জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট-মোসলেমগঞ্জ ভায়া শান্তিনগর সড়কের সংস্কার ও প্রশস্তকরণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং রাতের আঁধারে কার্পেটিং করার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার শান্তিনগর বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৭ দশমিক ৩৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ করছে নওগাঁর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজ। সড়কটির প্রস্থ ৫ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৭ মিটার করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ১৯৪ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট, পরিত্যক্ত পাথর, রাবিশ ও মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী বালি ও ইটের খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এ ছাড়া সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি পরিষ্কার না করেই সামান্য বিটুমিন ছিটিয়ে কার্পেটিং করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ চলতে দেখা যায়। তবে সেখানে তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশল বিভাগের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জব্বার বলেন, ‘শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ও রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। কাদামাটির ওপর বিটুমিন ছিটিয়ে রাতে কার্পেটিং করা হচ্ছে। সকালে দেখা যায়, পায়ের চাপেই অনেক জায়গার কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে।’
উদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা লাল্টু মিয়া বলেন, ‘রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে দায়সারাভাবে কাজ করা হচ্ছে। এখনই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। কয়েক মাস পর সড়কের কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাস্তার কাজে নিয়োজিত একাধিক শ্রমিক বলেন, ‘আসলে আমাদেরকে যখন, যেভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে সেভাবেই করেছি। রাত-দিন বলতে কিছুই নেই। দ্রুত কাজ সম্পূর্ণ করায় এখন মূল কথা।’
তবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইথেন এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক নুর আলম। তিনি বলেন, ‘এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় দিনের বেলা কাজ করলে কৃষকদের চলাচলে সমস্যা হতে পারে। তাই রাতে কাজ করা হচ্ছে। তবে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হয়নি।’
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী রাসেল আহম্মেদ বলেন, ‘আমি সরাসরি সাইটে থাকি না। যদি রাতে কার্পেটিংয়ের কাজ হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই ভুল করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) আবু জাফর বলেন, ‘রাতে কার্পেটিং করার কোনো সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে, তাহলে তা অপসারণ করে পুনরায় কাজ করতে হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ বলেন, ‘কার্পেটিংয়ের কাজ রাতে করার নিয়ম নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল পাবে না।’
স্থানীয়রা সড়ক নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।