• ই-পেপার

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে রংপুরের ২০ স্থানে একযোগে মানববন্ধন

দেবীদ্বারে চামড়াবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে চালক নিহত

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দেবীদ্বারে চামড়াবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে চালক নিহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ব্রিজে উঠতে গিয়ে চামড়াবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চালক নিহত ও আরো দুজন আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে।

শনিবার (২০ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার খলিলপুর বাজারের পূর্বপাশের ব্রিজে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। চামড়া বোঝাই ট্রাকটি ঢাকাগামী ছিল।

নিহত ট্রাকচালক সোহেলের বাড়ি গাজীপুর, আহত হেলপার মনিনের বাড়ি সিরাজগঞ্জ এবং আরেকজনের নাম জানা যাইনি। তবে আহতরা সামান‍্য আঘাত প্রাপ্ত হন। 

দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার থানার একদল পুলিশ ও মুরাদনগর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এসে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে রেকার আসার অপেক্ষায় ট্রাকের নিচে পড়ে থাকা চালকের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না।

শনিবার দিবাগত রাত ১টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ট্রাক চালকের মরদেহ ট্রাকের নিচে আটকা পড়ে আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রেকার আসার অপেক্ষায় আছেন। রেকার আসলেই ট্রাক ও লাশ উদ্ধার করা হবে। বাকি দুজন সামান্য আঘাতপ্রাপ্ত, এখনো ট্রাকটি রেকার দিয়ে উঠানো হয়নি।

মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, আমাদের ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করছেন। রেকার আসলে ট্রাক ও ট্রাকের নিচে আটকে থাকা লাশ উদ্ধার করা হবে।

এ ব‍্যাপারে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, উপজেলার খলিলপুর বাজারের পূর্ব পাশের ব্রিজে উঠতে গিয়ে চামড়া বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করা সম্ভব হলেও রেকার আসায় বিলম্বিত হওয়ায় লাশ এখনো ট্রাকের নিচে পড়ে আছে।

কুমিল্লা

ট্রাকের নিচে পড়ে চালক নিহত, হাত-পা দেখা গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
ট্রাকের নিচে পড়ে চালক নিহত, হাত-পা দেখা গেলেও এখনো উদ্ধার হয়নি
চামড়াবোঝাই ট্রাক উল্টে খাদে। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লায় চামড়াবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে খাদে পড়ে চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপার ট্যানারি কর্মচারীসহ ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নিহত চালকের নাম মো. সোহেল রানা। তিনি গাজীপুর জেলার বাসিন্দা। রাত ১২টা বাজলেও তার মরদেহ ট্রাকের নিচ থেকে উদ্ধার করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

শনিবার (২০ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের খলিলপুর বাজারের পূর্বপাশে কালভার্টে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।

আহতরা হলেন ট্যানারি কারখানার কর্মচারী পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার রতন সর্দারের ছেলে মো. সোহেল সর্দার ও ট্রাকের হেলপার মো. মনির হোসেন ও খলিলপুর গ্রামের চামড়া ব্যবসায়ী মো. সফিকুল ইসলামের ছেলে মো. সুমন মিয়া।

স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান বাবুল জানান, ঈদের পর স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মো. সফিকুল বিভিন্ন স্থান থেকে চামড়া সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে সংরক্ষণ করে রাখেন। শনিবার রাতে এসব চামড়া ঢাকার ট্যানারিতে পাঠানোর জন্য একটি ট্রাক ভাড়া করে আনেন। চামড়া বোঝাই করে ট্রাকটি রওনা দিলে খলিলপুর বাজারের পূর্বপাশে একটি কালভার্টে ওঠার আগেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খাদে উল্টে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও দেবীদ্বার থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। এসময় আহত দুইজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তবে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে চালক ঘটনাস্থলেই মারা যান।

চামড়া ব্যবসায়ী মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদের পর চামড়া সংগ্রহ করে বাড়িতে সংরক্ষণ করে শুকিয়েছি। আজ রাতে চামড়াগুলো ঢাকায় ট্যানারিতে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। খলিলপুর বাজারের পাশে কালভার্টে এসে ট্রাকটি উল্টে যায় খাদে পড়ে যায়। ট্রাকে প্রায় ১ হাজার চামড়া ছিল, চালক এখনো নিচে পড়ে আছে।

মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের লিডার মো. জসিম উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ট্রাকটি উল্টে চালক ঘটনাস্থলে মারা গেছে। পুরো ট্রাক চামড়ায় লোড করা ছিল। রেকারের জন্য আমরা কল করেছি। রাস্তা সরু হওয়ায় রেকার এখানে আসা সম্ভব নয়। এখন স্থানীয়রা চামড়াগুলো ট্রাক থেকে নামাচ্ছেন। আমরা চালকের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা করছি। ট্রাকের নিচে তার দুই হাত দেখা গেছে।

ওসি মো. মনিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুইজনকে উদ্ধার করে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ট্রাকের নিচে চাপা পড়ায় চালককে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান।

 

কালীগঞ্জে ১৯৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
কালীগঞ্জে ১৯৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ১৯৫ পিস ইয়াবাসহ রতন আলী (৪০) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২০ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে শহরের কলেজপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক রতন আলী ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোপালপুর গ্রামের ইদ্রিস মল্লিকের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল শহরের কলেজপাড়া মাঠ এলাকায় অভিযান চালায়। এসময় রতন আলীকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করে তার দেহ তল্লাশি করা হলে ১৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদকের কারবার কিংবা এর সঙ্গে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। 

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ধানবোঝাই ভ্যানকে ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কালাইয়ে আহত নারীসহ ১১

কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
ধানবোঝাই ভ্যানকে ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, কালাইয়ে আহত নারীসহ ১১
ছবি: কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় রাস্তার ওপর ধানবোঝাই ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সামান্য কথা কাটাকাটির জেরে শুরু হওয়া বিরোধ মুহূর্তেই রূপ নেয় সংঘর্ষে। এতে এক নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

আহতরা হলেন— মাহমুদুল হাসান মেহেদুল, আবু জাফর মো. সৌরভ, তুষার হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আরাফাত হোসেন, আরিফুল ইসলাম, আতিকুল ইসলাম, আব্দুল মোত্তালেব, হবিবর রহমান, দুদু মিয়া ও মজিদা বিবি। তাদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম ও আবু জাফর মো. সৌরভ গুরুতর আহত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় ভ্যানচালক আতিকুল ইসলাম তার ভ্যানে ধানবোঝাই করে রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসময় গ্রামের ভেতর থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাইগুনী চারমাথা বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন আবু জাফর মো. সৌরভ। তালোড়া বাইগুনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে এসে তিনি রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ধান বোঝাই ভ্যানের কারণে আটকে যান। এরপর তিনি টানা হর্ন বাজাতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হর্নের শব্দে বিরক্ত হয়ে আতিকুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালককে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেন এবং ভ্যান সরানোর চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের স্বজন ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।

আহত আতিকুল ইসলামের মামা জহুরুল ইসলাম বলেন, আমার ভাগ্নে দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। ধান বোঝাই ভ্যান সরাতে কিছুটা সময় লাগবেই। সে শুধু একটু সময় চেয়েছিল। কিন্তু মোটরসাইকেল চালক কোনো কথা না শুনেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ভাগ্নেকে মারধর করে। পরে তাদের লোকজন এসে আরো কয়েকজনকে মারধর করে আহত করে। আমার ভাগ্নের অবস্থা গুরুতর, তাকে বগুড়ায় ভর্তি করা হয়েছে।

অন্যদিকে আহত আবু জাফর মো. সৌরভের মামা মো. আমজাদ হোসেন দাবি করেন, ভ্যান সরাতে বলায় আতিকুল আমার ভাগনাকে গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হাতাহাতির সময় তার শার্ট ও গেঞ্জি ছিঁড়ে ফেলা হয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমাদের পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছেন। আমার ভাগ্নের অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

কালাই থানার তদন্ত পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) দীপেন্দ্রনাথ সিংহ বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে নতুন করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।