• ই-পেপার

বদলি আদেশের পরও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না ইউএনও খসরুর

দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে কুমিল্লায় পুলিশ কর্মকর্তা আহত

কুমিল্লা প্রতিনিধি
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে কুমিল্লায় পুলিশ কর্মকর্তা আহত
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা নগরীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মো. শরীফ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। নগরীর থিরাপুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার কালের কণ্ঠকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আহত মো. শরীফ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার গভীর রাতে নিয়মিত পেট্রোল ডিউটির সময় থিরাপুকুরপাড় এলাকায় একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে আতশবাজি ফাটিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছিল। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাদের নির্বৃত্ত করার চেষ্টা করলে ভিড়ের মধ্যে থাকা অজ্ঞাত এক দুর্বৃত্ত পেছন থেকে এএসআই শরীফের পিঠে ছুরিকাঘাত করে।

ঘটনার পর সহকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি ডাক্তারের পরামর্শে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, পুলিশের নিয়মিত ডিউটি চলাকালে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাকে অতিথি না করায় শিক্ষকের অবসরজনিত সভায় হামলা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
ঈশ্বরদীতে বিএনপি নেতাকে অতিথি না করায় শিক্ষকের অবসরজনিত সভায় হামলা
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে অতিথি না করাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকরা।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলায় কেউ আহত না হলেও প্লাস্টিকের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, অনুষ্ঠানের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা হয়। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিইও) মোছা. শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) মো. কামরুজ্জামান শেখ, জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

তার অভিযোগ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে আমন্ত্রণ না দেওয়ায় তার সমর্থক হিসেবে পরিচিত উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামানিকসহ ১২-১৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে অনুষ্ঠানের মঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা এবং খাবার নষ্ট করে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেয়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, দলীয় কোন্দলের কারণে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো রাজনৈতিকভাবে নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার বলেন, ‘অতিথিরা পৌঁছানোর আগেই হামলা চালিয়ে অনুষ্ঠানটি পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামানিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া এলাকায় বিএনপির বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের মতে, এ ঘটনার পেছনেও সেই অভ্যন্তরীণ বিরোধের প্রভাব রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে ৩ দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাওনা টাকা নিয়ে ৩ দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধে শুরু হওয়া সংঘর্ষ তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। তিন দিন ধরে বিরতি দিয়ে চলতে থাকা এ সংঘর্ষে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘অচল’ হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল থেকে দুপুর নাগাদ হওয়া সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। পরে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সূর্যকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ মিয়া পার্শ্ববর্তী ধর্মতীর্থ গ্রামের খাদিম মিয়া, আলাল ও আশিকের কাছে এক লাখ টাকা পাবেন বলে দাবি করেন। খাদিম মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত রবিবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে কালিকচ্ছ বাজার এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এতে মো. খাদিম মিয়া নিহত হন। আহত হন অন্তত ৩০ জন। ওই ঘটনার জেরে খাদিমের জানাজার নামাজের পর সোমবার বিকেল থেকে আবারও সংঘর্ষে জড়ায় দুই গ্রামবাসী। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ সময় সরাইল থানার ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার চোখে ঢিল পড়ে আহত হন। দুইদিনের রাতের সংঘর্ষের সময় টর্চলাইটের আলো ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে আজ মঙ্গলবার সকালে সূর্যকান্দি ও ধর্মতীর্থ গ্রামের লোকজন আবারও সংঘর্ষে জড়ায়। এতে অন্তত ৪০ জন আহত হয়। সংঘর্ষকারীরা আগের দুই দিনের মতোই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসে। এ সময় লুটপাটের ঘটনা ঘটে। থানা ও রিজার্ভ পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করে। 

এরপর দুপুরের দিকে স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সংঘর্ষ থামানোর জন্য মাইকে ঘোষণা দেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে তারা আশ্বস্ত করেন। পরে দুপুরের দিকে সংঘর্ষ থামে। তবে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকেল নাগাদ সংঘর্ষস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল।

সংঘর্ষস্থল উপজেলা কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় অচল হয়ে যায় উপজেলার একটি অংশ। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সরাইল-নাসিরনগর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় দোকানপাট। আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও লেনদেন একপ্রকার বন্ধ হয়ে যায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাসপাতালে যেতে পারেননি রোগীরা।

সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মাইক নিয়ে সংঘর্ষ থামানোর জন্য অনুরোধ করা হয়। দুপুরের দিকে সংঘর্ষ থামে। এখন আর সমস্যা হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিক্তি পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. ওবায়দুর রহমান জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংঘর্ষস্থলে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ইবি শিক্ষিকা রুনা হত্যা তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্তে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়। কমিটিকে উপাচার্যের নিকট দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার জন্য বলা হয়েছে।

কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীকে আহ্বায়ক এবং একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মাছুদুল হক তালুকদারকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (পিআরএল) ড. আশরাফুর রহমান ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

জানা যায়, গত ৪ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে শিক্ষিকা রুনার নিজ কক্ষে কর্মচারী কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে ৭ মার্চ এ ঘটনা তদন্তে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মওলাকে সদস্যসচিব করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির রিপোর্টের আলোকে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে প্রশাসন।