জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠে যাতায়াতের একমাত্র সেতুটি এক বছর ধরে ভেঙে পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দা।
গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ায় প্রায় ৫০০ বিঘা কৃষিজমির সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে কৃষিকাজ, ফসল পরিবহন ও মাঠে যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়ছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে ২০২১-২২ অর্থবছরে ছোট নদী ও খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের পর ওই এলাকায় পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। পরে ভারি বর্ষণ ও অতিবৃষ্টিতে ব্রিজের দুই পাশের মাটি ধসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে সেতুটির মাঝের অংশ ভেঙে নিচে দেবে যায় এবং পুরোপুরি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুটির দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। মাঝের লোহার কাঠামো ঝুলে পড়ায় এটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা বাঁশ ও কাঠ দিয়ে অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করে চলাচল করলেও কৃষিযন্ত্র, ভ্যান ও ফসলবোঝাই যানবাহন চলতে পারছে না।
স্থানীয় কৃষক আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ব্রিজ দিয়েই আমরা প্রতিদিন মাঠে যেতাম। এখন অনেক দূর দিয়ে ঘুরে যেতে হয়। ধান, আলু ও সবজির ক্ষেত দেখাশোনা করতে বাড়তি সময় ও খরচ লাগছে। ফসল কাটার পর বাড়িতে আনতেও ভোগান্তির শেষ নেই।’
আরেক কৃষক আব্দুল মোমিন জানান, ব্রিজটি ছিল মাঠে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও গুরুত্বপূর্ণ পথ। বর্ষাকালে খালের পানি বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। তখন জমিতে যাওয়া, সেচ দেওয়া কিংবা ফসল ঘরে তোলা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠের শতশত বিঘা জমিতে ধান, আলু ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসল উৎপাদিত হয়। ব্রিজটি সচল থাকাকালে খুব সহজেই কৃষিপণ্য মাঠ থেকে বাড়ি কিংবা বাজারে নেওয়া যেত। বর্তমানে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হওয়ায় পরিবহন ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ফসল সংগ্রহ করতে না পারায় উৎপাদন ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী সুমন কুমার দেবনাথ জানান, ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও প্রক্রিয়া নিয়ে ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, ‘বেগুনগ্রাম পশ্চিম মাঠের ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পিআইও অফিস থেকে একটা বরাদ্দ দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’