখা ভালোবাসা। এ যেন শুধু খাবার তৈরি নয়, হাজারো মানুষের জীবনযুদ্ধের ক্লান্তি ভোলানোর মহৌষধ তৈরির এক পবিত্র পরিবেশনা। ভোরের স্নিগ্ধ আলো ফোটার পর রান্নার পাট চুকিয়ে শুরু হয় পরিচ্ছন্ন প্যাকেজিংয়ের কাজ। পরম যত্নে আর সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিটি প্যাকেট প্রস্তুত করা হয়। এই প্যাকেটগুলোতে শুধু খাবারই মোড়ানো থাকে না। মোড়ানো থাকে তীব্র ক্ষুধার মাঝে একচিলতে স্বস্তির প্রতিশ্রুতি। 

এরপর সকালের উজ্জ্বল আলোতে পরম সাবধানে খাবারের এই প্যাকেটগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয় এবিজি স্পোর্টস গ্রাউন্ডের নির্ধারিত স্থানে। সারি সারি প্যাকেটগুলো যেন একেকটি ভালোবাসার সওগাত যা ক্ষুধার্থদের মুখে জগৎ ভুলানো হাসি ফোটাতে অধীর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। পবিত্র জুমা পড়ে মানুষ যখন বের হয় মসজিদ থেকে, তখন শুরু হয় বিতরণ। দুস্থ-নিঃস্ব পথ-ঘাটের বাসিন্দাদের হাতে হাতে তুলে দেওয়া হয় গরম খাবার। কেউ জিজ্ঞেস করে না, তুমি কে বা কোথা থেকে এলে? এখানে শুধু এক হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। যেন আকাশ নিজেই নামিয়ে দেয় অন্যের ঝুলি। নিশ্চয়ই মানুষগুলো তুষ্টির হাসির পেছনে যিনি কাজ করছেন তিনি আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীর। 

সম্পূর্ণ নিভৃতে শুধু মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা আর ঐশ্বরিক অনুকম্পা থেকেই এই মানবিক আয়োজন পরিচালনা করে আসছেন তিনি। তার ধর্ম ক্ষুধার্তের পাতে খাবার তুলে দেওয়া। ক্লান্তমুখে প্রশান্তির হাসি ফোটানো। 

খাবার পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এক বৃদ্ধ বলেন, ‘যার উছিলায় আমাগো খাবারটা দিছে আল্লাহ যেন তারে ভালো রাখেন।’

অপর আরেক ব্যক্তি বলেন, ‘আমাদের গরিবের খাবারটা দেওয়ার তৌফিক আল্লাহ তার দিক আর আল্লাহ তার সুস্থ রাখুক, ভালো রাখুক—এই কামনাই করি।’ 

যাদের পেটের ক্ষুধার জ্বালা এই আহারে জুড়ায়, তারা হয়তো নেপথ্যের এই কারিগরকে চেনেনও না; কিন্তু তৃপ্ত মানুষের অন্তরের গভীর দোয়ায় এই নিঃস্বার্থ হৃদয় আর মহৎ উদ্যোগ বেঁচে থাকবে অনন্তকাল আর্ত মানবতার সেবায় আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ।