• ই-পেপার

দেবীদ্বারে প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ

দোহারে রাতের আঁধারে ঘর তুলে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দোহারে রাতের আঁধারে ঘর তুলে জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকার দোহার উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর গ্রামে রাতের আঁধারে একটি পৈতৃক ও রেকর্ডভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণ করে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দোহার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জমির দাবিদার মো. জয়ধর আলী।

অভিযোগে বলা হয়, স্থানীয় সোহেল মোল্লা, রিপন মোল্লা ও লাভলু মোল্লা সোমবার (২৯ জুন) গভীর রাতে বিরোধপূর্ণ জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ শুরু করেন। বিষয়টি টের পেয়ে জমির দাবিদার জয়ধর আলী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে দোহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়।

মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে জয়ধর আলী দেখতে পান, ওই জমিতে ঘর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা চলছে। পরে জোরপূর্বক জমি দখল, হত্যার হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

জয়ধর আলীর দাবি, সিএস দাগ নম্বর ৬৭৬, ৬৭৯, ৬৮৫, ৫৯২, ৭৩৪, ৫৯৮ ও ৬৮৯-এর মোট ৫ একর ৩৯ শতাংশ জমি তাদের পৈতৃক ও রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের ‘ক’ তফসিলভুক্ত জমিকে ‘খ’ তফসিলভুক্ত সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সরকারি লিজের নামে জমি দখলের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, জমিতে কাজ করতে গেলে সোহেল মোল্লা, রিপন মোল্লা ও লাভলু মোল্লা তাকে হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

সরেজমিনে গিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে একটি ঘর নির্মাণের বিষয়টি দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুস বলেন, রেকর্ডভুক্ত এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তার দাবি, ‘ক’ তফসিলের জমিকে ‘খ’ তফসিল দেখিয়ে ভূমিহীনদের নামে লিজের দাবি তুলে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে ঘর নির্মাণের খবর পেয়ে দোহার থানার এসআই মাসুদ রানা, এসআই মাহতাব ও এসআই আজিজুল ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ চলে যাওয়ার পর আবারও ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সোহেল মোল্লা বলেন, ‘আমরা নদীভাঙা মানুষ। সরকার আমাদের লিজ দিয়েছে বলেই এখানে আছি। আইনের দৃষ্টিতে যদি আমাদের দাবি সঠিক না হয়, তাহলে জায়গা ছেড়ে দেব। যদি এটি সত্যিই জয়ধর আলীর সম্পত্তি হয়, তাহলে সরকার আমাদের লিজ দিল কেন? আমরা গরিব মানুষ, সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’

তিনি আরো দাবি করেন, তিনি ‘খ’ তফসিলের ভিত্তিতে সরকারি লিজ পেয়েছেন। প্রকৃত মালিকানা ও লিজের বৈধতা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর কেউ পুনরায় কাজ করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জমি নিয়ে উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবির কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

পদ্মায় গোসলে নেমে ২ কিশোরের মৃত্যু, নিখোঁজ ১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
পদ্মায় গোসলে নেমে ২ কিশোরের মৃত্যু, নিখোঁজ ১
ছবি : কালের কণ্ঠ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলো, রিফাত আলী (১৬) ও রাসেল (১৭)। রিফাত সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা হাজীপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। আর রাসেল একই ইউনিয়নের বইড়পাড়া গ্রামের আলমের ছেলে। দুজনই সুন্দরপুর সুবাগ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্র। 

স্থানীয়রা জানায়, রিফাত ও রাসেলসহ ৪-৫ জন বন্ধু বাইসাইকেল চালিয়ে পদ্মা নদীর আলিমনগর ঘাটে গোসল করতে যায়। সেখানে পানিতে ডুবে দুজন মারা যায়।

অপরদিকে মহানন্দায় মাছ ধরতে নেমে জেলা শহরের আরামবাগ মহল্লার রহুল আমিনের ছেলে সাকিরুল হক (৩৩) নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি দুবাইপ্রবাসী। মাসখানেক আগে বাড়ি ফিরে দুই বন্ধুকে নিয়ে শখ করে শহরের রেহাইচর এলাকায় মহানন্দা রাবার ড্যাম এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে নিখোঁজ হন সাকিরুল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার সাঈদ হাসান শুভ বলেন, দুপুর ২টার দিকে পদ্মায় ডুবে যাওয়ার পর রাজশাহী থেকে ডেকে আনা ডুবুরি দল সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রিফাতের এবং সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রাসেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মহানন্দায় নিখোঁজ সাকিরুলের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী নৌ পুলিশ স্টেশন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জীবন চন্দ্র বলেন, পুলিশ দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অপরদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে মহানন্দায় নিখোঁজ যুবককে খোঁজা চলছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একরামুল হোসাইন বলেন, পদ্মায় ডুবে রাসেল ও রিফাত নামের দুই কিশোর মারা গেছে। অপরদিকে মহানন্দায় ডুবে নিখোঁজ হয়েছে সাকিরুল নামে এক যুবক। নৌ পুলিশ ঘটনাগুলোর তদন্ত শুরু করেছে।

