চট্টগ্রামের পটিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। এরই অংশ হিসেবে পৃথক দুটি অভিযানে যুবলীগের এক সক্রিয় কর্মী ও একটি মারামারি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশ।
রবিবার (৭ জুন) গভীর রাতে উপজেলার জঙ্গলখাইন ও জিরি ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারাধীন গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে।
পটিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাইখাই এলাকার বাসিন্দা মো. খোরশেদ আলমকে (৪৬) তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তিনি স্থানীয়ভাবে যুবলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে পটিয়া থানার একটি হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনসহ একাধিক গুরুতর ধারার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে খোরশেদ আলমকে সাবেক হুইপ ও চট্টগ্রাম-১২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর অনুসারী এবং জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা হাসান মেম্বারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, পৃথক অভিযানে এজাহারভুক্ত আসামি জয়নাল আবেদীনকে (২৬) রাত সোয়া ১টার দিকে জিরি ইউনিয়নের দক্ষিণ সাইদাইর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মারামারি, গুরুতর জখম, নারী নির্যাতন, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা রয়েছে।
পুলিশ আরো জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দীর্ঘদিন পলাতক এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অপরাধী যেই হোক, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা হবে। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পটিয়া উপজেলায় অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, পটিয়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম সম্প্রতি মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। তার এ অবস্থানের পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরো দৃশ্যমান হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।




