• ই-পেপার

পুশ ইন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপি মোতায়েন

জয়পুরহাটে তুচ্ছ ঘটনায় দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটে তুচ্ছ ঘটনায় দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কান্নায় লুটিয়ে পড়েছেন নিহতের স্ত্রী দীপালী মালী। ছবি : কালের কণ্ঠ

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামের এক দিনমজুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের কাশিড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্যামল চন্দ্র ওই ওই এলাকার মৃত বীরেন মালির ছেলে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান আলীকে (৩৫) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। তিনি একই ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী ঢেকুঞ্চা বাউস্তা গ্রামের বুদা মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে শ্যামল চন্দ্র কাশিড়া হাটে যাওয়ার পথে হাসান আলীর সঙ্গে তার দেখা হয়। এ সময় জমিতে ধান কাটার বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শ্যামল হাটের দিকে রওনা দিলে কিছুক্ষণ পর হাসান আলী একটি গাছের ডাল দিয়ে তার মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন এবং গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত হাসান আলী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে নিহতের ভাতিজা সুশান্ত চন্দ্র মালী প্রায় এক কিলোমিটার ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, নিহতের মরদেহ জরুরি বিভাগের সামনে রাখা আছে। সেখানে স্ত্রী দীপালী মালীসহ স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

দীপালী মালী বলেন, ‘আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই। আমার ছেলে-মেয়েরা আজ এতিম হয়ে গেল।’

আক্কেলপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্ত হাসান আলীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।’

ফুলজোড় নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

তাড়াশ-রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
ফুলজোড় নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার নলছিয়া এলাকার ফুলজোর নদ থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলজোর নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে সলঙ্গা থানায় অবহিত করলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম আলী জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরিচয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরো জানান, মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে। কোনো ব্যক্তি মরদেহটির পরিচয় সম্পর্কে তথ্য জানলে সলঙ্গা থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ করা হয়েছে।

শান্তি রক্ষা মিশনে নিহত সেনা সদস্য মহিউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন

ভোলা প্রতিনিধি
শান্তি রক্ষা মিশনে নিহত সেনা সদস্য মহিউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন
ছবি : কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে নিহত ভোলার লালমোহন উপজেলার সেনা সদস্য মো. মহিউদ্দিন চপলের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে মরদেহ লালমোহন সরকারি কলেজ মাঠে আনা হয়। পরে সেখান থেকে মরদেহটি উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ফরাজী বাজার এলাকার নিজ গ্রামে নেওয়া হয়।

দাফনের আগে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মরহুমকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেজর আকিব হাসান এবং লেফটেন্যান্ট ওমর ফারুকসহ ১৩ সদস্যের একটি টিম।

মহিউদ্দিন চপল সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি লালমোহনের কালমা ইউনিয়নের ফরাজী বাজার এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। তার স্ত্রী ও দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রায় দুই মাস আগে তিনি শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষিণ সুদানে যান। সেখানে অসুস্থ হয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তাকে উগান্ডার কামপালা লেভেল-৩ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

মাটি অস্বাভাবিক গরম—কারণ নিয়ে রহস্য, পানি ঢালছে ফায়ার সার্ভিস

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
মাটি অস্বাভাবিক গরম—কারণ নিয়ে রহস্য, পানি ঢালছে ফায়ার সার্ভিস

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলের পাশাপাশি উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। গত দুই দিনের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের প্রধান প্রবেশপথ সংলগ্ন প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে মাটির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রহস্যজনক এ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করছেন। তারা মাটির নিচে গর্ত করে পানি ঢেলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে বারবার পানি ঢালার পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে প্রথমে ওই স্থানে মাটি গরম থাকার বিষয়টি নজরে আসে। পরে ধীরে ধীরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো দুর্ঘটনা বা ঝুঁকির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

8

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমরা দ্রুত বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে অবহিত করেছি। রোগী, স্বজন ও হাসপাতাল কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুৎসংক্রান্ত কোনো ত্রুটির প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছেন গোসাইরহাট পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ লিকেজ বা লাইনের কোনো সমস্যার আলামত পাওয়া যায়নি। তবু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।’

গোসাইরহাট ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা এ বি এম বাসার বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল মাটির নিচে কোনো কারণে তাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু পানি প্রয়োগের পরও তাপমাত্রা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মাটির গভীর অংশ থেকেও তাপ অনুভূত হচ্ছে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের মতামত প্রয়োজন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ নওসাদ হাসান বলেন, ঘটনার উৎস শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বিষয়টির কারণ অনুসন্ধান করা হবে।