তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবিতে রংপুর জেলার ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি।
কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। নগরীর কাচারী বাজারে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় সমাবেশ থেকে সরকারের প্রতি তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিকল্প কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়ে বাস্তবায়ন কাজ শুরুর দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম, রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রংপুর জেলা আহ্বায়ক আল মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
বক্তারা বলেন, তিস্তা নদী উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। দীর্ঘদিন ধরে নদীটির যথাযথ ব্যবস্থাপনা না হওয়ায় এর তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষ বন্যা, নদীভাঙন ও পানিসংকটের মতো নানা সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে পানি ছেড়ে দিলে রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও গাইবান্ধার বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়ে।
গাইবান্ধা সদর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম বলেন, ‘তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনরেখা। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নদীশাসন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।’
রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন জনগণ সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চায়।’
গঙ্গাচড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, ‘শুধু আশ্বাসে আর কাজ হবে না। উত্তরাঞ্চলের মানুষ বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছে। নদীভাঙন, বন্যা, পানিসংকট ও কৃষি ক্ষতির স্থায়ী সমাধানে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
বক্তারা আরো বলেন, বর্ষাকালে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন ও আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌচলাচল ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
তাদের দাবি, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাই দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
কাচারী বাজার ছাড়াও রংপুর প্রেসক্লাব, লালবাগ মোড়, ডিসি মোড়, কাউনিয়া তিস্তা সেতু এলাকা, মহিপুর তিস্তা সেতু, বুড়িরহাট বাজারসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গঙ্গাচড়ার মহিপুর এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে মানববন্ধনে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেওয়া হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মানববন্ধন শেষে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরকারের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।