রংপুরে কাঁচা মরিচের ঝাল, স্বস্তি ডিম ও চালে

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরে কাঁচা মরিচের ঝাল, স্বস্তি ডিম ও চালে
ছবি : কালের কণ্ঠ

রংপুরের খুচরা বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে নিত্যপণ্যের দামে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র। বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কাঁচা মরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বেগুন, ধনেপাতা, শসা ও দেশি আদার দাম। তবে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, ডিম, বিভিন্ন ধরনের মুরগি এবং প্রায় সব ধরনের চালের দাম কমেছে। মাছ, গরু ও খাসির মাংস, ডাল, আটা-ময়দাসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

মঙ্গলবার (৩০ জুন) রংপুর নগরীর পৌরবাজার,ধাপ, কামালকাছনা, লালবাগ, শাপলা ও মুলাটোল বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৫০-৬০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ৩৩০-৩৪০ টাকা থেকে কমে ৩২০-৩৩০ টাকা, পাকিস্তানি হাইব্রিড ৩১০-৩২০ টাকা থেকে কমে ২৮০-৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৮০-৬০০ টাকা থেকে কমে ৫৫০-৫৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি লেয়ার মুরগির দাম অপরিবর্তিত থেকে ৩৩০-৩৪০ টাকা রয়েছে।পোলট্রির লাল ডিমের হালি ৩৫-৩৬ টাকা থেকে কমে ৩২-৩৪ টাকায় নেমেছে। অন্যদিকে গরুর মাংস ৭২০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

শাপলা বাজারের ডিম বিক্রেতা সামছুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম আরও কমেছে। ছোট ডিমের হালি ৩২-৩৩ টাকা এবং বড় ডিম ৩৪-৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।এক মাস আগেও একই ডিম ৪৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল। সবজির বাজারে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে কাঁচামরিচে। গত সপ্তাহে ৫০-৬০ টাকাকেজি বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ১৪০-১৬০ টাকা, শসা ৫০-৬০ টাকা, চিকন বেগুন ৫০-৬০ টাকা, গোল বেগুন ৬০-৭০ টাকা, কচুরমুখী ৫০-৬০ টাকা এবং ধনেপাতা ১৮০-২০০ টাকায় উঠেছে। দেশি আদার দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০-২০০ টাকা।

অন্যদিকে গাজর, দুধকুষি, পেঁপে ও বরবটির দাম কমেছে। কাঁকরোল, ঝিঙা, পটল, ঢ্যাঁড়স, করলা, লাউ, কচুরলতি, বিভিন্ন শাক, মিষ্টিকুমড়া, আলু ও শুকনো মরিচের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

মুলাটোল বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল মোতালেব বলেন, ‘দুই একটি সবজির দাম বাড়লেও বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল। তবে কাঁচামরিচের দাম হঠাৎ বেড়েছে। সোমবার যে মরিচ ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি করেছি, মঙ্গলবার পাইকারিতেই ৯০-১০০ টাকা কেজি কিনতে হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে। তাই বাজারে দাম বেড়েছে। চালের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে।

প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা কমেছে। স্বর্ণা (মোটা) ৪৮-৫০ টাকা, স্বর্ণা (চিকন) ৫৫-৫৮ টাকা, বিআর-২৮ ৬০-৬৫ টাকা, বিআর-২৯ ৫৫-৬০ টাকা, জিরাশাইল ৫০-৬০ টাকা এবং মিনিকেট ও নাজিরশাইল ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫-২১০ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২২০ টাকা, মসুর, মুগ ও ছোলার ডাল, আটা, ময়দা ও চিনির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। রুই, কাতল, টেংরা, পাবদা, পাঙাশ, তেলাপিয়া, মৃগেল, সিলভার কার্পসহ প্রায় সব ধরনের মাছ আগের দামে বিক্রি হচ্ছে।

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসনের নিয়মিত বাজার তদারকি অব্যাহত রয়েছে। কোথাও যেন কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো না হয়, সে বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।বৃষ্টিজনিত কারণে কিছু কৃষিপণ্যের সরবরাহে সাময়িক প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব পণ্যের দামও স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে বলে আমরা আশা করছি। বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা মজুতদারির অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দোহারে ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দোহারে ডাকাতদলের সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দোহার উপজেলায় খলিল বেপারী (৩৯) নামের ডাকাতদলের সক্রিয় এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক।

গ্রেপ্তার খলিল বেপারী উপজেলার বটিয়া এলাকার মোন্নাফ বেপারীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে দোহার থানার এসআই আতাউর রহমান, এএসআই সাইফুল ইসলাম ও এসআই সুমন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

দোহার থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।