ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মারামারির মামলায় এক আসামিকে ধরতে গিয়ে ঘর তল্লাশির সময় ঘরে থাকা একটি কৌটার ভেতর থেকে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের এনায়েতনগর গ্রামে।
শুক্রবার (৫ জুন) সরেজমিন পরিদর্শন করে ভোক্তভোগী ওই পরিবার ও এলাকাবাসী জানান,
বাড়িতে আসামিকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন আব্দুর রাজ্জাক এবং তল্লাশির একপর্যায়ে ঘর থেকে নগদ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায় পুলিশ সদস্যরা।
ভোক্তভোগী কমলা খাতুন জানান, চলতি মাসের ১ তারিখ বিকাল ৩টার দিকে মারামারি মামলায়
আমার স্বামী বাচ্চু মিয়াকে গ্রেপ্তারের জন্য এসআই আব্দুর রাজ্জাকসহ চারজন পুলিশ সদস্য তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়।
কমল খাতুনের দাবি, প্রথমে এসআই আব্দুর রাজ্জাক ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালান। পরে অন্য পুলিশ সদস্যদেরও ঘরে ডেকে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি করেন। এসময় কমলা খাতুনের কাছে থাকা নগদ টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার তল্লাশি করা হয় বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘ঈদের আগে দুটি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া টাকার মধ্যে ৩৪ হাজার টাকা ঘরে রাখা ছিল। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫০০ টাকা কিস্তি দেওয়ার জন্য আলাদা করে রাখা ছিল এবং বাকী ২৫ হাজার ৫০০ টাকা কাপড়ের ভাঁজে একটি কৌটার মধ্যে রাখা ছিল। পুলিশ চলে যাওয়ার পর টাকা খুঁজতে গিয়ে দেখি ২৫ হাজার ৫০০ টাকা নেই। ঘরে প্রথমে এসআই রাজ্জাক পরে আরো তিনজন পুলিশ সদস্য প্রবেশ করেন। তাদের বাইরে অন্য কেউ ঘরে প্রবেশ করেনি। আমার টাকা কোথায় গেল?
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে কমলা খাতুন বলেন, ‘যদি স্থানীয়ভাবে থানার ওসির মাধ্যমে বিচার না পেলে আমি পুলিশ সুপার (এসপি) ও ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করব।’
একই গ্রামের লাল চান, সোহেল ও শেখান্দর বলেন, ‘একজন আইনের লোক হয়ে তিনি মানুষের সঙ্গে এভাবে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে পারেন না। এতে আমরা ভীষণ মর্মাহত হয়েছি।
এ প্রসঙ্গে জানতে এসআই আব্দুল রাজ্জাকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘ঘটনার দিন আমি মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। আসামিকে না পেয়ে নিয়ম অনুযায়ী তল্লাশি চালিয়ে চলে আসি। আমার বিরুদ্ধে আনা টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ ওই নারী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অচিরেই আমি তাকে ধরে থানায় নিয়ে আসব।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘বিষয়টি আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। এ নিয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




