• ই-পেপার

সীতাকুণ্ডে শিপইয়ার্ডে চাঁদা দাবি, পুলিশের জালে যুবক

চাটমোহরে ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা

চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি
চাটমোহরে ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা
ছবি: কালের কণ্ঠ

পাবনার চাটমোহরে নাছের আলী (৪২) নামের এক ভ্যানচালককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার বোয়াইলমারী কবরস্থানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাসের মুন্সী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাছের আলী উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আগশোয়াইল টলটলিপাড়া গ্রামের মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাতে ভ্যানে যাত্রী নিয়ে ছাইকোলার দিকে গিয়েছিলেন ভ্যানচালক নাছের। সেখান থেকে চাটমোহরে ফেরার পথে বোয়াইলমারী কবরস্থানের পূর্বপাশে দুর্বৃত্তরা তাকে আটকায়। এক পর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে ও গলা কেটে পালিয়ে যায়। পরে আহত নাছের দৌড়ে পাশের সবুজের বাড়ির দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে সেখানেই পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান ভ্যানচালক নাছের।

চাটমোহর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাসের মুন্সী জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ উদ্ধার করেছে। স্থানীয়দের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করার পর স্বজনদের জানানো হয়। পরে স্বজনরা গিয়ে মরদেহ নাছেরের বলে নিশ্চিত করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

সহকারী পুলিশ সুপার আরো জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ভ্যানটি ছিনতাই করার উদ্দেশে তাকে হত্যা করা হতে পারে। তারপরও ঘটনাটি আরো খতিয়ে দেখতে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের অটোভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে।

ভানুবিল, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিনামূল্যে ত্বক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ভানুবিল, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিনামূল্যে ত্বক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান
ছবি: কালের কণ্ঠ

বিশ্ব ত্বক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ভানুবিল, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে বিনামূল্যে ত্বক স্বাস্থ্য শিবির সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল অবহেলিত মনিপুরি জাতিগোষ্ঠীসহ আশপাশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদান করা। বাংলাদেশ একাডেমি অব ডার্মাটোলজি (বি.এ.ডি.)-এর উদ্যোগে এবং ইন্টারন্যাশনাল লীগ অব ডার্মাটোলজিক্যাল সোসাইটিজ (আইএলডিএস), ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব ডার্মাটোলজি (আইএসডি) ও ওয়েলফেয়ার চার্চে ট্রাস্টের সহযোগিতায় এই স্বাস্থ্যশিবির আয়োজিত হয়।

এই শিবিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা একদল খ্যাতনামা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন ডা. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডা. সাযিয়া আফরিন, ডা. ফারিয়াল আখশান, ডা. জুয়েল গাজী, ডা. সুমিত্রা দাস গুপ্ত, ডা. ইমরান হাসান এবং ডা. নাজমুল হাসান। তাঁদের স্বেচ্ছাসেবী অংশগ্রহণের মাধ্যমে এমন জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্পন্ন চর্মরোগ সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যারা সাধারণত বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

শিবিরে আশপাশের দশটিরও বেশি গ্রামের ২০০-এর বেশি রোগী উপস্থিত হয়ে বিনামূল্যে পরামর্শ, চিকিৎসা নির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ করেন। এখানে বিভিন্ন সাধারণ ও দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং রোগীদের ত্বকের মৌলিক পরিচর্যা, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

এই উদ্যোগটি শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেনি, বরং অবহেলিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্বক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশ একাডেমি অব ডার্মাটোলজি নিয়মিতভাবে দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে চলেছে।

এই সকল উদ্যোগের মাধ্যমে বি.এ.ডি. ত্বকসংক্রান্ত চিকিৎসা সেবার বৈষম্য দূরীকরণ এবং দেশের সকল জনগোষ্ঠীর জন্য সমান স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বন্যায় তলিয়ে গেছে দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, অন্ধকারে সাজেক

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
বন্যায় তলিয়ে গেছে দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, অন্ধকারে সাজেক
ছবি: কালের কণ্ঠ

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি উঠেছে। সেজন্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা পুরো উপজেলাসহ রাঙামাটির লংগদু উপজেলা এবং সাজেক পর্যটন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। যার কারণে আকস্মিক ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার গ্রাহক।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে দীঘিনালা উপকেন্দ্র বন্ধ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

দীঘিনালা উপজেলা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এরশাদ আলী জানান,​ বন্যার পানিতে উপকেন্দ্র তলিয়ে গিয়েছে। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কেন্দ্রটি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আবারও বিদ্যুৎ চালু করা হবে।

উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এ-৩ এলাকার ইরানি পাহাড় পুলিশ ক্যাম্পের আওতাধীন খতিজাতুল মহিলা হেফজখানায় পাহাড় ও দেয়াল ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ জনে। আহত আরো ১২ জন শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

টানা বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে পাহাড়ি মাটির আঘাতে মাদরাসার দেয়াল ধসে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার সময় ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী হেফজখানায় ছিল। দেয়াল ধসে তারা চাপা পড়ে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার।

এদিকে রাতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ১৪ আর্মস পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার মো. সিরাজ আমিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিহত ৮ জন রোহিঙ্গা মাদরাসা ছাত্রীর মধ্যে ৫ জনের পরিচয় জানিয়েছেন। তারা হচ্ছে যথাক্রমে ক্যাম্প-৩-এর জি/৮৩ ব্লকের সামশুল আলমের মেয়ে শাহিদা (১৩), ক্যাম্প-৩-এর এফ/১ ব্লকের আব্দু. শুক্কোরের দুই মেয়ে উম্মে নেজাতুল (১৩) ও উম্মে সালমা (১২), ক্যাম্প-৫-এর এ/৮ ব্লকের মো. ইলিয়াছের মেয়ে ওমাইচা বিবি (১৩) এবং একই ক্যাম্পের এ/১১ ব্লকের হাসেম উল্লাহর মেয়ে রাশিদা (১৬)। অন্য তিনজনের নাম পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ক্যাম্পে পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় ৮ জন রোহিঙ্গার মৃত্যুর ৩ দিনের মাথায় বুধবারর এ ঘটনা ঘটল।

দুর্ঘটনার খবর পেয়েই উখিয়ার ইউএনও পান্না আক্তার দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় মাদরাসা থেকে মোট ২০ জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪ জন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো ৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত ১২ জনকে ক্যাম্প-৩-এর জিকে (এক) হাসপাতাল, ক্যাম্প-৫-এর ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল, ক্যাম্প-৬-এর আইআরসি (আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট) হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে নির্মিত মাদরাসাটির চারদিকে ইটের দেয়াল এবং উপরে টিন ও বাঁশের ছাউনি ছিল। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি দেয়ালে আঘাত হানলে সেটি ধসে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা আনাম জানান, পাহাড় কেটে পাহাড়ের কোল ঘেঁষে মাদরাসাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি ধসে দেয়ালের ওপর চাপ সৃষ্টি করলে সেটি ভেঙে পড়ে। এরপর স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন। মাদরাসাটিতে ১৮০ জন ছাত্রী পড়ত। তবে গতকাল ভারি বর্ষণের কারণে উপস্থিতি বেশি ছিল না, বড়জোর ৩০ থেকে ৩৫ জন উপস্থিত ছিল।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, মাদরাসাটিতে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং কথিত আরসা নেতা মৌলভি জুবায়ের এটি পরিচালনা করতেন।

প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় মোট ৩ শিফটে সেখানে রোহিঙ্গা কন্যাশিশুদের কুরআন শিক্ষা দেওয়া হতো।

তবে ঘটনার পর পরই মৌলভি জুবায়ের পালিয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।