• ই-পেপার

নেত্রকোনায় ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

রংপুরে পুলিশের অভিযানে মাদক, পরোয়ানা ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলার ১০ আসামি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরে পুলিশের অভিযানে মাদক, পরোয়ানা ও সন্ত্রাসবিরোধী মামলার ১০ আসামি গ্রেপ্তার
ছবি: কালের কণ্ঠ

রংপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদক, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া মামলার ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।

বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ। অভিযানে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার ভিত্তিতে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, কোতোয়ালি থানার অভিযানে গাঁজা সেবনের অভিযোগে নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া এলাকার বাধন ইসলাম (১৯), ইয়াকুব (২০), পূর্ব কামাল কাছনা এলাকার এনামুল হক (৪২) এবং নগরীর বালাপাড়া এলাকার রিক্তা বেগম ওরফে শাকওয়ালী (৩৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি শালবন এলাকার জুলিয়া হোসেন মর্জিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত আসামি শাপলা চত্বর এলাকার শরিফ (২৪), পলাতক আসামি শ্রী অনুপম কর বাণী এবং সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জুম্মাপাড়া এলাকার রকি মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুন্সিপাড়া এলাকার আরিফুর রহমান আরিফ (২৩) এবং শাহাবাজপুর এলাকার শাহ আলম (৩৭)কে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “রংপুর মহানগরকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত রাখতে আমাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস, চুরি, ছিনতাইসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রেপ্তার হওয়া প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের আদালতের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নগরী গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী অভিযান, পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাস দমনে বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতা ও তথ্য প্রদান অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যভিত্তিক অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ। তারা বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব হবে।

আরএমপি জানায়, নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও মাদকবিরোধী অভিযান, পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামি গ্রেপ্তার এবং সন্ত্রাস দমনে বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক
পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম
ছবি: কালের কণ্ঠ

খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও গুইমারা রিজিয়নের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় স্থানীয় জনগণের জন্য মানবিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

গত ২৫ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন জোনের উদ্যোগে স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগণের মধ্যে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ, শিক্ষা উপকরণ ও খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান, আর্থিক সহায়তা, সেলাই মেশিন প্রশিক্ষণ এবং বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এসব কার্যক্রমের আওতায় দুর্গম এলাকার শত শত পাহাড়ি ও বাঙালি উপকৃত হয়েছেন।

সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্প্রীতি, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ নিহত
প্রতীকী ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শের মোহাম্মদ (৭০) নামের এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালককে আটক করেছে পুলিশ।

নিহত শের মোহাম্মদ ভোলাহাট সদর ইউনিয়নের চরধরমপুর গ্রামের মৃত আলী জান লায়েকের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের নেকজান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল সজোরে ধাক্কা দিলে বাইসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন শের মোহাম্মদ।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ময়েন হোসেন ওরফে ময়েন (১৯) নামের এক তরুণকে আটক করা হয়েছে। তিনি উপজেলার সুরানপুর গ্রামের মো. আরমানের ছেলে।

ওসি আরো জানান, নিহতের মেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

দীঘিনালার সঙ্গে সাজেক ও লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
দীঘিনালার সঙ্গে সাজেক ও লংগদুর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ৩০টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে সড়কের বিভিন্ন জায়গা ডুবে যাওয়ার কারণে দীঘিনালার সঙ্গে রাঙামাটির সাজেক, বাঘাইছড়ি ও লংগদুর সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে বন্যার কারণে পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য ৫টি ইউনিয়নে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলার ঘোষণা দেয় উপজেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্রে অনেক পরিবার আশ্রয় নিলেও অধিকাংশরা আশ্রয় নিচ্ছে স্বজনদের বাড়িতে।

দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বেলছড়ি, বাচামেরুং, বড়মেরুং এবং ছোটমেরুং বাজার এলাকার সড়ক ডুবে যাওয়ায় মেরুং এবং লংগদুর সঙ্গে দীঘিনালার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার কবাখালি এলাকার সড়ক ডুবে যাওয়ার কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত এবং পাহাড়ি ঢলের পানি বাড়তে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়ার আশংকা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

মেরুং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মীনা চাকমা জানান, ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ২৬ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যাও বাড়ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ জানান, বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে।