• ই-পেপার

এবার গৌরীপুরে আন্তঃনগর বিজয় এক্সপ্রেসের ৩ বগি লাইনচ্যুত

দোকানঘর নির্মাণের বিরোধে ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক
দোকানঘর নির্মাণের বিরোধে ছাত্রলীগ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় দোকানঘর নির্মাণের বিরোধের জেরে বাবু রাঢ়ী (২৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৪ জুন) ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এ বিরোধের জেরে বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্থানীয় বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

বাবু রাঢ়ী নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তার কোনো পদ-পদবি ছিল না।

বাবু রাঢ়ীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিম সাদেকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নিজ জমিতে দোকানঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিরোধ চলছিল বাবু রাঢ়ীর। মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এ বিরোধের জেরে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে স্থানীয় বজলু বয়াতী, জাহাঙ্গীর মাল, শহীদ পোদ্দার, নয়ন পোদ্দারসহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল তাঁর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।

স্বজনদের দাবি, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক মারধর করে বাবুর মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং হাত-পা ভেঙে ফেলে। প্রতিবেশী এক নারীর মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহত বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী ঘটনাস্থল থেকে ছেলেকে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে প্রথমে তাকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক অবস্থার অবনতি দেখে রাত ১০টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১২টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢামেকে পৌঁছানোর পর ভোর ৪টার দিকে চিকিৎসা শুরুর আগেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত বাবুর বাবা দুলাল রাঢ়ী বলেন, আমার ছেলেকে ৮-৯ জন মিলে নির্মমভাবে পিটিয়েছে। মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সে ছিল দ্বিতীয়। এইচএসসি পাস করেছিল।

নিহত বাবুর চাচা খোরশেদ রাঢ়ী বলেন, নিজের জমিতে দোকানঘর তুলতে গেলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। প্রায় এক মাস আগেও বাবুকে মারধর করা হয়েছিল। এবার তারা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত বাবু রাঢ়ী ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন উল্লেখ করে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি নীরব ব্যাপারী বলেন, বাবু আমাদের সংগঠনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তবে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থাকায় তাকে কোনো পদে অধিষ্ঠিত করা যায়নি। তাকে কারা, কীভাবে হত্যা করেছে, পুলিশের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই উল্লেখ করে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন দীপেন বলেন, আমরা যত দূর শুনেছি, জমি নিয়ে স্থানীয় দ্বন্দ্বের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।

হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে সাদেকপুরসহ আশপাশের এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, বাবু রাঢ়ী ছিলেন শান্ত স্বভাবের এবং সবার সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রেখে চলতেন। সামান্য বিরোধের জেরে একজন তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। তাঁরা দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি জানিয়েছেন।

মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিন উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেরপুরে সিএনজি-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ: ডিবি পুলিশের ৮ সদস্য আহত

শেরপুর প্রতিনিধি
শেরপুরে সিএনজি-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ: ডিবি পুলিশের ৮ সদস্য আহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

শেরপুরে যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশার সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আট পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার সংবাদ জানা গেছে। বুধবার (২৪ জুন) আনুমানিক রাত ৮টার দিকে শ্রীবরদী-কুরুযা সড়কের শ্রীবরদী উপজেলার ভারেরা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। মাইক্রোবাসে করে ডিবি’র সদস্যরা একটি অভিযানে বের হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। 

আহতদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি থাকা আহতদের মধ্যে ডিবি পুলিশ সদস্য শুভ্র ও মহসিন রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিবি পুলিশের গাড়িটি নিয়মিত দায়িত্ব পালন শেষে শেরপুর শহরের দিকে ফিরছিল। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী সিএনজিচালিত অটোরিকশা রাস্তার ওপর থাকা প্রতিবন্ধকতা এড়াতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসময় ডিবি সদস্যদের বহনকারী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ডিবি সদস্যদের বহনকারী নোহা মাইক্রোবাসটি রাস্তার পাশের গর্তে উল্টে পড়লে  ভেতরে থাকা আরোহীরা গুরুতর আঘাত পান। দুর্ঘটনায় সিএনজি অটোরিকশা এবং পুলিশের গাড়িটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি ডিবি রেজাউল ইসলাম খান দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সড়কের ওপর অপরিকল্পিতভাবে কনস্ট্রাকশন কাজের সামগ্রী স্তুপ করে রাখার কারণেই মূলত: এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। রাতের অন্ধকারে এই প্রতিবন্ধকতা চালকদের দৃষ্টিসীমা ব্যাহত করে এবং গাড়ি দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষে পতিত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কের সংস্কার বা নির্মাণ কাজের জন্য একপাশে খনন করা এবং কিছু অংশে নির্মাণ সামগ্রী রাস্তার ওপর স্তুপ করে রাখা হয়েছিল। তাছাড়া সেখানে কোনো সতর্কীকরণ চিহ্নও ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার একপাশে খনন করে রাখা ও রাস্তার ওপর এই সামগ্রী রাখার ফলে যান চলাচলের পথ অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। যে কারণে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। এর আগেও কয়েকবার এমন দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারীরা।

খুলনায় নিজ বাড়িতে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু

দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা থানা হেফাজতে

খুলনা অফিস
খুলনায় নিজ বাড়িতে বৃদ্ধার রহস্যজনক মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

খুলনায় রহস্যজনকভাবে মৃত মমতাজ বেগম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। 

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে নগরীর খালিশপুরের উত্তর কাশিপুর কবরস্থান রোডের ডাক্তার বাড়ি নামক একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত নারীর প্রতিবেশী ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নগরীর খালিশপুরের উত্তর কাশিপুর কবরস্থান রোডের ডাক্তার বাড়ি নামের বাসার নিজ কক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যরা মমতাজ বেগমের লাশ উদ্ধার করে। এসময় তার চোখমুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল।

এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে দাগের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের ঘর থেকে সোনার গহনা, টাকা ও ব্যাংকের চেক বই খোয়া গেছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে প্রতিবেশীদের না জানিয়ে তার বড় ছেলে মাসুম ও ছোট ছেলে হোমিও চিকিৎসক মেহেদী হাসান সোহাগ তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের উদ্যোগ নেন। ঘটনাটি এলাকার মানুষের সন্দেহ হলে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ছাড়া পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত মমতাজ বেগমের দুই ছেলেসহ পরিবারের সদস্যদের থানা হেফাজতে নিয়েছে।

স্বজনদের দাবি, খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম জাবীদ হাসান জানান, মমতাজ বেগমের মৃত্যর ঘটনাটি রহস্যজনক। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া তার দুই ছেলে মাসুম ও মেহেদী হাসান সোহাগসহ পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

ওসি বলেন, প্রতিবেশীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের দুই নারীকে কারাদণ্ড
সংগৃহীত ছবি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে তাদের প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টার দিকে দালালির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটকরা হলেন- উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরশিহারী গ্রামের রাসেল মিয়ার স্ত্রী দিল রুবা সুলতানা (২৫) ও সোহাগী ইউনিয়নের ভালুকবেড় গ্রামের মৃত আবুল কালাম মেয়ে পলি আক্তার (২২)।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে বাইরে নির্দিষ্ট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার কিংবা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ছিল একটি দালালচক্রের বিরুদ্ধে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নজরদারি বাড়ানো হয়।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় দুই নারীকে দালালির কর্মকাণ্ডের জড়িত অবস্থায় শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান। আদালত দুই নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন এবং হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী ও ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ টিম।