• ই-পেপার

নড়াইলে রং-তুলির আঁচড়ে ভোঁদড় দিবস উদযাপন

প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নান্দাইলে সংস্কার হচ্ছে বেহাল সড়ক

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে নান্দাইলে সংস্কার হচ্ছে বেহাল সড়ক
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহ-৯ নান্দাইল আসনের এমপি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়া ময়মনসিংহের নান্দাইলের মধুপুর-দেওয়ানগঞ্জ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শন করে বৃহস্পতিবার থেকে বেহাল সড়কের দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নান্দাইলের বীরবেতাগৈর ইউনিয়ন দিয়ে বয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকায় সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ ব্যাপক ভাইরাল হয়ে যায়। আর এ ঘটনাটি দৃষ্টিগোচর হয় এ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর। গতকাল বুধবার তিনি নিজের ফেইসবুক আইডিতে ওই সড়কের ছবিসহ নিজের বক্তব্য তুলে ধরে জনসাধারণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দেন। এ অবস্থায় তাৎক্ষণিক ভাবে সওজ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিলে পরদিনই সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের লোকজন ওই বেহাল সড়কটিতে এসে কাজ শুরু করেন।

vv

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত প্রায় চার বছর আগে দুইটি প্যাকেজে মোট ২৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪২ কিলোমিটার সড়কটি কাজ করা অবস্থাতেই তাহের ব্রাদার্স নামক ঠিকাদারের অবহেলায় থমকে যায়। এর মধ্যে বিভিন্ন জায়গায় রাস্তা খোঁড়া থাকায় চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাতের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে চলতি বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে ভরপুর হয়ে আছে সড়কটি। ফলে বিক্ষুব্ধ লোকজন সড়কটি সংস্কারে চেষ্টা তদবির চালিয়েও কোনো কিনারা পাচ্ছিলেন না। আর এ ঘটনাটি বিভিন্ন ফেইসবুক আইডিতে ব্যাপক প্রচার হলে প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর নজরে এলে তিনি অতিদ্রুত পদক্ষেপ নেন। এলাকার লোকজন জানান, এই সড়ক ছিল গলার কাঁটা। প্রতিমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপে অবশেষে স্বস্তি এসেছে। 
 

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন

মাদক সেবনের অভিযোগে ২ যুবকের মাথা ন্যাড়া করল এলাকাবাসী

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
মাদক সেবনের অভিযোগে ২ যুবকের মাথা ন্যাড়া করল এলাকাবাসী
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুরে মাদক সেবনের অভিযোগে গ্রাম পুলিশসহ দুই যুবকের মাথার চুল কেটে দিয়েছেন এলাকাবাসী। গত বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। 

দুই যুবক হলেন– চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সালেপুর পশ্চিম গ্রামের গ্রাম পুলিশ মো. লালন খান (২৬) ও একই গ্রামের বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল (২২)।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, চর হরিরামপুর ইউনিয়নের আব্দুল হাই খানের হাটের একটি দোকানে বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল হক ও চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মোকা মৃধার মাঝখানে গ্রাম পুলিশ লালন খান বসে আছেন। এ সময় লালন খানের হাতে দুটি সিগারেট ছিল। পরে মোবাইলে ভিডিও হচ্ছে দেখে তিনি সিগারেট ফেলে দেন। ওই সময় বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল গ্রাম পুলিশকে প্রশ্ন করেন, গাঁজা-ইয়াবা খাস কেন? কই থেকে কিনিস? তোকে শেল্টার দেয় কে? এসব প্রশ্নের কিছু উত্তর নিচু গলায় গ্রাম পুলিশ লালনকে দিতে দেখা যায়। 

ভাইরাল হওয়া অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রাম পুলিশ লালন ও যুবক শেখ রিয়াজুলকে বসিয়ে একটি ট্রিমার দিয়ে লালনের মাথার চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয় এবং রিয়াজুলের কপাল থেকে মাথার উপরের অংশ পর্যন্ত চুল কেটে ন্যাড়া করা হয়। 

এ বিষয়ে চর হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক খান বলেন, ‘এলাকার ছেলেরা গ্রাম পুলিশ লালনকে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ধরে বাজারে নিয়ে আসে। সেখানে আমি উপস্থিত থাকায় তাকে শাসিয়েছি। তবে চুল যখন কাটা হয় তখন আমি উপস্থিত ছিলাম না।’

চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এই ভিডিও দুটি আমি দেখেছি। কারো বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণের অভিযোগ থাকলেই তাকে হেনস্তা করার অধিকার কারো নেই। এটা যারাই করেছেন তারা অন্যায় করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারটি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করেছি। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 

মেহেরপুর সীমান্তে ফের ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা

মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুর সীমান্তে ফের ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা
সংগৃহীত ছবি

মেহেরপুরের গাংনী সীমান্তে ফের ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় বিএসএফ। শুক্রবার ভোরে উপজেলার কাথুলী ইউনিয়নের রাধাগোবিন্দপুর ধলা সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টা করে তারা। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থান ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে তাদের ফেরত নেয় বিএসএফ। 

ধলা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার হাবিলদার শিশির কুমার সরকার বলেন, ‘ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার করিমপুর থানার বুড়িপোতা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা গেট খুলে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি ও গ্রামবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশের প্রবেশ করতে পারেনি। পরে বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে আলোচনার পর ওই তিনজনকে ফেরত নেয় বিএসএফ।’

প্রসঙ্গত, চলতি মাসে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ তিন দফায় ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে। বিজিবি ও গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
 

ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি আটক

শেরপুর প্রতিনিধি
ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা, নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশি আটক
সংগৃহীত ছবি

শেরপুরের শ্রীবরদী সীমান্তের চোরাপথে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে নারী-শিশুসহ ৯ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের কর্ণজোড়া বিওপির টহলদল শ্রীবরদী উপজেলার হারিয়াকোনা সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতর থেকে তাদের আটক করে। পরে রাত ৯টার দিকে আটক ব্যক্তিদের শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আটকরা হলেন ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার আন্ধিরপাড়া গ্রামের আপন জলদাস (৩০), নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার আঠারবেকী গ্রামের নয়নতারা (২৫), চর আমানউল্লাহ গ্রামের বিজয় হরি জলদাস (৪৬), লম্বরিয়া গ্রামের সুলক্ষী (৪২) এবং লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার বড়খেরী গ্রামের বীনা দাস (৩১)। এ ছাড়া আটকদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। 
বিজিবি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি মানবপাচারকারী চক্র জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে শেরপুর সীমান্তের চোরাপথে তাদেরকে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। স্থানীয় মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য সুমন মিয়া, মো. সাজু, মো. আজিবর ও কালু মিয়ার সঙ্গে জনপ্রতি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভারতে নেওয়ার মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। বুধবার রাতে তারা ঢাকা থেকে শেরপুরে এসে পৌঁছান। পরে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১০৯৫-এর প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে শ্রীবরদী উপজেলার হারিয়াকোনা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে তারা অবস্থান নেন। বিজিবির কঠোর নজরদারির কারণে বুধবার রাতে তারা সীমান্ত অতিক্রম করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ভারতে প্রবেশের পরিকল্পনা ছিল। তবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপির একটি টহলদল অভিযান চালিয়ে হারিয়াকোনা পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তাদের আটক করে।

শ্রীবরদী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আটক ৯ জনের মধ্যে তিনজন নারী ও চারজন শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান চলছে।’