• ই-পেপার

গোপালগঞ্জ

দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ২৫

আসামি না পেয়ে ছাগল বিক্রির টাকা নেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
আসামি না পেয়ে ছাগল বিক্রির টাকা নেওয়ার অভিযোগ এসআইয়ের বিরুদ্ধে
এসআই আব্দুর রাজ্জাক

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মারামারির মামলায় এক আসামিকে ধরতে গিয়ে ঘর তল্লাশির সময় ঘরে থাকা একটি কৌটার ভেতর থেকে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামে।

শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিন পরিদর্শন করে ভোক্তভোগী ওই পরিবার ও এলাকাবাসী জানান,
বাড়িতে আসামিকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আব্দুর রাজ্জাক এবং তল্লাশির একপর্যায়ে ঘর থেকে নগদ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা।

ভোক্তভোগী কমলা খাতুন জানান, চলতি মাসের ১ তারিখ বিকাল ৩টার দিকে মারামারি মামলায়
আমার স্বামী বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআই আব্দুর রাজ্জাকসহ চারজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়।

কমল খাতুনের দাবি, প্রথমে এসআই আব্দুর রাজ্জাক ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। পরে অন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘরে ডেকে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করেন। এসময় কমলা খাতুনের কাছে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার তল্লাশি করা হয় বলে তিনি জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘ঈদের আগে দুটি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া টাকার মধ্যে ৩৪ হাজার টাকা ঘরে রাখা ছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫০০ টাকা কিস্তি দেওয়ার জন্য আলাদা করে রাখা ছিল এবং বাকী ২৫ হাজার ৫০০ টাকা কাপড়ের ভাঁজে একটি কৌটার মধ্যে রাখা ছিল। পুলিশ চলে যাওয়ার পর টাকা খুঁজতে গিয়ে দেখি ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নেই। ঘরে প্রথমে এসআই রাজ্জাক পরে আরো তিনজন পুলিশ সদস্য প্রবেশ করেন। তাদের বাইরে অন্য কেউ ঘরে প্রবেশ করেনি। আমার টাকা কোথায় গেল?

এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে কমলা খাতুন বলেন, ‘যদি স্থানীয়ভাবে থানার ওসির মাধ্যমে বিচার না পেলে আমি পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করব।’

একই গ্রামের লাল চান, সোহেল ও শেখান্দর বলেন, ‘একজন আইনের লোক হয়ে তিনি মানুষের সঙ্গে এভাবে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারেন না। এতে আমরা ভীষণ মর্মাহত হয়েছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে এসআই আব্দুল রাজ্জাকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। আসামিকে না পেয়ে নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি চালিয়ে চলে আসি। আমার বিরুদ্ধে আনা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ ওই নারী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অচিরেই আমি তাকে ধরে থানায় নিয়ে আসব।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই  শুনলাম। এ নিয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দাউদকান্দিতে বাস দুর্ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট

শিশু-মহিলাসহ ৮ জন আহত

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দাউদকান্দিতে বাস দুর্ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার যানজট
ছবি: কালের কণ্ঠ

দাউদকান্দিতে বাস দুর্ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দি উপজেলা রায়পুরের নিকট একুশে পরিবহনের বাস দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে দাউদকান্দি উপজেলার আমিরাবাদ থেকে চান্দিনা উপজেলার গোমতা হাইস্কুল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৩ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। বাস দুর্ঘটনায় শিশু- মহিলাসহ ৮ জন যাত্রী আহত হয়।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাসড়কের রায়পুর বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব দিকে চট্টগ্রামগামী একুশে পরিবহনের বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝপথে উল্টো যায়। দাউদকান্দি ও ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ খবর পেয়ে আহত যাত্রীদেরকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গৌরীপুর হাসপাতাল চিকিৎসা দেওয়া হয়। মারাত্মক ভাবে আহত দুইজন যাত্রীকে ঢাকায় পাঠানো হয়।বাসটি সড়কের মাঝপথে উল্টে যাওয়ায় সকাল ১১টা থেকে দুপুর সারে১২ টা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ রেকার দিয়ে  র্ঘটনা কবলিত বাসটিকে সরিয়ে নিলে ধীর ধীরে যানবাহন চলাচল শুরু করে। দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশ ও ইলিয়টগঞ্জ  হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিরসনে চেষ্টা চালাচ্ছে।

দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, ‘মহাসড়কে দাউদকান্দির রায়পুর বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে একুশে পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। সড়কের মাঝপথে উল্টো যায়। বাসটি উদ্ধার করতে কিছু  সময়ের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিকে সরিয়ে নিলে যানবাহনে চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসছে। তবে ঈদের ছুটির পর যাত্রীরা কর্মস্থলে যাচ্ছে এ কারণে সড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ রয়েছে।

কেন্দুয়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
কেন্দুয়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় খেলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে সাফোয়ান মিল্কি (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাফোয়ান মিল্কি ওই গ্রামের সজল মিল্কি ও সোনিয়া আক্তার দম্পতির সন্তান।

শিশুটির পরিবার সূত্র জানায়, বিকেলে অন্যান্য দিনের মতো বাড়ির সামনে খেলছিল শিশু সাফোয়ান। খেলার একপর্যায়ে সবার অগোচরে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় সে। পরে পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। তৎক্ষণাৎ তাকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচা বাবুল মিল্কি বলেন, ‘আমার ভাতিজা খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে মারা গেছে। ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মেহেদী মাকসুদ বলেন, ‘পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি আমাদেরকে জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।’

বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
বিএসএফের হাতে দুই বাংলাদেশি আটক
ফাইল ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক আটক হয়েছেন। ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় সীমান্তের ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে কাকরমনি ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের আটক করে বলে জানা যায়।

আটকরা হলেন হরিপুর উপজেলার ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের মো. সুবাহান আলীর ছেলে মো. আলিমুল ইসলাম (৪৫) এবং কাদিরসুখা গ্রামের কুরবান আলীর ছেলে মো. করিম (৩৫)।

সীমান্ত সূত্র জানায়, আটকদের মধ্যে মো. করিম ভারতের একটি ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তারা দুজনেই ভারত থেকে অবৈধ পথে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হরিপুর বিওপির (বর্ডার আউটপোস্ট) বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে ওত পেতে থাকা কাকরমনি বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল তাদের হাতেনাতে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত সিও মেজর আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। এ ছাড়া আটকদের পরিবারও  আমাদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত যোগাযোগ করেনি।