• ই-পেপার

চুয়াডাঙ্গা

কাজীর লাইসেন্স বাতিল ও গ্রেপ্তার দাবি স্থানীয়দের

রংপুর

মাদরাসার নামে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা

প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
মাদরাসার নামে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা

রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি মাদরাসার নামে রেকর্ড হওয়া ৪২ শতক সরকারি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে সেখানে থাকা শতাধিক মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। 

সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, গাছ কাটা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর জেলা প্রশাসক ও মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত ২৩ জুন এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সরেজমিন উপজেলার বড় হযরতপুর ইউনিয়নের সদুরপাড়া গ্রামে গেলে এসব কথা বলেন স্থানীয়রা। এর আগে বেশ কয়েকটি গাছ কাটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ  এলাকাবাসীর। 

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদুরপাড়া গ্রামে অহেতন নেছা ইবতেদায়ী মাদরাসার নামে প্রায় ৪২ শতক জমি রেকর্ডভুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে ইউক্যালিপটাস, শালসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ রোপণ ও সংরক্ষণ করা হয়। 

স্থানীয়দের দাবি, এসব গাছের বর্তমান বাজারমূল্য ১০ লাখ টাকারও বেশি। তাদের ভাষ্য, জমিটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সম্পদও। তাদের দাবি, অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এখনো সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শাজাহান, সাজু, সাইদুলসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিটি নিজেদের দাবি করে দীর্ঘদিন ধরে দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এরইমধ্যে কয়েকটি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।  অবশিষ্ট গাছগুলোও কাটার প্রস্তুতি চলছে। 

অভিযোগের বিষয়ে শাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমার মা মাদরাসার নামে জমিটি দান করেছেন। জমির রেকর্ড মাদ্রাসার নামে হয়েছে। তবে গাছের মালিকানা নিয়ে আমাদের দাবি রয়েছে।’ 

তবে স্থানীয়রা বলছেন, জমি ও গাছ-উভয়ই সরকারি সম্পদের অংশ। 

এলাকাবাসী জানায়, বহু বছর আগে ওই জমিতে অহেতন নেছা ইবতেদায়ী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। পরে নানা কারণে মাদরাসাটি স্থানান্তর করা হলেও জমিটি এখনো মাদরাসার নামেই রেকর্ডভুক্ত। তাই জমিটির মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই বলে দাবি তাদের। 

অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সেখানে একটি ওয়াক্তের নামাজঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য রংপুর জেলা পরিষদ থেকে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের বাধার কারণে সেই প্রাচীর  নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। 

এলাকাবাসীর আরো অভিযোগ, সরকারি জমির একাংশে অবৈধভাবে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সেখানে মাদক সেবনসহ নানা  অসামাজিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। 

এছাড়া যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই সরকারি জমির একটি অংশে লাশ দাফন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বসতবাড়ির পাশেই এসব কর্মকাণ্ড চলায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা মতিয়ার রহমান বলেন, জমিটি সরকারি রেকর্ডে মাদরাসার নামে রয়েছে। এখানে অনেক কষ্ট করে গাছ লাগানো হয়েছে। কয়েকটি গাছ এরইমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত তদন্ত করে সরকারি সম্পদ রক্ষা করুক এবং দখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

গ্রামের ব্যবসায়ী একরামুল হক মণ্ডল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র জমিটি দখলের চেষ্টা করছে। এখন তারা গাছও কেটে নিতে চাইছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। আমরা চাই জমিটি দখলমুক্ত করে জনগণের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হোক।’ 

মাদরাসার শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এই জমি মাদরাসার নামে রেকর্ডভুক্ত। এটি দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা যাবে। সরকারি সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।’ 

এর আগে প্রভাবশালীরা একটি ইউক্যালিপটাস,গাছ চার হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তবে আর কয়েকটি গাছ কয়েক বছরে গাছ বিক্রি  করছে। 

অপর শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘সরকারি সম্পদ দখল কিংবা গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা যাচাই করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। আমরা চাই আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।" 

আবেদনে এলাকাবাসী সাত দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জমির মালিকানা ও রেকর্ড যাচাই করে জরুরি তদন্ত, অবৈধ দখল উচ্ছেদ,অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ, অনুমোদনবিহীন দাফনের বিষয় তদন্ত,সরকারি গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ এবং জমিটি মাদ্রাসার নামে সংরক্ষণ করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও শিক্ষা-সহায়ক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার নিশ্চিত করা। 

 রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়ে থাকলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। সরকারি জমি, সরকারি গাছ কিংবা অন্য কোনো রাষ্ট্রীয় সম্পদ কেউ অবৈধভাবে দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু চিত্তরঞ্জন পালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসী।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে বিদ্যালয়ের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভিন্ন অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন অভিভাবক ইসাহাক আলী বিশ্বাস, গোলাম মোস্তফাসহ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সেশন ফি, উন্নয়ন ফি, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন। এছাড়া সরকারি অনুদানের অর্থ ব্যয় এবং বিদ্যালয় পরিচালনায়ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তারা।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বাবু চিত্তরঞ্জন পাল প্রথমে সহকারী শিক্ষক হিসেবে গোপালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন এবং ২০০৯ সালে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ পান। এরপর থেকে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে আসছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ২০১৫ সালে ৪ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তিনি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলেও পরবর্তীতে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে আসেন। পরে ২০১৭ সালে রেজুলেশন ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে আরও ৯১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সে সময় তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, ২০২৫ সালে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে প্রাপ্ত ৫ লাখ টাকার সরকারি অনুদান আত্মসাতের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, বিদ্যালয়ে কর্মরত তিনজন নারী শিক্ষকের জন্য সমমর্যাদার বসার ব্যবস্থা না করে প্রধান শিক্ষক নিজ কক্ষে পৃথক ব্যবস্থা করেছেন, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিধিমালার পরিপন্থী বলে তারা দাবি করেন।

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার সময় সেশন ফি, পরীক্ষা ফি, বিদ্যুৎ বিল ও উন্নয়ন ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এরই প্রতিবাদে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বাবু চিত্তরঞ্জন পাল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার ফি নেওয়া হয়েছে। একটি মহল অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমার মানহানি করার চেষ্টা করছে।

নারায়ণগঞ্জ

অভিযানে গিয়ে সোনার চেইন চুরি, দুই পুলিশসহ ৪ জন কারাগারে

নারায়ণগঞ্জ সিটি প্রতিনিধি
অভিযানে গিয়ে সোনার চেইন চুরি, দুই পুলিশসহ ৪ জন কারাগারে

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদক উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে সোনার চেইন চুরির অভিযোগে করা মামলায় ফতুল্লা মডেল থানার দুই পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ।

রবিবার (৫ জুলাই) সকালে ফতুল্লা থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে যাওয়া চারজন হলেন— ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার, কনস্টেবল আফিকুল ইসলাম ও দুই সোর্স মিরাজ ইসলাম শুভ ও রানা।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে ফতুল্লার জামতলা ধোপাপট্টি এলাকার ‘আইনজীবীর বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি বাড়িতে মাদক উদ্ধারে অভিযান চালান এসআই খায়রুল বাশার ও কনস্টেবল আফিকুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে মিরাজ ইসলাম শুভ ও রানা ছিলেন। অভিযানের একপর্যায়ে আলমারির ড্রয়ার থেকে একটি সোনার চেইন চুরির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি বাড়ির লোকজন দেখতে পেয়ে পুলিশ সদস্যদের পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তারা তা দেখাতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজন চারজনকে আটক করে গণপিটুনি দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় বাড়ির মালিক সুমা আক্তার বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার পর এসআই খায়রুল বাশার, কনস্টেবল আফিকুল ইসলাম এবং দুই সোর্সকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। 

ফতুল্লা থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. মাহবুবুল আলম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠান। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

পাকুন্দিয়ায় ১ রাতে ৩ কৃষকের ৬ গরু চুরির অভিযোগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় ১ রাতে ৩ কৃষকের ৬ গরু চুরির অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক রাতেই ৩ কৃষকের মোট ৬টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৫ জুলাই) শেষ রাতে পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বরাটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে বরাটিয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলমের গোয়ালঘরের তালা কেটে একটি চোর চক্র একটি গাভী ও একটি বাছুর চুরি করে নিয়ে যায়। সকালে গোয়ালঘরের ফটকের তালা কাটা দেখে তিনি গরু চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। একই রাতে একই এলাকার অপর কৃষক রবিন মিয়ার গোয়ালঘরের টিনের বেড়া কেটে একটি গাভী ও একটি বাছুর নিয়ে যায় চোরের দল।

এর পাশাপাশি কৃষক মো. মকবুল মিয়ার একটি গাভী ও একটি বাছুরও নিয়ে যায় চোরের দল। সকালে তিনি গোয়ালঘরের টিনের বেড়া কাটা দেখে ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখেন তার একটি গাভী ও একটি বাছুর নেই। চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল। গত কয়েকমাস ধরে গরু চুরির ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক রবিন মিয়া জানান, চোরের দল আমার দুধের গাভীটি চুরি করে নিয়ে যাওয়ায় আমাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। আমি দুধ বিক্রি করে সংসার চালাতাম। 

পাকুন্দিয়া থানার ওসি এসএম আরিফুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।